মানববন্ধন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘ নিরাপত্তা চাইলেন রেজাউল করিম
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম এক সংবাদ সম্মেলনে একটি চক্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, তার এলাকার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতারণা ও দালালির সাথে জড়িত একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করছে এবং তার কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পিতাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ এপ্রিল প্রতাবপুর এলাকায় হানিফ শাহ চিশতী (রহ.) মাজারের খাদেম শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি একজন সাক্ষী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ মামলা বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল শাহ আলম হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তার বৃদ্ধ পিতার ছবি ব্যবহার করে ‘ফাঁসির দড়ি’ প্রদর্শন করা হয়, যা তার পরিবারের জন্য মানহানিকর। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে পুজি করে আমার এলাকার একটি কুচক্রি মহল প্রতারক চক্র শহিদ মেম্বার, বাচ্চু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আবুল হোসেন, ফয়ছল আহমদ গংরা মামলা বানিজ্য শুরু করেছে। তারা এলাকার নিরিহ লোকজনকে নানাভাবে মামলার ভয় দেখিয়ে হয়নারী করে আসছে। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা-হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে তার ভাই মো. ফজলুল করিমও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন মেম্বার আব্দুস শহিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। বরং তিনি অভিযুক্ত মিজানের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, মানববন্ধনের ব্যানারে কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার মতে ‘উচিত হয়নি’ এবং এটি কিছু উৎসাহী গ্রামবাসীর কাজ বলে উল্লেখ করেন।
সবশেষে রেজউল করিম প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সংবাদ সম্মেলন শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়েও শঙ্কায় আছি। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”

