আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেট ও আশপাশে ভোররাতে মৃদু ভূকম্পন, আতঙ্কে ঘুম ভাঙে মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোররাতে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠে। এতে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেক মানুষ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সংশ্লিষ্টরা ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক এবং আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ তার ফেসবুক পোস্টে জানান, বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পটি ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটির নিকটবর্তী মরিগাঁও এলাকায়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ এবং এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এখানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প বিষয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে কঠোর বার্তা, বাসিয়া নদী দখলমুক্ত করার ঘোষণা

বিশ্বনাথে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বনাথ পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় তিনি পৌরসভার উন্নয়ন, রাজস্ব আদায়, হোল্ডিং ট্যাক্স ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পৌর প্রশাসক বলেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার আয়তন বড় হলেও আয় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় পৌর এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে যেসব হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বকেয়াদারদের মার্কেট, বিল্ডিং বা বাড়িতে বকেয়ার তালিকা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপনসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে পাঁচ বছরের জন্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ছিল অপরিকল্পিত। কোথাও অতিরিক্ত, কোথাও কম, আবার কোথাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে ট্যাক্স প্রদানে অনীহা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকায় আনুমানিক মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। বড় একটি অংশ বকেয়ার তালিকায় রয়েছে এবং অনেক ভবন এখনও হোল্ডিংয়ের আওতার বাইরে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাসিয়া নদী প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক জানান, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে নদীর তীরে পাকা স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণ করা হবে। চলমান মামলা ও রিট নিষ্পত্তি হলেই বাসিয়া নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর পাশাপাশি বাসিয়া নদীর উৎসমুখ পুনঃখননের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ চাইলে অগ্রিম হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কেটের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে ভাড়াটে দোকান মালিকরা সচেতন হলে ট্রেড লাইসেন্স নিতে গিয়ে কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রদান বিষয়ে তিনি জানান, আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেবার স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রকৌশলী উদ্দিন আহমদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবাযের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ জামাল মিয়া, সদস্য আহমদ আলী হিরণ, সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের শিক্ষানবিশ সদস্য আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জামিন পেলেন সেই নেতা

এইসময় ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন।

রবিবার সকালে তাকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালতে তোলা হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর এলাকা থেকে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।

রাতভর থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা মাহদী হাসানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে রাতেই আদালত বসিয়ে তার জামিন শুনানি গ্রহণের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা। তবে রাতে আদালত না বসায় তাদের দাবি পূরণ হয়নি। পরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকে।

আজ সকালে মাহদী হাসানকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানে তার সমর্থক ও সহকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। জামিন পাওয়ার খবরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা দাবি করেন, মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আদালত মামলার নথি ও শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেছেন। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাহরাইনে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

বাহরাইন প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাহরাইনে গায়েবানা জানাজা, খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বাহরাইনের হামাদ টাউনের আয়েশা মসজিদের হলরুমে বিএনপি বাহরাইন আহবায়ক কমিটি ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বাহরাইনে অবস্থানরত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি ছিল ভাবগম্ভীর ও শোকাবহ পরিবেশে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি বাহরাইনের সক্রিয় নেতৃবৃন্দ মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ মহিউদ্দিন, আবুল বাশার, মোঃ মানিক মিয়া মনির, আক্তারুজ্জামান মিয়া, আব্দুস সালাম, সিরাজুল ইসলাম চুন্নু, রবিউল ইসলাম রবি, মো: সিরাজ, জাহাংগির আলম, কামাল উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম আকন, ক্যাপ্টেন হুমায়ুন কবির,ফিরোজ আলম কিরন, মো: বেলাল হোসেন, মনির হোসেন বেপারী, মো: ফারুক হোসেন,শাহ আলম সওদাগর,সুলতান হাওলাদার, শরিফুল ইসলাম রিপন,নজরুল ইসলাম,আবুল কালাম,মো: রুবেল, আলাউদ্দিন, আব্দুল হান্নান,মো: মোশাররফ হোসেন,মো: মিজান,জাহাংগির আলম, হাফেজ শাহজাহান, মো: মফিজ,নওশাদ, এখলাজ উদ্দিন,আব্দুর রহিম মজুমদার,মো: আলম,ইউনুস হোসেন,ইমরান হোস্রন,শামসুল আলম। আবুল কাশেম,রাজু আহমেদ সহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যরা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার ত্যাগ ও অবদান স্মরণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আয়েশা মসজিদের খতিব মাওলানা মনিরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির জন্য তার অবদান আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন আপোষহীন, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারিয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কঠিন সময়েও তিনি জনগণের পক্ষে আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

