আজকের সময়ের সেরা খবর
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৪৮ ঘণ্টায় ৭৬ ঘটনা: কঠোর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরের

এইসময় ডেস্ক:

নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচন শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়নি—এমন সতর্ক উচ্চারণ করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকেই দেশের সব জেলাকে বিশেষ মনিটরিংয়ে রাখা হয়। কয়েক দফায় পুলিশ সুপারদের সতর্ক করেছেন খোদ বাংলাদেশ পুলিশ-এর মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। ভোটগ্রহণ শেষে সম্ভাব্য সহিংসতা, প্রতিহিংসামূলক হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪৮ ঘণ্টায় ৭৬টি সহিংসতা, আহত ৮৩

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের পর ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ৭৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৬টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, টঙ্গী, কুষ্টিয়া, ফেনী, যশোর, মাদারীপুর ও বাগেরহাটে অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায়। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ওসমান সরদার (২৯) নামে বিএনপির এক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের সমর্থক ছিলেন।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণ

পুলিশের বিশ্লেষণে দেখা গেছে—

  • বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্ট ৩০টি ঘটনায় আহত ৩০ জন
  • বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৬টি ঘটনায় আহত ৬ জন
  • বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংঘাতে ১২টি ঘটনায় আহত ২০ জন
  • আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ঘিরে ৪টি ঘটনায় আহত ১০ জন
  • অন্যান্য ১১টি ঘটনায় আহত ১৭ জন
  • বিচ্ছিন্ন আরও ২টি ঘটনার তথ্য রয়েছে

কঠোর নজরদারির নির্দেশ

এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইজিপি বলেন, ফল ঘোষণার পর যেন কোথাও অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা উসকানিমূলক প্রচারের বিরুদ্ধেও তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, সদর দপ্তর থেকে কেবল ভোটের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা ছিল এবং সেটি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় অপারেশন শাখা থেকে জেলার পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ প্যাট্রল কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

বাড়তি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি

পুলিশ সদর দপ্তর জেলা পুলিশ সুপারদের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার, উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যেকোনো নাশকতার তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছোটখাটো বিরোধ বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি থানাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রেখে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক ব্রিফিংয়ে আইজিপি বলেন, “জনগণের জানমাল রক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”

১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএনপি সরকার গঠন করবে: মির্জা ফখরুল

এই সময় ডেস্ক:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির (রবিবার) মধ্যেই সরকার গঠন করবে বিএনপি।

শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে ফ্যাসিস্ট শাসন চলেছে। যখন গণতন্ত্রকে দমিয়ে রাখা হয় এবং জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে—দেশে বর্তমানে সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে উগ্রবাদী দল আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। তার দাবি, দমন-পীড়নমূলক শাসন ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়ার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে বর্তমান শাসকদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মধ্য দিয়ে সব অপপ্রবণতাকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভোটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নামছেন ১,০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

এইসময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে দায়িত্ব পালনের জন্য ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকির পাশাপাশি তাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিশেষ করে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্সকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন এবং ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ে যোগদান করবেন। দায়িত্ব পালনের আগে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯–এর ধারা ৫ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা বহাল রাখবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করবেন। পাশাপাশি প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

পোস্টার বিহীন ডিজিটাল প্রচারণায় সংসদ নির্বাচন

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১৬ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এবার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার নেই, নেই মাইকের গগনভেদী শব্দ। বদলে গেছে প্রচারের চেহারা। পোস্টার ও মাইকের জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। মাঠের চেয়ে বড় লড়াই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী গান, শর্ট ভিডিও ও গ্রাফিক কনটেন্ট। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, স্লোগান আর বক্তব্যে ভরে উঠেছে নিউজফিড। তবে এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া বক্তব্য, বিকৃত ভিডিও ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্টও ছড়াচ্ছে দ্রুত, যা বাড়িয়ে তুলছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নির্বাচনী পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করতেই এসব কনটেন্ট বেশি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকেই ডিজিটাল প্রচারের জন্য আলাদা টিম গঠন করেছেন। ফেসবুক বুস্টিং, ইউটিউব বিজ্ঞাপন ও টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ে ঢালা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা আমাদের সময়কে বলেন, ডিজিটাল প্রচারণা দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে সামাজিক মাধ্যম এখন ভোটের প্রচারে এক ধরনের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ভেরিফায়েড অ্যাড লাইব্রেরি, রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুয়া কনটেন্ট দ্রুত টেকডাউন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, এআই ও ডিপফেক শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর ডিটেকশন টুল, ওয়াটারমার্কিং ও সোর্স অথেনটিকেশন কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত ফ্যাক্ট-চেকিং ও আইনি জবাবদিহিও নিশ্চিত করা দরকার।

