আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সথে নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুরি’র মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ মতবিনিময়ে অংশ নেন।

সভায় ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি উপজেলার অন্যতম চ্যালেঞ্জ বাসিয়া নদী দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাসিয়া নদীকে পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে নদীর উৎসমুখ খননের কর্মপরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা সদরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একটি সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য উপজেলা গড়তে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন নবাগত ইউএনও।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ গঠনমূলক লেখনী প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতারা ইউএনও’র উদ্যোগ ও পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্বনাথের সার্বিক উন্নয়ন কাজে প্রশাসনের সঙ্গে সবসময় সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবস উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের বিশ্বনাথে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দিবস দুটি উদযাপনে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসগুলো পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির।

রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, সেক্রেটারি মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর এইচ এম আখতার ফারুক ও নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান।

এছাড়াও সভায় দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাঈদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহিমা আক্তার, প্রাণীসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র, বিআরডিবি কর্মকর্তা ওয়ারেসাত আল আমিন ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি’কে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি’কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খানের নেতৃত্বে ইউএনও’র দপ্তরে গিয়ে নবাগত কর্মকর্তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পদাধিকার বলে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের স্থানীয় অ্যাডভাইজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবিকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথের শিক্ষা উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন ও সামাজিক সেবায় সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, বিশ্বনাথের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি এবং প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়াতে ট্রাস্ট অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবাগত ইউএনও’র দক্ষ নেতৃত্বে শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং প্রশাসন–প্রবাসী কমিউনিটির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুল হামিদ, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান, ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর নিশীকান্ত পাল, রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ ও ট্রাস্টের কম্পিউটার প্রশিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি বিশ্বনাথে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ট্রাস্টের ইতিবাচক অবদানকে আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন—উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে ট্রাস্টের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সহযোগিতামূলক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো।

যেসব বিশেষ আমলে দ্বিগুণ সওয়াব পওয়া যায়

মহাদাতা আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি নেই। সাধারণত বান্দা একটি নেক আমল করলে আল্লাহ তার বিনিময়ে কমপক্ষে দশ গুণ সওয়াব দান করেন। তবে হাদিস শরিফে এমন কিছু বিশেষ আমল ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বান্দার কষ্ট, ত্যাগ এবং দ্বিমুখী দায়িত্ব পালনের কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে সাধারণের চেয়ে আলাদা মর্যাদা দেন এবং দ্বিগুণ সওয়াব দান করেন। এই আমলগুলো মুমিনের আখিরাতের ঝুলি ভারী করার এক সুবর্ণ সুযোগ।

আল্লহ তাআলার এক নাম ‘আল-ওয়াহহাব’ বা মহাদাতা। তিনি তাঁর বান্দাদের দান করতে ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন,

“যে ব্যক্তি একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে তার দশ গুণ প্রতিদান।” (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬০)

তবে কিছু কাজ আছে, যার বিনিময় আল্লাহ বিশেষভাবে দ্বিগুণ করে দেন। নিচে এমন কিছু আমল আলোচনা করা হলো:

১. আত্মীয়-স্বজনকে দান করা

সাধারণ কোনো মিসকিনকে দান করলে শুধু সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু নিজের গরিব আত্মীয়-স্বজনকে দান করার মর্যাদা অনেক বেশি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মিসকিনকে দান করা হলো সদকা। আর আত্মীয়কে দান করা হলো দুটি আমল, ১. সদকা এবং ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০০)

সুতরাং দানের ক্ষেত্রে আপন ভাই-বোন, চাচা-ফুফু বা নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ।

২. কষ্ট করে কোরআন তিলাওয়াত করা

অনেকে আছেন যাঁরা কোরআন পড়তে গিয়ে তোতলামি করেন বা আটকে যান। অথচ তাঁদের জন্যই রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।

তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং তোতলায় (অর্থাৎ পড়তে খুব কষ্ট হয়), তবু চেষ্টা চালিয়ে যায়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯৩৭)

এখানে একটি সওয়াব তিলাওয়াতের জন্য, আর দ্বিতীয় সওয়াবটি তাঁর এই কঠোর প্রচেষ্টার জন্য।

৩. আল্লাহর হক ও মালিকের হক আদায়কারী

কর্মজীবনে যাঁরা সততা বজায় রাখেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। যে কর্মচারী, শ্রমিক বা অধীনস্থ ব্যক্তি নিজের মালিকের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত ঠিকমতো আদায় করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি অত্যন্ত খুশি হন।

হাদিসে এসেছে, “ওই ক্রীতদাস বা কর্মচারীর জন্য দ্বিগুণ সওয়াব, যে আল্লাহর হক আদায় করেন এবং তাঁর মনিবের বা মালিকের হকও নিষ্ঠার সঙ্গে আদায় করেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫৪)

