আজকের সময়ের সেরা খবর
একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ২৫৯ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ উদযাপন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ।

ঘোষিত কমিটিতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদকে সদস্য সচিব করে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড. মুজিবুর রহমানকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়। রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য উপকমিটিতে আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ সারওয়ার হোসেনকে সদস্য সচিব, অর্থ ও বাজেট উপকমিটিতে মুজিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও আশরাফ আহমেদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

স্মরণিকা ও প্রকাশনা উপকমিটিতে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে আহ্বায়ক এবং মো. ইলিয়াছ আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

প্রচার ও মিডিয়া উপকমিটিতে আবুল কাহার মো. হেকিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং সালেহ আহমদ সাকীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আপ্যায়ন উপকমিটিতে আব্দুর রশিদ ইউসুফকে আহ্বায়ক ও শহিদ আহমদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

মঞ্চ সাজসজ্জা উপকমিটিতে সেবুল মিয়াকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব, র‌্যাফেল ড্র উপকমিটিতে আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক ও আবুল কাহারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটিতে মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও ফিরুজ আলীকে সদস্য সচিব, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটিতে ডা. হোসেন আহমদকে আহ্বায়ক ও জহুরা বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এছাড়া শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপকমিটিতে মখন মিয়াকে আহ্বায়ক ও মঈন উদ্দিনকে সদস্য সচিব এবং অডিট উপকমিটিতে নুরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক ও আতাউর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সভায় আয়োজকরা জানান, শতবর্ষ উদযাপনকে সুশৃঙ্খল, জাঁকজমকপূর্ণ ও স্মরণীয় করে তুলতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, ঐতিহ্য ও গৌরবময় পথচলাকে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বনাথে আশুগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের জানাজা সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আশুগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম আর নেই।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৩টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার নাটপুর গ্রামে।

শনিবার সকাল ১১টায় আশুগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মাওলানা হোসাইন আহমদ চৌধুরী। জানাজায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানাজার আগে এক সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় মরহুমের কর্মময় জীবন, শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান এবং মানবিক গুণাবলির কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্ল্যাহ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পারভেজ রশিদ মঙ্গল, পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেকিম, মনসুর আহমদ বিপ্লবী, আব্দুল হামিদ, পরিবারের পক্ষ থেকে আতিকুর রহমান এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক কাওছার আহমদ।

স্মরণসভা পরিচালনা করেন মরহুম আশরাফুল ইসলামের প্রাক্তন ছাত্র ও বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির শিক্ষানুরাগী সদস্য আতিকুর রহমান।

জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ দাফনের জন্য তাঁর নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নাটপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে আশুগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ পরিবার, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

“তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই” — ইউএনও জাহিদ বিন কাশেম

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

“বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন ছাড়া কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা কঠিন। তরুণ-তরুণীদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এ কথাগুলো বলেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের স্থানীয় উপদেষ্ঠা পরিষদের সভাপতি মোঃ জাহিদ বিন কাশেম।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট আয়োজিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনের সময় ইউএনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায়, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও কম্পিউটার প্রশিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের অফিস সহকারী আল আমিন এবং প্রশিক্ষণার্থীরা।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বনাথের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বনাথে পণ্ডিত ছিপত আলী মেমোরিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পণ্ডিত ছিপত আলী মেমোরিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

বৃক্ষপ্রেমিক আব্দুল গফ্ফার উমরা মিয়ার সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান অমির সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “পড়ালেখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের মনন, শৃঙ্খলা ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোপাল চন্দ্র সূত্রধর, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার এবং বিএডিসির কর্মকর্তা নাজমুল হক।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানুরাগী আব্দুল মান্নান রিপন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর ও আবুল কালাম রুনু। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মশিউর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এ সময় অভিভাবক সামুল মিয়া, দবির মিয়া, হাফিজ রেজা, ফয়জুল হকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে সারা দেশের ন্যায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভা, র‌্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওয়ারেসাত আল-আমিনের সভাপতিত্বে এবং সিলেট কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক হাসান মাহমুদ রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম। 

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, আইসিটি অফিসার সুয়েব আক্তার, পরিদর্শক মনির হোসেন এবং সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি (সদাবিক)-এর পরিদর্শক রনজিৎ গোস্বামী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সুফলভোগী সমবায়ী নাজমা বেগম, আলা উদ্দিন ও সালেহ আহমদ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, পল্লী উন্নয়নই দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। সমবায় কার্যক্রম, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মাহমুদুর রহমান মিলাদ এবং গীতা পাঠ করেন রনজিৎ গোস্বামী। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওয়ারেসাত আল-আমিন।

বক্তারা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, স্বাবলম্বী ও উৎপাদনমুখী করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এসময় তারা  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সরকারের এ উদ্যোগ সফল করতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সমবায়ী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২

