আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবস উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের বিশ্বনাথে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দিবস দুটি উদযাপনে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসগুলো পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির।

রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, সেক্রেটারি মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর এইচ এম আখতার ফারুক ও নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান।

এছাড়াও সভায় দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাঈদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহিমা আক্তার, প্রাণীসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র, বিআরডিবি কর্মকর্তা ওয়ারেসাত আল আমিন ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি’কে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি’কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খানের নেতৃত্বে ইউএনও’র দপ্তরে গিয়ে নবাগত কর্মকর্তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পদাধিকার বলে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের স্থানীয় অ্যাডভাইজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবিকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথের শিক্ষা উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন ও সামাজিক সেবায় সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, বিশ্বনাথের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি এবং প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়াতে ট্রাস্ট অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবাগত ইউএনও’র দক্ষ নেতৃত্বে শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং প্রশাসন–প্রবাসী কমিউনিটির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুল হামিদ, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান, ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর নিশীকান্ত পাল, রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ ও ট্রাস্টের কম্পিউটার প্রশিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি বিশ্বনাথে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ট্রাস্টের ইতিবাচক অবদানকে আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন—উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে ট্রাস্টের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সহযোগিতামূলক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো।

যেসব বিশেষ আমলে দ্বিগুণ সওয়াব পওয়া যায়

মহাদাতা আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি নেই। সাধারণত বান্দা একটি নেক আমল করলে আল্লাহ তার বিনিময়ে কমপক্ষে দশ গুণ সওয়াব দান করেন। তবে হাদিস শরিফে এমন কিছু বিশেষ আমল ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বান্দার কষ্ট, ত্যাগ এবং দ্বিমুখী দায়িত্ব পালনের কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে সাধারণের চেয়ে আলাদা মর্যাদা দেন এবং দ্বিগুণ সওয়াব দান করেন। এই আমলগুলো মুমিনের আখিরাতের ঝুলি ভারী করার এক সুবর্ণ সুযোগ।

আল্লহ তাআলার এক নাম ‘আল-ওয়াহহাব’ বা মহাদাতা। তিনি তাঁর বান্দাদের দান করতে ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন,

“যে ব্যক্তি একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে তার দশ গুণ প্রতিদান।” (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬০)

তবে কিছু কাজ আছে, যার বিনিময় আল্লাহ বিশেষভাবে দ্বিগুণ করে দেন। নিচে এমন কিছু আমল আলোচনা করা হলো:

১. আত্মীয়-স্বজনকে দান করা

সাধারণ কোনো মিসকিনকে দান করলে শুধু সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু নিজের গরিব আত্মীয়-স্বজনকে দান করার মর্যাদা অনেক বেশি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মিসকিনকে দান করা হলো সদকা। আর আত্মীয়কে দান করা হলো দুটি আমল, ১. সদকা এবং ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০০)

সুতরাং দানের ক্ষেত্রে আপন ভাই-বোন, চাচা-ফুফু বা নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ।

২. কষ্ট করে কোরআন তিলাওয়াত করা

অনেকে আছেন যাঁরা কোরআন পড়তে গিয়ে তোতলামি করেন বা আটকে যান। অথচ তাঁদের জন্যই রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।

তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং তোতলায় (অর্থাৎ পড়তে খুব কষ্ট হয়), তবু চেষ্টা চালিয়ে যায়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯৩৭)

এখানে একটি সওয়াব তিলাওয়াতের জন্য, আর দ্বিতীয় সওয়াবটি তাঁর এই কঠোর প্রচেষ্টার জন্য।

৩. আল্লাহর হক ও মালিকের হক আদায়কারী

কর্মজীবনে যাঁরা সততা বজায় রাখেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। যে কর্মচারী, শ্রমিক বা অধীনস্থ ব্যক্তি নিজের মালিকের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত ঠিকমতো আদায় করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি অত্যন্ত খুশি হন।

হাদিসে এসেছে, “ওই ক্রীতদাস বা কর্মচারীর জন্য দ্বিগুণ সওয়াব, যে আল্লাহর হক আদায় করেন এবং তাঁর মনিবের বা মালিকের হকও নিষ্ঠার সঙ্গে আদায় করেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫৪)

৪. আহলে কিতাবের ইসলাম গ্রহণ

পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারী (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তিনি দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হন।

হাদিসে এসেছে, “আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুমিন ব্যক্তি যে তাঁর নবীর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। তারপর নবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান এনেছেন। তাঁর জন্য দিগুণ সওয়াব আছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০১১)

কারণ তিনি প্রথমত তাঁর নিজের নবীর ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং দ্বিতীয়ত শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ঈমান এনেছেন।

