সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিকে ফাহিম আহমদের অভিনন্দন
সিলেট জেলা যুবদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির সভাপতি মকসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু এবং সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা সম্রাট হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন দিনারসহ নবগঠিত কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় ফাহিম আহমদ বলেন, সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠন আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
তিনি বলেন, দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ঐক্যকে ধারণ করে নবগঠিত নেতৃবৃন্দ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় ফাহিম আহমদ নবগঠিত নেতৃবৃন্দের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার সাফল্য কামনা করেন।
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সমপন্ন করলেন মোঃ হাফিজুর রহমান
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামের মাওলানা আব্দুস শুকুরের ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান ঢাকা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সমপন্ন করলেন।
হাফিজুর রহমান বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের মেধাবী একজন শিক্ষার্থী সে ছোটবেলা থেকেই খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল।সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হযরত শাহজালাল দারুছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল এম (এ) মাদ্রাসা সোবহানীঘাট থেকে লেখাপড়া করে আজ বিশ্বনাথের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক সংকিপ্ত আলাপচারিতায় মোঃ হাফিজুর জানায় আমার এই কৃতিত্ব পুর্ণ ফলাফলের জন্য আমার শিক্ষক ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সকলের নিকট আমি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
হাফিজুর ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পারি দিতে চায় সে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।
বিশ্বনাথে তিন দিন ধরে নিখোঁজ যুবক, রামপাশার পথে যাওয়ায় রহস্য
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের চকরামপ্রসাদ (লামাচক) গ্রামের মৃত ইসকন্দর আলীর ছেলে জাকির হোসেন (২৬) তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে কর্মরত। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে সিলেটে পৌঁছে নিজ বাড়িতে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জাকিরের কাছে এক আত্মীয়ের কিছু টাকা গচ্ছিত ছিল। ওই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়া অথবা আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের কথা ছিল। এ উদ্দেশ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার দিকে তিনি বিশ্বনাথ ইসলামী ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। একই রাতে ট্রেনে করে তার চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল এবং সে অনুযায়ী ট্রেনের টিকিটও কাটা ছিল।
তবে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও জাকির বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭৯৩-৪৫৪৭৭৩ ও ০১৮৫৪-৭২১৭৩২-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্বনাথ থানায় জিডি করা হয়। জিডি নম্বর ৬৬৬, তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজের পরদিন গ্রামের সড়কে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জাকিরকে বিশ্বনাথের দিকে না গিয়ে রামপাশার সড়কের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি একটি টমটমে ওঠেন।
টমটম চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লামাকাজি যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক যাত্রী তার টমটমে উঠেছিলেন। জাকির হোসেন টমটমে ওঠার পর তাকে রামপাশা পয়েন্টে নামিয়ে দিয়ে চালক লামাকাজির দিকে চলে যান।
জাকিরের পরিবারের দাবি, তার যাওয়ার কথা ছিল বিশ্বনাথ ইসলামী ব্যাংকে। কিন্তু বিশ্বনাথের পরিবর্তে রামপাশার পথে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে জাকিরের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা অসুস্থ হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিখোঁজ জাকির হোসেনের সন্ধান পেলে তার ভাইদের ০১৭৬৪-১৬৭৫৩৪ অথবা ০১৭৬৪-২৩১৯৮৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশ্বনাথে এমপি লুনার সঙ্গে ব্যবসায়ী-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে বিশ্বনাথের ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেমের সভাপতিত্বে সভায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথের ব্যবসা-বাণিজ্য, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্কিংসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।
সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ পৌরসভা থেকে সহজে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, অবৈধ পার্কিং বন্ধ করে স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা চালু এবং সড়কের পাশে স্থায়ী দোকানের সামনে থেকে হকার উচ্ছেদের দাবি জানান।
অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যানজট নিরসনে সিএনজি অটোরিকশার জন্য স্থায়ী স্ট্যান্ড নির্ধারণ, সড়ক হকারমুক্ত রাখা, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের মালামাল ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
