আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় প্রবাসী সমাজসেবক মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসার হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি চানপুর গ্রামের কৃতিসন্তান এবং আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন ও মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হাফিজ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মৌলভী হেলাল আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম‌্যান হাফিজ আরব খান। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোক্তার আলী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রবাসে থেকেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও তিনি এই মাদ্রাসাসহ এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাশিম আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন দশপাইকা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা লুতফুর রহমান বাবুল, মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির এবং অভিভাবক সদস্য বকুল খান। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসাসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রবাসী সমাজসেবকদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, এলাকার মুরুব্বি হাজী রাশিদ আলী, সুন্দর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আলহাজ্ব মোক্তার আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রবাসীদের কল্যাণ, মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মহান রবের দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

বাহরাইন প্রতিনিধি:

যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগম্ভীরতা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) সকাল ৯টায় বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি।

এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত মো: রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বীর শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রমহারা দুই লক্ষ মা-বোনদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার ও সনদপত্র বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সকল পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে বিশ্বনাথে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নারী শান্তি সহায়ক দল (ওয়েভ) বিশ্বনাথ এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন শেষে কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বেগম স্বপ্না শাহীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাজেরা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পিএফজির পিস-অ্যাম্বাসেডর আফিয়া রশিদ।

তিনি বলেন, “নারীবান্ধব সমাজ গঠনে বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা জরুরি। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ আজ বৈশ্বিক আন্দোলন, আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।”

তিনি আরও জানান, ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতিনিধি কুদরত পাশা।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল মোনিম, প্রভাষক সালমা আক্তার, বিশ্বনাথ পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর নাসরিন জাহান, কো-অর্ডিনেটর ও সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, ইয়ুথ ফোরামের শাহ টিপু, আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’: সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি, উত্তাল সাগরে ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এই সময় ডেস্ক:

দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এ রূপ নিয়েছে। দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্রকাশিত আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নং–৩–এ এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২টার অবস্থান অনুযায়ী চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার বেগে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের আশপাশের সাগর অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে আগে দেখানো ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোর জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ যদি আরও শক্তিশালী হয়, তবে এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়োপযোগী সব নির্দেশনা প্রচারের আশ্বাস দিয়েছে।

ভূমিকম্প: যেভাবে পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্প এক প্রাকৃতিক শক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর ভূত্বককে বদলে দিতে সক্ষম। ভূত্বকের ভেতরে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফলে সৃষ্ট এই কম্পন কখনও ভূমিতে সৃষ্টি করে গভীর ফাটল, কখনও ঘটায় ভয়াবহ ভূমিধস। অনুকূল পরিস্থিতিতে এর প্রভাবে মাটির তরলীকরণও দেখা দিতে পারে, যা সমতল ভূমির স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষই ভূমিকম্পের মূল উৎস। দুটি প্লেট যখন একে অপরের দিকে সরে আসে, তখন ভূত্বকের গভীরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠে আসে। ঠিক এই ভাঁজ প্রক্রিয়া থেকেই সৃষ্টি হয় ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী। ফলে ভূমিকম্পকে শুধু ধ্বংস নয়, নতুন ভূ-আকার সৃষ্টিরও অনুঘটক বলা যায়।

ভূমিকম্পের শক্তি ভূ-উপরিস্থ রূপ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রভাব ফেলে জলভাগেও। শক্তিশালী ভূকম্পনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়ও দেখা দিতে পারে ওঠানামা। আর সমুদ্রের নিচে বড় ধাক্কা তৈরি হলে সেখান থেকে উৎপন্ন হতে পারে ভয়াবহ সুনামি, যা অল্প সময়েই উপকূলীয় জনপদকে প্লাবিত করে দিতে সক্ষম।

শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বড় মাত্রার ভূকম্পনে ধসে পড়ে ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু, সড়ক ও নানান অবকাঠামো। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় মানুষের জীবনযাত্রায়। যেমন—একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাশিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছিল।

স্বল্প সময়ের এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে রেখে যায় গভীর প্রভাব—সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত সব ক্ষেত্রেই। তাই ভূমিকম্পকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, পৃথিবীর দীর্ঘকালীন রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হয়। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পৃথিবী কখনো কখনো পায় নতুন ভূ-রূপ।

ধ্বংসের মুখে হাছন রাজার বাড়ি, পুনর্গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন উত্তরাধিকারীরা

