আজকের সময়ের সেরা খবর
সচেতন হলে অনলাইনে কেনাকাটা হতে পারে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত

এইসময় ডেস্ক:

অনলাইনে কেনাকাটার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্য অর্ডার করার সুবিধা যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি অসচেতনতার কারণে প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে অনলাইনে কেনাকাটা হতে পারে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নতুন বা অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার আগে প্রতিষ্ঠানটি কত দিন ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

এ ছাড়া পণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড বা বিক্রেতা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন রিভিউ ও গ্রাহকদের মন্তব্য থেকে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অনলাইনে কেনাকাটার সময় অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা অতিরিক্ত গোপন তথ্য সাধারণ কেনাকাটার জন্য প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের তথ্য চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা উচিত। সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি বেছে নেওয়াই ভালো। একই সঙ্গে লেনদেনের আগে ওয়েবসাইটে HTTPS নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি পাবলিক বা ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অনলাইনে অর্থ পরিশোধ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ব্যক্তিগত ও নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করাই উত্তম।

সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে অনলাইনে কেনাকাটাকে নিরাপদ অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে।

কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ: বাজেটবান্ধব যেসব দেশে ঘুরে আসা সম্ভব

এইসময় ডেস্ক:

দেশ–বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সেই ইচ্ছে পূরণ করতে পারেন না। কিন্তু পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে অল্প খরচে ঘুরে দেখা যায় মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন আর অনন্য সংস্কৃতি। ভিসা ফি থেকে শুরু করে থাকা–খাওয়া, পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী হওয়ায় বাজেট ভ্রমণকারীদের কাছে এসব দেশ দ্রুত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সহজ ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপদ পরিবেশ এবং কম খরচে ঘোরাঘুরির সুযোগ দেওয়ায় ২০২৫ সালে আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণ করছে। সামান্য পরিকল্পনা ও কিছু দরকারি তথ্য আগে থেকে জেনে রাখলে খুব সহজেই তৈরি করা যায় আনন্দদায়ক ও অর্থসাশ্রয়ী একটি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—কম বাজেটে ঘুরে আসার মতো দেশগুলোর তালিকা এবং তাদের ভিসা ফি-সংক্রান্ত তথ্য।


নেপাল

আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজেটবান্ধব ভ্রমণ গন্তব্য নেপাল।
১৫ দিনের ভিসার খরচ প্রায় ৩৬০০ টাকা, ৩০ দিনের ৬০০০ টাকা, আর ৯০ দিনের ভিসা পাওয়া যায় মাত্র ১৫,০০০ টাকায়
ভিসা সম্প্রসারণও সহজ হওয়ায় হিমালয়পাড়ি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে এটি প্রথম পছন্দ।


কম্বোডিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য কম্বোডিয়া।
৩০ দিনের পর্যটক ভিসা পাওয়া যায় মাত্র ৩৬০০ টাকায়। আর ই-ভিসার খরচ প্রায় ৪২০০ টাকা
২০২৫ সালে আংকর ওয়াট মন্দির থেকে ফনমপেনের ঐতিহাসিক স্থান—সবকিছুই কম খরচে ঘুরে দেখার সুযোগ দিচ্ছে এই দেশ।


জর্ডান

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য জর্ডান।
৩০ দিনের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার খরচ প্রায় ৪০ জর্ডানীয় দিনার—বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০০০ টাকা
পেত্রার রূপ, ডেড সি-র রহস্যময়তা আর ওয়াদি রুম মরুভূমি ভ্রমণের জন্য এই খরচ যুক্তিসঙ্গত।
এ ছাড়া জর্ডান পাস নিলে অনেক সময় ভিসা ফিও মওকুফ হয়।


