আজকের সময়ের সেরা খবর
বরিশালে বাড়ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল, বেলস পার্কে জনসমাগমে উৎসবের আমেজ

এই সময় ডেস্ক:

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ঢল। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম ক্রমেই বাড়তে থাকে। সড়ক ও নৌপথে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন।

মাঠজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। বেলুন, ধানের শীষ প্রতীক ও দলীয় রঙে সাজানো হয়েছে পুরো বেলস পার্ক মাঠ। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে আশপাশের এলাকা।

বুধবার দুপুর ১২টায় এখানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র জানায়, এ জনসভায় বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় করে মাঠে অবস্থান নেন। নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগান নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন।

ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমাদের নেতা বরিশালে আসছেন। আজকের এই জনসমাগম তরুণদের প্রত্যাশারই প্রতিফলন।”

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে নৌপথে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মজিবর মোল্লা বলেন, “কষ্ট হলেও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সবাই মাঠে রয়েছে।”

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগম বলেন, “নারীরাও এই আন্দোলনের অংশ। শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়েই আমরা সমাবেশে এসেছি।”

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মাঠের উত্তর পাশে বড় মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নারী নেতাকর্মীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা বসার ব্যবস্থা। পুরো এলাকা তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সুশোভিত করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “তারেক রহমানের বরিশাল আগমন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে তারা পরিবর্তন ও গণতন্ত্র চায়।”

উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেলস পার্ক মাঠে সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও—কেড়ে নিতে এলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো’—ডা. শফিকুর রহমান

এইসময় ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ডাকসু দিয়ে শুরু হয়ে জকসুতে এসে যে পরিবর্তনের বার্তা দেখা গেছে, তা আপাতত থামেনি, বরং নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মঞ্চে উঠে প্রথমেই চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অনারা গম আছন নি?’—এই আন্তরিক প্রশ্নে মুহূর্তেই জনতার সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল—আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু কেউ যদি আমার ভোট কেড়ে নিতে আসে, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দেশের মা-বোনেরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। সম্প্রতি কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। কিন্তু এতে তাদের কোনো লাভ হবে না, বরং তারা নিজেরাই বিপদে পড়বে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমি বিশ্বাস করি বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানে। আমরা, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা চাই রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ন্যায়ভিত্তিকভাবে জনগণের মধ্যে বণ্টন করতে।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, যারা ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন। এই জোট ক্ষমতায় গেলে কোনো দলীয় রাজত্ব কায়েম হবে না, পরিবারতন্ত্র চলবে না।

গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ সময় দেশে কিছুই হয়নি—এ কথা বলা ঠিক হবে না। উন্নয়ন হয়েছে। তবে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ, যারা ভোটের আগে মানুষের কাছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হওয়ার পর তারাই সুর পাল্টে ফেলেছে।

তিনি বলেন, জুলাই মাসে রাজপথে যে স্লোগান শোনা গেছে—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, সেটাই আজও জনগণের মূল দাবি। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও—এই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হতে হবে।

ভোট কেনাবেচার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে—আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই, আমরা দুর্নীতির রাজনীতি চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না, পরিবারতন্ত্রে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়।

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতে ইসলামীর আমির চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি সংসদীয় আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুত্র: বাসস

যশোরে জনসভায় ‘ভোট গণনায় দেরি’র গল্প জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র—তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

‘এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে’—এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ইদানীং একটি নতুন গল্প শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে। এই গল্প জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি অপচেষ্টা।

সোমবার যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এ দেশের মানুষ গত এক যুগ ধরে ভোট দিতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই—এ কথা ঠিক নয়। ১৯৯১ সালে মানুষ ভোট দিয়েছে, ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়েছে, ২০০১ সালেও ভোট দিয়েছে। ভোট গণনায় কত সময় লাগে, তা বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালোভাবেই জানে।

তিনি বলেন, যদি কেউ ভোট গণনায় দেরির অজুহাত তুলে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে চায়, তাহলে জনগণকেই সেই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, এই দায়িত্ব দেশের প্রতিটি নাগরিকের।

যশোর জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুপুরে উপশহর কলেজ মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। খুলনার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরের উপশহর কলেজ মাঠের পাশে অবতরণ করেন। বেলা আড়াইটার দিকে মঞ্চে ওঠেন তিনি এবং ২টা ৩৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

এক ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত যশোর সফরের শেষাংশে তারেক রহমান যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা—যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান, এসব প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি পক্ষ এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তারা দাবি করছে, নাকি তারা সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। অথচ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো অসৎ প্রস্তাব দিয়েই যদি কাজ শুরু হয়, তাহলে কীভাবে তারা সৎ শাসনের কথা বলে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তারা মিথ্যা দাবি করেছে যে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। অথচ বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, সেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। শুধু নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য তারা এখন একের পর এক মিথ্যা কথা বলছে। যারা নির্বাচনের আগেই জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পর কী করবে, তা সহজেই অনুমেয়।

তারেক রহমান বলেন, আজকে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়।

বক্তব্যে দেশ পুনর্গঠনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও নানা প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে এই অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে তিনি আখ চাষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, যশোরের উলাসী খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন জিয়াউর রহমান নিজেই। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তিনি নিজেও খাল কাটতে যশোরে আসবেন বলে ঘোষণা দেন এবং সেই কাজে সকলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রকল্প আবারও সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নারী সমাজ নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা যায়, সে ধরনের চিন্তাভাবনার কথা বলছে। সম্প্রতি সেই দলের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা শুধু অশালীনই নয়, কলঙ্কজনকও।