বিশ্বনাথের গোয়াহরী গ্রামে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বিস্তীর্ণ বড়বিল যেন একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিল শত বছর আগের গ্রামীণ বাংলায়।

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসবকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১লা জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিলপাড়ে জমে ওঠে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই বড়বিলে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব দেখতে ও অংশ নিতে জড়ো হন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়াহরি ও আশপাশের গ্রামের মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েন উৎসবের প্রস্তুতিতে। হাতে হাতে পলো, উড়াল জাল, টেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সবাই একত্রিত হন বড়বিলের পাড়ে। নির্দিষ্ট সংকেতের পর মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। পানির ঢেউ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে বড়বিল যেন প্রাণ ফিরে পায়।

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী মাছ শিকারে ধরা পড়ে নানা প্রজাতির বড় ও ছোট মাছ। কারও পলোতে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির বোয়াল, কারও ঝুড়ি ভরে ওঠে রুই-কাতলা আর ঘনিয়ায়। টেলা ও ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেওয়া সুস্বাদু বাউশ, শোলসহ নানা জাতের দেশি মাছ। মুহূর্তে মুহূর্তে আনন্দধ্বনি, উল্লাস আর হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিলপাড়।

এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে বিলের চারপাশে ভিড় জমান নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। অনেক প্রবাসী পরিবার বিশেষভাবে এই পলো বাওয়া উৎসবকে কেন্দ্র করেই দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দে গোয়াহরি বড়বিল পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।

পলোতে বড় বোয়াল ধরতে পেরে উচ্ছ্বসিত যুবক রাজু আহমদ বলেন, “নিজের হাতে এত বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আজ সবাই মাছ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য দারুণ খুশির দিন।”

উৎসব দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী হাজী মো. তৈমুছ আলী বলেন, “গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে আনন্দের সঙ্গে মাছ ধরতে দেখা—এই দৃশ্য দেখার জন্যই দেশে আসা। বসে বসে পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করছি, মনটা ভরে গেছে।”

প্রবাসী হাজী মো. আবদুল বারী ও শাহনুর হোসাইন ছাদিক বলেন, “এই উৎসব দেখার টানেই আমাদের দেশে ফেরা। গ্রামের মানুষ, ঐতিহ্য আর এই আনন্দ আমাদের কাছে পরমানন্দের মতো।”

আয়োজক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন মেম্বার ও ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমাদের গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে প্রতিবছরই এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করা হয়। এটি শুধু একটি মাছ ধরার আয়োজন নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। যুগ যুগ ধরে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও গর্বের অংশ।”

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিক মিলনে গোয়াহরি বড়বিলের পলো বাওয়া উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে—গ্রামীণ বাংলার প্রাণ এখনও অটুট, এখনও বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ঝাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথে ‘বিশ্বনাথনিউজ বিশ্বনাথ সেরা হাফেজ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল সম্পন্ন

এইসময় ডেস্ক:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘বিশ্বনাথনিউজ বিশ্বনাথ সেরা হাফেজ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৌর শহরের একটি অভিজাত পার্টি সেন্টারে প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

তিন পর্বের বাছাই শেষে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। কুরআন তেলাওয়াত ও হিফজের দক্ষতায় বিচারকদের রায়ে ১ম স্থান অর্জন করেন রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মাওলানা নেছার আহমদের পুত্র হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ান।

২য় স্থান অধিকার করেন খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বন্ধুয়া গ্রামের আব্দুর নূরের পুত্র হাফিজ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং ৩য় স্থান লাভ করেন লামাকাজী ইউনিয়নের সৎপুর গ্রামের সাইফুল আলমের পুত্র হাফিজ আহমদ জামী।

গ্র্যান্ড ফিনালের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা ফারুক মাহদী। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন— প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাকরাম আলী আফরোজ, ফারুক মিয়া, আব্দুল বাছিত রফি, আমিনুর রহমান আমিন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বিচারকদের পক্ষে হাফিজ মাওলানা মোশাহিদ আহমদ এবং বিজয়ী হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ানের পিতা মাওলানা নেছার আহমদ।

প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকারী হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ান পেয়েছেন নগদ ১ লাখ টাকা, ২য় স্থান অধিকারী হাফিজ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা এবং ৩য় স্থান অধিকারী হাফিজ আহমদ জামী পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকাসহ সম্মাননা স্মারক, উপহার ও সার্টিফিকেট।