৫. সত্য সন্ধানী বিচারক বা মুজতাহিদ

বিচারক বা আলেম যখন কোনো জটিল বিষয়ে সঠিক সমাধান বের করার জন্য ‘ইজতিহাদ’ বা গভীর গবেষণা করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তিনি দুটি সওয়াব পান। একটি তাঁর গবেষণার কষ্টের জন্য, অন্যটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো বিচারক ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার। আর যদি কোনো বিচারক ইজতিহাদে ভুল করেন তাঁর জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫৫২)

৬. নবীপত্নী ও নেককার নারীদের বিশেষ মর্যাদা

যাঁদের আল্লাহ সমাজে উচ্চ মর্যাদা বা দ্বিনি জিম্মাদারি দিয়েছেন, তাঁদের সওয়াবও আল্লাহ বাড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রীদের উদ্দেশ করে কোরআনে ইরশাদ করেন,

“আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি অনুগত থাকবে এবং নেক আমল করবে, আমি তাকে তার প্রতিদান বা সওয়াব দুবার দেব।” (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩১)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে দ্বীনের পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী নারীদের আল্লাহ বিশেষভাবে সম্মানিত করবেন।

৭. ভালো কাজের সূচনা করা

সওয়াব শুধু দ্বিগুণ নয়, বরং তা হাজার গুণ বা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকার একটি চমৎকার উপায় হলো কোনো ভালো কাজের সূচনা করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো প্রথা বা রীতির প্রচলন ঘটাবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে, তাদের সওয়াবও সে পাবে; অথচ তাদের সওয়াব থেকে কোনো কিছুই কমানো হবে না।” (সহিহ মুসলিম, হদিস : ১০১৭)

অর্থাৎ কেউ যদি কোনো দ্বিনি প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার বা জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু করে যান, তবে অন্যরা আমল করার কারণে সেই সওয়াবও তাঁর আমলনামায় যোগ হতে থাকবে। এটি আল্লাহর এক বিশাল রহমত।


কেন এই দ্বিগুণ প্রতিদান?

আমরা লক্ষ করলে দেখব, উপরোল্লিখিত প্রতিটি আমলের সঙ্গে অতিরিক্ত কষ্ট বা দ্বিমুখী দায়িত্ব জড়িত। আত্মীয়কে দান করতে গেলে মনের সংকীর্ণতা দূর করতে হয়। কষ্ট করে কোরআন পড়তে গেলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। চাকরি ও ইবাদত একসঙ্গে চালাতে গেলে সময়ের কোরবানি দিতে হয়।

আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচারক। তিনি বান্দার এই অতিরিক্ত কষ্টটুকু বিফলে যেতে দেন না। তাই তিনি তাঁর বিশেষ রহমতে এদের সওয়াব দ্বিগুণ করে দেন।

আজ ইসির বৈঠকে তফসিল চূড়ান্তের সম্ভাবনা: ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সংশয়

এইসময় ডেস্ক:

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জটিলতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আজ তফসিল নির্ধারণে বৈঠকে বসছে, সম্ভবত আজই চূড়ান্ত হবে ভোটের তারিখ। তবে রাজনৈতিক মহলে শঙ্কা—উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে কিছু মহল নির্বাচন পেছানো বা বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে গণভোট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বারবার বলেছেন যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকারের পরামর্শক পরিমণ্ডলের একটি অংশ এতে অনাগ্রহী বলে একাধিক সূত্রের দাবি। প্রথমবার ক্ষমতার সুযোগ পাওয়া কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান বলেও মত রয়েছে বিশ্লেষকদের।

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত নিয়ে গণভোট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। “সহজ প্রশ্ন–কঠিন উত্তর”—এ ধরনের প্রশ্নে তৃণমূল জনগণ কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতিতে গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনমনে পৌঁছে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দল, সরকার বা ইসির পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে দৃশ্যমান প্রচার-প্রসার বা প্রস্তুতি নেই।

এরই মধ্যে কয়েকটি দল গণভোটে ‘ইতিবাচক রায়’ মিলবে কি না, সে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, গণভোটকে কেন্দ্র করেই কিছু মহল নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উন্নত চিকিৎসায় দ্রুত লন্ডনে নেওয়া হতে পারে তাঁকে। এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে নতুন একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে, একই দিনে আদালতেও এ নিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এমন সময়ে বিএনপি ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যা বিএনপির সমমনা জোটগুলোর মধ্যে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের বক্তব্য, আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সময় পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

দেশি-বিদেশি প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও শক্তির লড়াই দেখা যায়। দেশি-বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা যেমন থাকে, তেমনি সরকারের ভেতরেও একাধিক পাসপোর্টধারী কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ অভিযোগ তুললেও এখনো নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি এবং সম্ভাব্য সংকট

১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেন—জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট একই দিনে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু যদি তিনি নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।