আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নব নির্বাচিত পর্ষদকে বিশ্বনাথ উপজেলা সমিতির অভিনন্দন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রবাসী সংগঠন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা সমিতি, সিলেট। ট্রাস্টের নতুন পরিচালনা পর্ষদে বিশ্বনাথ উপজেলা সমিতির পাঁচ আজীবন সদস্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাঁদের এ অভিনন্দন জানানো হয়।

নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গুলজার খান, জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ, ট্রেজারার মনির আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আজম খান এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ দৌলত হোসেন।

এক যৌথ অভিনন্দন বিবৃতিতে বিশ্বনাথ উপজেলা সমিতির সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান সিদ্দিকী (মুক্তা) নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন পরিচালনা পর্ষদের যোগ্য, দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও গতিশীল হবে।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নবনির্বাচিত পর্ষদ প্রবাসে বিশ্বনাথের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জন্মভূমির শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বিশ্বনাথের শিক্ষার মানোন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ট্রাস্টের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেগবান হবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা বিশ্বনাথের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।

বিবৃতির শেষাংশে বিশ্বনাথ উপজেলা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁদের নেতৃত্বে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্যারিসে বিশ্বনাথের ফয়ছল আহমেদ নিখোঁজ, উদ্বিগ্ন পরিবার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নিখোঁজ রয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটলীপাড়া গ্রামের মস্তাব আলী টেইলারের ছেলে ফয়ছল আহমেদ। গত ১৪ অক্টোবর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিস থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ফয়ছল আহমেদ। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, নিখোঁজ ফয়ছল আহমেদের সন্ধান পেতে প্যারিসের স্থানীয় প্রশাসনসহ ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট ও বিশ্বনাথের প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে তাঁর পরিবার।

কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি ফয়ছল আহমেদের সন্ধান পেয়ে থাকলে কিংবা তাঁকে কোথাও দেখে থাকলে ০৭৫৮০১৪৬৩৬ নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ ফয়ছল আহমেদের সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছে তাঁর পরিবার।

বিশ্বনাথে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশ সবার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে নির্দিষ্ট বরাদ্দ রেখে কাজ করা হচ্ছে। শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে জন্য প্রশাসনের প্রতি সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরাও সার্বক্ষণিক সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম, বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বশির আহমদ।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা নবেন্দু জ্যোতি দে, নিশিকান্ত পাল, রূপক কুমার দে ও বিজন বৈদ্য; সভাপতি সুনীল কান্তি দে, সহসভাপতি বিজয় দে ও ডা. বিভাংশু গুন বিভু, সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে, যুগ্ম সম্পাদক কাজল মালাকার, কোষাধ্যক্ষ প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেব, দপ্তর সম্পাদক বাপন পাল, সহপ্রচার সম্পাদক দিলীপ দাশ এবং সদস্য নেপাল দেব, সুভাষ দেব, অমিত দে ও কর্ণ দেব উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান ও আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল ও আয়না মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, যুক্তরাজ্যের নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিন খান মুন্না, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন এবং খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক কয়েছ শিকদার, বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন, পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক নূর আলী ও সদস্যসচিব আজিজুর রহমান আজিজ, পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শানুর আলী, মহিলা দল নেত্রী বিলকিছ বেগম ও রিমা বেগম, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামছুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলিম আলী ও আব্দুল লতিফ, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম উদ্দিন এবং যুবদল নেতা আব্বাস আলী সুমন ও সাইদুর রহমান রাজু।

এ ছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান রানা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আহমেদ দুলাল মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল আহমদ এবং পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বকুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নবনির্বাচিত কমিটিকে মডেল প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচনে নবনির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় ট্রাস্টের নবনির্বাচিত সভাপতি গুলজার খান, জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ ও ট্রেজারার মনির আহমদসহ নির্বাচিত সকলকে শুভেচ্ছা জানান প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