সভায় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, শহর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসন, পৌরসভা এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন অনুযায়ী সবাইকে সময়মতো কর পরিশোধ করতে হবে। কর আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। কেউ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে বিষয়টি ইউএনওকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণসহ বিষয়টি জানাতে হবে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে লুনা বলেন, আইন মেনে যানবাহনগুলো সিরিয়াল ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী চলাচল করলে যানজট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মনির উদ্দিন আহমদ, বিশ্বনাথ নতুন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য শেখ আমির আলী, সভাপতি হাজী মঈনুর রহমান, সহসভাপতি বাবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুরাণ বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মিয়া, কমিশনার আব্দুস সামাদ, আনোয়ার আলী এবং ব্যবসায়ী হাজী ছাতির আলী।
এছাড়াও সভায় হাজী উলফত মিয়া, আরশ আলী রেজা, হাজী মাসুক আলী, তাজ উদ্দিন, মিজানুর রহমান, তারেক আহমদ খজির, জুবেল মিয়া, জুবায়ের আহমদ, লিটন আহমদ, বাবলু মিয়া, আব্দুস সামাদ সরকার, নাজিম উদ্দিন, সেলিম মিয়া ও জাহেদ মিয়াসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশ্বনাথ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান উপ-কমিটির সভাপতি আছাব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, আল-হেরা পয়েন্ট সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি এহসান আহমদ তৈমুছ, সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমদ সিতাব, নতুন বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ লিলু মিয়া, লাইটেস স্ট্যান্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শানুর আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস শহিদ, রামপাশা সিএনজি স্ট্যান্ডের মোনসাদ আলী, উপজেলা পরিষদ পয়েন্ট সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদ, থানা পয়েন্ট সিএনজি স্ট্যান্ডের সাবেক সভাপতি এবাদুল খান ও সাবেক আহ্বায়ক তজম্মুল আলী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বনাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
শনিবার সকাল ৯টায় বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় পর্যায়ে উদ্বোধনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মাহবুব রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর আসাদ, শামীম আহমদ, কাওছার খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমাদ উদ্দীন খান, আতিকুর রহমান লিটন, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস, জিয়া সংসদ, জিয়া মঞ্চ, জিসাস, সাইবার দল, জিয়া ফোর্সসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিলেটের বিশ্বনাথে ৫০জন কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত
সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা, শেখেরগাঁও, টেক-কামালপুর ও কামালপুর গ্রামের এসএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণ ৫০জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
রামধানা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ফ্রান্স’র অর্থায়নে এবং শাহজালাল (র.) ইসলামি পাঠাগারের আয়োজনে তাদেরকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্টিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. মানিক মিয়া।
বক্তব্যে তিনি বলেন, "দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিষ্ঠার সাথে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিলে ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য আসবেই।"
শাহজালাল (র.) ইসলামি পাঠাগারের সভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স প্রবাসী রামধানা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ফ্রান্স’র সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন ইমন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজালাল (র.) ইসলামি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান, রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিটু লাল চক্রবর্তি, শাহজালাল (র.) ইসলামি পাঠাগারের উপদেষ্টা সৈয়দ জুয়েল আহমদ, শিক্ষানুরাগী শামসু মিয়া লালা, রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী আবুল কালাম, ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান মো. শাহিন আহমদ রাজু এবং শাহজালাল (র.) ইসলামি পাঠাগারের সাবেক সভাপতি জাকের হাসান।
সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র, সম্মাননা স্মারক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে পাঠাগারের পক্ষ থেকে রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপন করা হয়। এসময় পাঠাগারের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বানাথে প্রবাসীর অর্থায়ন ও কৃষকের শ্রমে সফল লেবু বাগান, আরও ৬০ শতাংশ জমিতে মাল্টা চাষের স্বপ্ন
সালেহ আহমদ সাকী
