আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ২০২৫–২৬ মৌসুমের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌরশহরের পুরাণ বাজার এলাকার একটি মার্কেটের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের।

এসময় তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বনাথে ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঘোষিত কমিটিতে ক্রীড়া সংগঠক আমির হামজা রুকেল সভাপতি, সোহাগ মিয়া সাধারণ সম্পাদক এবং মাজহারুল ইসলাম সাব্বির পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে ক্রিকেট উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া অভিজ্ঞ ও তরুণ সংগঠকদের সমন্বয় রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন:
সহ সভাপতি: রুফু মিয়া, জহিরুল মামুন, রুকন মিয়া
সহ সাধারণ সম্পাদক: সাব্বির আহমদ
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: আবদাল হোসেন
অর্থ সম্পাদক: মাহফুজুর রহমান ইমন
প্রচার সম্পাদক: রেজুয়ান বিন-লোকমান

কমিটি ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, নির্বাচন কমিশনার তারেক আহমদ খজির, আরব শাহ, লুৎফুর রহমান জুয়েলসহ ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, বিশ্বনাথে ক্রিকেটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্যম এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরই আগামী মৌসুমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা (পশ্চিম হাটি) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি হাফেজ আব্দুল কাদির।

সভায় মাওলানা ফখরুল ইসলামকে সভাপতি, শামছুল ইসলাম জুনেদকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা ইলিয়াস উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
সহ সভাপতি: ক্বারী ইরশাদ হোসেন, মাওলানা হেলাল আহমদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান। সহ সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল আলীম, হাফেজ আব্দুল কাদির। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: মাওলানা জয়নাল আবেদীন। অর্থ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল হামিদ তানজিম। প্রচার সম্পাদক: মাওলানা মুশাররফ হোসেন সিরাজী। সহ প্রচার সম্পাদক: হাফেজ নূর মিয়া
অফিস সম্পাদক: মাওলানা আমির উদ্দিন। সহ অফিস সম্পাদক: হাফেজ শাহজাহান মিয়া
সাহিত্য সম্পাদক: মাওলানা রুহুল আমিন। সহ সাহিত্য সম্পাদক: হাফেজ নাজমুল ইসলাম
সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মাওলানা সালেহ আহমদ।

সোসাইটির উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ আব্দুল কাদির ও মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নতুন কমিটি আগামীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

বিশ্বনাথে ড. ক্বাসিমীর উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ! মানবিক সহায়তায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী এই শিক্ষাবিদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমীর পক্ষ থেকে শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার এই আয়োজনে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌর শহরের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কার্যালয়, রামপাশা ইউনিয়নের মাঝপাড়া জামে মসজিদ এবং দশঘর ইউনিয়নের পিরের বাজার এলাকায় তিন দফায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল—চাল, ডাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ, যা সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর জন্য বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন নোমান আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এম. আশরাফুল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বাসিত ও ক্বারী মাওলানা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “করোনা, বন্যা কিংবা যেকোনো দুর্যোগে প্রবাস থেকে ড. ক্বাসিমী বিপুল সহযোগিতা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই সহায়তা নিজ হাতে পৌঁছে দিচ্ছি অসহায় মানুষের দ্বারে। মানবিকতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এবং আগামীতেও ইনশাআল্লাহ চলবে।”

ড. ক্বাসিমীর দীর্ঘদিনের মানবিক উদ্যোগ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় অনেকেই বলেন, প্রবাসে থেকেও তিনি সবসময় দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা সত্যিই অনুকরণীয়।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে সুবিধাভোগীদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। তারা প্রবাসী এই শিক্ষাবিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার আশা ব্যক্ত করেন।

আবুধাবির সড়কে ঝড়ল সিলেটি যুবকের প্রাণ

এইসময় ডেস্ক:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে টানা ১০ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশি প্রবাসী রুবেল আহমদ (৩৫)। শুক্রবার রাতে মাফরাক বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সিলেটের মোগলাবাজার উপজেলার কলদিয়ার চর এলাকার বাসিন্দা রুবেল প্রায় পাঁচ বছর ধরে আবুধাবিতে ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। দেশে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

