আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনায় সিক্তহলেন শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদার

শিক্ষকরা নৈতিকতা ও মানবিকতার পথপ্রদর্শক : লিয়াকত শাহ ফরিদী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ দশপাইকা আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদরাসা-এর সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশ-প্রবাসে অবস্থানরত মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে যেন মিলনমেলায় পরিণত হয় মাদরাসা প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ লিয়াকত শাহ ফরিদী। তিনি বলেন,“শিক্ষকতা কেবল একটি চাকরি বা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়; এটি এক মহান ব্রত, এক পবিত্র দায়িত্ব। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই দেন না, তিনি গড়ে তোলেন একটি প্রজন্মের মনন, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা। সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা যায়, তা রোধে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শফিকুল ইসলাম মজুমদার সাহেবের মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকরা তাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শিক অবস্থানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না—তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই সংবর্ধনা শুধু একজন শিক্ষকের বিদায় নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি মূল্যবোধ ও একটি সময়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাগিব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক ও ‘বুনন’ সম্পাদক কবি খালেদ উদ-দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন শিক্ষক সমাজের নীরব স্থপতি। তিনি শব্দহীনভাবে গড়ে তোলেন মানুষের ভিত, চরিত্র ও স্বপ্ন। শফিকুল ইসলাম মজুমদার শুধু পাঠদান করেননি, তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদাবোধের শিক্ষা দিয়েছেন।”

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ মো. আরব খানের সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিক আহমদ পিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসমাইল খান, ভুরকী দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আলতাফ হোসেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট-এর ইসি সদস্য আবুল হোসেন মামুন এবং দৌলতপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইফুল আলম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ আবু তাহের মিছবাহ, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরণ, মাওলানা শাহেদ আহমদ, নাজমুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, রবিউল আউয়াল ও উম্মে খাদিজাতুল কুবরা। বক্তারা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, মমত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের সম্মানে এক লক্ষ টাকার সম্মাননা চেক, উত্তরীয় ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তাঁর স্নেহধন্য শিক্ষার্থীরা। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আয়োজকসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি আমানতের দায়িত্ব পালন করতে। আমার শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তোমরা মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হও, দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করো—এটাই আমার জীবনের প্রাপ্তি।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফিজ কাওছার আহমদ। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সমগ্র আয়োজন জুড়ে ছিল শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও আবেগঘন বিদায় মুহূর্ত। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সম্মানে সিক্ত এই বিদায় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও অনন্য।