আজকের সময়ের সেরা খবর
গণহত্যার অভিযোগে জয়–পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এইসময় ডেস্ক:

গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা সংগঠনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

এদিন একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ট্রাইব্যুনালের কাছে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তার আবেদনের ভিত্তিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে, পলক, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলে শুনানিতে জানানো হয়।

এর আগে তদন্ত সংস্থা অভিযোগ–সংবলিত প্রতিবেদন প্রধান কৌঁসুলির দপ্তরে দাখিল করে। পরে প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। প্রক্রিয়া অনুসারে অভিযোগ গ্রহণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অভিযোগ গঠন করা হবে এবং এরপরই মামলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আদালত জানায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা বহাল: হাইকোর্টের রায় সমর্থন করল আপিল বিভাগ

এইসময় ডেস্ক:

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে করা লিভ টু আপিল খারিজ হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। আদেশের সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ। ইন্টারভেনর হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয় গত মঙ্গলবার। শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই রাষ্ট্রীয় বৈধতার মূলভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সমর্থন থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে, গত ১২ নভেম্বর শুনানিতে আদালত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনে আইনজীবী মহসীন রশিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আসে। পরে আপিল বিভাগ তার কাছে ব্যাখ্যা চান।

গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইনজীবী মহসীন রশিদ। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে মন্তব্য করেন, দেশের জনগণ বৈধতা প্রদান করায় এই সরকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। পরে তিনি আপিল বিভাগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন, যা আজ খারিজ হয়ে যায়।

রেমিট্যান্সে খরচ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ: প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

এই সময় ডেস্ক:

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর সার্বিক খরচ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা যে সব মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান—ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্যান্য চ্যানেল—সেসব প্রতিটি লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য এখন থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সার্কুলারে জানানো হয়, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিনের রেমিট্যান্স লেনদেনের তথ্য পরবর্তী দিনের দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এ জন্য পৃথক দুটি ছকও সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ

সূত্র মতে, বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে বাংলাদেশসহ বহু দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো পাঠানো টাকার ওপর নানা ধরনের ফি ধার্য করে। পাশাপাশি অনেক দেশে এ খরচের ওপর কর আরোপ থাকে। আর দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও লেনদেনের বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ আদায় করে থাকে। ফলে রেমিট্যান্স পাঠানোর মোট খরচ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

কোন কোন তথ্য দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে প্রতিটি লেনদেনের—

  • লেনদেনের তারিখ
  • রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের নাম
  • রেমিট্যান্স পাঠানোর উপকরণ/চ্যানেল
  • অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি
  • টাকায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ
  • প্রণোদনার পরিমাণ
  • ডলারে রেমিট্যান্সের পরিমাণ
  • রেমিট্যান্স কোন মুদ্রায় পাঠানো হয়েছে
  • রেমিট্যান্স ফি
  • ভ্যাট বা কর
  • অন্যান্য খরচ
  • টাকায় ও ডলারে মোট রেমিট্যান্স খরচ

এছাড়া বিদেশি যে সব ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করা হয়, সে তালিকাও নিয়মিত হালনাগাদ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে।

খরচ কমাতে কী করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করবে কোন কোন ধাপে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো সম্ভব। ইতোমধ্যে দেশে প্রবাসীদের হিসাবে রেমিট্যান্স জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের ফি নিতে পারে না—এ পদক্ষেপে কিছুটা সুবিধা মিলেছে। তবে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো একেকভাবে বিনিময় হার নির্ধারণ করায় বড় ধরনের বৈষম্য থাকে। এ ক্ষেত্রে সমতা আনার দিকেও নজর দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে রেমিট্যান্স পাঠানো আরও সাশ্রয়ী হবে এবং প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে আরও বেশি অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হবেন।

প্রকাশিত হলো বিপিএলের ১২তম আসরের পূর্ণাঙ্গ সূচি, উদ্বোধনী ম্যাচ সিলেটে

এইসময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)–এর জমজমাট দ্বাদশ আসরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনটি ভেন্যুতে বিস্তৃত থাকবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি। আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্দা উঠবে বিপিএল ২০২৫–এর, আর ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা লড়াইয়ের ফাইনাল ম্যাচ।

এবারের আসরে ৩৪টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার তিন ভেন্যুতে। সূচি অনুযায়ী, সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে এবারের বিপিএল। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে স্বাগতিক সিলেট টাইটানস এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট পর্ব শেষ হলে টুর্নামেন্ট স্থানান্তরিত হবে চট্টগ্রামে; আর শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়।

