বিশ্বনাথে ভক্তি-ভাবগম্ভীর পরিবেশে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন, আলোচনা সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান
বিশ্বনাথপ্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহে উদযাপিত হয়েছে মহান আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব-এর ১৯১তম আবির্ভাব তিথি ও শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্রের ৩য় বার্ষিক উৎসব। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, ধর্মীয় পাঠ ও ভক্তিমূলক আয়োজন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিশ্বনাথ মডেল মন্দির প্রাঙ্গণে “শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর উদ্যোগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ, প্রার্থনা ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন।
“শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর সদস্য সুব্রত ধর বাপ্পির সভাপতিত্বে এবং একান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবা সমিতি-এর অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ মহারাজ।
তিনি বলেন,“রামকৃষ্ণ পরমহংস মানবতার কথা বলেছেন, ভালোবাসার কথা বলেছেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদেরকে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবসেবা এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। বর্তমান বিশ্বে তাঁর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে—এটাই ছিল রামকৃষ্ণের মূল বার্তা।
সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্যে ময়মনসিংহ রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর উপাধ্যক্ষ স্বামী হরিপ্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, “রামকৃষ্ণের জীবন আমাদের দেখায় কিভাবে সরলতা ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব। তাঁর আদর্শ তরুণ সমাজকে নৈতিকতার পথে পরিচালিত করতে পারে।” এ সময় তিনি আরো বলেন, “মানুষের সেবাই পরম ধর্ম—এই শিক্ষা ধারণ করলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
এছাড়া সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর স্বামী পরতরানন্দ মহারাজসহ অন্যান্য বক্তারা রামকৃষ্ণের জীবন, কর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সিনিয় সদস্য শ্রী নিশী কান্ত পাল ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সদস্য ঝুটন চৌধুরী,প্রমূখ।
এছাড়া বিশ্বনাথ, উসমানীনগর, জগন্নাথপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে রামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি, ভক্তি ও মানবতার বার্তা।

