আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সম্মানে প্রীতি নৈশভোজ অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মানে দুই যুক্তরাজ্য প্রবাসীর উদ্যোগে নির্বাচন-পরবর্তী প্রীতি নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর শহরের পুরাণ বাজার এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ট্রাস্টি শাহাবুদ্দিন ও রুহেল মিয়া-এর সৌজন্যে এ আয়োজন করা হয়।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি নৈশভোজে অতিথিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান।

নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রবাসী শাহাবুদ্দিন ও রুহেল মিয়া বলেন, বিশ্বনাথে কর্মরত সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনকল্যাণে সাহসী ভূমিকা রেখে চলেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য থেকেই এই ক্ষুদ্র আয়োজন করা হয়েছে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ—তাদের সম্মান জানাতে পেরে তারা গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের পাশে থেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন আয়োজনের জন্য প্রবাসী দুই উদ্যোক্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি প্রবাসীদের এই আন্তরিকতা ও সম্মান পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ প্রীতি নৈশভোজ সাংবাদিকদের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাগত বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে উপস্থিতরা মত প্রকাশ করেন।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উদ্বোধন করলেন লিয়াকত শাহ ফরিদী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন অ্যান্ড মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোক্তার আলী-এর পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

গতকাল আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্বোধন করেন সিলেটের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লিয়াকত শাহ ফরিদী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রবাসীরা সবসময় দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। আলহাজ্ব মোক্তার আলীও সেই ধারাবাহিকতায় নিরলসভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি এই মহৎ উদ্যোগের জন্য মোক্তার আলীকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আলহাজ্ব মোক্তার আলী বিশ্বনাথের শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সবসময় এগিয়ে আসেন। একজন মানবিক ও উদার ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করেন—এই দোয়া কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বুনন প্রকাশন রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি খালেদ উদ্দীন, কবি আলতাফ হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, ইউপি সদস্য শফিক আহমদ পিয়ারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তিরাও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসবেন।

বিশ্বনাথে অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনায় সিক্তহলেন শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদার

শিক্ষকরা নৈতিকতা ও মানবিকতার পথপ্রদর্শক : লিয়াকত শাহ ফরিদী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ দশপাইকা আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদরাসা-এর সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশ-প্রবাসে অবস্থানরত মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে যেন মিলনমেলায় পরিণত হয় মাদরাসা প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ লিয়াকত শাহ ফরিদী। তিনি বলেন,“শিক্ষকতা কেবল একটি চাকরি বা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়; এটি এক মহান ব্রত, এক পবিত্র দায়িত্ব। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই দেন না, তিনি গড়ে তোলেন একটি প্রজন্মের মনন, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা। সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা যায়, তা রোধে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শফিকুল ইসলাম মজুমদার সাহেবের মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকরা তাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শিক অবস্থানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না—তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই সংবর্ধনা শুধু একজন শিক্ষকের বিদায় নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি মূল্যবোধ ও একটি সময়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাগিব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক ও ‘বুনন’ সম্পাদক কবি খালেদ উদ-দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন শিক্ষক সমাজের নীরব স্থপতি। তিনি শব্দহীনভাবে গড়ে তোলেন মানুষের ভিত, চরিত্র ও স্বপ্ন। শফিকুল ইসলাম মজুমদার শুধু পাঠদান করেননি, তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদাবোধের শিক্ষা দিয়েছেন।”

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ মো. আরব খানের সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিক আহমদ পিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসমাইল খান, ভুরকী দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আলতাফ হোসেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট-এর ইসি সদস্য আবুল হোসেন মামুন এবং দৌলতপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইফুল আলম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ আবু তাহের মিছবাহ, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরণ, মাওলানা শাহেদ আহমদ, নাজমুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, রবিউল আউয়াল ও উম্মে খাদিজাতুল কুবরা। বক্তারা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, মমত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের সম্মানে এক লক্ষ টাকার সম্মাননা চেক, উত্তরীয় ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তাঁর স্নেহধন্য শিক্ষার্থীরা। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আয়োজকসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি আমানতের দায়িত্ব পালন করতে। আমার শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তোমরা মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হও, দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করো—এটাই আমার জীবনের প্রাপ্তি।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফিজ কাওছার আহমদ। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সমগ্র আয়োজন জুড়ে ছিল শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও আবেগঘন বিদায় মুহূর্ত। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সম্মানে সিক্ত এই বিদায় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও অনন্য।

