আজকের সময়ের সেরা খবর
কোয়াডকে কড়া বার্তা উত্তর কোরিয়ার, ‘পরমাণু অস্ত্র কখনও ছাড়বে না পিয়ংইয়ং’

এই সময় ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করায় চার দেশের জোট ‘কোয়াড’-এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই তারা তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করবে না।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড জোটের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, দেশটির পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কখনোই ঘটবে না।

কোয়াডের কঠোর সমালোচনা করে ওই মুখপাত্র বলেন, “কোয়াড একমেরু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছু নয়।” তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া কোয়াডের বৈরী মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানায় এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, কোয়াডের সহযোগিতা জোরদারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জাপানের পুনরায় অস্ত্রসজ্জা কর্মসূচি এবং অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন অর্জনের বিষয়টিকে বৈধতা দেওয়া। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়া জানায়, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় তারা দৃঢ় অবস্থানে থাকবে এবং অঞ্চলে যেকোনো একচেটিয়া জোট ও সংঘাতমুখী উদ্যোগের বিরোধিতা করে যাবে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা মন্তব্য করে বলেন, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই কোয়াডকে এশিয়ায় ন্যাটোর সম্ভাব্য সংস্করণ হিসেবে দেখে আসছে এবং নিয়মিতভাবে এই জোটের সমালোচনা করে। সিউলের মতে, এবার পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া মূলত জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে চীনের অবস্থানের প্রতিও সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা Kim Jong Un-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং এআই পরিচালিত প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে কিম জং উন বলেন, নতুন এআই পরিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ‘স্পেশাল মিশন ওয়ারহেড’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি এসব ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি ও নির্ভুলতা যাচাই করতেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পর এবার নিজেদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকীকরণে আরও জোর দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এসব আধুনিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণাও দিয়েছে দেশটি।

হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ধসে পড়ল ভবন, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ, চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান

এই সময় ডেস্ক:

ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা। হামলার সরাসরি আঘাতে একটি পাঁচতলা ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে, আর তাতেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে যান বহু মানুষ। ঘটনাস্থলে শুরু হয়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন বাঁচানোর মরিয়া লড়াই।

ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বরাতে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ চালাচ্ছেন। ভারী কংক্রিট আর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করতে চলছে টানা অভিযান।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল একের পর এক হামলার মুখে পড়ছে। তবে সাম্প্রতিক এই হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করেছে।

ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইয়োদিয়থ আহরোনাথ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা—আর প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠছে বাঁচা-মরার লড়াই।

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবি: নিখোঁজ অন্তত ৭০ অভিবাসন প্রত্যাশী

এইসময় ডেস্ক:

ভূমধ্যসাগরে একটি নৌযান ডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইতালীয় এনজিও মেডিটেরিনিয়া সেভিং হিউম্যান।

সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, শনিবার বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ (সার) জোনে একটি কাঠের নৌযান ডুবে যায়। নৌযানটি তাজাউর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে, বৌরি অয়েল ফিল্ড-এর নিকটবর্তী এলাকায়।

এনজিওটির তথ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া নৌযান থেকে ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃতদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায়-তে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এক্সবার্তা-এর বরাতে জানা গেছে, জীবিতদের দাবি অনুযায়ী নৌযানটিতে মোট ১৮০ জন আরোহী ছিলেন এবং কোস্টগার্ড পৌঁছানোর আগেই প্রায় ৮০ জন সাগরে ডুবে যান।

নিখোঁজদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

বিতর্কিত বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা বাতিল: মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

এইসময় ডেস্ক:

বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি-এর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অ্যাডলফ হিটলারকে প্রশংসা এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে প্রায় ১ কোটি অনুসারী থাকা এই ধর্মীয় বক্তা বিভিন্ন সময় এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরের অংশ হিসেবে ‘লেগাসি অব ফেইথ’ শিরোনামে একটি বক্তৃতা সিরিজে অংশ নিতে তার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরা সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সফর চলাকালীন সময়েই তার ভিসা বাতিল করা হয় এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এর আগে তাকে যুক্তরাজ্য-এ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশেও উগ্র বক্তব্যের অভিযোগে জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদানে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল দলের সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, আজহারির সফর নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠী সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। তিনি জানান, বাংলাদেশভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজসহ একাধিক সংগঠন থেকে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে আজহারি ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন এবং হলোকাস্ট-সংক্রান্ত বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি অ্যাডলফ হিটলার-কে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তিনি ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

এইসময় ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে জরুরি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তর শুরু করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে সশরীরে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সম্প্রতি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