৪. আহলে কিতাবের ইসলাম গ্রহণ

পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারী (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তিনি দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হন।

হাদিসে এসেছে, “আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুমিন ব্যক্তি যে তাঁর নবীর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। তারপর নবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান এনেছেন। তাঁর জন্য দিগুণ সওয়াব আছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০১১)

কারণ তিনি প্রথমত তাঁর নিজের নবীর ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং দ্বিতীয়ত শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ঈমান এনেছেন।

৫. সত্য সন্ধানী বিচারক বা মুজতাহিদ

বিচারক বা আলেম যখন কোনো জটিল বিষয়ে সঠিক সমাধান বের করার জন্য ‘ইজতিহাদ’ বা গভীর গবেষণা করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তিনি দুটি সওয়াব পান। একটি তাঁর গবেষণার কষ্টের জন্য, অন্যটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো বিচারক ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার। আর যদি কোনো বিচারক ইজতিহাদে ভুল করেন তাঁর জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫৫২)

৬. নবীপত্নী ও নেককার নারীদের বিশেষ মর্যাদা

যাঁদের আল্লাহ সমাজে উচ্চ মর্যাদা বা দ্বিনি জিম্মাদারি দিয়েছেন, তাঁদের সওয়াবও আল্লাহ বাড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রীদের উদ্দেশ করে কোরআনে ইরশাদ করেন,

“আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি অনুগত থাকবে এবং নেক আমল করবে, আমি তাকে তার প্রতিদান বা সওয়াব দুবার দেব।” (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩১)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে দ্বীনের পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী নারীদের আল্লাহ বিশেষভাবে সম্মানিত করবেন।

৭. ভালো কাজের সূচনা করা

সওয়াব শুধু দ্বিগুণ নয়, বরং তা হাজার গুণ বা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকার একটি চমৎকার উপায় হলো কোনো ভালো কাজের সূচনা করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো প্রথা বা রীতির প্রচলন ঘটাবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে, তাদের সওয়াবও সে পাবে; অথচ তাদের সওয়াব থেকে কোনো কিছুই কমানো হবে না।” (সহিহ মুসলিম, হদিস : ১০১৭)

অর্থাৎ কেউ যদি কোনো দ্বিনি প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার বা জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু করে যান, তবে অন্যরা আমল করার কারণে সেই সওয়াবও তাঁর আমলনামায় যোগ হতে থাকবে। এটি আল্লাহর এক বিশাল রহমত।


কেন এই দ্বিগুণ প্রতিদান?

আমরা লক্ষ করলে দেখব, উপরোল্লিখিত প্রতিটি আমলের সঙ্গে অতিরিক্ত কষ্ট বা দ্বিমুখী দায়িত্ব জড়িত। আত্মীয়কে দান করতে গেলে মনের সংকীর্ণতা দূর করতে হয়। কষ্ট করে কোরআন পড়তে গেলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। চাকরি ও ইবাদত একসঙ্গে চালাতে গেলে সময়ের কোরবানি দিতে হয়।

আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচারক। তিনি বান্দার এই অতিরিক্ত কষ্টটুকু বিফলে যেতে দেন না। তাই তিনি তাঁর বিশেষ রহমতে এদের সওয়াব দ্বিগুণ করে দেন।

আজ ইসির বৈঠকে তফসিল চূড়ান্তের সম্ভাবনা: ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সংশয়

এইসময় ডেস্ক:

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জটিলতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আজ তফসিল নির্ধারণে বৈঠকে বসছে, সম্ভবত আজই চূড়ান্ত হবে ভোটের তারিখ। তবে রাজনৈতিক মহলে শঙ্কা—উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে কিছু মহল নির্বাচন পেছানো বা বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে গণভোট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বারবার বলেছেন যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকারের পরামর্শক পরিমণ্ডলের একটি অংশ এতে অনাগ্রহী বলে একাধিক সূত্রের দাবি। প্রথমবার ক্ষমতার সুযোগ পাওয়া কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান বলেও মত রয়েছে বিশ্লেষকদের।

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত নিয়ে গণভোট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। “সহজ প্রশ্ন–কঠিন উত্তর”—এ ধরনের প্রশ্নে তৃণমূল জনগণ কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতিতে গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনমনে পৌঁছে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দল, সরকার বা ইসির পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে দৃশ্যমান প্রচার-প্রসার বা প্রস্তুতি নেই।

