আজকের সময়ের সেরা খবর
২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তে নতুন গতি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

এইসময় ডেস্ক:

ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে তাঁর হত্যা মামলা। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এ ঘটনায় নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আসামিদের সন্ধানে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক জানিয়েছেন, প্রায় তিন দশক আগের এই মামলার আসামিদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কাজ চলছে। দেশে অবস্থানরতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে, পাশাপাশি বিদেশে পলাতক কয়েকজনেরও খোঁজ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ইস্কাটনে সালমান শাহের ভাড়া বাসায় গিয়ে তদন্ত কার্যক্রমের সময় তিনি এসব তথ্য জানান। এর পরপরই মামলার আসামি সামিরা লুসি ও ডন সহ কয়েকজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে, আদালতের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জন্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। নতুন মামলাটি করেছেন সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম। এতে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। শুরু থেকেই তাঁর পরিবার দাবি করে আসছে— এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। সালমানের মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার অভিযোগ নিয়ে নথি করেনি; বরং অপমৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করেছিল।

অন্যদিকে, সালমানের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্ত্রী সামিরা। তবে তিনি সবসময়ই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বছর একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন— “এটি আত্মহত্যা ছিল। সালমান বিয়ের আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।”

ঢালিউডে মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সালমান শাহ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তাঁর জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর দিন তিনি ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সহ-অভিনেত্রী শাবনূরও তখন উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রাতে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়— আর সেখান থেকেই শুরু হয় রহস্যের ঘনকুয়াশা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের এই নতুন নির্দেশে সালমান শাহ ভক্তদের মাঝে আবারও আশা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস— এবার হয়তো উদ্‌ঘাটিত হবে প্রিয় নায়কের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।

অভ্যন্তরীণ বিরোধ উপেক্ষা করেই সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ এবং অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন, সেই তালিকাতেই রয়েছে আরিফুল হকের নাম।

একই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের আরও তিনটি আসনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে—সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়াকে। এতে সিলেট-৪ আসনকে ঘিরে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটল।

মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র বিরোধ

গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় সিলেট-৪ আসনটি খালি রেখেছিল বিএনপি। পরে ঢাকায় বৈঠক শেষে সিলেটে এসে আরিফুল হক ঘোষণা দেন—দলের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দলের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—আরিফুল হক ‘বহিরাগত’, এই আসনে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে।

শুধু বিএনপির নেতারাই নয়, ‘স্থানীয় প্রার্থী’ দাবি তুলেছে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনও। বুধবার বিকেলে সিলেটটুডের আয়োজিত ‘ভোটের মাঠে’ অনুষ্ঠানে এই দাবির পুনরাবৃত্তি করেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হাকিম চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও প্রার্থী জয়নাল আবেদিন, এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রাশেল উল আলম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, “এই আসনে আমাদের মাটির সন্তানকেই মনোনয়ন দিতে হবে। বাইরের লোক এলে উন্নয়ন হয় না।”
জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদিনও বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—এই এলাকার সন্তানই এমপি হোক।”
এনসিপির রাশেল উল আলম বলেন, “মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, চাই লোকাল প্রার্থী।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ মন্তব্য করেন, “দূরের কেউ হলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না।”

আরিফুল হকের প্রতিক্রিয়া

মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি উপলক্ষ মাত্র, এই মনোনয়ন সবার। আমরা সবাই ধানের শীষের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, তিনি বহিরাগত নন—“আমি এই মাটির সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই সিলেটের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি ছিলাম—আমাকে বহিরাগত বলা অবান্তর।”

জাতীয় নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“বেগম খালেদা জিয়া তিন আসনে প্রার্থী হয়েছেন, তারেক রহমানও চাইলে যেকোনো আসনে হতে পারতেন—তাদের কি বহিরাগত বলা হবে?”

কারা ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী?

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন—

  • কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী
  • সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সামসুজ্জামান জামান
  • সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম
  • জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী
  • যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা হেলাল উদ্দিন
  • সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম

বহুদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় প্রার্থীর দাবি এবং জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ অতিক্রম করেই অবশেষে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে টিকিট পেলেন আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রটোকল ভেঙে পুতিনকে স্বাগত মোদীর, দিল্লিতে শুরু ভারত–রাশিয়া কূটনীতির নতুন অধ্যায়

এইসময় ডেস্ক:

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বিরল কূটনৈতিক সৌজন্যে বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা জানানোর রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এবার সেই প্রোটোকল ভেঙেই ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে বরণ করে নিলেন মোদী। করমর্দনের পর আলিঙ্গন—রানওয়েতে দাঁড়িয়েই দিল্লি–মস্কোর ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিলেন দুই নেতা।

সফরকালে পুতিন অংশ নেবেন ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে আয়োজিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত এস–৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে নতুন সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের আগে রুশ পার্লামেন্ট ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’ (RELOS) অনুমোদন করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার বিভিন্ন সেনাঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে; যার মধ্যে তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত রুশ সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। ফলে রাশিয়ার ঘাঁটি থেকে ভারতীয় রণতরী, ডুবোজাহাজ, যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গ্রহণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সোভিয়েত যুগ থেকে চলে আসা এই কৌশলগত বন্ধুত্ব সাম্প্রতিক ভূ–রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অটুট রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝে ভারত রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে—যেখানে যুদ্ধের আগে এ হার ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ।