এই হুমকির প্রেক্ষিতে লেবাননের American University of Beirut (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে Lebanese American University-ও জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সাময়িকভাবে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ক্লাস চালাবে।

অন্যদিকে, Qatar News Agency-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই কাতার সরকার দেশটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনলাইন শিক্ষা চালুর নির্দেশ দেয়। এর আওতায় রয়েছে Georgetown University in Qatar, Texas A&M University at Qatar এবং Virginia Commonwealth University School of the Arts in Qatar-এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ও চলতি মাসের শুরু থেকে একই ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

আইআরজিসির সরাসরি হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা খাত এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণা কার্যক্রম, ল্যাব ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক সংঘাতে শিক্ষাঙ্গনকে জড়িয়ে ফেলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে-সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির

এই সময় ডেস্ক:

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বর্তমানে বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী দলীয় নেতারা। সৈন্য সংকট এবং সুনির্দিষ্ট রণকৌশলের অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সংরক্ষিত সেনারা ইতোমধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে কাজ করায় তারা চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্যের অভাব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন জানিয়েছেন, বিভিন্ন সীমান্তে বিশেষ করে লেবানন, গাজা, পশ্চিম তীর ও সিরিয়ায় বাড়তি সেনার চাহিদা বেড়েছে। লেবানন সীমান্তে সামনের প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত আইডিএফ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, আইডিএফকে সামর্থ্যের বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কোনো স্পষ্ট কৌশল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াই সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠিয়েছে এবং আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সৈন্য না থাকায় সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্যপূরণে হিমশিম খাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই সংকট উত্তরণে লাপিদ আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের দাবি তুলেছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ড্রাফট বা নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। লাপিদ স্পষ্টভাবে বলেন, যারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এড়াতে চাইবে তাদের সব ধরনের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং পলাতকদের খুঁজে বের করে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও হারেদি সম্প্রদায়ের পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের কার্যত এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সদস্য সংকট তীব্র হওয়ায় দেশটিতে এই নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের কড়া বার্তা, পাল্টা হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

এইসময় ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরি ররিজানি তিনি দাবি করেন, গতকাল ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং তা নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত হেনেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আজ আমরা তাদের এমন শক্তিতে আঘাত করবো, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” তার এই বক্তব্য ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট **ডোনাল্ড ট্রাম্প**ও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কঠোরভাবে আঘাত হানবে।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ইরান জানিয়েছে তারা আজ ভয়াবহ আঘাত হানবে, যা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তবুও যদি তারা তা করে, তাহলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেবো, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।”

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত — যুদ্ধে উত্তেজনা তীব্র

এই সময় ডেস্ক:

রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) বিশ্ব রাজনীতি এক বড় ও চাঞ্চল্যকর অশান্তির মুখোমুখি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে ইরানি সরকারি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সূত্রে জানানো হয়েছে।

হামলা ও ঘটনাক্রম

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে “অপারেশন ইপিক ফিউরি” নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর উপরে হামলা করা। এরই মধ্যে তেহরানের খামেনির কমপ্লেক্সে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরণের ছবি প্রকাশ হয়েছে, যেখানে তার নিরাপদ বাংকারসহ ভবনের অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইহা বলে হচ্ছে যে, যুদ্ধ ও হামলার সময় খামেনি তার অফিসে ছিলেন, এবং হামলার আঘাতে তিনি গুরুতর হতাহত হয়েছেন বলে সংবাদ ঘোষণা এসেছে।

কী জানা যাচ্ছে

ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং তাকে “শহীদ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

হামলায় খামেনির সঙ্গে কিছু পারিবারিক সদস্যও নিহত হয়েছে এমন সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা বেড়ে গেছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসহ বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক দল প্রতিশোধ গ্রহণের হুমকি দিয়েছে, যেখানে তারা “খুনিদের শাস্তি” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় সংকট তৈরি করেছে। পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া, সামরিক সমর্থন ও সম্ভাব্য সংঘাতের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বিগ্ন।

ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে — কারা নেতৃত্ব গ্রহন করবে, তা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যতম বড় প্রশ্ন। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি হামলায় ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত

এইসময় ডেস্ক:

আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, এখন পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, সীমান্তে সামরিক অভিযানে তালেবানের ৭৪টি চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১৮টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, পাকিস্তানের হামলা ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ হিসাবে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং দুটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

সীমান্তের এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বিপরীতমুখী তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে এখনো হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, টানা উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে

এইসময় ডেস্ক:

লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি (৫৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গত এক দশক ধরে জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। তবে কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সাইফ গাদ্দাফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও লিবিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালান, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যু লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।