গত ১৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্যে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অভিনন্দনবার্তায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসে অবস্থান করেও বিশ্বনাথের মানুষের কল্যাণে এবং শিক্ষার উন্নয়নে ট্রাস্টের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাঁদের এ অবদান বিশ্বনাথের শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তাঁরা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অতীতে সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ন্যায়নীতি ও ইনসাফের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে যে সুনাম অর্জন করেছেন, নবনির্বাচিত কমিটি তা অক্ষুণ্ন রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদী। পাশাপাশি ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে নতুন নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

বার্তায় নবনির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যের সফলতা কামনার পাশাপাশি বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের পক্ষে অভিনন্দন জানান সভাপতি এম.আর. টুনু তালুকদার, সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের ও আশিক আলী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, সহসভাপতি মো. রুহেল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং নির্বাহী সদস্য শুকরান আহমদ রানা, মো. মশাহিদ আলী ও আফজল মিয়া।

এয়ারপোর্ট থানার অভিযানে ৩ লাখ টাকার ভারতীয় টমেটোসহ ট্রাক আটক

এইসময় ডেক্স:

সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অভিযানে ৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩ হাজার ১৯০ কেজি ভারতীয় টমেটোসহ একটি হাইড্রোলিক ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সংকেত অমান্য করে ট্রাক ফেলে চালক, হেলপারসহ তিনজন পালিয়ে যান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে এয়ারপোর্ট থানাধীন লাক্কাতুরা বাজারসংলগ্ন মসজিদ গলির মুখে চেকপোস্ট পরিচালনাকালে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এয়ারপোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ সরওয়ার্দীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থেকে সিলেট শহরগামী একটি হাইড্রোলিক ট্রাককে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে প্রায় ২০ গজ দূরে সড়কের ওপর ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যান। এ সময় চালকের সঙ্গে হেলপার ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন পালিয়ে যান।

পরে পুলিশ ট্রাকটি তল্লাশি করে ১৪৫টি প্লাস্টিকের ক্যারেটে রাখা ৩ হাজার ১৯০ কেজি ভারতীয় টমেটো উদ্ধার করে। জব্দ করা টমেটোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া হলুদ রঙের টাটা ব্র্যান্ডের একটি হাইড্রোলিক ট্রাক (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: রাজবাড়ী-ট-১১-০২৩২) জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর ২৩, The Special Powers Act, 1974-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫ডি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশ্বনাথে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ও সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনার তত্ত্বাবধানে বস্ত্র (শাড়ি) বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে পৌর শহরের পুরাণ বাজার এলাকাস্থ শ্রীশ্রী শনি মন্দির সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপে সর্বসাধারণের মাঝে বিতরণের জন্য প্রায় দেড় শতাধিক বস্ত্র (শাড়ি) ‘উপজেলা ও পৌর শহরে’ থাকা বিভিন্ন পূজা মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে ওই বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।


উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনীল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সদস্য ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি নিশি কান্ত পাল, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি ডা. বিভাংশু গুন বিভু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি ও শ্রীশ্রী শনি মন্দির সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি বিজয় দে, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক বাপন পাল, সহ দপ্তর সম্পাদক অজিত দেব।


এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ কমিটির সদস্যবৃন্দ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশ্বনাথেসংবর্ধিত হলেন গুণীজনেরা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সিলেটের বিশ্বনাথে ‘জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটি’র উদ্যোগে গুণীজনদেরকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।


মহাসপ্তমীর প্রথম দিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ‘জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটি’র মন্ডপে কমিটির ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গুণীজনদেরকে ওই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি রমা কান্ত দে’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বীর প্রতাপ পাল অসিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জানাইয়া গ্রামের কৃতিসন্তানদের মধ্যে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সদস্য ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি নিশি কান্ত পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সদস্য ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি পিনাক চক্রবর্তী, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মলয় সোম চৌধুরী, জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কালী নন্দন পাল চৌধুরী, উপজেলার দিঘলী গ্রামের কৃতিসন্তান ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনীল কান্তি দে।


