রাত জেগে স্মার্টফোন ব্যবহার, জেনে নিন কী কী ক্ষতি হচ্ছে?

রাত জেগে স্মার্টফোন ব্যবহার, জেনে নিন কী কী ক্ষতি হচ্ছে?

অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকার পরও রাত জেগে স্মার্টফোন ঘাঁটাঘাঁটি করা যেকোনও বয়সি মানুষের যেন অভ্যাস এই যুগে। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে রাতে ঘুম না আসার সঙ্গে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ঘাঁটার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু শরীর নয়, প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ওপরেও প্রভাব পড়ে এই অভ্যাসের কারণে। এমনকি অনেক সময় বদলে যেতে পারে পুরনো অভ্যাসও! 

স্মার্টফোন ব্যবহার যেমন প্রয়োজন, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি। আমরা অনেকেই ঘুমানোর আগে রাত জেগে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সময় কাটাই। এতে রয়েছে ভয়াবহ শারীরিক ক্ষতি। 

রাত জেগে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে আটকে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমে বুঁদ থাকার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। এতে নিজের অজান্তেই দৃষ্টিশক্তি ও চোখের ক্ষতি করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোন যে নীল আলো ছড়ায়, রুমের লাইট নিভিয়ে দেয়ার কারণে রাতে সেটি আরও তীক্ষ্ণ হয়ে যায়। এটি শুধু দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিই করে না, পাশাপাশি শরীরের ওপর বেশ  বিরূপ প্রভাব ফেলে। 

আসুন জেনে নিই রাত জেগে স্মার্টফোন ব্যবহারের শারীরিক ক্ষতি-

১. প্রতি রাতে  মানুষের ৭-৮ ঘন্টার পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। স্মার্টফোনের নীল আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। 

২. রাতে ঘুমানোর আগে যারা স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাদের ঘুম কমে যেতে পারে। এতে মস্তিষ্ক ও মনের ক্ষতি হতে পারে।  

৩. রাতে ঘরের আলো নেভানোর পর স্মার্টফোনের নীল আলোতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হয়ে পড়েন অনেকে। এতে মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর নীল আলো সরাসরি চোখে আঘাত করে। ফলে চোখের কোষের ক্ষতি হয় ও চোখে ব্যথা অনুভব হয়। 

৪. আমেরিকান ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মোবাইল ফোনের নীল আলো রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৫. রাত জেগে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করলে ঘুম থেকে বঞ্চিত হবেন। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে।এছাড়া ঘুমের অভাবে চিন্তা শক্তি ও শারীরিক শক্তিও কমে যেতে পারে।

৬. ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মোবাইল ফোন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ছড়ায়, যা কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

Source: