আজকের সময়ের সেরা খবর
নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশের নারীস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দেখাবে।

তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন। নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলো নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে দেশব্যাপী এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মীর প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর জন্য দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না, এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা ঢাকায় যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়, বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন

নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবার পরিকল্পনার ওপর জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অংশীদারত্বের জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের নিরাপদ শৈশব, প্রতিটি মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকার এবং গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চুক্তি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন ও মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করে। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারে বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে-ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধিদল।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

এই সময় ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং দেশটির স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আরবের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও কিংবা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া, এ-সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো:

  • শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫
  • পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬
  • ডিপ্লোমেটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪
  • মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০

সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন মেনে চলা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় দুই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পেশাগত সম্পর্ক জোরদার এবং সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বর্তমান সহ-সভাপতি মো. রুহেল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং নির্বাহী সদস্য আফজল মিয়া।

অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো. বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বাবর, প্রচার সম্পাদক ফাহিম আহমদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ হোসাইন, ক্রীড়া সম্পাদক তামিম আহমদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক শামিল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য বাবর জোয়ার্দার এবং সদস্য হোসেন মাহমুদ দেলওয়ার।

সাক্ষাৎকালে উভয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের অধিকার তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে পেশাগত উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

সৌজন্য সাক্ষাৎটি দুই প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আন্তরিক মতবিনিময় ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

বিশ্বনাথের আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে পুনর্মিলনী ও প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণসভা

প্রয়াত শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী, প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে আলোচনা সভা ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ ময়নুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী শুয়েব আহমদ।

কলেজ ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ‍শিক্ষকবৃন্দ

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ফাহিমা বেগম শাম্মী, আমিনুল হক, নাসরিন জাহান, সুভদ্রা রাণী তালুকদার, আফিয়া বেগম ও দিলোয়ার হোসেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন হাজেরা বেগম ও কাওসার আহমদ।

বক্তারা কলেজের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম আকরাম আলী, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মইজ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল খালিক, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মাহমুদা বেগম এবং সাবেক অধ্যক্ষ নেছার আহমদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন, কলেজের শিক্ষা বিস্তার ও অগ্রযাত্রায় প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের কর্মনিষ্ঠা, আদর্শ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ শুধু অবকাঠামো কিংবা সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়; বরং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং সমাজে প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক অবদান।

তিনি প্রয়াত শিক্ষকদের আদর্শ ও কর্মনিষ্ঠা অনুসরণ করে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও গৌরবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কলেজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব।

তিনি প্রয়াত শিক্ষকদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের অবদান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী কাওসার আহমদ এবং গীতা পাঠ করেন শিল্পী মালাকার।

আলোচনা সভা শেষে রামপাশা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ আব্দাল হোসাইন দোয়া পরিচালনা করেন। এ সময় প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাওসার আহমদ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন। পরে শিক্ষিকা নাসরিন জাহান ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে বাউলসম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান পরিবেশন করেন।

স্মৃতিচারণ, সংগীত পরিবেশনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। প্রয়াত শিক্ষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কলেজের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

একলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই কর্মচারীর অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী জিতেন্দ্র মালাকার ও প্রণতি মালাকারের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলীম উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী জিতেন্দ্র মালাকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ, সাবেক প্রধান শিক্ষক ফখর উদ্দিন, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিসুজ্জামান খান, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুর রশিদ ইউসুফ, সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান, ছমরু মিয়া ও মাসুম আহমদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য নূর মিয়া, একলিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ইসলাম উদ্দিন, ফয়জুন নূর, সাবেক ছাত্র সুরুজ মিয়াসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অবসরগ্রহণকারী জিতেন্দ্র মালাকার ও প্রণতি মালাকারের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর অবসরজীবন কামনা করেন।

একলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফ আলীকে সংবর্ধনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথে ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আশরাফ আলীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আলিম উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী।

বক্তব্যে আশরাফ আলী বলেন, একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। বিদ্যালয়টি সরকারি করা এবং ভবিষ্যতে কলেজে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভূমির সংকট দেখা দিলে সেই সংকট সমাধানে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফখর উদ্দিন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিসুজ্জামান খান, ম্যানেজিং কমিটির  সাবেক  অবিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুর রশিদ ইউসুফ, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ইসলাম উদ্দিন এবং সাবেক শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য নূর মিয়া।

বক্তারা আশরাফ আলীর শিক্ষাবান্ধব কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর মতো শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষকদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন হাবিবুর রহমান ও দশম শ্রেণির ছাত্রী ঝুমা বেগম। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণির ছাত্র আলাউর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা দেব।

পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথি আশরাফ আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভুমি দাতা হাজী নুরুল ইসলাম, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ফয়জুন নূর, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মঈন উদ্দিন, মো. ছমরু মিয়া, আসির উদ্দিন, রাশেদ আহমেদ, শাহিন আলম, আহসান উল্লাহ, মাসুম আহমেদ, দূর্জয় দত্ত্ব ও হীরেন কুমার পাল এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর অজিত কুমার দেব।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী ১৬-১৭ জানুয়ারি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়টির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুনর্মিলনী ও স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী।

লিখিত বক্তব্যে আশরাফ আলী বলেন, ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৬ সালে গৌরবময় শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলা শুধু একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, বরং এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতিরও ইতিহাস।

তিনি জানান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে পুরান রাজাগঞ্জ বাজারে ‘একলিমিয়া এম. ই. (Minor Education) মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুরান রাজাগঞ্জ থেকে বর্তমান বৈরাগী বাজারে স্থানান্তরিত হয়।

শিক্ষার বিস্তারের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র স্কুলে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক বিভাগের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরে ১৯৮৬ সালে চালু হয় বিজ্ঞান শাখা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জনের পাশাপাশি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে দশম স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।

শতবর্ষের দীর্ঘ পথচলায় বিদ্যালয় থেকে বহু জ্ঞানী, গুণী, শিক্ষক, সমাজসেবী, পেশাজীবী ও কৃতী মানুষ বেরিয়ে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান বিদ্যালয়ের সুনামকে সমৃদ্ধ করেছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে আশরাফ আলী বলেন, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ছিল বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তোলা। এ লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক উদ্যোগে নয়, বরং সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সর্বসাধারণের সমন্বয়ে শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শতবর্ষ স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ডেটাবেজ তৈরি, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনীর মূল আয়োজন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত তারিখ ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে শতবর্ষ উদযাপনকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে না দেখে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের মিলনমেলা, ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন প্রত্যয়ের সূচনা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের শতবর্ষের আয়োজনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ও আপ্যায়ন উপ কমিটির আহবায়ক আব্দুর রশিদ ইউসুফ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, একলিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান খান, পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাহার হেকিম উদ্দিন, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সচিব আশরাফ আহমেদ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. হোসেন আহমদ, কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আনিছুজ্জামান খান, অর্থ ও বাজেট উপকমিটির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহার, রেজিস্ট্রেশন ও র‌্যাফেল ড্র উপকমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব ফিরোজ আলী, মঞ্চ সাজসজ্জা উপকমিটির আহবায়ক সেবুল মিয়া ,যুগ্ম সদস্য সচিব রাজন খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়েজ আহমদ ফাহিম, একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক  নজরুল ইসলাম, আছির উদ্দিন, মাসুম আহমদসহ  বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, অর্থ ও বাজেট  কমিটি যুগ্ম সচিব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো,ছমরু মিয়া।

এসময় উপস্থিত সকলেই দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ  বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের শতবর্ষের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করার আহবান জানান।

একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ২৫৯ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ উদযাপন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ।

ঘোষিত কমিটিতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদকে সদস্য সচিব করে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড. মুজিবুর রহমানকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়। রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য উপকমিটিতে আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ সারওয়ার হোসেনকে সদস্য সচিব, অর্থ ও বাজেট উপকমিটিতে মুজিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও আশরাফ আহমেদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

স্মরণিকা ও প্রকাশনা উপকমিটিতে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে আহ্বায়ক এবং মো. ইলিয়াছ আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

প্রচার ও মিডিয়া উপকমিটিতে আবুল কাহার মো. হেকিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং সালেহ আহমদ সাকীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আপ্যায়ন উপকমিটিতে আব্দুর রশিদ ইউসুফকে আহ্বায়ক ও শহিদ আহমদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