অনুষ্ঠানে মরোনত্তর সংবর্ধনা প্রদান করা হয় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার পাল, সংবর্ধনা প্রদান করা হয় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দাশ, জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আমেরিকা প্রবাসী প্রবীর কান্তি দে’কে।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে, যুগ্ম সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, কোষাধ্যক্ষ প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা থেকে পাঠ করেন জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি রমা কান্ত দে এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি ও উপজেলা যুব ঐক্যের সভাপতি অজয় দেব।


এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও জানাইয়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির সদস্যবৃন্দ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? জেনে নিন উপকারিতা ও সতর্কতা

কাঁচা হলুদ আমাদের পরিচিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। রান্নার পাশাপাশি বহু বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায়ও হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হলুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কারকিউমিন (Curcumin), যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।

তবে কাঁচা হলুদ খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়, লিভার পরিষ্কার হয় কিংবা সব ধরনের হজমের সমস্যা দূর হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি।

কাঁচা হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা

১. প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে

হলুদের কারকিউমিনের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু গবেষণায় বিশেষ করে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও জড়তা কমাতে হলুদ বা কারকিউমিনের সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও উন্নতমানের গবেষণা প্রয়োজন। কাঁচা হলুদ খাওয়া কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

কারকিউমিনসহ হলুদের কিছু উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হলুদ খেলেই শরীরের সব ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

৩. হজমের সমস্যায় কী ভূমিকা রয়েছে?

কিছু মানুষ হলুদ খেলে হজমে আরাম পাওয়ার কথা জানান। তবে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটি দূর করতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং কারও কারও ক্ষেত্রে হলুদ খেলে বুকজ্বালা বা পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে।

৪. ত্বকের যত্নে সম্ভাব্য ভূমিকা

হলুদের কিছু উপাদান নিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্য ও প্রদাহ কমানোর বিষয়ে গবেষণা চলছে। কিন্তু কাঁচা হলুদ খেলে ত্বক উজ্জ্বল হবে বা ব্রণ দূর হবে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। ত্বকের সুস্থতার জন্য সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও উপযুক্ত ত্বকের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ।

৫. লিভারের জন্য কি উপকারী?

লিভারের কিছু সমস্যায় কারকিউমিনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে লিভার সুস্থ রাখা বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্য কাঁচা হলুদ খাওয়ার কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়। শরীরের বর্জ্য ও বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার কাজ স্বাভাবিকভাবেই লিভার ও কিডনি করে।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ (NCCIH)।

অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খেলে কী সমস্যা হতে পারে?

হলুদ সাধারণত রান্নায় ব্যবহৃত স্বাভাবিক খাদ্য-পরিমাণে অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে বেশি পরিমাণে খাওয়া বা উচ্চমাত্রার কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি রয়েছে।

  • পেটের সমস্যা: বমি বমি ভাব, পেট খারাপ, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যাসিডিটি হতে পারে।
  • কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি: হলুদে অক্সালেট থাকে। যাদের ক্যালসিয়াম-অক্সালেট পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
  • ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া: হলুদ বা কারকিউমিনের ঘনীভূত সাপ্লিমেন্ট কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধের ওষুধ গ্রহণকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • লিভারের ক্ষতি: বিরল হলেও কিছু উচ্চমাত্রার বা শোষণ বাড়ানো কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা সম্পর্কিত পাওয়া গেছে।
  • অ্যালার্জি: কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

কারা বিশেষ সতর্ক থাকবেন?

গর্ভবতী বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন ব্যক্তি, পিত্তথলির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি হলুদ বা হলুদের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রতিদিন সকালে কতটুকু কাঁচা হলুদ খাওয়া উচিত?