এইসময় প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মোটরসাইকেল আরোহী। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন শিশু ও দুই কিশোর। বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, দিনাজপুর, নরসিংদী, গাইবান্ধা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, নড়াইল ও চট্টগ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে গোপালগঞ্জে। সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে এক শিশু, এক নারীসহ পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও শিশুসহ আরও দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে ফরিদপুর, নরসিংদী, পটুয়াখালী, নড়াইল ও কুষ্টিয়ায় পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঈদের নামাজ শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই কিশোর। নরসিংদীর শিবপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন দুই তরুণ। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। নড়াইলের লোহাগড়ায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ যায় এক তরুণের।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অতিরিক্ত গতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইলাইনারে ধাক্কা দিলে এসএসসি পরীক্ষার্থী তিন বন্ধু গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেলটির গতি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার ছিল।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দিলে দুই শিশু নিহত হয়। আহত হন তাদের দুই মা। অন্যদিকে মাদারীপুরের শিবচরে চলন্ত বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নামের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভেল্লাপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং অসতর্কতার কারণে। ঈদের ছুটিতে সড়কে বাড়তি যানবাহন চলাচলের মধ্যেও চালকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা: অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে পাইলট প্রকল্প শুরু

এইসময় ডেস্ক:

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে একটি নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর দনিয়া কলেজে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফ’-এর যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী—রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি স্কুলে উপস্থিত হয়ে অফলাইন ক্লাসে অংশ নেবে। অর্থাৎ সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইন ক্লাস চালু থাকবে।

তিনি আরও জানান, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে চালু করা হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার দিকে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এই পদ্ধতি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আপাতত এ কার্যক্রম মহানগর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় সীমিত রাখা হবে, সারা দেশে নয়। পাশাপাশি, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করবেন এবং ওয়াইফাইসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া: সম্ভাবনা নাকি হুমকি?

এইসময় ডেস্ক:

গণতন্ত্রে গণমাধ্যমকে বলা হয় “চতুর্থ স্তম্ভ”। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মুক্ত গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা অপরিহার্য। কারণ, গণমাধ্যমই রাষ্ট্রক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। তাই ইতিহাস বলছে, যখনই কোনো স্বৈরাচারী বা অবৈধ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখনই প্রথম আঘাত এসেছে গণমাধ্যমের ওপর—সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে।

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব এই বাস্তবতায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। এখন তথ্যপ্রবাহ আর কেবল মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়াই জনগণের প্রধান তথ্যের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরব বসন্ত থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেও এর প্রভাব অনস্বীকার্য। কিন্তু এই সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ভয়াবহ এক সংকট।

সমস্যা হলো—সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের কতটা সত্য, আর কতটা অপপ্রচার? বাস্তবতা হচ্ছে, এখন সত্যের চেয়ে মিথ্যা, তথ্যের চেয়ে গুজব এবং যুক্তির চেয়ে উত্তেজনাই বেশি ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় একটি অংশ আজ “ভিউ” ও “ভাইরাল” ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। যাচাইবাছাই ছাড়া চটকদার ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে অনেকেই অর্থ উপার্জন করছে। ফলে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন।

আজকের বাস্তবতায় সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে যেমন তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা দিয়েছে, অন্যদিকে এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক সহিংসতার ভার্চুয়াল মঞ্চ। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই কাউকে “দালাল”, “দেশদ্রোহী” বা “গুপ্তচর” বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, চরিত্রহনন, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য—সবই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে নারী রাজনীতিকদের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার)—সব জায়গাতেই যুক্তির জায়গা দখল করে নিচ্ছে গালাগালি। রাজনৈতিক মতবিনিময়ের জায়গা হয়ে উঠছে অপসংস্কৃতির কেন্দ্র। দলনিরপেক্ষ মত প্রকাশ করলেই প্রশ্ন ওঠে—“আপনি কোন দলে?” ভিন্নমত মানেই শত্রুতা—এমন এক অসহিষ্ণু সংস্কৃতি সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ‘ডিজিটাল বাহিনী’ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করছে এবং সত্যকে আড়াল করছে।

মিথ্যা তথ্য বা ‘ডিসইনফরমেশন’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় হুমকি। এটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় সরাসরি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুজবের কারণে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাংলাদেশেও ফেসবুকভিত্তিক গুজবের জেরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে—যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেলিং ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধও বেড়ে গেছে। ভুয়া প্রোফাইল, বিকৃত ছবি বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক মাধ্যমে “বিচার” করার প্রবণতা তৈরি করেছে—যা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কেবল তথ্যপ্রবাহই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, হুমকির মুখে পড়বে আমাদের গণতন্ত্র।

তাই এখনই সময় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার।

প্রথমত, নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের অ্যালগরিদমে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ভুয়া তথ্য দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজকে অনলাইনে সহনশীলতা ও সত্যনিষ্ঠার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারকে এমন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

গণতন্ত্র কোনো সহজলভ্য অর্জন নয়; এটি বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। দায়িত্বহীনতা, অপপ্রচার ও ভিউ-নির্ভর সংস্কৃতির কাছে এই অর্জনকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে এর নৈরাজ্য রোধ করতেই হবে—এখনই, দৃঢ়ভাবে।