আজকের সময়ের সেরা খবর
নেপালকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ভারত

এইসময ডেস্ক:

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ছন্দে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নেপালের পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ৪–০ গোলে পরাজিত করে অর্পিতা-মুনকিদের দল। টানা তিন জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের কিশোরীরা।

একই দিনে ভুটানকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। ফলে আগামী শনিবার একই ভেন্যুতে শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। তৃতীয় মিনিটে মামনি চাকমার নেওয়া কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন প্রতিমা মুন্ডা। দ্রুত গোল হজমের পর নেপাল রক্ষণ মজবুত করার চেষ্টা করলেও বিরতির আগমুহূর্তে আবারও আঘাত হানে বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলপি আক্তার।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারালো হয়ে ওঠে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ। ৬৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে একক নৈপুণ্যে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। এরপর ৮২ মিনিটে ক্রানুসিং মারমার ক্রস জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। চলতি টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে আলপির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে, যা তাকে আসরের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।

এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুবার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ, আর দুইবারই প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ২০২৪ আসরে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে শিরোপা জেতে, আর ২০২১ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এবারও সেই পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে আরেকটি শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে লাল-সবুজের কিশোরীরা।

বিশ্বনাথে ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩) সম্পন্ন

চাচা-ভাতিজা জুটি চ্যাম্পিয়ন

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের ভোগশাইল গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩)’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে।

রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় চাচা-ভাতিজা জুটি (টুকেরকান্দি) ২–০ সেটে জেবিন-জেরিন জুটি (সরুয়ালা)’কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই মাঠে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

ফাইনাল ম্যাচে চাচা-ভাতিজা জুটি (টুকেরকান্দি)’র পক্ষে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জুটির খেলোয়াড় নাঈম-নিজাম এবং জেবিন-জেরিন জুটি (সরুয়ালা)’র পক্ষে বর্তমান রানার্সআপ জুটির তানভির-গৌরব অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলায় চাচা-ভাতিজা জুটির নাঈম ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন।

ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ক্রীড়ানুরাগী আব্দুর রব। উদ্বোধকের বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ক্রীড়ানুরাগী রুহেল মিয়া।

ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩) বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জালাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ক্রীড়ানুরাগী ফারুক মিয়া এবং লিলু মিয়া।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩) বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মাহবুব হোসেন, সুহেব মিয়া, শাহাবুদ্দিন বাবলু, রুপম মিয়া, আক্তার হোসেন, শেরওয়ান আহমদ, রুমন মিয়া, এমন আহমদ, মিহাদ আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চা ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোগশাইল গ্রামবাসীর এই আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্বনাথে ২৯তম টি-২০ ক্রিকেট লীগে চ্যাম্পিয়ন মিয়ার বাজার ক্রীড়া সংস্থা

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ২৯তম টি-২০ ক্রিকেট লীগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ পৌরসভার জানাইয়া গ্রামের শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থা ৪ উইকেটে পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি হাজী রইছ আলী।

কৃষিজমি সংস্কার করে তৈরি করা মাঠে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার খালেদ আহমদ এবং সাবেক জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের অংশগ্রহণ। তাদের উপস্থিতিতে পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

ফাইনাল ম্যাচে ম্যান অব দ্য ফাইনাল ও গেম চেঞ্জার নির্বাচিত হন মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার সায়েম। ম্যাচসেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হন মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার তুহিন এবং ম্যাচসেরা বোলার নির্বাচিত হন পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবের অর্ক।

এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার সুহেল। সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবের ইকবাল, সেরা বোলার হিসেবে মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার সুহেল, সেরা উইকেটকিপার হিসেবে পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবের ইব্রাহিম মিয়া, সেরা ফিল্ডার হিসেবে মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার রাফি এবং সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে রাজু এন্ড জেরিন স্পোর্টিং ক্লাবের রাহী নির্বাচিত হন।

বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি আমির হামজা রুকেলের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাব্বির ও ধারাভাষ্যকার মোহাম্মদ আলী লিটনের যৌথ পরিচালনায় ফাইনাল খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গৌছ খান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ট্রাস্টি ও বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সেবুল মিয়া এবং বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র সহকারী মিডিয়া অ্যাডভাইজার জামির হোসাইন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শাহজাহান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, প্রবাসী মানিক মিয়া, ইরফান আলী সোহান, বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ টিপু, বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র বাংলাদেশ সমন্বয় কমিটির সদস্য দেলওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্ট স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলছে এবং বিশ্বনাথে ক্রিকেটের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ক্রিকেট-ফুটবল প্রীতি ম্যাচ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ৪র্থ বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ক্রীড় প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ক্রিকেট ও ফুটবল প্রীতি ম্যাচ আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শারীরিক সুস্থতা ও ঐক্যবদ্ধ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি একাদশ ৯ রানের ব্যবধানে সাধারণ সম্পাদক একাদশকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করে। পরে একই মাঠে বিকেলে অনুষ্ঠিত ফুটবল প্রীতি ম্যাচে সাধারণ সম্পাদক একাদশ ৯-৭ গোলের ব্যবধানে সভাপতি একাদশকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।

ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচে সভাপতি একাদশের জামাল মিয়া দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করে ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। অপরদিকে ফুটবল প্রীতি ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক একাদশের সমুজ আহমদ সায়মন ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ হন।

ক্রিকেট ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম। ফুটবল ম্যাচে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম এবং প্রাথমিক সদস্য মাজহারুল ইসলাম সাব্বির।

ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচে টসে জয়লাভ করে সভাপতি একাদশ ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৫ ওভারে তারা ২ উইকেট হারিয়ে ৬৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে জামাল মিয়া ২০ বলে ঝড়ো ৪৪ রান করেন এবং তজম্মুল আলী রাজু ৯ বলে ১৩ রান যোগ করেন। সাধারণ সম্পাদক একাদশের বোলিংয়ে সমুজ আহমদ সায়মন ৩ রানে ও প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু ২৯ রানে একটি করে উইকেট লাভ করেন।

৬৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে সাধারণ সম্পাদক একাদশ নির্ধারিত ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু ১১ বলে অপরাজিত ৩১ রান এবং সমুজ আহমদ সায়মন ৪ বলে ৮ রান করেন। সভাপতি একাদশের বোলিংয়ে রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ১১ রানে, তজম্মুল আলী রাজু ১৮ রানে এবং জামাল মিয়া ২৫ রানে একটি করে উইকেট লাভ করেন।

ফুটবল প্রীতি ম্যাচে সাধারণ সম্পাদক একাদশের পক্ষে সমুজ আহমদ সায়মন ও জামাল মিয়া ৩টি করে গোল করেন। এছাড়া কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু ও নূর উদ্দিন একটি করে গোল করেন। সভাপতি একাদশের হয়ে রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, তজম্মুল আলী রাজু ও আব্দুস সালাম মুন্না ২টি করে এবং মোস্তাক আহমদ মোস্তফা ১টি গোল করেন।

খেলা শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এমন ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের প্রীতি ম্যাচ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, দলগত চেতনা এবং সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে তারা মন্তব্য করেন।

চায়ের দেশ সিলেটে পর্দা উঠলো বিপিএল ১২তম আসরের


এইসময় ডেস্ক:

চায়ের দেশ সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর দ্বাদশ আসর। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছোট্ট পরিসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিপিএলের সিলেট পর্বের সূচনা হয়।

বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে মাঠে নামে স্বাগতিক দল সিলেট টাইটান্স। ঘরের মাঠে বিপিএল যাত্রা শুরু হওয়ায় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেন সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকরা।

সিলেটের মাঠে বরাবরের মতোই দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপিএল ১২তম আসরের প্রথম ম্যাচেই স্টেডিয়ামের প্রতিটি গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় টিকিট না পেয়ে অনেক দর্শককে স্টেডিয়ামের বাইরে থেকেই ফিরে যেতে দেখা যায়।

খেলা শুরুর অনেক আগেই দর্শকরা মাঠে আসতে শুরু করেন। স্বাগতিক দলকে সমর্থন দিতে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেন বিপুল সংখ্যক দর্শক-সমর্থক। আয়োজক সূত্র জানায়, প্রথম দিনের টিকিট আগেভাগেই প্রায় সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যায়।