কাঁচা হলুদ খালি পেটে খেতেই হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। আবার প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কাঁচা হলুদ খেলে সবার উপকার হবে, এমন প্রমাণও নেই। হলুদের উপাদানের পরিমাণ এবং কাঁচা হলুদ ও সাপ্লিমেন্টের ঘনত্ব এক নয়। তাই সবার জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক মাত্রা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।

সাধারণভাবে রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। কাঁচা হলুদ খেতে চাইলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন এবং শরীরে কোনো অস্বস্তি হলে খাওয়া বন্ধ করুন। রোগের চিকিৎসা হিসেবে উচ্চমাত্রার হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ করবেন না।

শেষ কথা

কাঁচা হলুদ পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক উপাদান বলেই কোনো কিছু সবার জন্য নিরাপদ—এমন ধারণা থেকে দূরে থাকুন।

স্বাস্থ্যসচেতন থাকুন, তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা: এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

তথ্যসূত্র:

  • National Center for Complementary and Integrative Health (NCCIH): Turmeric — Usefulness and Safety
  • National Institutes of Health (NIH), LiverTox: Turmeric
জেডআরএফ মানবসেবায় বিশ্বে দৃষ্টান্ত হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

এইসময় অনলাইন ডেক্স:

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) বাংলাদেশের মানবসেবার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত এ সংগঠন গত ২৭ বছরে মানবসেবার ছোট্ট চারাগাছ থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

রবিবার রাতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ এবং তারেক রহমানের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে তিনি ফাউন্ডেশনের সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষ-একটু চেষ্টা, একটু উদ্যোগ’ এই সংকল্প নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতিটি মানুষের পাশে, মানুষের কাছে ফাউন্ডেশন সব সময় ছিল, আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানবতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংকটে উন্নয়নশীল বিশ্ব, সমাধানহীন আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক

এইসময় অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধ, ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এসব সংকটের চাপে কঠিন সময় পার করছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। সংকট উত্তরণে দিকনির্দেশনা খুঁজতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিলেও সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে আলোচনা।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণসংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও এআইয়ের প্রভাব মোকাবিলায় বড় কোনো নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়নি। বরং বাজেট ঘাটতি কমানো, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো প্রচলিত পরামর্শই গুরুত্ব পেয়েছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোও বর্তমানে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব দেশে বন্ডের মুনাফার হার ও ঋণ নেওয়ার ব্যয় বাড়ায় তার প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও। ফলে অনেক দেশ নিজেদের ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেও আগের তুলনায় বেশি সুদ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

রাজস্বের বড় অংশ যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে

জর্জিয়েভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের গড় ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে সরকারি রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় এখনো স্পষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জর্জিয়েভা সতর্ক করেন। একই সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান জানা আছে বলে দাবি করা ব্যক্তিদের বক্তব্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন তিনি।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিপস্কির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বৈঠকটি। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো নিজেরাই যখন আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা অগ্রাধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এআইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি করেছে। এআই উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবলের অভাবে দরিদ্র দেশগুলো এই প্রযুক্তির সুফল থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান ও আয়বৈষম্যের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের জ্বালানিসংকট সামাল দিতে সক্ষম হলেও উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় ধরনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দুর্বল হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে।

এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি পুঁজির প্রবাহ তিন গুণের বেশি বেড়েছে। তবে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় দরিদ্র দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ কাটছে না।

বৈষম্য ও জলবায়ু সংকটেও কার্যকর রূপরেখার অভাব

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও কলম্বিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী মাউরিসিও কার্দেনাসের মতে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।

ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেট পিকেট অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে, বৈষম্য বৃদ্ধি ও দারিদ্র্যের বিস্তার দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। শুধু সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করলেই চলবে না, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকের সময় থাইল্যান্ডের বন্যাও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। সেপ্টেম্বরে বন্যায় দেশটির শিল্প খাতে প্রায় ২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ, ঋণের বাড়তি চাপ, মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠকে আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সমাধানের অভাবে সংকট উত্তরণের পথ এখনো স্পষ্ট নয়।