আজকের সময়ের সেরা খবর
ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
Spread the love

এইসময় ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে জরুরি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তর শুরু করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে সশরীরে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সম্প্রতি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

এই হুমকির প্রেক্ষিতে লেবাননের American University of Beirut (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে Lebanese American University-ও জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সাময়িকভাবে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ক্লাস চালাবে।

অন্যদিকে, Qatar News Agency-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই কাতার সরকার দেশটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনলাইন শিক্ষা চালুর নির্দেশ দেয়। এর আওতায় রয়েছে Georgetown University in Qatar, Texas A&M University at Qatar এবং Virginia Commonwealth University School of the Arts in Qatar-এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ও চলতি মাসের শুরু থেকে একই ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

আইআরজিসির সরাসরি হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা খাত এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণা কার্যক্রম, ল্যাব ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক সংঘাতে শিক্ষাঙ্গনকে জড়িয়ে ফেলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।