তানজানিয়া

আফ্রিকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বাজেটবান্ধব বিকল্প তানজানিয়া।
ভিসার খরচ প্রায় ৬১০০ টাকা, এবং এতে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়।
সেরেনগেটির সাফারি, কিলিমাঞ্জারো পর্বত কিংবা জাঞ্জিবারের নীল পানির সৈকত—সবই পাওয়া যায় তুলনামূলক কম খরচে।


উগান্ডা

আফ্রিকার আরেক সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য উগান্ডা।
৩০–৯০ দিনের পর্যটক ভিসার খরচ প্রায় ৬১০০ টাকা
পর্বতগোরিলা, সবুজ পাহাড়, জাতীয় উদ্যান এবং নীল নদের উৎস—সব মিলিয়ে উগান্ডা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি ডেস্টিনেশন। বিশেষ করে বুইন্দি ইমপেনেট্রেবল ন্যাশনাল পার্ক পর্বতগোরিলা দেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।


শেষ কথা

যারা কম বাজেটে একটি স্মরণীয় বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই দেশগুলো হতে পারে দুর্দান্ত বিকল্প। সাশ্রয়ী ভিসা ফি, স্বল্প খরচে থাকা–খাওয়া আর সহজ যাতায়াত—সব মিলিয়ে খুব অল্প টাকায় দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘুরে আসা সম্ভব এসব দেশ থেকে।

শীত এলেই পিঠা–পুলির মৌসুম, ভেজাল গুড়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

এই সময় ডেস্ক:

পৌষ–মাঘ মানেই বাঙালির ঘরে পিঠা–পুলির উৎসব। শীতের আমেজে নানারকম পিঠার স্বাদ নিতে চান সবাই। আর পিঠার নাম আসলেই চলে আসে খেজুরের গুড়ের কথা। কিন্তু বাজারে ভেজালের ছড়াছড়ির কারণে খাঁটি গুড় পাওয়া এখন বেশ কষ্টসাধ্য। আর ভেজাল গুড় খেলে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা—এমনই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গুড়ে কী কী ভেজাল মেশানো হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল গুড়ে মেশানো হয় অতিরিক্ত চিনি, বিভিন্ন কৃত্রিম রং এবং কেমিক্যাল। চিনি দিয়ে স্বাদ বাড়ানো হলেও বড় বিপদ আসে রং এবং রাসায়নিক পদার্থ থেকে। এসব ক্ষতিকর উপাদান শরীরে জমে যেতে পারে নানা জটিলতার কারণ।

এছাড়া ওজন বাড়াতে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, আর চকচকে দেখাতে মেশানো হয় সোডিয়াম বাইকার্বোনেট। ফলে ভেজাল গুড় হয় হলদেটে বা সাদা স্তরযুক্ত, যা আসল গুড়ের প্রাকৃতিক রঙের সঙ্গে মেলে না।

ভেজাল গুড় খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে

ভেজাল গুড়ে থাকা রাসায়নিক উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত খেলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকিও।

এ ছাড়া—

  • পেটে গ্যাস, অম্বল, অ্যাসিডিটি
  • বমি, ডায়রিয়া
  • লিভার ও হজমতন্ত্রে জটিলতা

এসব সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কীভাবে চেনবেন আসল গুড়?

বাজারে ভেজালের ভিড়ে খাঁটি গুড় চিনতে কিছু সহজ উপায় রয়েছে—

১. স্বাদ পরীক্ষা
খাঁটি গুড় অত্যন্ত মিষ্টি হয়। ভেজাল গুড়ে থাকে খানিকটা নোনতা বা তেতো স্বাদ। কেনার আগে সামান্য চেখে দেখলে পার্থক্য বুঝে নেওয়া যায়।

২. আঙুলে চেপে দেখুন
আসল গুড় বাইরের দিক থেকে শক্ত লাগলেও ভেতরে নরম ও রসালো হয়। আর ভেজাল গুড় হয় শক্ত, কম নরমাল ও রুক্ষ।

