আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
“প্রবাসীর অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার; বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, আমাদের সবার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালি শেষে উপজেলা প্রশাসন ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রকল্প প্রত্যাশা–২–এর যৌথ আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বিশ্বনাথ প্রবাসবন্ধু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রবাসবন্ধু ফোরামের সহ-সভাপতি বেগম স্বপ্না শাহিন, উপজেলা ইউএনও কার্যালয়ের সিইও লুৎফুর রহমান, প্রবাসবন্ধু ফোরামের সদস্য শাহিন আহমদ, নুর উদ্দিন, বদরুল ইসলাম মহসিন, প্রবাসফেরত আবদুল মান্নান এবং নাজমা বেগম।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ অনেক সময় প্রবাসীরা বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রত্যাশা–২–এর প্রোগ্রাম অর্গানাইজার আনহার আলী। তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং প্রবাসী ও তাদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভা শেষে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রবাসীদের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

এইসময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিকদের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের গৃহীত হালনাগাদ প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়। বিভিন্ন দেশকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণও জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ব্রিফিংয়ে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের পরামর্শ অগ্রহণযোগ্য: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

এইসময় ডেস্ক:
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের কোনো পরামর্শ ঢাকা প্রত্যাশা করে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে—এ বিষয়ে প্রতিবেশী কোনো দেশের পরামর্শ আমরা চাই না।”

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাধিক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সময় ভারত নীরব ভূমিকা পালন করেছে। অথচ এখন, যখন বাংলাদেশ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন হঠাৎ করে পরামর্শ আসছে—যা তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা প্রয়োজনীয় মনে করে না। “এখন আমরা একটি ভালো নির্বাচনের পথে রয়েছি। এই সময়ে হঠাৎ করে পরামর্শ দেওয়া যুক্তিসংগত নয়,” বলেন তিনি।

তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার করে আসছে, যেখানে নাগরিকরা মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন—যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ধরে অনুপস্থিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় ভারত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা ব্যাপক সমালোচনার বিষয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বিএনপির অভ্যর্থনা কমিটি গঠন

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে একটি অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করেছে দলটি। সোমবার গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভ্যর্থনা কমিটিতে বিএনপির ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে অভ্যর্থনা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে অভ্যর্থনা জানানো ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, যেখানে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

এছাড়া ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। উল্লেখ্য, ওই বাসার পাশের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বেগম খালেদা জিয়া।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন

এইসময় ডেস্ক:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বুধবার রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সেদিন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান দেখতে যান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে টেলিফোনে হাদির সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জরুরি অস্ত্রোপচার করেন।

পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মধ্যেই এগোচ্ছে নির্বাচন: তাহসিনা রুশদীর লুনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গভীর অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপপ্রচার।

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই এসব তথ্য যাচাই না করেই বিশ্বাস করছেন।” এমন পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীরা যদি প্রতিটি মিথ্যা সংবাদের বিপরীতে সত্য তুলে ধরে কাউন্টার নিউজ করেন, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।”

লুনা আরও বলেন, “ফেসবুক ও ইউটিউবজুড়ে যেভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা যাচাই করার ক্ষেত্রে জনগণের একমাত্র ভরসা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তাই মূলধারার সাংবাদিকদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সাংবাদিকরা সাধারণত নির্ভীকভাবে সত্য প্রচারে অটল থাকেন। তবে সাংবাদিকতার সঙ্গে দলীয়করণ যুক্ত হলে সত্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করেছে। এমনকি বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করায় গত ১৫ বছর দেশবাসী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল।”

আগামী নির্বাচনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সিলেট-২ আসনে বিএনপি আমাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। আমি মাঠে থেকে মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। দেশবাসী জানেন, আমার স্বামী এম. ইলিয়াস আলীর সাহসী ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তাঁকে গুম করে রেখেছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমি এম. ইলিয়াস আলীর প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্ট ভিশন ঘোষণা করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ভিশন বাস্তবায়ন করা হবে। কারণ প্রকৃত উন্নয়নের একমাত্র রাজনৈতিক দল হলো বিএনপি।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গৌছ খান, যুক্তরাজ্যস্থ নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না, দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মহান বিজয় দিবসে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের বিনম্র শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্বনাথ উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়েরসহ ক্লাবের সদস্য আশিক আলী, কামাল মুন্না, নবীন সোহেল, সালেহ আহমদ সাকী, আব্দুস সালাম, আক্তার আহমদ শাহেদ, বদরুল ইসলাম মহসিন ও মোশাহিদ আলী।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বিজয়ের এই দিনে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের অঙ্গীকার। মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সচেতন থাকার প্রেরণা জোগায়।

অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

বাহরাইন প্রতিনিধি:

যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগম্ভীরতা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) সকাল ৯টায় বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি।

এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত মো: রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বীর শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রমহারা দুই লক্ষ মা-বোনদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার ও সনদপত্র বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সকল পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

দৌলতপুরের কৃতি সন্তান আব্দুল মুমিন কালুর যুক্তরাষ্ট্র গমন উপলক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে দৌলতপুর গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব ও তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা আব্দুল মুমিন কালুর স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গমন উপলক্ষে এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর হাওয়ারুন নেছা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে তাকে শুভকামনা জানানো হয়।

দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও প্রবীণ মুরব্বী আজম আলী’র সভাপতিত্বে ও আবু তাহের সাগর ‘র সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী ইলিয়াছুর রহমান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে রেজাউল করিম রাজু বলেন, “আব্দুল মুমিন কালু শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি দৌলতপুরের উন্নয়নের এক নিরলস কারিগর। প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আব্দুল মুমিন কালু বলেন, “আমি যেখানেই থাকি না কেন, দৌলতপুর আমার হৃদয়ে থাকবে। গ্রামের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও তরুণদের অগ্রযাত্রায় আজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।” তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস আলী, সাবেক ইউপি সদস্য সামছুদ্দিন, দ্বীপালী সংঘের সভাপতি আরিফ উল্লাহ সিতাব ও সাধারণ সম্পাদক হারিছ আলী, সাবেক ইউপি সদস্য আলী আকবর মিলন, সমাজসেবক ডা. বিভাংশু গুন বিভু, আশিকুর রহমান রানা, দারুস্সুন্না দাখিল মাদ্রাসার সহ-সভাপতি মকছুদ আহমদ, বিশিষ্ট মুরব্বী আবুল কালাম, দ্বীপালী সংঘের অর্থ সম্পাদক ফরহাদ আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক আহমদ পিয়ার, ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান।

যুবসমাজের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইকবার হোসেন, সাগর মাহমুদ, হাসান আহমদ, নাজমুল ইসলাম খান, এসপি সেপু ও হোসাইন মো. ইমরান। তারা বলেন, “আব্দুল মুমিন কালু তরুণদের জন্য একজন আদর্শ; তার পথচলা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে বিদায়ী অতিথির সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ভীতি ছড়াতেই হামলা, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চক্রান্তের জবাব দেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

এইসময় ডেস্ক:

তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এ ধরনের হীন, কাপুরুষোচিত ও চক্রান্তমূলক আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি নির্বাচনমুখী হচ্ছে, ততই একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনের পরিবেশকে ভীতিকর করে তুলতে সহিংসতা ও আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে। জনগণ যেন আতঙ্কে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে সরে আসে—সে লক্ষ্যেই এসব অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের গণমাধ্যম প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। যদিও গণমাধ্যম বরাবরই গণতন্ত্র চর্চায় একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে এসেছে, তবে ওই সময় সঠিক তথ্য জনগণের সামনে আসেনি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য প্রচার করা যায়নি, কিংবা প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্য অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, কোনোভাবেই বিকৃত বা খণ্ডিত নয়। সরকার একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও গণমুখী গণমাধ্যম দেখতে চায়। তথ্য উপস্থাপনায় যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় এবং জনগণ সঠিক সত্য জানতে পারে—সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

অজামিনযোগ্য মামলায় অপরাধীদের জামিন প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইনের আওতায় বিচারকের স্বাধীনতা রয়েছে। বিচারক পরিস্থিতি ও মামলার প্রকৃতি বিবেচনায় জামিন দিতে পারেন কিংবা আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি বলেন, একদিকে বলা হয় বিনা বিচারে মানুষকে কারাগারে রাখা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে জামিন দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।