আজকের সময়ের সেরা খবর
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালু করতে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এইসময় ডেক্স:

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় জানানো হয় যে, একাধিক দেশি ও বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই থেকে শুরু বাস্তবায়ন

বেতন বাড়তে পারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, নিম্ন গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধিরও ভাবনা

এইসময় অনলাইন ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এ পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুতই আরও একটি সভার মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হতে পারে।

সভা সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার ও ধাপসংক্রান্ত বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রথম প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অবসর-পূর্ব ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যদিও জুলাই থেকে পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা, তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ বাংলাদেশির

এইসময় ডেস্ক:

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ৬১৭ জন বাংলাদেশি হাজি। বুধবার পর্যন্ত ১৭২টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে হজ বুলেটিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৬০ হাজার ২৯৮ জন রয়েছেন।

এদিকে, চলতি বছরের হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে পবিত্র মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থান মিনা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

এয়ারলাইনসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৮১টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ২৯৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৪৫৯ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৮৭ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানা গেছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো মোট ৬৬ হাজার ৯৬৩ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। অন্যদিকে মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩৬০ জন হাজিকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজযাত্রা শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের সুযোগ পান।

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন

এই সময় ডেস্ক:

দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে এবার ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটার ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিসরে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, অকটেনের দাম ২০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উন্নীত হয়।

সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে গত প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম দ্বিতীয়বারের মতো বৃদ্ধি পেল। এতে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদে আল্টিমেটাম নয়, রাজপথে দিন—স্পিকারের কড়া বার্তা

এইসময় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদে আল্টিমেটাম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়। এখানে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আলোচনা করা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান-কে উদ্দেশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি জানান, অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যেই মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এর মধ্যে পড়ে না। তবে এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সংসদের ভেতরে এমন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে কঠোর সরকার, তথ্যদাতাকে পুরস্কার

এই সময় ডেস্ক:
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অবৈধভাবে তেল মজুতের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারিতে জেলা পর্যায়ে গঠন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ভিজিল্যান্স টিম’।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এসব ভিজিল্যান্স টিম কাজ করবে। টিমগুলো ডিপো, ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্প) থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবে। কোথাও অস্বাভাবিক মজুত, সরবরাহে গড়মিল বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থির করা বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সচেতন হয়ে অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, অবৈধ মজুতদারি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এতে করে অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং বাজারে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষিতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়নে ‘কৃষক কার্ড’ চালু: প্রথম ধাপে পাচ্ছেন ২১ হাজার কৃষক


এই সময় ডেস্ক:

দেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কৃষক কার্ড’। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেশের ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই কার্ড।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আট বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আগামী ১ বৈশাখ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার একটি করে ‘কৃষক কার্ড’ পাবে। তবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের। নীতিমালা অনুযায়ী, এসব কৃষককে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কেনার পাশাপাশি মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহেও। ফলে শস্যচাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা সবাই এই সুবিধার আওতায় আসছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া তথ্য ও রোগবালাই প্রতিরোধে পরামর্শ।

এই কর্মসূচির অন্যতম বিশেষ দিক হলো—প্রতিটি কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে একটি করে অ্যাকাউন্ট খোলা হবে এবং দেওয়া হবে ডেবিট কার্ড। কার্ডে জমা থাকা সরকারি সহায়তার অর্থ কেবল নির্ধারিত ডিলারের পস মেশিনের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

ফলে সহায়তার অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে না, নিশ্চিত হবে স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবহার।

তবে এই কার্ড শুধু সরকারি সহায়তার জন্য নয়—এটি সাধারণ ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কৃষক নিজস্ব অর্থ জমা রেখে তা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার প্রসার এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

চার জেলায় দুপুরে ম ধ‌্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

এই সময় ডেস্ক:

সিলেটসহ দেশের ৪ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্ততরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরো জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যার পর দেশের কোথায় কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

মাতৃভাষা দিবসে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য ইকবাল হাসান টুকুর

এইসময় ডেস্ক:

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও জাতীয় চেতনা নিয়ে সরব মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে ধারণ করতে হলে এবং একে সত্যিকার অর্থে মাতৃভাষা হিসেবে মর্যাদা দিতে হলে ভাষার ক্ষেত্রে আপস করা যাবে না।

তিনি বলেন, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না। এই শব্দ ও স্লোগানগুলোর সঙ্গে বাংলার আত্মিক সম্পর্ক নেই। ‘ইনকিলাব’ অন্য ভাষার শব্দ, যে শক্তি একসময় আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আজ সেটাই আমাদের তরুণদের মুখের ভাষা হয়ে গেছে। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা।”

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সমাজ বদলানোর জন্য। এখন দেখছি সমাজ উল্টো পথে হাঁটছে,” বলেন তিনি।

নিজের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন টুকু। তিনি বলেন, “এ কথা বললে আমাকে ভারতের দালাল বলা হতে পারে। তবুও বলব। কারণ আদর্শের জায়গা থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি, সেই বিশ্বাস থেকেই আজও কথা বলি।”

বক্তব্যে তিনি উপনিবেশিক শাসনের প্রভাবের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, ব্রিটিশ শাসন এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ভাষা ও সাংস্কৃতিক দমননীতি থেকেই প্রতিরোধের বীজ রোপিত হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে।

তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভাষা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে সচেতন না হলে চরমপন্থী প্রবণতা সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। “নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ শক্তভাবে গড়ে ওঠেনি,” মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, “নিজের ভাষা ও নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদের দায়িত্ব নেবে না।”

১২ মার্চের মধ্যে বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এ অধিবেশনের মাধ্যমে।

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশসমূহ এ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংসদের রীতিনীতি অনুসারে শোক প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারম্যান। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির।

রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন অধিবেশনেই নতুন সংসদের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।