নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 6 days ago
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের
আন্তর্জাতিক- Est 1 min
- 0 Views
- 6 days ago
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালু করতে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই থেকে শুরু বাস্তবায়ন
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ বাংলাদেশির
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
বিশ্বকাপ ২০২৬: ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের ৫ অনন্য বৈশিষ্ট্য
খেলা- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন
জাতীয়- Est 0 min
- 0 Views
- 5 months ago
Top 10 News
Sport-খেলা
News-খবর
সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? জেনে নিন উপকারিতা ও সতর্কতা
জীবনযাপন- Est 1 min
- 0 Views
- 5 hours ago
নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 6 days ago
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের
আন্তর্জাতিক- Est 1 min
- 0 Views
- 6 days ago
সিলেট-চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা, স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সারাদেশ- Est 1 min
- 0 Views
- 3 months ago
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালু করতে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই থেকে শুরু বাস্তবায়ন
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ বাংলাদেশির
জাতীয়- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
বিশ্বকাপ ২০২৬: ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের ৫ অনন্য বৈশিষ্ট্য
খেলা- Est 1 min
- 0 Views
- 4 months ago
Recent-সম্পতি
Post-পোস্ট
সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? জেনে নিন উপকারিতা ও সতর্কতা
কাঁচা হলুদ আমাদের পরিচিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। রান্নার পাশাপাশি বহু বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায়ও হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হলুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কারকিউমিন (Curcumin), যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।
তবে কাঁচা হলুদ খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়, লিভার পরিষ্কার হয় কিংবা সব ধরনের হজমের সমস্যা দূর হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি।
কাঁচা হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা
১. প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে
হলুদের কারকিউমিনের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু গবেষণায় বিশেষ করে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও জড়তা কমাতে হলুদ বা কারকিউমিনের সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও উন্নতমানের গবেষণা প্রয়োজন। কাঁচা হলুদ খাওয়া কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
কারকিউমিনসহ হলুদের কিছু উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হলুদ খেলেই শরীরের সব ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
৩. হজমের সমস্যায় কী ভূমিকা রয়েছে?
কিছু মানুষ হলুদ খেলে হজমে আরাম পাওয়ার কথা জানান। তবে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটি দূর করতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং কারও কারও ক্ষেত্রে হলুদ খেলে বুকজ্বালা বা পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
৪. ত্বকের যত্নে সম্ভাব্য ভূমিকা
হলুদের কিছু উপাদান নিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্য ও প্রদাহ কমানোর বিষয়ে গবেষণা চলছে। কিন্তু কাঁচা হলুদ খেলে ত্বক উজ্জ্বল হবে বা ব্রণ দূর হবে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। ত্বকের সুস্থতার জন্য সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও উপযুক্ত ত্বকের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ।
৫. লিভারের জন্য কি উপকারী?
লিভারের কিছু সমস্যায় কারকিউমিনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে লিভার সুস্থ রাখা বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্য কাঁচা হলুদ খাওয়ার কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়। শরীরের বর্জ্য ও বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার কাজ স্বাভাবিকভাবেই লিভার ও কিডনি করে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ (NCCIH)।
অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খেলে কী সমস্যা হতে পারে?
হলুদ সাধারণত রান্নায় ব্যবহৃত স্বাভাবিক খাদ্য-পরিমাণে অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে বেশি পরিমাণে খাওয়া বা উচ্চমাত্রার কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
- পেটের সমস্যা: বমি বমি ভাব, পেট খারাপ, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যাসিডিটি হতে পারে।
- কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি: হলুদে অক্সালেট থাকে। যাদের ক্যালসিয়াম-অক্সালেট পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
- ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া: হলুদ বা কারকিউমিনের ঘনীভূত সাপ্লিমেন্ট কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধের ওষুধ গ্রহণকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- লিভারের ক্ষতি: বিরল হলেও কিছু উচ্চমাত্রার বা শোষণ বাড়ানো কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা সম্পর্কিত পাওয়া গেছে।
- অ্যালার্জি: কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে চুলকানি, র্যাশ বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কারা বিশেষ সতর্ক থাকবেন?
গর্ভবতী বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন ব্যক্তি, পিত্তথলির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি হলুদ বা হলুদের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিদিন সকালে কতটুকু কাঁচা হলুদ খাওয়া উচিত?