তবে এ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর। রুশ তেল কেনা বন্ধে চাপ বাড়াতে গত অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। এরপর থেকে ভারত কিছুটা রুশ তেল আমদানি কমালেও মস্কো চাইছে দিল্লি আবার অর্ডার বাড়াক। সেই প্রত্যাশায়ই পুতিনের এই সফরকে দেখছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহল।

ভারতের জন্যও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে মস্কো ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক রাখা এখন মোদীর বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরোপীয় মিত্রদের চাপও বাড়ছে, যেন দিল্লি–মস্কোর ঘনিষ্ঠতা ভারতের পশ্চিমা অংশীদারত্বকে ছাপিয়ে না যায়।

এদিকে দুই দেশই ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২০ সালে যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য ছিল মাত্র ৮.১ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৭২ বিলিয়ন ডলারে—মূলত ছাড়ে কেনা রুশ তেলের কারণে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকায় অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে ভারত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌশলগত দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূ–রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে শুরু হলো ভারত–রাশিয়ার কূটনীতির নতুন অধ্যায়। মোদী–পুতিন বৈঠক তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের কারণ দর্শানোর নোটিস:

এইসময় ডেস্ক:

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই একতরফাভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে বস্ত্র অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নিজ সিদ্ধান্তে তেলের দাম বাড়িয়েছে। আমরা তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছি এবং একই সঙ্গে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে একটি সভায় উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বোতলের সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি ৬ টাকা এবং খোলা তেলের লিটারপ্রতি ৮ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে তার আগের দিন থেকেই বাজারে বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৮ টাকা এবং খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়তে শুরু করে।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই এ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “তারা আমাদের না জানিয়ে বাজারে দাম বাড়িয়েছে। এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক পদক্ষেপ। গতকালই আমরা তাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ লিটার তেল টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ টাকা কম দামে কিনেছি। যখন সরকার কম দামে তেল কিনতে পারে, তখন বাজারে বেশি দামে বিক্রির যৌক্তিকতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গতকালই স্পষ্ট করে বলেছি—ব্যবসায়ীদের এ একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


‘নীতিগত ত্রুটি, অদক্ষতা ও দুর্নীতিতে ধ্বংস হয়েছিল পাট শিল্প’

কর্মশালায় দেশের পাট শিল্পের অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, পাটখাত ধ্বংস হওয়ার পেছনে নীতিগত ভুল, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, কোনো ধরনের আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই পাট শিল্প জাতীয়করণ করা হয়েছিল, যা উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জাতীয়করণের পর রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পরিচালিত হয় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে, যা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “অদক্ষ, অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনায় পাটকলগুলো পরিচালিত হয়েছিল। পাটকে বৈচিত্র্যময় করার যথাযথ পরিকল্পনা ছিল না। উচ্চ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, যা শিল্পটির পতন ডেকে আনে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পাটখাত নিয়ে আগের ভুল আর হবে না। “আমরা রঙিন স্বপ্ন দেখাতে চাই না। দেশের ৭১টি টেক্সটাইল কলেজ-ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে নিয়ে রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছি, যার ৮৫ শতাংশ আসবে বস্ত্র খাত থেকে।”


বেসরকারিকরণে স্বচ্ছতা: ১৪টি শিল্প ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে ১৪টি রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এগুলো ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণহত্যার অভিযোগে জয়–পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এইসময় ডেস্ক:

গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা সংগঠনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

এদিন একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ট্রাইব্যুনালের কাছে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তার আবেদনের ভিত্তিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে, পলক, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলে শুনানিতে জানানো হয়।

এর আগে তদন্ত সংস্থা অভিযোগ–সংবলিত প্রতিবেদন প্রধান কৌঁসুলির দপ্তরে দাখিল করে। পরে প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। প্রক্রিয়া অনুসারে অভিযোগ গ্রহণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অভিযোগ গঠন করা হবে এবং এরপরই মামলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আদালত জানায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা বহাল: হাইকোর্টের রায় সমর্থন করল আপিল বিভাগ

এইসময় ডেস্ক:

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে করা লিভ টু আপিল খারিজ হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। আদেশের সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ। ইন্টারভেনর হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয় গত মঙ্গলবার। শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই রাষ্ট্রীয় বৈধতার মূলভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সমর্থন থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে, গত ১২ নভেম্বর শুনানিতে আদালত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনে আইনজীবী মহসীন রশিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আসে। পরে আপিল বিভাগ তার কাছে ব্যাখ্যা চান।

গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইনজীবী মহসীন রশিদ। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে মন্তব্য করেন, দেশের জনগণ বৈধতা প্রদান করায় এই সরকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। পরে তিনি আপিল বিভাগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন, যা আজ খারিজ হয়ে যায়।