সালেহ আহমদ সাকী
‘লোকে বলে, বলেরে ঘর-বাড়ি ভালা না আমার, জানতো যদি হাছন রাজা বাঁচব কতদিন, বানাইতো দালান-কোঠা করিয়া রঙিন।’
মরমি কবি হাছন রাজার এই অমর পঙ্ক্তি যেন আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরই জন্মভিটায়। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সেই বাড়িটি আজো রয়েছে জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশায়।
বিলুপ্তির পথে হাছন রাজার শতবর্ষ পুরনো এই বাড়ি এখনো টানে হাজারো পর্যটককে। কিন্তু ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় থাকা বাড়িটি দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান অনেকে। তবে এবার আশার আলো দেখাচ্ছেন হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ । তারা আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর আয়োজনে ‘হাছন উৎসব’ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এব্যপারে হাছন রাজার উত্তরাধিকারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরীও
হাছন রাজার বাড়িটি সংস্কার করে লাইব্রেরি, মিউজিয়াম ও সুফিবাদ দর্শনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এতে হাছন রাজার দর্শন, জীবনবোধ ও লোকসংগীতচর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্ম নেন মরমি কবি হাছন রাজা। ১৮৬৯ সালে তার পিতা আলী রাজার মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তার বড় ভাই ওবায়দুর রেজা মারা যান। পিতা ও ভাইয়ের জমিদারিস্থল রামপাশায় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই হাছন জমিদারিতে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। অপরিপক্ব বয়সে লক্ষনশ্রী ও রামপাশার বিশাল জমিদারির একক আধিপত্য পেয়ে হাছন রাজা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগ-বিলাসী এক শৌখিন জমিদার। বর্ষায় বজরা নৌকা সাজিয়ে গান-বাজনায় ঘুরে বেড়াতেন। বিলাসী জীবনের মাঝে আধ্যাত্মিক বোধের জন্ম নেয় তার মনে। জমিদারির বিলাসী পোশাক ছেড়ে নেন সাধারণ পোশাক। তিনি জমিদার থেকে হয়ে ওঠেন এক সুফি সাধক । বাউল জীবন বেছে নিয়ে একের পর এক গান রচনা করতে থাকেন। তাঁর গান আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত।
সরেজমিন দেখা যায়, রামপাশার ঐতিহাসিক বাড়িটিতে এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগাছায় ঢাকা জায়গায় রয়েছে দুটি জরাজীর্ণ কক্ষ, একটি ছাদবিহীন ঘর ও লতাগুল্মে ঘেরা ভাঙা দেয়াল। রয়েছে জমিদার আমলের বিশাল দীঘি ও রাজপরিবারের পুরনো কবরস্থান।
বছরজুড়ে দেশ-বিদেশ থেকে হাছন অনুরাগীরা বাড়িটি দেখতে এলেও, সংরক্ষণের অভাবে সেটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ হাছন রাজার শেষ স্মৃতিচিহ্নটি রক্ষায় কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি।

হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী বলেন, “হাছন রাজার সুফিবাদ ও মরমি দর্শন, সৃষ্টিকর্তা ও পরকালকেন্দ্রীক দর্শনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আমরা আয়োজন করছি হাছন স্মরণোৎসব। এটি হবে বাঙালি লোকসংস্কৃতির এক নবজাগরণের উৎসব।”
এব্যপারে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু বলেন “হাছন রাজার গান, ভাবনা ও দার্শনিক চেতনা গবেষণা, চর্চা ও প্রকাশে সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। গ্রামীণ সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোতে হাছনের গান নিয়মিত পরিবেশিত হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজের শিকড়কে চিনতে পারে।”

বিশ্বনাথ থিয়েটারের সভাপতি ও চাউলধনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনহার আলী বলেন, “লোকসংগীতের মূল সূর, হাছনের ভাব ও তাঁর সহজ সরল জীবনের দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। হাছন উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি সংস্কৃতি জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠবে।”


যে কবি নিজেই বলেছিলেন, ‘ঘরবাড়ি ভালা না আমার’, শত বছর পর তাঁর সেই কথাই যেন বাস্তবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তবে উত্তরসূরি ও সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে যদি এবার সংস্কারের কাজ সফল হয়, তবে হয়তো আবারও রামপাশা গ্রাম ভরে উঠবে হাছনের গানে, দর্শনে ও লোকসংস্কৃতির আলোয়।