এরই মধ্যে কয়েকটি দল গণভোটে ‘ইতিবাচক রায়’ মিলবে কি না, সে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, গণভোটকে কেন্দ্র করেই কিছু মহল নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উন্নত চিকিৎসায় দ্রুত লন্ডনে নেওয়া হতে পারে তাঁকে। এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে নতুন একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে, একই দিনে আদালতেও এ নিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এমন সময়ে বিএনপি ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যা বিএনপির সমমনা জোটগুলোর মধ্যে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের বক্তব্য, আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সময় পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

দেশি-বিদেশি প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও শক্তির লড়াই দেখা যায়। দেশি-বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা যেমন থাকে, তেমনি সরকারের ভেতরেও একাধিক পাসপোর্টধারী কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ অভিযোগ তুললেও এখনো নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি এবং সম্ভাব্য সংকট

১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেন—জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট একই দিনে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু যদি তিনি নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তে নতুন গতি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

এইসময় ডেস্ক:

ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে তাঁর হত্যা মামলা। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এ ঘটনায় নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আসামিদের সন্ধানে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক জানিয়েছেন, প্রায় তিন দশক আগের এই মামলার আসামিদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কাজ চলছে। দেশে অবস্থানরতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে, পাশাপাশি বিদেশে পলাতক কয়েকজনেরও খোঁজ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ইস্কাটনে সালমান শাহের ভাড়া বাসায় গিয়ে তদন্ত কার্যক্রমের সময় তিনি এসব তথ্য জানান। এর পরপরই মামলার আসামি সামিরা লুসি ও ডন সহ কয়েকজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে, আদালতের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জন্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। নতুন মামলাটি করেছেন সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম। এতে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। শুরু থেকেই তাঁর পরিবার দাবি করে আসছে— এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। সালমানের মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার অভিযোগ নিয়ে নথি করেনি; বরং অপমৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করেছিল।

অন্যদিকে, সালমানের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্ত্রী সামিরা। তবে তিনি সবসময়ই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বছর একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন— “এটি আত্মহত্যা ছিল। সালমান বিয়ের আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।”

ঢালিউডে মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সালমান শাহ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তাঁর জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর দিন তিনি ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সহ-অভিনেত্রী শাবনূরও তখন উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রাতে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়— আর সেখান থেকেই শুরু হয় রহস্যের ঘনকুয়াশা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের এই নতুন নির্দেশে সালমান শাহ ভক্তদের মাঝে আবারও আশা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস— এবার হয়তো উদ্‌ঘাটিত হবে প্রিয় নায়কের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।

অভ্যন্তরীণ বিরোধ উপেক্ষা করেই সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ এবং অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন, সেই তালিকাতেই রয়েছে আরিফুল হকের নাম।

একই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের আরও তিনটি আসনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে—সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়াকে। এতে সিলেট-৪ আসনকে ঘিরে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটল।

মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র বিরোধ

গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় সিলেট-৪ আসনটি খালি রেখেছিল বিএনপি। পরে ঢাকায় বৈঠক শেষে সিলেটে এসে আরিফুল হক ঘোষণা দেন—দলের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দলের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—আরিফুল হক ‘বহিরাগত’, এই আসনে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে।

শুধু বিএনপির নেতারাই নয়, ‘স্থানীয় প্রার্থী’ দাবি তুলেছে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনও। বুধবার বিকেলে সিলেটটুডের আয়োজিত ‘ভোটের মাঠে’ অনুষ্ঠানে এই দাবির পুনরাবৃত্তি করেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হাকিম চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও প্রার্থী জয়নাল আবেদিন, এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রাশেল উল আলম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, “এই আসনে আমাদের মাটির সন্তানকেই মনোনয়ন দিতে হবে। বাইরের লোক এলে উন্নয়ন হয় না।”
জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদিনও বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—এই এলাকার সন্তানই এমপি হোক।”
এনসিপির রাশেল উল আলম বলেন, “মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, চাই লোকাল প্রার্থী।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ মন্তব্য করেন, “দূরের কেউ হলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না।”

আরিফুল হকের প্রতিক্রিয়া

মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি উপলক্ষ মাত্র, এই মনোনয়ন সবার। আমরা সবাই ধানের শীষের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, তিনি বহিরাগত নন—“আমি এই মাটির সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই সিলেটের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি ছিলাম—আমাকে বহিরাগত বলা অবান্তর।”

জাতীয় নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“বেগম খালেদা জিয়া তিন আসনে প্রার্থী হয়েছেন, তারেক রহমানও চাইলে যেকোনো আসনে হতে পারতেন—তাদের কি বহিরাগত বলা হবে?”

কারা ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী?