গত ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে বারোটার দিকে আবুধাবির মুরুর রোডের আল বাতিন পুরনো বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোটরবাইকে খাবার ডেলিভারির কাজে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণহীন একটি পাকিস্তানি চালিত ট্রাক রুবেলের বাইকসহ আরেকটি ডেলিভারি কোম্পানির মিশরীয় রাইডারের মোটরবাইককে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মিশরীয় রাইডারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রুবেলকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ট্রাকচালককে আটক এবং ট্রাকটি জব্দ করেছে স্থানীয় পুলিশ।

বর্তমানে রুবেলের মরদেহ আবুধাবির বানিয়াস সেন্ট্রাল মর্গে রাখা হয়েছে। আমিরাতের জাতীয় দিবসের ছুটি শেষে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে তার কর্মস্থল ‘ক্লিক ডেলিভারি সার্ভিস’ কর্তৃপক্ষ।

রুবেলের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিশ্বনাথে ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমীর মানবিক উদ্যোগ: দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. লুৎফুর ক্বাসীমী। তারই ধারাবাহিকতায় শীতার্ত ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর ) বাদ জোহর বিশ্বনাথ পৌরসভার কারীকোনা এলাকার চাদের হাট রেস্টুরেন্টে এ উপহার সামগ‌্রী বিতরণ করা হয়।
মানবিক এ উদ্যোগের পুরো আয়োজন ও ব্যয়ভার বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত পদপ্রার্থী নেতা ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কঠোর শীতের এই সময়টিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই ড. ক্বাসীমীর পক্ষ থেকে এ উপহার বিতরণের আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্থানীয় সমাজকর্মী ও আয়োজকরা চালকদের হাতে রিকশার লোগো সম্বলিত টি–শার্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী মাওলানা আশরাফুল হক। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুল বাছিত।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বশীল হাফিজ মাওলানা রুহুল আমিন জাকারিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হোসাইন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, দশঘর ইউনিয়নের নির্বাহী সদস‌্য মাওলানা শেখ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত মজলিসের সদস্য মো. নোমান আহমদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, “ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার মানবিক সহায়তা এলাকায় প্রশংসনীয় উদাহরণ তৈরি করেছে। শীত মৌসুমে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিকারের মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের হাতে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
উপহার পেয়ে চালকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফুল হক।

এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টঙ্গীতে পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি

এই সময় ডেস্ক:

টঙ্গীর তুরাগ নদীর পূর্ব তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) থেকে শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে তাবলীগ জামাতের পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। মূল বিশ্ব ইজতেমা শুরুর প্রায় ৪০ দিন আগে অনুষ্ঠিত এই জোড় ইজতেমাকে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী মঙ্গলবার এ প্রস্তুতিমূলক ইজতেমার সমাপ্তি হবে।

প্রতিবছরই শুরায়ে নেজাম (মাওলানা জোবায়ের আহমেদ অনুসারী) বিশ্ব ইজতেমার আগেই এই বিশেষ আয়োজন করে আসছে। এতে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার তাবলীগ সাথী অংশ নেন এবং বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়নসহ পরবর্তী বছরের করণীয় নির্ধারণ করেন।

শুরায়ে নেজামের গণমাধ্যম মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান,
“বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়ন, নির্দেশনা গ্রহণ এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে জোড় ইজতেমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আয়োজন।”

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে আগত তাবলীগ সাথীরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের উত্তর–পূর্ব কোণে, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত টিনশেড মসজিদ এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেছেন। সেখানে স্থাপিত মিম্বার থেকে শুরায়ের মুরব্বিরা ধারাবাহিকভাবে বয়ান, নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

