আজকের সময়ের সেরা খবর
ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২
Spread the love

এইসময় প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মোটরসাইকেল আরোহী। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন শিশু ও দুই কিশোর। বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, দিনাজপুর, নরসিংদী, গাইবান্ধা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, নড়াইল ও চট্টগ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে গোপালগঞ্জে। সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে এক শিশু, এক নারীসহ পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও শিশুসহ আরও দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে ফরিদপুর, নরসিংদী, পটুয়াখালী, নড়াইল ও কুষ্টিয়ায় পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঈদের নামাজ শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই কিশোর। নরসিংদীর শিবপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন দুই তরুণ। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। নড়াইলের লোহাগড়ায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ যায় এক তরুণের।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অতিরিক্ত গতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইলাইনারে ধাক্কা দিলে এসএসসি পরীক্ষার্থী তিন বন্ধু গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেলটির গতি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার ছিল।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দিলে দুই শিশু নিহত হয়। আহত হন তাদের দুই মা। অন্যদিকে মাদারীপুরের শিবচরে চলন্ত বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নামের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভেল্লাপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং অসতর্কতার কারণে। ঈদের ছুটিতে সড়কে বাড়তি যানবাহন চলাচলের মধ্যেও চালকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।