তবে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সকে হতাশ হতে হয়। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৮ উইকেটের ব্যবধানে সিলেট টাইটান্সকে পরাজিত করে জয় তুলে নেয়।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠ ও মাঠের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা উপলক্ষে কোনো ধরনের বড় বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিপিএল সিলেট পর্ব ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুরো কার্যক্রম পুলিশ কমিশনার নিজে সরাসরি তদারকি করছেন। খেলোয়াড়, ম্যাচ কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ, আশপাশের এলাকা এবং টিম হোটেলগুলোতে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেটের দর্শকরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবান। এখন পর্যন্ত মাঠ বা আশপাশে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দর্শকরা পুরো টুর্নামেন্ট উপভোগ করবেন।

প্রকাশিত হলো বিপিএলের ১২তম আসরের পূর্ণাঙ্গ সূচি, উদ্বোধনী ম্যাচ সিলেটে

এইসময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)–এর জমজমাট দ্বাদশ আসরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনটি ভেন্যুতে বিস্তৃত থাকবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি। আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্দা উঠবে বিপিএল ২০২৫–এর, আর ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা লড়াইয়ের ফাইনাল ম্যাচ।

এবারের আসরে ৩৪টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার তিন ভেন্যুতে। সূচি অনুযায়ী, সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে এবারের বিপিএল। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে স্বাগতিক সিলেট টাইটানস এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট পর্ব শেষ হলে টুর্নামেন্ট স্থানান্তরিত হবে চট্টগ্রামে; আর শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়।

সূচি অনুযায়ী, প্লে–অফ পর্ব শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি। এদিনই অনুষ্ঠিত হবে এলিমিনেটর ম্যাচ এবং প্রথম কোয়ালিফায়ার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নির্ধারিত হয়েছে ২১ জানুয়ারি, আর সবশেষে ২৩ জানুয়ারি ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। গুরুত্বপূর্ণ এসব ম্যাচের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে মোট ৬টি দল

  • ঢাকা ক্যাপিটালস
  • সিলেট টাইটানস
  • চট্টগ্রাম রয়্যালস
  • রংপুর রাইডার্স
  • রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
  • নোয়াখালী এক্সপ্রেস

প্রতিবারের মতো এবারও বিপিএল ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে বাড়ছে উত্তেজনা। নতুন দল, নতুন তারকা ও রোমাঞ্চকর সূচি—সব মিলিয়ে বছরের শেষ ভাগে আবারও ক্রিকেটমোদীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক উৎসবমুখর টুর্নামেন্ট।

Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s.

বিশ্বনাথে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ২০২৫–২৬ মৌসুমের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌরশহরের পুরাণ বাজার এলাকার একটি মার্কেটের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের।

এসময় তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বনাথে ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঘোষিত কমিটিতে ক্রীড়া সংগঠক আমির হামজা রুকেল সভাপতি, সোহাগ মিয়া সাধারণ সম্পাদক এবং মাজহারুল ইসলাম সাব্বির পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে ক্রিকেট উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া অভিজ্ঞ ও তরুণ সংগঠকদের সমন্বয় রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন:
সহ সভাপতি: রুফু মিয়া, জহিরুল মামুন, রুকন মিয়া
সহ সাধারণ সম্পাদক: সাব্বির আহমদ
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: আবদাল হোসেন
অর্থ সম্পাদক: মাহফুজুর রহমান ইমন
প্রচার সম্পাদক: রেজুয়ান বিন-লোকমান

কমিটি ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, নির্বাচন কমিশনার তারেক আহমদ খজির, আরব শাহ, লুৎফুর রহমান জুয়েলসহ ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, বিশ্বনাথে ক্রিকেটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্যম এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরই আগামী মৌসুমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ! ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানে পরাজিত

এই সময় ডেস্ক:

ব্যাটিং ব্যর্থতার হতাশা নিয়েই তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয়ের লড়াই-জেদে ভরা দুর্দান্ত হাফ–সেঞ্চুরি সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮২ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি টাইগাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রানেই থেমে যায় তাদের সংগ্রহ।

বৃহস্পতিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আইরিশরা যে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করে দেয়, তার সামান্যও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি স্বাগতিকেরা। শুরু থেকেই যেন আয়ারল্যান্ডের বোলারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ২০ রান তুলতে সক্ষম হয় পুরো দল—যেখানে মূলত উইকেটের পতনেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ব্যাটারদের। মুহূর্তেই চার উইকেট হারিয়ে চাপের পাহাড়ে ডুবে যায় লাল–সবুজরা।

এই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তুলতে সামনে আসেন জাকের আলি ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনের ব্যাটে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও ২০ রানের ব্যক্তিগত স্কোরে ফিরে যান জাকের। এরপর একাই প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে দাঁড়ান তাওহিদ হৃদয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অদম্য মনোবলে লড়ে যান তিনি। ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের চোখধাঁধানো ইনিংসে ছয়-চার মিলিয়ে তুলে আনেন এক লড়াকু হাফ–সেঞ্চুরি। তবে অন্য প্রান্তে কেউই তাকে সহযোগিতা করতে না পারায় দলীয় সংগ্রহ আর বড় হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানের বেশি এগোতে পারেনি বাংলাদেশ, ফলে নিশ্চিত হয় বড় ব্যবধানের হার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই ইতিবাচক সূচনা পায় আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের ওপেনিং জুটিতে আসে ৪০ রান। স্টার্লিং ১৮ বলে ২১ রান করে বিদায় নিলেও পাওয়ার প্লের শেষ পর্যন্ত আগ্রাসন ধরে রাখে আইরিশরা। ছয় ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৮/১।

স্টার্লিং আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন হ্যারি টেক্টর। দুই টেক্টরই দারুণ ছন্দে ব্যাট চালাতে থাকেন। টিম টেক্টর ১৯ বলে ৩২ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে দলের ৭১ রানের মাথায় আউট হন। এরপর ক্রিজে এলেও বড় কিছু করতে পারেননি লরকান টাকার—১৪ বলে ১৮ রানে ফিরতে হয় তাকে।

দলের রানের গতিতে আরও গতি আনেন হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফার। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশি বোলারদের উপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। ১৭ বলে ২৪ রান করে ক্যাম্ফার সাজঘরে ফিরলেও টেক্টর তখনো অটল। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন জর্জ ডকরেল। শেষদিকে টেক্টরের ব্যাট থেকে বের হতে থাকে তাণ্ডব। চার-ছয়ে সাজানো দুর্দান্ত ইনিংসে ৪৫ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত নান্দনিক ব্যাটিংয়ে আইরিশদের স্কোর পৌঁছে যায় ১৮১ রানে। শেষ ওভারে আসে ১৭ রান, যা বড় লক্ষ্য গড়তে সহায়ক হয়।

জর্জ ডকরেলও ৭ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় আয়ারল্যান্ড।

রিপনের ম্যাজিক সুপার ওভারে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’ দল

এই সময় ডেস্ক:

দোহায় এক নাটকীয় লড়াইয়ের পর এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস তথা এমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। নির্ধারিত ওভারে একের পর এক ক্যাচ মিস, ফিল্ডিং ভুল ও শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হারতে বসা ম্যাচটি ভারতের সঙ্গে টাই হওয়ার পর গড়ায় সুপার ওভারে। আর সেই সুপার ওভারেই লাল-সবুজদের নায়ক হয়ে ওঠেন পেসার রিপন ম-ল। দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১ রানের লক্ষ্য দেন তিনি, যা শেষে নিশ্চিত করে টাইগারদের স্মরণীয় জয়।

সুপার ওভারের নায়ক রিপন

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নেওয়া রিপন সুপার ওভারে প্রথম বলেই ইয়র্কারে বোল্ড করেন জিতেশ শর্মাকে। দ্বিতীয় বলেও প্রায় একই লেংথে ডেলিভারি করে তুলে মারতে বাধ্য করেন আশুতোষকে; বলটি অফে ধরা পড়লে ভারত হারায় দ্বিতীয় উইকেট। নিয়ম অনুযায়ী দুই উইকেট পড়ায় ভারত বাকি বল খেলতে পারেনি। টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১ রান।

তবে এখানেও তৈরি হয়েছিল অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা। ইয়াসির আলী প্রয়োজনীয় ১ রান নেয়ার বদলে প্রথম বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলার সুয়াশ শর্মার একটি ওয়াইড বল Bangladesh ‘A’ দলকে এনে দেয় জয়ের নিশ্চয়তা।

শেষ ওভারের নাটকীয়তা

এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের ভুলে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া করেই ফেলেছিল। ৫ উইকেটে ১৭৯ রান করা ভারতের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। বল হাতে আসেন রাকিবুল হাসান। প্রথম দুই বলে দুই সিঙ্গেল নিলেও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান আশুতোষ। চতুর্থ বলে সোজা ফিল্ডারের হাতে যাওয়া বলটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন জিসান আলম; বরং হাত ফস্কে বাউন্ডারি হয়ে যায়। শেষ দুই বলে দরকার পড়ে ৪ রানের।

রাকিবুল পঞ্চম বলে ইয়র্কারে বোল্ড করেন আশুতোষকে। শেষ বলে ব্যাটে-বলে ঠিকভাবে সংযোগ করতে না পারলেও দুই প্রান্ত বদল করে নেয় ভারত। এরপর ফিল্ডারের থ্রো স্টাম্পে লাগাতে গিয়ে ভুল করেন অধিনায়ক আকবর আলী। এক রানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ম্যাচ সমতায় আনে।
একটি সহজ থ্রো হাতে ধরে রাখলে জয় নিশ্চিত হতো বাংলাদেশ দলের।

বাংলাদেশের ইনিংস

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। জিসান আলমকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৪.২ ওভারে ৪৩ রানের জুটি গড়েন হাবিবুর রহমান সোহান। জিসান ২৬ রানে আউট হলেও সোহান একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলেন ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংস।

মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপ পড়ে বাংলাদেশে। তবে মেহরবের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং শেষ দিকে ইয়াসির রাব্বির কার্যকরী ইনিংসে দল দাঁড় করায় চ্যালেঞ্জিং ১৯৪ রান।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

সেমিফাইনালের এই রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস/এমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে তুলেছে। আগামীকাল ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে পাকিস্তান অথবা শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের।

২২ বছরের দুঃস্বপ্নের অবসান: মোরসালিনের জয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

এই সময় ডেস্ক:
২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ ফুটবল দল। ঘরের মাঠে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেই ‘মরীচিকার জয়’কে এবার বাস্তবে রূপ দিলেন হামজা চৌধুরী ও শেখ মোরসালিনরা। জাতীয় স্টেডিয়ামে যেন উৎসবের বন্যা বয়ে গেল মোরসালিনের জয়সূচক গোলের পর।

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতের বিপক্ষে জয় ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য। সেই স্মৃতিকে পাতায় পরিণত করে আজ নতুন ইতিহাস লিখেছে জামাল ভূঁইয়ারা।

চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারলেও ভারতের বিপক্ষে ফিরে এসে বাজিমাত করেন মোরসালিন। ম্যাচের ১১ মিনিটে রাকিব হোসেনের দুর্দান্ত পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ফিনিশিং—ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের সপ্তম গোল। গোল হওয়ার পর পুরো স্টেডিয়ামের ২৩ হাজার ৭১২ দর্শক একসাথে উল্লাসে ফেটে পড়ে।

রাকিবের দারুণ পাসটি আসে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতির ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার পর। বাংলাদেশ গোলের পর আরও কয়েকটি আক্রমণের চেষ্টা করলেও তেমন বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

৩১ মিনিটে ভারতের সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেও শেষ মুহূর্তে হেডে বল ক্লিয়ার করে দলকে বাঁচান হামজা চৌধুরী। ৪২ মিনিটে হামজার নেয়া দুর্দান্ত ভলিও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণ—সব জায়গায় অবদান রেখেছেন লেস্টার সিটির এই তারকা।

বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের চাপ মোকাবিলা করে খেলে। অর্ধের শুরুর পাঁচ মিনিটেই দুইবার গোলের কাছে গিয়েছিল ভারত, তবে শেষ মুহূর্তে বল বাইরে যায়।

৭০ মিনিটে মোহাম্মেদ সানানের নেওয়া জোরালো শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন মিতুল। যোগ করা সময়ে আবারও দুর্দান্ত সেভে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

তবু শেষ বাঁশি বাজতেই পুরো স্টেডিয়াম, খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফরা আনন্দে ভাসেন। ২২ বছরের প্রতীক্ষা শেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পঞ্চম ম্যাচে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।