তিনি হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। ইসলামের ইতিহাসেই নারীর কর্মজীবনের এই দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাই কর্মজীবী নারীদের অপমান করার কোনো অধিকার কারও নেই।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম, দেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন এসেছে। আশা করেছিলাম, রাজনীতিতে শালীনতা ও জনগণের মর্যাদা রক্ষার ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, একটি রাজনৈতিক দল আবারও মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করেছে এবং তাদের ঘরের ভেতর আটকে রাখার চিন্তা সামনে আনছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশ পুনর্গঠন ও এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা আরও সহজ হবে।

এছাড়া দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

দোষারোপের রাজনীতি ছাড়তে তরুণদের পরামর্শ চান তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আয়োজিত ‘পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের ভাবনা ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের পরামর্শ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা হবে।

তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির মজুত বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের কোনো লাভ নেই। জনগণ তখন সেই দলের পাশে দাঁড়ায় না।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজির মতো সমস্যা সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, তাহলে এসব অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে বৈশ্বিকভাবে কোন কোন ভোকেশনাল দক্ষতার চাহিদা বাড়বে, তা চিহ্নিত করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানো গেলে মানসম্মত শ্রমশক্তি রফতানি সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তিনি বলেন, শুধু জেলায় জেলায় হাসপাতাল নির্মাণ করলেই টেকসই সমাধান আসে না। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। বরং হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজ্যুয়াল সংযোগের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ডিভাইস সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করতে চান তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করা যাবে) গুলশানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন ভার্চুয়ালি এ কার্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে অফিসের পরিবেশ ও সাংগঠনিক বিষয় সম্পর্কে তাঁর পর্যাপ্ত ধারণা রয়েছে।

ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ওই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আব্দুস সালামকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পাভেল বলেন, এখনো নির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বলা যায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত করার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি আরও কিছু রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকতে পারে। এছাড়া গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপির আসন বণ্টনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭—এই দুটি আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

ভোটার হতে শনিবার নির্বাচন ভবনে যাচ্ছেন তারেক রহমান


এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে যাবেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সিনিয়র সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার বেলা ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত শেষে দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন করবেন তারেক রহমান।

ভোটার নিবন্ধন শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বিএনপি আগেই জানিয়েছিল, শনিবার তিনি ভোটার হবেন। এরই মধ্যে তাকে বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে যেকোনো এলাকার ভোটার হওয়াই যথেষ্ট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। সে কারণে তার আগেই ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, তারেক রহমানের ভোটার নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তারেক রহমানের রাজনীতিতে রজত জয়ন্তী

সালেহ আহমদ সাকী:


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সক্রিয় রাজনীতিতে ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক অধ্যায়ের রজত জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে দলটি। দলীয় ও বিরোধী রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি বর্তমানে দেশে ফিরে সশরীরে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২০০১ সালের পর বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় ভূমিকা দৃশ্যমান হলেও দলীয় সূত্র অনুযায়ী ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেন।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে যান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় প্রবাসে থেকে ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করেন। ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাঁর দেশে ফেরা দলকে নতুন করে সংগঠিত করবে এবং রাজনীতিতে গতি আনবে। সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি নতুন পথচলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার মধ্যরাতে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার মধ্যরাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি স্বদেশের পথে যাত্রা করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এ ফ্লাইটে তার পরিবারের সদস্যরাও থাকবেন। তিনি আরও জানান, লন্ডন থেকে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে ফ্লাইটটি হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের নেতা বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে লন্ডন থেকে যাত্রা করে আগামীকাল সকালে সিলেটে যাত্রাবিরতি করবেন। এরপর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন—ইনশাআল্লাহ।”

তিনি জানান, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন আহমদ তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করছেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের ওপর আবারও আঘাত এসেছে: মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমি জানি না এই মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে আছি। সারা জীবন সংগ্রাম করেছি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। আজ যে বাংলাদেশ দেখছি, সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনোদিন দেখিনি।”

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ বিষয়টি শুধু কোনো একটি গণমাধ্যমের নয়—ডেইলি স্টার নয়, প্রথম আলো নয়—আজ আঘাত এসেছে গণতন্ত্রের ওপর। স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অধিকার, কথা বলার অধিকার আবারও আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি জুলাই যুদ্ধের ওপরও আঘাত এসেছে, কারণ জুলাই যুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”

তিনি আরও বলেন, “অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এখানে খুব বেশি ব্যাখ্যার কিছু নেই। আজ আমরা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে শুধু সচেতন থাকলেই চলবে না, রুখে দাঁড়াতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিষয় নয়। এখন সময় এসেছে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। যারা অন্ধকার থেকে আলোতে যেতে চায়, যারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়—তাদের সবাইকে এক হতে হবে।”

তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু প্রতিবাদ সভা বা মানববন্ধনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সর্বক্ষেত্রে সর্বশক্তি নিয়ে যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিকে রুখে দেবেন। এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়।”

তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বিএনপির অভ্যর্থনা কমিটি গঠন

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে একটি অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করেছে দলটি। সোমবার গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভ্যর্থনা কমিটিতে বিএনপির ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে অভ্যর্থনা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে অভ্যর্থনা জানানো ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, যেখানে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

এছাড়া ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। উল্লেখ্য, ওই বাসার পাশের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বেগম খালেদা জিয়া।