সূচি অনুযায়ী, প্লে–অফ পর্ব শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি। এদিনই অনুষ্ঠিত হবে এলিমিনেটর ম্যাচ এবং প্রথম কোয়ালিফায়ার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নির্ধারিত হয়েছে ২১ জানুয়ারি, আর সবশেষে ২৩ জানুয়ারি ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। গুরুত্বপূর্ণ এসব ম্যাচের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে মোট ৬টি দল

  • ঢাকা ক্যাপিটালস
  • সিলেট টাইটানস
  • চট্টগ্রাম রয়্যালস
  • রংপুর রাইডার্স
  • রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
  • নোয়াখালী এক্সপ্রেস

প্রতিবারের মতো এবারও বিপিএল ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে বাড়ছে উত্তেজনা। নতুন দল, নতুন তারকা ও রোমাঞ্চকর সূচি—সব মিলিয়ে বছরের শেষ ভাগে আবারও ক্রিকেটমোদীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক উৎসবমুখর টুর্নামেন্ট।

Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s.

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে: নির্বাচন কমিশন

এই সময় ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন এবং সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করেন।

ইসি আনোয়ারুল ইসলামের দেওয়া ইঙ্গিতে জানা যায়, নির্বাচনটি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির সেকেন্ড উইক। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমস্যা নেই।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে এই সময়সীমার এক-দুদিন আগে কিংবা পরে ভোটগ্রহণ হতে পারে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যেকোনো সময় ভোটের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে।

এদিকে, নির্বাচন তফসিল ঘোষণা ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে আগামী ৭ ডিসেম্বর কমিশন সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই তফসিলসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সম্ভাবনা রয়েছে, দু-তিন দিন ব্যবধানে বা ১১ ডিসেম্বরের দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে আয়োজনের কারণে ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের চাপ সামলাতে গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে; এটি বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, “যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, তাই ভোটগ্রহণ আরও নির্বিঘ্ন করতে সময় বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা ভাবছে কমিশন।”

নির্বাচন কমিশনের এসব প্রস্তুতি ও সময়সূচির ইঙ্গিতের মধ্যেই সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।

বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন: সোনালি শীষে ভরে উঠেছে মাঠপ্রান্তর, কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক


সালেহ আহমদ সাকী
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন আনন্দ–উৎসবের আমেজ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বাতাসে ভাসছে নতুন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। চারদিকে শুধু সোনালি রঙের শীষের সমাহার। হাওর, বিল, উঁচুনিচু জমি সবখানেই এখন ধানের সমারোহ। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে হাওরের বিশাল অংশে ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। তবে শ্রমিক সংকট থাকার কারণে এবার কৃষকদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন। যন্ত্রের সহায়তায় তারা সময়মতো ধান কেটে বাড়িতে তুলতে পারছেন। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের গোলায় উঠবে এই ফসল, আর হেমন্তের আগমনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নবান্নের আমেজ, ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধান দিয়ে পিঠা তৈরির উৎসব।
বিশ্বনাথ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন সত্যিই বাম্পার হয়েছে। আগাম জাতের কিছু ধান পেকে যাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে কাটা শুরু করেছেন। তবে প্রধান আবাদি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, ভালো আবহাওয়া, বৃষ্টি কম হওয়া, রোগবালাই কম দেখা দেওয়া এবং কৃষকদের সময়মতো পরিচর্যা সব মিলিয়ে এ বছর ফলন অতীতের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।

Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s.