ইউটিউবে লেবু চাষের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২২ সালে লেবু বাগান শুরু করেছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবু সালেহ। প্রবাসী আবু সালেহের জমি ও অর্থায়ন, আর দেখাশুনার দায়ীত্বে থাকা লেবু মিয়ার পরিশ্রম ও পরিচর্যায় গড়ে ওঠা সেই বাগানে এখন প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার লেবু উৎপাদন হচ্ছে। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে লেবু সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বনাথ ও জগন্নাথপুরের বিভিন্ন বাজারে। বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় করছেন বলে জানিয়েছেন লেবু মিয়া।
জানা গেছে, বিশ্বনাথের দেওকলস ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে মোট ৮০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠেছে এ বাগান। এর বাইরে আরও প্রায় ৬০ শতাংশ জমি বর্তমানে খালি পড়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ওই জমিতে মাল্টা চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রবাসীর। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খালি জমিটিও চাষের আওতায় এনে আরও লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।
বাণিজ্যিক লেবু চাষের যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালে। ইউটিউবে লেবু চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি প্রথমে এ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আবু সালেহ জমি ও প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিয়েছেন, আর লেবু মিয়া নিজের শ্রম ও সময় দিয়ে বাগানের দেখভালের দায়িত্ব নেন।
প্রথম পর্যায়ে ফরিদপুর থেকে চায়না-৩ সিডলেস জাতের ৬০০টি লেবুর চারা সংগ্রহ করা হয়। এসব চারা কিনতে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়। চারা রোপণের পরপরই অবশ্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয় বাগানটিকে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানিতে প্রায় ১০০টি লেবুর চারা মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাল ছাড়েননি তারা। পরে নতুন করে আরও ১০০টি চারা রোপণ করে বাগানটি পুনরায় গড়ে তোলার তোলা হয়।
নিয়মিত পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের ফলে বাগানের গাছগুলো এক বছর পর থেকেই ফলন দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার লেবু সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে।
মৌসুম ও বাজারদরের ওপর লেবুর দাম ওঠানামা করলেও গড়ে প্রতিটি লেবু ৩ টাকা দরে বিক্রি হলে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ লেবু বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে মাসে মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বাগানের পরিচর্যা, শ্রমিক, সার, সেচসহ বিভিন্ন খাতে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে লেবু থেকেই মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় হয় বলে জানান দেখাশুনার দায়ীত্বে থাকা লেবু মিয়া।
বাগানের অন্যতম সুবিধা হলো উৎপাদিত লেবু বিক্রির জন্য তাদেরকে দূরের বাজারে যেতে হয় না। বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লেবু কিনে নিয়ে যান। পরে এসব লেবু বিশ্বনাথসহ জগন্নাথপুরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়।
লেবু মিয়া জানান, লেবু চাষে ভালো ফল পাচ্ছেন। এখন তাদের লক্ষ্য খালি পড়ে থাকা আরও ৬০ শতাংশ জমিকে কাজে লাগানো। সেখানে মাল্টা চাষ করতে চান তারা। তবে নতুন বাগান করতে প্রয়োজনীয় অর্থ, উন্নত জাতের চারা, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নিয়মিত কৃষি সহায়তা প্রয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা জমিটিতে মাল্টা চাষ করে আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে শুধু নিজেদের আয়ই নয়, ভবিষ্যতে আরও জমিতে ফলের বাগান করার পাশাপাশি অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, কৃষকদের ফলদ ও অর্থকরী ফসল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত জাতের চারা ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
কৃষি উদ্যোক্তাদের মতে, প্রবাসী আবু সালেহের মতো উদ্যোগগুলো স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পতিত জমি চাষের আওতায় এনে লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তোলা গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
লেবু মিয়ার শ্রম, প্রবাসীর অর্থায়ন এবং কৃষিজমির যথাযথ ব্যবহারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ৮০ শতাংশের লেবু বাগান এখন তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি সফল উদাহরণ। সামনে আরও ৬০ শতাংশ জমিতে মাল্টা চাষের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ উদ্যোগটি আরও বড় আকারে বাণিজ্যিক কৃষি প্রকল্পে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বনাথে বাড়ির পুকুরে ডুবে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ম*র্মান্তিক মৃ*ত্যু
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :
সিলেটের বিশ্বনাথে বাড়ির পুকুরে ডুবে ছাদিয়া আক্তার নিহা (১১) নামে এক শিশুর ম*র্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওনপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ছাদিয়া আক্তার নিহা ওই গ্রামের কনাই মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় জনমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে যায় ছাদিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম। শিশুটিকে হারিয়ে পরিবারে চলছে আহাজারি।

