আজকের সময়ের সেরা খবর
জেডআরএফ মানবসেবায় বিশ্বে দৃষ্টান্ত হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

এইসময় অনলাইন ডেক্স:

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) বাংলাদেশের মানবসেবার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত এ সংগঠন গত ২৭ বছরে মানবসেবার ছোট্ট চারাগাছ থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

রবিবার রাতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ এবং তারেক রহমানের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে তিনি ফাউন্ডেশনের সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষ-একটু চেষ্টা, একটু উদ্যোগ’ এই সংকল্প নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতিটি মানুষের পাশে, মানুষের কাছে ফাউন্ডেশন সব সময় ছিল, আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানবতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশের নারীস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দেখাবে।

তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন। নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলো নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে দেশব্যাপী এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মীর প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর জন্য দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না, এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা ঢাকায় যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়, বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন

নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবার পরিকল্পনার ওপর জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অংশীদারত্বের জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের নিরাপদ শৈশব, প্রতিটি মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকার এবং গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চুক্তি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন ও মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করে। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারে বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে-ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধিদল।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালু করতে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এইসময় ডেক্স:

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় জানানো হয় যে, একাধিক দেশি ও বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই থেকে শুরু বাস্তবায়ন

বেতন বাড়তে পারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, নিম্ন গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধিরও ভাবনা

এইসময় অনলাইন ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এ পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুতই আরও একটি সভার মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হতে পারে।

সভা সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার ও ধাপসংক্রান্ত বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রথম প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অবসর-পূর্ব ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যদিও জুলাই থেকে পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা, তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ বাংলাদেশির

এইসময় ডেস্ক:

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ৬১৭ জন বাংলাদেশি হাজি। বুধবার পর্যন্ত ১৭২টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে হজ বুলেটিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৬০ হাজার ২৯৮ জন রয়েছেন।

এদিকে, চলতি বছরের হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে পবিত্র মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থান মিনা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

এয়ারলাইনসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৮১টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ২৯৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৪৫৯ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৮৭ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানা গেছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো মোট ৬৬ হাজার ৯৬৩ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। অন্যদিকে মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩৬০ জন হাজিকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজযাত্রা শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের সুযোগ পান।

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন

এই সময় ডেস্ক:

দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে এবার ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটার ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিসরে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, অকটেনের দাম ২০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উন্নীত হয়।

সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে গত প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম দ্বিতীয়বারের মতো বৃদ্ধি পেল। এতে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদে আল্টিমেটাম নয়, রাজপথে দিন—স্পিকারের কড়া বার্তা

এইসময় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদে আল্টিমেটাম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়। এখানে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আলোচনা করা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান-কে উদ্দেশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি জানান, অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যেই মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এর মধ্যে পড়ে না। তবে এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সংসদের ভেতরে এমন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে কঠোর সরকার, তথ্যদাতাকে পুরস্কার

এই সময় ডেস্ক:
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অবৈধভাবে তেল মজুতের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারিতে জেলা পর্যায়ে গঠন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ভিজিল্যান্স টিম’।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এসব ভিজিল্যান্স টিম কাজ করবে। টিমগুলো ডিপো, ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্প) থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবে। কোথাও অস্বাভাবিক মজুত, সরবরাহে গড়মিল বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থির করা বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সচেতন হয়ে অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, অবৈধ মজুতদারি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এতে করে অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং বাজারে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষিতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়নে ‘কৃষক কার্ড’ চালু: প্রথম ধাপে পাচ্ছেন ২১ হাজার কৃষক


এই সময় ডেস্ক:

দেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কৃষক কার্ড’। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেশের ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই কার্ড।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আট বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আগামী ১ বৈশাখ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার একটি করে ‘কৃষক কার্ড’ পাবে। তবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের। নীতিমালা অনুযায়ী, এসব কৃষককে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কেনার পাশাপাশি মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহেও। ফলে শস্যচাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা সবাই এই সুবিধার আওতায় আসছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া তথ্য ও রোগবালাই প্রতিরোধে পরামর্শ।

এই কর্মসূচির অন্যতম বিশেষ দিক হলো—প্রতিটি কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে একটি করে অ্যাকাউন্ট খোলা হবে এবং দেওয়া হবে ডেবিট কার্ড। কার্ডে জমা থাকা সরকারি সহায়তার অর্থ কেবল নির্ধারিত ডিলারের পস মেশিনের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

ফলে সহায়তার অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে না, নিশ্চিত হবে স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবহার।

তবে এই কার্ড শুধু সরকারি সহায়তার জন্য নয়—এটি সাধারণ ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কৃষক নিজস্ব অর্থ জমা রেখে তা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার প্রসার এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

চার জেলায় দুপুরে ম ধ‌্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

এই সময় ডেস্ক:

সিলেটসহ দেশের ৪ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্ততরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরো জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যার পর দেশের কোথায় কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।