হাটবাজার গুলোতেও এখন নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। সবচেয়ে আশার খবর হলো বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া আগাম ধান কেটে ফেলার ফলে একই জমিতে দ্রুত রবি ফসল যেমন সরিষা, সবজি, ভুট্টা ইত্যাদি আবাদ করতে পারবেন কৃষকেরা।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে ১৭,২০৫ হেক্টর। তার মধ্যে সাধারণত প্রতিবছর ১৭৮ হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। রোর মৌসুমে পতিত জমি: ৬,৫২৫ হেক্টর, আমন মৌসুমে পতিত জমি: ৩,৫০০ হেক্টর, তবে এ বছর আমন চাষ হয়েছে বড় পরিসরে ১৩,২৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টরে হাইব্রিড আমন ধান চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত: ব্রি ধান ১০৩, ব্রি ধান ৯৫, ব্রি ধান ৯৪, ব্রি ধান ৯৩, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৪৯,বিআর ২২, বি আর ২৩, বিনা ধান ৭, বিনা ধান ১৭ উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ব্রি ধান ১০৩ ও ব্রি ধান ৪৯ অন্যান্য ধানের তুলনায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ মৌসুমে ধানের গড় ফলন দাঁড়িয়েছে হেক্টরপ্রতি ২.৮০ মেট্রিক টন চাউল, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে উপজেলায় খাদ্যঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামের পর গ্রামজুড়ে এখন ধান শুকানোর ব্যস্ততা। গোলা, খলা, আঙিনা, যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই নতুন ধান ছড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। সোনালি রঙের ধানের স্তূপ আর শুকাতে দেওয়া ধানের সারি যেন কৃষকদের বছরের পরিশ্রমের সাক্ষ বহন করছে।
দেওকলস ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক আখতার হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৪০ কেদার জমিতে আমন চাষ করেছেন, যার মধ্যে ব্রি ধান ৪৯ জাতের ধানের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর তিনি সরিষা চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কজাকাবাদ গ্রামের হাজী আবুল মনছুর খান বলেন, “এবার ফলন এমন হয়েছে যে চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রমিক কম থাকলেও মেশিনের সাহায্যে ঠিকমতো ধান তুলতে পারছি।”
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বছর খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সন্তুষ্ট।
তিনি জানান, রবি মৌসুমে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৩০০ হেক্টর। এ মৌসুমে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮২০ হেক্টর।
এবার এসব জমিতে ধান, সরিষা, শাকসবজি, ভূট্টা এবং আরও বিভিন্ন উচ্চমূল্যের রবি ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাঠজুড়ে সোনালি শীষের সমারোহ, আকাশে ভেসে বেড়ানো ধানের গন্ধ এবং কৃষকদের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে বিশ্বনাথ এখন এক উৎসবের উপজেলা। আমন ধানের এ বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বস্তিই এনে দিচ্ছে না, বরং নতুন মৌসুমে আরও ফসল চাষে তাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামনে রবি মৌসুম, কৃষকদের নতুন স্বপ্ন নতুন ফসলের পথে এই সফলতার ধারাকে ধরে রাখবে এটাই সকলের কাম্য।

সিলেট–২ আসনে উন্নয়ন আর সুশাসনের অঙ্গীকার—অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বিশ্বনাথ উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নির্বাচন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলার আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর ভিশন ও জনমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসময়  তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণই হবে আমার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমার লক্ষ্য উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে বাসযোগ্য, উন্নত ও আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই আমার একমাত্র প্রতিশ্রুতি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেট-২ আসনের দুই উপজেলায় আধুনিকমানের দুটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অকার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনরায় সচল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাত্যহিক জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অধ্যাপক হান্নান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত স্থানীয় সমস্যাগুলোর দিক তুলে ধরে বলেন, “এলাকার প্রত্যেকটি সমস্যা আমি চিহ্নিত করেছি। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার টেকসই সমাধান করতে চাই। উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজের উন্নয়নের বড় শক্তি।” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির মাওলানা এইচ এম আখতার ফারুক, উপজেলার নায়েবে আমির মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির ও বিশ্বনাথ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুস সোবহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল মুকসিদ আক্তার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির উপজেলা সভাপতি আশিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্র শিবির পৌরসভার সভাপতি মতিউর রহমান ইমন, উপজেলার পশ্চিম সাথী শাখার সভাপতি শাহ হোসাইন আলী প্রমূখ।

এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, আশিক আলী, তজম্মুল আলী রাজু, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সালেহ আহমদ সাকী, রুহেল উদ্দিন, আব্বাস হোসেন ইমরান, মশিউর রহমান, আব্দুস সালাম, বদরুল ইসলাম মহসিন, আব্দুস সালাম মুন্না, তাউফিকুর রহমান হাবিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলে অধ্যাপক হান্নান সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ: বাজেটবান্ধব যেসব দেশে ঘুরে আসা সম্ভব

এইসময় ডেস্ক:

দেশ–বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সেই ইচ্ছে পূরণ করতে পারেন না। কিন্তু পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে অল্প খরচে ঘুরে দেখা যায় মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন আর অনন্য সংস্কৃতি। ভিসা ফি থেকে শুরু করে থাকা–খাওয়া, পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী হওয়ায় বাজেট ভ্রমণকারীদের কাছে এসব দেশ দ্রুত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সহজ ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপদ পরিবেশ এবং কম খরচে ঘোরাঘুরির সুযোগ দেওয়ায় ২০২৫ সালে আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণ করছে। সামান্য পরিকল্পনা ও কিছু দরকারি তথ্য আগে থেকে জেনে রাখলে খুব সহজেই তৈরি করা যায় আনন্দদায়ক ও অর্থসাশ্রয়ী একটি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—কম বাজেটে ঘুরে আসার মতো দেশগুলোর তালিকা এবং তাদের ভিসা ফি-সংক্রান্ত তথ্য।


