ভাইরাল জ্বর সারাতে ভেষজ উপাদান

ভাইরাল জ্বর সারাতে ভেষজ উপাদান

এ সময় অনেকেই জ্বর-সর্দিতে ভুগছেন! বর্ষা, মশা, আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি করোনাভাইরাস আতঙ্ক সব কিছু মিলিয়ে নানা কারণে জ্বর আসা স্বাভাবিক। এ সময় ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে অনেকেই ভুগে থাকেন ঠান্ডা ও কাশিতে।

তাই এখন যতটা সম্ভব সাবধানে থাকা জরুরি। এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাই ভাইরাল জ্বর ও সর্দি-কাশি সারাতে ভরসা রাখতে পারেন ঘরোয়া উপায়ে। জেনে নিন যেসব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে সারবে জ্বর-

>> তুলসি পাতার তুলনা আর কিছুতেই হয় না। নিয়মিত তুলসি এবং মধু খেলে সর্দি-কাশি হয় না। এ ছাড়াও তুলসি পাতা নিয়মিত সেবনে ব্রণ-ফুসকুড়ি প্রতিরোধ হয়। সেইসঙ্গে ডায়বেটিস, ক্যান্সার, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা এবং ভাইরাল ফিভার প্রতিরোধে দারুণ কাজ দেয়।

>> করোনাকালে গুলঞ্চের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই ভেষজের বিকল্প নেই। গুলঞ্চ অ্যান্টি অক্সিডেন্টের খনি। জ্বর, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, বদহজম, উদ্বেগ এবং হাঁপানির মতো অসুখ সারাতে দারুন কার্যকরী এই উপাদানটি।

>> সবার রান্নাঘরেই কিশমিশ থাকে। কিশমিশে থাকে ভিটামিন, মিনারেল এবং ইলেক্ট্রোলাইটস। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শুধু তাই নয়, কিশমিশ ক্যান্সার, ধমনীর রোগ, অ্যালার্জি এবং ব্লাড প্রেশার প্রতিরোধেও দারুণ কার্যকরী। নিয়মিত কিশমিশ খেলে বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ভাইরাল ফিভারও ধারে কাছে ভিরবে না।

>> আরেকটি ভেষজ উপাদান হলো হোয়াইট গ্রাস। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল। নিয়মিত এটি খেলে বাড়ে হজম শক্তি। সেইসঙ্গে শরীরের রক্ত চলাচল ভালো রাখে। শরীরের পটাশিয়াম এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতিও পূরণ করে।

>> অ্যালোভেরাও ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য দারুণ উপকারী ভেষজ। এতে ভিটামিন এবং মিনারেল থাকে। অ্যালোভেরায় আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাংগাল এবং অ্যান্টি বায়োটিক উপাদান। যা ভাইরাল সংক্রমণ সারাতে দারুন কার্যকরী। ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে বদহজম এমনকি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থও দূর করে এতে থাকা পুষ্টিগুণ।

>> সবারই জানা আছে, ডেঙ্গু জ্বর সারাতে পেঁপে পাতা বেশ কার্যকরী! এই পাতার রস খেলে শরীরের প্লেটলেট কাউন্ট বাড়ে। শুধু ডেঙ্গুই নয় ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার জ্বরও সেরে যায় পেঁপের পাতার রস খেলে।

>> পেঁপে পাতায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রন। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ায়। তবে অত্যাধিক তেঁতো স্বাদের হওয়ার কারণে অনেকেই পেঁপে পাতার রস খেতে চান না। তবে এর সঙ্গে শসা মিশিয়ে খেলে তেতো ভাবটা অনেক কমে যায়।

>> ডুমুর খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এই শুকনো ফলটির জুড়ি মেলা ভার। জানেন কি, নিয়মিত ডুমুর খেলে ব্লাড প্রেশার, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ হয়। নিয়মিত ডুমুর খেলে ওজনও দ্রুত কমে।

>> আপল সিডার ভিনেগার জ্বরের আরেকটি দুর্দান্ত ঘরোয়া প্রতিকার। এজন্য ভিনেগারের এক অংশের সঙ্গে ২ ভাগ পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার একটি পরিষ্কার কাপড় পানিতে ভিজিয়ে কপালে রাখুন। আরেকটি কাপড় ভিজিয়ে পেটে রাখুন। দিনে দু’বার এটি করলেই জ্বর কমে যাবে।

>> আদায় আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ভাইরাল বৈশিষ্ট্য। এটি জ্বর সারানোর একটি দুর্দান্ত ঘরোয়া প্রতিকার। জ্বর সারাতে আদা চা খেতে পারেন। এজন্য আদা কুচি করে একটি পাত্রে পানিতে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট পর নামিয়ে মধু মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার পান করুন আদা চা।

Source: