আজকের সময়ের সেরা খবর
নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই থেকে শুরু বাস্তবায়ন

বেতন বাড়তে পারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, নিম্ন গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধিরও ভাবনা

এইসময় অনলাইন ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এ পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুতই আরও একটি সভার মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হতে পারে।

সভা সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার ও ধাপসংক্রান্ত বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রথম প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অবসর-পূর্ব ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যদিও জুলাই থেকে পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা, তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ বাংলাদেশির

এইসময় ডেস্ক:

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ৬১৭ জন বাংলাদেশি হাজি। বুধবার পর্যন্ত ১৭২টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে হজ বুলেটিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৬০ হাজার ২৯৮ জন রয়েছেন।

এদিকে, চলতি বছরের হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে পবিত্র মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থান মিনা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

এয়ারলাইনসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৮১টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ২৯৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৪৫৯ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৮৭ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানা গেছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো মোট ৬৬ হাজার ৯৬৩ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। অন্যদিকে মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩৬০ জন হাজিকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজযাত্রা শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের সুযোগ পান।