৩. পানির পরীক্ষা
এক গ্লাস স্বচ্ছ পানিতে সামান্য গুড় ফেললে খাঁটি গুড় ধীরে ধীরে গলে যাবে। কিন্তু ভেজাল গুড় পানিতে ফেলে দিলে কেমিক্যাল–মেশানো অংশ তলানিতে জমে থাকবে।

আসল গুড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতাও কম নয়

খাঁটি খেজুরের গুড় শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, বরং আয়রন, মিনারেল এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। সঠিক মানের গুড় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।


সতর্কতা: বাজার থেকে গুড় কেনার সময় রঙ, গন্ধ, স্বাদ ও গঠনের দিকে লক্ষ্য রাখুন। পিঠা–পুলির আনন্দ নিশ্চিন্ত রাখতে খাঁটি ও ভালো মানের গুড় বেছে নিন।

শীত সময়ে লাইফস্টাইল: সুস্থতা, ফ্যাশন ও দৈনন্দিন যত্ন

সালেহ আহমদ সাকী

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভ্যাসে। এ সময় আবহাওয়ার ঠান্ডা প্রকৃতি যেমন আনন্দ এনে দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় স্বাস্থ্যঝুঁকিও। তাই শীতকালে লাইফস্টাইলকে একটু সচেতনভাবে সাজানো প্রয়োজন—যাতে সুস্থ থাকা যায়, আবার ফ্যাশনেও থাকে স্টাইলের ছোঁয়া।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি—শীতে যত্ন সবচেয়ে জরুরি

শীতের শুষ্ক আবহাওয়া শরীরে পানির ঘাটতি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পানি পান করা এবং ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অপরিহার্য। গরম স্যুপ, খিচুড়ি, ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল, খেজুর, বাদাম ও মৌসুমি সবজি শরীরকে উষ্ণ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এ সময় সর্দি-কাশি, ফ্লু ও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ ধোয়া, ভিড় এড়ানো এবং যথাযথ বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।

ত্বক ও চুলের যত্ন—শীতে দরকার বাড়তি মনোযোগ

শীতে সবচেয়ে ভোগান্তি হয় ত্বকের। ঠান্ডার কারণে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, গরম পানিতে কম সময় গোসল এবং অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চুলেও পড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব। তাই সপ্তাহে এক-দু’বার হালকা গরম তেল ম্যাসাজ ও মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার চুলকে রাখে নরম ও সুরক্ষিত।

শীতের ফ্যাশন—আরাম ও স্টাইল একসঙ্গে

শীতকাল নিজের মতো করে সাজার দারুণ সময়। হুডি, জ্যাকেট, সোয়েটার, লং–কোট বা শাল—সবই দেয় আরাম ও আনে স্টাইলিশ লুক। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেয়ারিং স্টাইল (একাধিক পোশাক পরা) শীতে যেমন চমৎকার দেখায়, তেমনি আরামদায়কও।
উষ্ণ মোজা, গ্লাভস ও টুপি যোগ করলে শুধু ফ্যাশনই নয়, নিশ্চিত হয় সুরক্ষা।

জীবনযাপন—পরিবর্তিত রুটিনে বাড়ুক স্বস্তি

শীতের সকালগুলো বেশ মন্থর হলেও এই সময়টায় নিয়মিত ব্যায়াম শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রোদ পাওয়া গেলে রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে।
সন্ধ্যার ঠান্ডায় ঘরকে আরামদায়ক রাখতে হালকা গরম পানীয়, উষ্ণ কম্বল ও আরামদায়ক পরিবেশ ঘুমকে গভীর করে এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।

শেষকথা

শীত এমন একটি ঋতু, যা আনন্দও দেয়, আবার যত্নহীনতায় অসুস্থও করে দিতে পারে। তাই শীতকালীন লাইফস্টাইলে সচেতনতা, স্বাস্থ্য, ফ্যাশন ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই ঋতুটি হবে আরও উপভোগ্য।