নেপাল

আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজেটবান্ধব ভ্রমণ গন্তব্য নেপাল।
১৫ দিনের ভিসার খরচ প্রায় ৩৬০০ টাকা, ৩০ দিনের ৬০০০ টাকা, আর ৯০ দিনের ভিসা পাওয়া যায় মাত্র ১৫,০০০ টাকায়
ভিসা সম্প্রসারণও সহজ হওয়ায় হিমালয়পাড়ি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে এটি প্রথম পছন্দ।


কম্বোডিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য কম্বোডিয়া।
৩০ দিনের পর্যটক ভিসা পাওয়া যায় মাত্র ৩৬০০ টাকায়। আর ই-ভিসার খরচ প্রায় ৪২০০ টাকা
২০২৫ সালে আংকর ওয়াট মন্দির থেকে ফনমপেনের ঐতিহাসিক স্থান—সবকিছুই কম খরচে ঘুরে দেখার সুযোগ দিচ্ছে এই দেশ।


জর্ডান

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য জর্ডান।
৩০ দিনের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার খরচ প্রায় ৪০ জর্ডানীয় দিনার—বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০০০ টাকা
পেত্রার রূপ, ডেড সি-র রহস্যময়তা আর ওয়াদি রুম মরুভূমি ভ্রমণের জন্য এই খরচ যুক্তিসঙ্গত।
এ ছাড়া জর্ডান পাস নিলে অনেক সময় ভিসা ফিও মওকুফ হয়।


তানজানিয়া

আফ্রিকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বাজেটবান্ধব বিকল্প তানজানিয়া।
ভিসার খরচ প্রায় ৬১০০ টাকা, এবং এতে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়।
সেরেনগেটির সাফারি, কিলিমাঞ্জারো পর্বত কিংবা জাঞ্জিবারের নীল পানির সৈকত—সবই পাওয়া যায় তুলনামূলক কম খরচে।


উগান্ডা

আফ্রিকার আরেক সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য উগান্ডা।
৩০–৯০ দিনের পর্যটক ভিসার খরচ প্রায় ৬১০০ টাকা
পর্বতগোরিলা, সবুজ পাহাড়, জাতীয় উদ্যান এবং নীল নদের উৎস—সব মিলিয়ে উগান্ডা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি ডেস্টিনেশন। বিশেষ করে বুইন্দি ইমপেনেট্রেবল ন্যাশনাল পার্ক পর্বতগোরিলা দেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।


শেষ কথা

যারা কম বাজেটে একটি স্মরণীয় বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই দেশগুলো হতে পারে দুর্দান্ত বিকল্প। সাশ্রয়ী ভিসা ফি, স্বল্প খরচে থাকা–খাওয়া আর সহজ যাতায়াত—সব মিলিয়ে খুব অল্প টাকায় দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘুরে আসা সম্ভব এসব দেশ থেকে।

নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করায় বিএনপি আশাবাদী। তিনি জানান, সামনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানাবেন এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী নির্বাচনে যদি জনগণ সমর্থন দেয়, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কারণ দলটির সরকারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুযোগ পেলে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বিএনপি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি।

রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছিল, বিএনপি সেই অঙ্গীকার নিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রেজা কিবরিয়ার যোগদান শুধু তার নিজ এলাকায় নয়, পুরো দেশেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মেধা ও দক্ষতা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

বিশ্বনাথে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ২০২৫–২৬ মৌসুমের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌরশহরের পুরাণ বাজার এলাকার একটি মার্কেটের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের।

এসময় তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বনাথে ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঘোষিত কমিটিতে ক্রীড়া সংগঠক আমির হামজা রুকেল সভাপতি, সোহাগ মিয়া সাধারণ সম্পাদক এবং মাজহারুল ইসলাম সাব্বির পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে ক্রিকেট উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া অভিজ্ঞ ও তরুণ সংগঠকদের সমন্বয় রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন:
সহ সভাপতি: রুফু মিয়া, জহিরুল মামুন, রুকন মিয়া
সহ সাধারণ সম্পাদক: সাব্বির আহমদ
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: আবদাল হোসেন
অর্থ সম্পাদক: মাহফুজুর রহমান ইমন
প্রচার সম্পাদক: রেজুয়ান বিন-লোকমান

কমিটি ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, নির্বাচন কমিশনার তারেক আহমদ খজির, আরব শাহ, লুৎফুর রহমান জুয়েলসহ ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, বিশ্বনাথে ক্রিকেটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্যম এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরই আগামী মৌসুমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।