আজকের সময়ের সেরা খবর
অভ্যন্তরীণ বিরোধ উপেক্ষা করেই সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ এবং অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন, সেই তালিকাতেই রয়েছে আরিফুল হকের নাম।

একই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের আরও তিনটি আসনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে—সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়াকে। এতে সিলেট-৪ আসনকে ঘিরে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটল।

মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র বিরোধ

গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় সিলেট-৪ আসনটি খালি রেখেছিল বিএনপি। পরে ঢাকায় বৈঠক শেষে সিলেটে এসে আরিফুল হক ঘোষণা দেন—দলের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দলের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—আরিফুল হক ‘বহিরাগত’, এই আসনে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে।

শুধু বিএনপির নেতারাই নয়, ‘স্থানীয় প্রার্থী’ দাবি তুলেছে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনও। বুধবার বিকেলে সিলেটটুডের আয়োজিত ‘ভোটের মাঠে’ অনুষ্ঠানে এই দাবির পুনরাবৃত্তি করেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হাকিম চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও প্রার্থী জয়নাল আবেদিন, এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রাশেল উল আলম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, “এই আসনে আমাদের মাটির সন্তানকেই মনোনয়ন দিতে হবে। বাইরের লোক এলে উন্নয়ন হয় না।”
জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদিনও বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—এই এলাকার সন্তানই এমপি হোক।”
এনসিপির রাশেল উল আলম বলেন, “মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, চাই লোকাল প্রার্থী।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ মন্তব্য করেন, “দূরের কেউ হলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না।”

আরিফুল হকের প্রতিক্রিয়া

মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি উপলক্ষ মাত্র, এই মনোনয়ন সবার। আমরা সবাই ধানের শীষের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, তিনি বহিরাগত নন—“আমি এই মাটির সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই সিলেটের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি ছিলাম—আমাকে বহিরাগত বলা অবান্তর।”

জাতীয় নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“বেগম খালেদা জিয়া তিন আসনে প্রার্থী হয়েছেন, তারেক রহমানও চাইলে যেকোনো আসনে হতে পারতেন—তাদের কি বহিরাগত বলা হবে?”

কারা ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী?

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন—

  • কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী
  • সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সামসুজ্জামান জামান
  • সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম
  • জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী
  • যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা হেলাল উদ্দিন
  • সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম

বহুদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় প্রার্থীর দাবি এবং জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ অতিক্রম করেই অবশেষে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে টিকিট পেলেন আরিফুল হক চৌধুরী।