তাহসিনা রুশদীর লুনার বিজয়ে বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিষ্টি বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ আনন্দঘন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে তারা সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং গণমানুষের এই রায়কে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আশিকুর রহমান রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ আহমদ, আব্দুল মোমিন ও শেখ আরিফ আলী, সদস্য ফারুক আহমদ, আমির আলী, আওলাদ হোসেন, তাজেখ আলী, হেলাল আহমদ, দিলাল আহমদ, ইসলাম উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, সাধন চন্দ্র দে সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিষ্টি বিতরণকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বলেন, এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়; এটি বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরের আপামর জনসাধারণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার বিজয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ত্যাগ ও সংগ্রামের পর জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রতি আস্থা রেখে ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের এই রায় অন্যায়, অবিচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট প্রতিবাদ এবং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় প্রত্যয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তাহসিনা রুশদীর লুনা এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের অত্যন্ত আপনজন। সুখে–দুঃখে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর সুযোগ্য, দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বে অবহেলিত এই জনপদে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি খাতে বাস্তবমুখী উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপ নেবে।

তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নিখোঁজ জননেতা এম. ইলিয়াস আলী-এর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনীতিকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা হবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায়।

নেতারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তারা বিভাজন নয়, সম্প্রীতি চায়; প্রতিহিংসা নয়, শান্তি ও উন্নয়ন চায়; দুঃশাসন নয়, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চায়। এখন সময় ঐক্য, সহমর্মিতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরকে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার।

ইক্বরা মডেল একাডেমীতে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংগেরকাছ বাজারে অবস্থিত ইক্বরা মডেল একাডেমী-তে উৎসবমুখর পরিবেশে পিঠা উৎসব, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একাডেমি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পিঠা উৎসবকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা স্বাদের পিঠার সমারোহ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মোট আটটি আকর্ষণীয় পিঠা স্টল বসানো হয়, যেখানে ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি, নকশি পিঠাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ ঐতিহ্যের পিঠা প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। এতে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির একটি অনন্য প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।

একাডেমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জুনেদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান। তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুস্থ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একাডেমির সহকারী শিক্ষক হাফিজ মাওলানা রেজাউল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য ও ভোরের ডাকের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আহমদ আলী হিরন, সিংগেরকাছ (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রানী আক্তার এবং একাডেমির অভিভাবক সদস্য আবুল কালাম, খছরুজ্জামান, ছাদিকুর রহমান, আইয়বুর রহমান, তামান্না মাহমুদ, তাহমিনা বেগম, হুমায়রা, মিলি, মরিয়ম, শিবলী ও রিমাসহ অনেকে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তোলা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও করতালির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দিনব্যাপী এ বর্ণিল আয়োজন।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি টুনু তালুকদার ও সম্পাদক সাকী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৪ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে নাগরিক টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান এমআর টুনু তালুকদারকে সভাপতি এবং দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের উপজেলা প্রতিনিধি সালেহ আহমদ সাকীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে বস্তুনিষ্ঠ, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নবগঠিত কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সহ-সভাপতি রুহেল উদ্দিন (গণমুক্তি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন (আমার সংবাদ), কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম (ইনকিলাব) এবং দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন (ভোরের কাগজ)।

এছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম খায়ের (সমকাল), আশিক আলী (যুগান্তর), কামাল মুন্না (যায়যায়দিন), নবীন সোহেল (কালবেলা), আক্তার আহমদ শাহেদ (মানবজমিন), শুকরান আহমদ রানা (সকালের সময়), মশাহিদ আলী (বার্তা২৪) এবং আফজল হোসেন (ক্যামেরাপার্সন, এনটিভি ইউরোপ)।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বনাথের সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন, নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা বিস্তার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই হবে নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, যেকোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ এবং তরুণ সাংবাদিকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়েও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দায়িত্বশীলভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে প্রেসক্লাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক অবস্থান ধরে রেখে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিলেট-২ আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের পথে

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিন প্রার্থীর নিরাপত্তা জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আসনটির ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। দুই উপজেলায় মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৭। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জমাকৃত নিরাপত্তা জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব পর্যালোচনা শেষে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী আমির উদ্দিন (হাতপাখা) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৯ ভোট। জাতীয় পার্টি-এর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান (লাঙল) পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৪ ভোট। অন্যদিকে গণফোরাম-এর প্রার্থী মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য) পেয়েছেন মাত্র ৬৩২ ভোট।

মোট কাস্টিং ভোটের তুলনায় তাদের প্রাপ্ত ভোট নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে থাকায় প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুসারে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের সময় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও জানানো হবে।

সিলেটের ছয় আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা: পাঁচটিতে বিএনপি, একটিতে খেলাফত মজলিস

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যদিকে একটি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর নেতা মুফতি আবুল হাসান, যিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ২টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত যাচাই শেষে সরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আসনভিত্তিক ফলাফল

সিলেট-১ আসন:
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মাওলানা হাবীবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ৩১৪, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান ২ হাজার ৭০১, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল ১ হাজার ১১৩, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন ৯০৮ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস ৮০১ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসন:
বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

সিলেট-৩ আসন:
বিএনপির এম এ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।

সিলেট-৪ আসন:
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

সিলেট-৫ আসন:
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট।

সিলেট-৬ আসন:
বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ ভোট।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রের ফল সংগ্রহ শেষে এ বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ধানের শীষে ভোট চাইলেন লুনা

বিশ্বনাথে শেষ জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের নির্বাচন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। ধানের শীষ কোনো সাধারণ প্রতীক নয়—ধানের শীষ মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি। তিনি বলেন, আজ জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে। ভয়কে জয় করে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসাই এখন সময়ের দাবি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে লুনা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই অন্যায়, দমন-পীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের একটি ভোটই ইতিহাস বদলে দিতে পারে। ধানের শীষে একটি ভোট দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেবে। ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও কোনো প্রকার উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এসময় তিনি আরও বলেন, সিলেট-২ আসনের প্রতিটি এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রথম বছরেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের নতুন বাজার প্রবাসী চত্বর সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া ও যুবদল আহ্বায়ক সামসুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আসকির আলী, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব এবং ছোট ছেলে লাবীব শারার।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ও উপস্হিত ছিলেন,জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মো,ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, সাবেক সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, আব্দুল কুদ্দুছ, সেবুল মিয়া, মুমিন খান মুন্না, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, ইসমাইল খান, শিহাব আহমদ, আনিসুজ্জামান খান, আলতাব আলী, আব্দুস সহিদ, পৌর কৃষক দলের আহবায়ক নুর আলী, পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ন সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, শাহজাহান আহমদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুমন আহমদ, সেচ্ছসেবক দলের আহবায়ক নুরুজ্জামান, সদস্য সচিব আহমেদ দুলাল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন ইমন, কলেজ ছাত্রদল নেতা মুন্না।

দুপুর থেকেই পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্রসহ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে যোগ দেন। প্রবাসী নেতাদের জন্য মূল মঞ্চের পাশে পৃথক মঞ্চ তৈরি করা হয়। শতাধিক প্রবাসী এবং হাজারো নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে—“ইলিয়াস ভাই, ইলিয়াস ভাই” ও “ধানের শীষে ভোট দিন” ধ্বনিতে জনসভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্বনাথে প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভুলের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন—এখানে অন্য কিছুর সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশ্বনাথ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনতিসার শামসাদ এবং সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।