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন—

  • কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী
  • সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সামসুজ্জামান জামান
  • সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম
  • জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী
  • যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা হেলাল উদ্দিন
  • সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম

বহুদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় প্রার্থীর দাবি এবং জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ অতিক্রম করেই অবশেষে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে টিকিট পেলেন আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রটোকল ভেঙে পুতিনকে স্বাগত মোদীর, দিল্লিতে শুরু ভারত–রাশিয়া কূটনীতির নতুন অধ্যায়

এইসময় ডেস্ক:

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বিরল কূটনৈতিক সৌজন্যে বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা জানানোর রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এবার সেই প্রোটোকল ভেঙেই ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে বরণ করে নিলেন মোদী। করমর্দনের পর আলিঙ্গন—রানওয়েতে দাঁড়িয়েই দিল্লি–মস্কোর ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিলেন দুই নেতা।

সফরকালে পুতিন অংশ নেবেন ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে আয়োজিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত এস–৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে নতুন সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের আগে রুশ পার্লামেন্ট ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’ (RELOS) অনুমোদন করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার বিভিন্ন সেনাঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে; যার মধ্যে তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত রুশ সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। ফলে রাশিয়ার ঘাঁটি থেকে ভারতীয় রণতরী, ডুবোজাহাজ, যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গ্রহণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সোভিয়েত যুগ থেকে চলে আসা এই কৌশলগত বন্ধুত্ব সাম্প্রতিক ভূ–রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অটুট রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝে ভারত রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে—যেখানে যুদ্ধের আগে এ হার ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ।

তবে এ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর। রুশ তেল কেনা বন্ধে চাপ বাড়াতে গত অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। এরপর থেকে ভারত কিছুটা রুশ তেল আমদানি কমালেও মস্কো চাইছে দিল্লি আবার অর্ডার বাড়াক। সেই প্রত্যাশায়ই পুতিনের এই সফরকে দেখছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহল।

ভারতের জন্যও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে মস্কো ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক রাখা এখন মোদীর বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরোপীয় মিত্রদের চাপও বাড়ছে, যেন দিল্লি–মস্কোর ঘনিষ্ঠতা ভারতের পশ্চিমা অংশীদারত্বকে ছাপিয়ে না যায়।

এদিকে দুই দেশই ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২০ সালে যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য ছিল মাত্র ৮.১ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৭২ বিলিয়ন ডলারে—মূলত ছাড়ে কেনা রুশ তেলের কারণে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকায় অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে ভারত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌশলগত দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূ–রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে শুরু হলো ভারত–রাশিয়ার কূটনীতির নতুন অধ্যায়। মোদী–পুতিন বৈঠক তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের কারণ দর্শানোর নোটিস:

এইসময় ডেস্ক:

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই একতরফাভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে বস্ত্র অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নিজ সিদ্ধান্তে তেলের দাম বাড়িয়েছে। আমরা তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছি এবং একই সঙ্গে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে একটি সভায় উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বোতলের সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি ৬ টাকা এবং খোলা তেলের লিটারপ্রতি ৮ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে তার আগের দিন থেকেই বাজারে বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৮ টাকা এবং খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়তে শুরু করে।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই এ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “তারা আমাদের না জানিয়ে বাজারে দাম বাড়িয়েছে। এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক পদক্ষেপ। গতকালই আমরা তাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ লিটার তেল টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ টাকা কম দামে কিনেছি। যখন সরকার কম দামে তেল কিনতে পারে, তখন বাজারে বেশি দামে বিক্রির যৌক্তিকতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গতকালই স্পষ্ট করে বলেছি—ব্যবসায়ীদের এ একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


‘নীতিগত ত্রুটি, অদক্ষতা ও দুর্নীতিতে ধ্বংস হয়েছিল পাট শিল্প’

কর্মশালায় দেশের পাট শিল্পের অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, পাটখাত ধ্বংস হওয়ার পেছনে নীতিগত ভুল, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, কোনো ধরনের আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই পাট শিল্প জাতীয়করণ করা হয়েছিল, যা উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জাতীয়করণের পর রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পরিচালিত হয় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে, যা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “অদক্ষ, অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনায় পাটকলগুলো পরিচালিত হয়েছিল। পাটকে বৈচিত্র্যময় করার যথাযথ পরিকল্পনা ছিল না। উচ্চ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, যা শিল্পটির পতন ডেকে আনে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পাটখাত নিয়ে আগের ভুল আর হবে না। “আমরা রঙিন স্বপ্ন দেখাতে চাই না। দেশের ৭১টি টেক্সটাইল কলেজ-ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে নিয়ে রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছি, যার ৮৫ শতাংশ আসবে বস্ত্র খাত থেকে।”


বেসরকারিকরণে স্বচ্ছতা: ১৪টি শিল্প ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে ১৪টি রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এগুলো ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।