আয়োজকরা জানান, জোড় ইজতেমাকে ঘিরে থাকা-খাওয়া, নামাজ, খুৎবা, বয়ান, যাতায়াত ও নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন শুধুমাত্র ৩ চিল্লার সাথী এবং কমপক্ষে এক চিল্লা সময় লাগানো আলেমরা। এতে করে এর স্বতন্ত্র মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় থাকে।

জোড় ইজতেমার মাধ্যমে তাবলীগ সাথীরা সারাবছরের দাওয়াতি কাজের হিসাব পেশ করেন এবং প্রবীণ মুরব্বিদের কাছ থেকে রাহবারী নেয়ার সুযোগ পান। দাঈদের আমল, দাওয়াতের পদ্ধতি, তরতিব এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়–নিষ্করণীয় বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান উপস্থাপন করা হয়।

এদিকে, টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান,
মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের এ জোড় ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচন শেষে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রধান পর্ব আয়োজন করা হবে।

শুরুতেই ভেঙে পড়ার শঙ্কা: নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ স্থগিত

এই সময় ডেস্ক:

শুরুতেই বড় ধরনের হোঁচট খেল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির নেতৃত্বে গঠনের উদ্যোগ থাকা নতুন রাজনৈতিক জোট। বহু প্রত্যাশিত এই জোটটির গতকাল আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা আর হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে জোটের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হঠাৎই স্থগিত করা হয়।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চার দলের এই জোট গঠনের আলোচনা বেশ জোরদার হয়েছিল। এনসিপি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এই চারটি রাজনৈতিক দল মিলে নতুন একটি বিকল্প ধারা তৈরি করতে চাইছিল। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে এনসিপির আপত্তির মুখে আপ বাংলাদেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। ফলে প্রত্যাশিত জোট গঠনের উদ্যোগ অনিশ্চয়তায় পড়ে স্থগিত হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জোট গঠন প্রক্রিয়া আপাতত পিছিয়েছে। কিছুদিন পর জোটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আমরা গণমাধ্যমকে জানাব।’

সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে আপ বাংলাদেশকে নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। দলের একটি বড় অংশ আপ বাংলাদেশকে নতুন জোটে নিতে রাজি হয়নি। বৈঠকে বিষয়টি গৃহীত না হওয়ায় এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়—তারা আপ বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন করতে আগ্রহী নয়। এই অবস্থায় বাকি দলগুলোও নতুন করে চিন্তায় পড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা আপ বাংলাদেশকে নিয়ে জোট গঠনকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। তাদের মতে, আপ বাংলাদেশকে রেখে জোট করলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে আপ বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অন্য তিন দল যদি আপ বাংলাদেশ ছাড়া জোটে যেতে রাজি না হয়, তাহলে পুরো জোটই অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে। সেই আলোচনা এখনো চলছে।

ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ‘জোট গঠনের প্রক্রিয়া পিছিয়েছে। আলোচনা অব্যাহত আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।’ তবে এনসিপি আপ বাংলাদেশকে জোটে নিতে চাইছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।’

সব মিলিয়ে, নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ আপাতত স্থগিত। আলোচনার অগ্রগতি এবং দলগুলোর পারস্পরিক সহমত ছাড়া জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’: সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি, উত্তাল সাগরে ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এই সময় ডেস্ক:

দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এ রূপ নিয়েছে। দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্রকাশিত আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নং–৩–এ এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২টার অবস্থান অনুযায়ী চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার বেগে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের আশপাশের সাগর অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে আগে দেখানো ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোর জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ যদি আরও শক্তিশালী হয়, তবে এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়োপযোগী সব নির্দেশনা প্রচারের আশ্বাস দিয়েছে।

হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ! ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানে পরাজিত

এই সময় ডেস্ক:

ব্যাটিং ব্যর্থতার হতাশা নিয়েই তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয়ের লড়াই-জেদে ভরা দুর্দান্ত হাফ–সেঞ্চুরি সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮২ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি টাইগাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রানেই থেমে যায় তাদের সংগ্রহ।

