ইক্বরা মডেল একাডেমীতে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংগেরকাছ বাজারে অবস্থিত ইক্বরা মডেল একাডেমী-তে উৎসবমুখর পরিবেশে পিঠা উৎসব, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একাডেমি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পিঠা উৎসবকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা স্বাদের পিঠার সমারোহ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মোট আটটি আকর্ষণীয় পিঠা স্টল বসানো হয়, যেখানে ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি, নকশি পিঠাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ ঐতিহ্যের পিঠা প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। এতে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির একটি অনন্য প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
একাডেমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জুনেদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান। তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুস্থ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একাডেমির সহকারী শিক্ষক হাফিজ মাওলানা রেজাউল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য ও ভোরের ডাকের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আহমদ আলী হিরন, সিংগেরকাছ (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রানী আক্তার এবং একাডেমির অভিভাবক সদস্য আবুল কালাম, খছরুজ্জামান, ছাদিকুর রহমান, আইয়বুর রহমান, তামান্না মাহমুদ, তাহমিনা বেগম, হুমায়রা, মিলি, মরিয়ম, শিবলী ও রিমাসহ অনেকে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তোলা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও করতালির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দিনব্যাপী এ বর্ণিল আয়োজন।

