আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ক্রিকেট-ফুটবল প্রীতি ম্যাচ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ৪র্থ বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ক্রীড় প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ক্রিকেট ও ফুটবল প্রীতি ম্যাচ আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শারীরিক সুস্থতা ও ঐক্যবদ্ধ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি একাদশ ৯ রানের ব্যবধানে সাধারণ সম্পাদক একাদশকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করে। পরে একই মাঠে বিকেলে অনুষ্ঠিত ফুটবল প্রীতি ম্যাচে সাধারণ সম্পাদক একাদশ ৯-৭ গোলের ব্যবধানে সভাপতি একাদশকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।

ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচে সভাপতি একাদশের জামাল মিয়া দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করে ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। অপরদিকে ফুটবল প্রীতি ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক একাদশের সমুজ আহমদ সায়মন ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ হন।

ক্রিকেট ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম। ফুটবল ম্যাচে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম এবং প্রাথমিক সদস্য মাজহারুল ইসলাম সাব্বির।

ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচে টসে জয়লাভ করে সভাপতি একাদশ ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৫ ওভারে তারা ২ উইকেট হারিয়ে ৬৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে জামাল মিয়া ২০ বলে ঝড়ো ৪৪ রান করেন এবং তজম্মুল আলী রাজু ৯ বলে ১৩ রান যোগ করেন। সাধারণ সম্পাদক একাদশের বোলিংয়ে সমুজ আহমদ সায়মন ৩ রানে ও প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু ২৯ রানে একটি করে উইকেট লাভ করেন।

৬৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে সাধারণ সম্পাদক একাদশ নির্ধারিত ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু ১১ বলে অপরাজিত ৩১ রান এবং সমুজ আহমদ সায়মন ৪ বলে ৮ রান করেন। সভাপতি একাদশের বোলিংয়ে রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ১১ রানে, তজম্মুল আলী রাজু ১৮ রানে এবং জামাল মিয়া ২৫ রানে একটি করে উইকেট লাভ করেন।

ফুটবল প্রীতি ম্যাচে সাধারণ সম্পাদক একাদশের পক্ষে সমুজ আহমদ সায়মন ও জামাল মিয়া ৩টি করে গোল করেন। এছাড়া কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু ও নূর উদ্দিন একটি করে গোল করেন। সভাপতি একাদশের হয়ে রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, তজম্মুল আলী রাজু ও আব্দুস সালাম মুন্না ২টি করে এবং মোস্তাক আহমদ মোস্তফা ১টি গোল করেন।

খেলা শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এমন ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের প্রীতি ম্যাচ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, দলগত চেতনা এবং সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে তারা মন্তব্য করেন।

২২ বছরের দুঃস্বপ্নের অবসান: মোরসালিনের জয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

এই সময় ডেস্ক:
২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ ফুটবল দল। ঘরের মাঠে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেই ‘মরীচিকার জয়’কে এবার বাস্তবে রূপ দিলেন হামজা চৌধুরী ও শেখ মোরসালিনরা। জাতীয় স্টেডিয়ামে যেন উৎসবের বন্যা বয়ে গেল মোরসালিনের জয়সূচক গোলের পর।

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতের বিপক্ষে জয় ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য। সেই স্মৃতিকে পাতায় পরিণত করে আজ নতুন ইতিহাস লিখেছে জামাল ভূঁইয়ারা।

চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারলেও ভারতের বিপক্ষে ফিরে এসে বাজিমাত করেন মোরসালিন। ম্যাচের ১১ মিনিটে রাকিব হোসেনের দুর্দান্ত পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ফিনিশিং—ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের সপ্তম গোল। গোল হওয়ার পর পুরো স্টেডিয়ামের ২৩ হাজার ৭১২ দর্শক একসাথে উল্লাসে ফেটে পড়ে।

রাকিবের দারুণ পাসটি আসে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতির ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার পর। বাংলাদেশ গোলের পর আরও কয়েকটি আক্রমণের চেষ্টা করলেও তেমন বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

৩১ মিনিটে ভারতের সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেও শেষ মুহূর্তে হেডে বল ক্লিয়ার করে দলকে বাঁচান হামজা চৌধুরী। ৪২ মিনিটে হামজার নেয়া দুর্দান্ত ভলিও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণ—সব জায়গায় অবদান রেখেছেন লেস্টার সিটির এই তারকা।

বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের চাপ মোকাবিলা করে খেলে। অর্ধের শুরুর পাঁচ মিনিটেই দুইবার গোলের কাছে গিয়েছিল ভারত, তবে শেষ মুহূর্তে বল বাইরে যায়।

৭০ মিনিটে মোহাম্মেদ সানানের নেওয়া জোরালো শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন মিতুল। যোগ করা সময়ে আবারও দুর্দান্ত সেভে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

তবু শেষ বাঁশি বাজতেই পুরো স্টেডিয়াম, খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফরা আনন্দে ভাসেন। ২২ বছরের প্রতীক্ষা শেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পঞ্চম ম্যাচে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।