অনুষ্ঠান চলাকালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, যুক্তরাজ্য মহানগর জমিয়াতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা হোসাইন আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কুরআনভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় রয়েছে।

বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সঙ্গে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মুনতাছির আলীর মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১০ দলীয় জোট থেকে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

এর আগে একইদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন মুনতাছির আলী। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি, জোটের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় মুনতাছির আলী বলেন, ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ৮ দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১০ দলীয় জোটে রূপ নিয়েছে। এ কারণে কিছু আসনে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। সব আসনের বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত খেলাফত মজলিস যে কয়েকটি আসন পেয়েছে, তার মধ্যে সিলেট-২ আসন অন্যতম। এ আসনে তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন, সেখানে সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। এতে করে জোটের প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

নির্বাচনী রাজনীতি প্রসঙ্গে মুনতাছির আলী বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগেই নিজেকে বিজয়ী ভাবা সঠিক নয়; বরং জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের মাধ্যমেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি সুস্থধারার রাজনীতির স্বার্থে সবার জন্য সমান রাজনৈতিক মাঠ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রতিহিংসার স্থান থাকতে পারে না।

মুনতাছির আলী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোট’কে বিজয়ী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট কাজ করছে। জনগণের ভোটে জোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করা হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জনগণের প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১০ দলীয় জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাকে কোনো একক দলের প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং ১০ দলীয় জোটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে আমি শাসক হয়ে নয়, একজন সেবক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাব—এই অঙ্গীকার করছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন, বিশ্বনাথ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, পৌর খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি অধ্যক্ষ গৌছ উদ্দীন, সহসভাপতি মুহাম্মদ ছালিক মিয়া মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত, সহসম্পাদক মুহাম্মদ শরীফ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক আহমদ, অর্থ সম্পাদক এনামুল হক, সংগঠক হাসান আহমদ চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সারা দেশে শোক: তাহসিনা রুশদীর লুনা ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির গভীর শোক প্রকাশ

এইসময় ডেস্ক:


বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট-২ আসনের (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা ও দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এম. ইলিয়াস আলীর একান্ত সচিব মো. ময়নুল হকের মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় ইলিয়াসপত্নী লুনা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য একটি অন্ধকার সকাল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্ব এদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের পথ দেখিয়েছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন, নানা চড়াই-উৎরাই পার করেও নিজের আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন নেত্রী। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ইলিয়াসপত্নী লুনা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সংকটে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, শক্তি ও আশা জুগিয়েছেন। পৃথিবীর নিয়মে আজ তাঁর যাত্রা শেষ হলেও একজন প্রধানমন্ত্রী, একজন নেত্রী, একজন মা ও একজন দেশনেত্রী হিসেবে তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর মৃত্যু শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি একটি জাতির অপূরণীয় ক্ষতি।’

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রেরিত এক শোকবার্তায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান।’

তারা বলেন, ‘গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। তাঁর প্রয়াণে রাজনীতির মাঠ হারালো এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর মৃত্যু শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের নয়, পুরো জাতির ক্ষতি।’

শোকবার্তায় তারা মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর পরিবার, সন্তান ও শোকাহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের মৃত্যু উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে সারা দেশে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নেতাকর্মীসহ উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং বুধবার সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে।


সিলেট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দিচ্ছে না, খেলাফত মজলিসকে সমর্থন

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিচ্ছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দশ দলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে দলটি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-২ আসনটি বিরোধী রাজনীতির একটি আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিএনপির প্রভাব ও ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর লুনা। তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১৭ সালে ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকেই সিলেট-২ আসনটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখনো তার সন্ধান না মেলায় এ আসনটি রাজনৈতিক ও আবেগী গুরুত্ব বহন করছে।

উল্লেখ্য, সিলেট-২ আসন থেকে জামায়াত ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার সিলেটের বাকি পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে তিনিও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পরবর্তীতে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সিলেট-২ আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য আসনগুলোতে ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার ফলে সিলেট-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াতের সমর্থন পাওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক আবেগ ও জনসমর্থনও এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করতে চান তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করা যাবে) গুলশানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন ভার্চুয়ালি এ কার্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে অফিসের পরিবেশ ও সাংগঠনিক বিষয় সম্পর্কে তাঁর পর্যাপ্ত ধারণা রয়েছে।

ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ওই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আব্দুস সালামকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পাভেল বলেন, এখনো নির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বলা যায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত করার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি আরও কিছু রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকতে পারে। এছাড়া গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপির আসন বণ্টনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭—এই দুটি আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।