কাঁচা হলুদ খালি পেটে খেতেই হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। আবার প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কাঁচা হলুদ খেলে সবার উপকার হবে, এমন প্রমাণও নেই। হলুদের উপাদানের পরিমাণ এবং কাঁচা হলুদ ও সাপ্লিমেন্টের ঘনত্ব এক নয়। তাই সবার জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক মাত্রা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
সাধারণভাবে রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। কাঁচা হলুদ খেতে চাইলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন এবং শরীরে কোনো অস্বস্তি হলে খাওয়া বন্ধ করুন। রোগের চিকিৎসা হিসেবে উচ্চমাত্রার হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ করবেন না।
শেষ কথা
কাঁচা হলুদ পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক উপাদান বলেই কোনো কিছু সবার জন্য নিরাপদ—এমন ধারণা থেকে দূরে থাকুন।
স্বাস্থ্যসচেতন থাকুন, তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা: এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
তথ্যসূত্র:
- National Center for Complementary and Integrative Health (NCCIH): Turmeric — Usefulness and Safety
- National Institutes of Health (NIH), LiverTox: Turmeric
জেডআরএফ মানবসেবায় বিশ্বে দৃষ্টান্ত হবে: ডা. জুবাইদা রহমান
এইসময় অনলাইন ডেক্স:
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) বাংলাদেশের মানবসেবার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত এ সংগঠন গত ২৭ বছরে মানবসেবার ছোট্ট চারাগাছ থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
রবিবার রাতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ এবং তারেক রহমানের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে তিনি ফাউন্ডেশনের সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষ-একটু চেষ্টা, একটু উদ্যোগ’ এই সংকল্প নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতিটি মানুষের পাশে, মানুষের কাছে ফাউন্ডেশন সব সময় ছিল, আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানবতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংকটে উন্নয়নশীল বিশ্ব, সমাধানহীন আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক
এইসময় অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধ, ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এসব সংকটের চাপে কঠিন সময় পার করছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। সংকট উত্তরণে দিকনির্দেশনা খুঁজতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিলেও সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে আলোচনা।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণসংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও এআইয়ের প্রভাব মোকাবিলায় বড় কোনো নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়নি। বরং বাজেট ঘাটতি কমানো, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো প্রচলিত পরামর্শই গুরুত্ব পেয়েছে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোও বর্তমানে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব দেশে বন্ডের মুনাফার হার ও ঋণ নেওয়ার ব্যয় বাড়ায় তার প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও। ফলে অনেক দেশ নিজেদের ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেও আগের তুলনায় বেশি সুদ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে।
রাজস্বের বড় অংশ যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে
জর্জিয়েভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের গড় ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে সরকারি রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় এখনো স্পষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জর্জিয়েভা সতর্ক করেন। একই সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান জানা আছে বলে দাবি করা ব্যক্তিদের বক্তব্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন তিনি।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিপস্কির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বৈঠকটি। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো নিজেরাই যখন আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা অগ্রাধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এআইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি করেছে। এআই উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবলের অভাবে দরিদ্র দেশগুলো এই প্রযুক্তির সুফল থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান ও আয়বৈষম্যের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের জ্বালানিসংকট সামাল দিতে সক্ষম হলেও উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় ধরনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দুর্বল হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে।
এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি পুঁজির প্রবাহ তিন গুণের বেশি বেড়েছে। তবে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় দরিদ্র দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ কাটছে না।
বৈষম্য ও জলবায়ু সংকটেও কার্যকর রূপরেখার অভাব
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও কলম্বিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী মাউরিসিও কার্দেনাসের মতে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেট পিকেট অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে, বৈষম্য বৃদ্ধি ও দারিদ্র্যের বিস্তার দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। শুধু সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করলেই চলবে না, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকের সময় থাইল্যান্ডের বন্যাও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। সেপ্টেম্বরে বন্যায় দেশটির শিল্প খাতে প্রায় ২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধ, ঋণের বাড়তি চাপ, মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠকে আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সমাধানের অভাবে সংকট উত্তরণের পথ এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: রয়টার্স।
নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
এই সময় ডেস্ক:
বাংলাদেশের নারীস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দেখাবে।
তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন। নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলো নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা
মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে দেশব্যাপী এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মীর প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর জন্য দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না, এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা ঢাকায় যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়, বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।
নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন
নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবার পরিকল্পনার ওপর জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অংশীদারত্বের জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের নিরাপদ শৈশব, প্রতিটি মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকার এবং গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস
বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চুক্তি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন ও মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করে। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারে বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে-ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধিদল।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের
এই সময় ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং দেশটির স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আরবের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও কিংবা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, এ-সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো:
- শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫
- পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬
- ডিপ্লোমেটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪
- মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০
সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন মেনে চলা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
সিলেট-চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা, স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
এইসময় ডেস্ক:
স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের অধিকাংশ প্রধান নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও কয়েকটি পাহাড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সিলেট ও ময়মনসিংহেও সতর্কতা
সিলেট অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই ও কংস নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মার পরিস্থিতি
পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল। আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
রংপুরে আপাতত স্বস্তি
রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে পানি আবার বাড়তে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালু করতে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
এইসময় ডেক্স:
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় জানানো হয় যে, একাধিক দেশি ও বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