মঞ্চ সাজসজ্জা উপকমিটিতে সেবুল মিয়াকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব, র‌্যাফেল ড্র উপকমিটিতে আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক ও আবুল কাহারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটিতে মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও ফিরুজ আলীকে সদস্য সচিব, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটিতে ডা. হোসেন আহমদকে আহ্বায়ক ও জহুরা বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এছাড়া শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপকমিটিতে মখন মিয়াকে আহ্বায়ক ও মঈন উদ্দিনকে সদস্য সচিব এবং অডিট উপকমিটিতে নুরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক ও আতাউর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সভায় আয়োজকরা জানান, শতবর্ষ উদযাপনকে সুশৃঙ্খল, জাঁকজমকপূর্ণ ও স্মরণীয় করে তুলতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, ঐতিহ্য ও গৌরবময় পথচলাকে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বনাথে জমি বিরোধে মাইকিং করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৩০

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ উভয়পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়া  (৬০), মো. মাসুক মিয়া (৫৫), কবির মিয়া (৩৮), মিজানুর রহমান, আতিকুর রহমান (৫০), আব্দুল ওয়াহিদ টিটন (৫০), জাকির আহমদ, হাজী ছফির আলী (৬৫), তাজ মিয়া (৫৫), জনি আহমদ, জয়নাল মিয়া, কয়ছর মিয়া, জমিল মিয়া, সাইদ উদ্দিন ও আলিম উদ্দিন। বাকীদের নাম এখনো জানা যায়নি।

গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা ও লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এবং ইশবপুর গ্রামের হাজী ছফির আলীর লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয়পক্ষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।

খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানার বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পরও এলাকায় উত্তেজনা থাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে সূত্র জানায়।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাজাঞ্চী ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই: কামরুল ইসলাম বাদশা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাদশা ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে কামরুল ইসলাম বাদশার এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কামরুল ইসলাম বাদশা বলেন, “খাজাঞ্চী ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ে আমি কাজ করতে চাই। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইউনিয়নবাসী আমাকে যে উৎসাহ, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করলে ইনশাআল্লাহ আমরা খাজাঞ্চী ইউনিয়নকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারব।”

তিনি বলেন, “অতীতে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাকে ইউনিয়নবাসীর সেবা করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করাই একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।”

কামরুল ইসলাম বাদশা আরও বলেন, “রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভালোবাসা ও সমর্থনও আমি পেয়েছি। তাঁর সহযোগিতা থাকলে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আমি আশাবাদী।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, পুরো ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা ও সামগ্রিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ খাজাঞ্চী ইউনিয়ন গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”

সৎপুর কামিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক ও সালিশ ব্যক্তিত্ব মাওলানা ক্বারী জমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং খাজাঞ্চী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম নুর উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, অধ্যাপক মাওলানা মনির উদ্দিন, বিএনপি নেতা ও সালিস ব্যক্তিত্ব শওকত আলী, দেলোয়ার হোসেন, আপ্তাব আলী, আবদুল মালিক, আশরাফ হোসেন, সুলতান আহমদ, আমির আলী, মাওলানা মইনুল ইসলাম, আফতাব আলী, আলী আসকর, রফিক উদ্দিন, মানিক মিয়া মেম্বার, আব্দুর রহিম, আবুল কালাম, আব্দুল গণি, খোয়াজ আলী, মাসুক মিয়া, তৈমুছ আলী, ইউনুছ আলী ও আব্দুল করিম।

এর আগে সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শহিদুল আলম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল করিম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুমেল আলী, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সজিব, আগুর মিয়া মেম্বার, মুরব্বি আছলম আলী, ফারুক আহমদ, তেরাব আলী, মুতলিব আলী, সুলতান আহমদ, নিজাম উদ্দিন, আলী আসকর, আব্দুল কাইয়ুম, ইউনুছ আলী, নুরুজ্জামান, আব্দুর রহিম লায়েক, এসএম রফিক আহমদ, মাসুক মিয়া, ছান্দ আলী, আবুল কালাম, সমছু মিয়া, কবির উদ্দিন, আখলিছ আলী, অলিউর রহমান, আব্দুল খালিক, কছির আলী, দুদু মিয়া, সিরাজ উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, হররুপ মিয়া, আব্দুল করিম, কাচা মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুল সালাম, ইর্শাদ আলী ও আলমগীর হোসেনসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভূলাগঞ্জ, কিশোরপুর, ভাটপাড়া, জয়নগর,ঘনাইঘর, চন্দ্রগ্রাম,হরিপুর, সুনাপুর, নোয়ারাই,হামদরচক,কুরিখলা,বন্ধুয়া,নোয়াগাও,ইসলামপুর,মাধবপুর সহ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রমের সর্বস্থরের নেতাকর্মী মতবিনিময় সভায় স্বরব উপস্থিতিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও সভায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।