বৃহস্পতিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আইরিশরা যে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করে দেয়, তার সামান্যও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি স্বাগতিকেরা। শুরু থেকেই যেন আয়ারল্যান্ডের বোলারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ২০ রান তুলতে সক্ষম হয় পুরো দল—যেখানে মূলত উইকেটের পতনেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ব্যাটারদের। মুহূর্তেই চার উইকেট হারিয়ে চাপের পাহাড়ে ডুবে যায় লাল–সবুজরা।

এই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তুলতে সামনে আসেন জাকের আলি ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনের ব্যাটে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও ২০ রানের ব্যক্তিগত স্কোরে ফিরে যান জাকের। এরপর একাই প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে দাঁড়ান তাওহিদ হৃদয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অদম্য মনোবলে লড়ে যান তিনি। ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের চোখধাঁধানো ইনিংসে ছয়-চার মিলিয়ে তুলে আনেন এক লড়াকু হাফ–সেঞ্চুরি। তবে অন্য প্রান্তে কেউই তাকে সহযোগিতা করতে না পারায় দলীয় সংগ্রহ আর বড় হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানের বেশি এগোতে পারেনি বাংলাদেশ, ফলে নিশ্চিত হয় বড় ব্যবধানের হার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই ইতিবাচক সূচনা পায় আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের ওপেনিং জুটিতে আসে ৪০ রান। স্টার্লিং ১৮ বলে ২১ রান করে বিদায় নিলেও পাওয়ার প্লের শেষ পর্যন্ত আগ্রাসন ধরে রাখে আইরিশরা। ছয় ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৮/১।

স্টার্লিং আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন হ্যারি টেক্টর। দুই টেক্টরই দারুণ ছন্দে ব্যাট চালাতে থাকেন। টিম টেক্টর ১৯ বলে ৩২ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে দলের ৭১ রানের মাথায় আউট হন। এরপর ক্রিজে এলেও বড় কিছু করতে পারেননি লরকান টাকার—১৪ বলে ১৮ রানে ফিরতে হয় তাকে।

দলের রানের গতিতে আরও গতি আনেন হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফার। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশি বোলারদের উপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। ১৭ বলে ২৪ রান করে ক্যাম্ফার সাজঘরে ফিরলেও টেক্টর তখনো অটল। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন জর্জ ডকরেল। শেষদিকে টেক্টরের ব্যাট থেকে বের হতে থাকে তাণ্ডব। চার-ছয়ে সাজানো দুর্দান্ত ইনিংসে ৪৫ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত নান্দনিক ব্যাটিংয়ে আইরিশদের স্কোর পৌঁছে যায় ১৮১ রানে। শেষ ওভারে আসে ১৭ রান, যা বড় লক্ষ্য গড়তে সহায়ক হয়।

জর্জ ডকরেলও ৭ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় আয়ারল্যান্ড।

প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন সৌদিসহ সাত দেশে স্থগিত, সঠিক ঠিকানার ঘাটতি দায়ী

এই সময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না দেওয়ায় সৌদি আরবসহ সাত দেশের প্রবাসীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি–এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিবন্ধনের সময় প্রবাসীরা পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান না করায় বাহরাইন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পোস্টাল ভোট নিবন্ধন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সঠিক ঠিকানা ছাড়া ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন ছাড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫০০ জন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছে কমিশন। গত ১৯ নভেম্বর থেকে প্রবাসীদের জন্য অ্যাপ-ভিত্তিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে যেসব দেশে নিবন্ধন স্বাভাবিকভাবে চলছে, তার মধ্যে রয়েছে— দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও বেশ কিছু দেশ।

বাংলাদেশে অবস্থানরত ভোটারদের মধ্যে যারা ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, সরকারি চাকরিজীবী বা কারাবন্দী— তারা আগামী ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।