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে তৈরি ভিডিওগুলোতে আবেগ, ট্রেন্ডিং মিউজিক ও নাটকীয় উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রচারণাতেও তরুণদের আকৃষ্ট করতে ট্রেন্ডিং মিউজিক ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনী গানকে কেন্দ্র করে নাচ ও অঙ্গভঙ্গিসহ তৈরি হচ্ছে টিকটক ভিডিও, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ছে।

ফার্মগেটের ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেন বলেন, ফেসবুক খুললেই নির্বাচনী গান আর প্রচার চোখে পড়ে। তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করেই এসব করা হচ্ছে। চোখের সামনে বারবার একজন প্রার্থীর প্রচার এলে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে সত্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। এতে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়াচ্ছে, বাড়ছে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামাজিক বিভাজন।

সামাজিক মাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী নির্বাচনী প্রচারে পারস্পরিক বিদ্বেষকে অস্বস্তিকর বলছেন। ঢাকার বাড্ডার স্কুলশিক্ষক আব্দুল গফুর খান আমাদের সময়কে বলেন, ফেসবুক খুললেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণ দেখা যায়। সম্প্রতি ভোট চাইতে যাওয়া এক নারীকে ভয়ংকর হুমকি দেওয়ার ভিডিও দেখে মন খারাপ হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমকে অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্র মনে হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তরুণ ভোটাররা। টিকটক, রিলস ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে তরুণদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় দলগুলো সেখানেই সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। সহজ ভাষা, স্লোগানধর্মী বার্তা ও আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়ালে তরুণদের আবেগে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, আগে রাজনীতি ছিল হাটে-মাঠে-ঘাটে। এখন রাজনীতি বেশি দেখি নিউজফিডে। কে কী বলছে, যাচাই করার সুযোগ অনেক সময় থাকে না।

সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিজের মতের সঙ্গে মিললেই মানুষ যাচাই না করে ভিডিও ও ছবি শেয়ার করছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ভাইরাল হয়, যা ফ্যাক্ট চেকে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

দেশে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে তাদের থিম সং, গান ও ভিডিও প্রচার করছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আসনের ভোটারদের লক্ষ্য করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আলাদা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিও বা ভুয়া অডিও সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশে এ ধরনের অপপ্রচার ঠেকাতে নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তারা জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ফ্যাক্ট-চেকিং ফ্রেমওয়ার্ক, সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, এআই ব্যবহার করে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা মোকাবিলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ জানায়, ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে একটি টিম সার্বক্ষণিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠের প্রচারণার গুরুত্ব এখনও কমেনি। যারা মাঠ ও অনলাইন—দুই জায়গাতেই ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবে।

শাহজালাল-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন

এই সময় ডেস্ক:

আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিলেট সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন।

শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিন ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ভোটের প্রচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ জানুয়ারি থেকে আমাদের সব ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।

তবে নির্বাচনী প্রচারের কৌশল ও কর্মসূচির বিস্তারিত তিনি এ সময় জানাননি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে সব দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা। এর অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করবেন।

জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তিনি মৌলভীবাজারে একটি জনসভায় যোগ দেবেন এবং শ্রীমঙ্গলে একটি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবেই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করে থাকে।

এর আগে শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই বৈঠকে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, উত্তরবঙ্গ সফর সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।

গণভোট ও সংসদ নির্বাচন: পরিবেশবান্ধব ব্যানার, কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রার্থী নাম বিষয়ে ইসির নতুন নির্দেশনা

এইসময় ডেস্ক:

আগামী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, একই নামের প্রার্থী শনাক্তকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

পরিবেশবান্ধব ব্যানার বাধ্যতামূলক

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এবার নির্দিষ্ট মানদণ্ডে ডিজিটাল প্রিন্ট ব্যানার তৈরি করতে হবে। ব্যানারে ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক কটন ও ২০ শতাংশ ভিসকস-মিশ্রিত পরিবেশবান্ধব ফেব্রিক ব্যবহার করতে হবে।
ব্যানারের আকার হবে দৈর্ঘ্যে ৩ ফুট ও প্রস্থে ৫ ফুট। রিঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রিন্টে তৈরি ব্যানারের সর্বোচ্চ মূল্য (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৬ টাকা। ব্যানারের ওপর ও নিচে পিভিসি পাইপ এবং ঝোলানোর হুক থাকতে হবে।

প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে কড়াকড়ি

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে নতুন নির্দেশনায় ইসি জানিয়েছে, কোনো উপজেলায় কর্মকর্তা সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিসাইডিং অফিসারকে ঢালাওভাবে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
ইসি জানায়, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা না পাওয়া গেলেই কেবল পাশের বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ কার্যকর হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্যানেল গঠনের ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই নামের একাধিক প্রার্থী হলে পরিচয় স্পষ্ট করা হবে

একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম হুবহু হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর নামের সঙ্গে তাঁর বাবা, মা অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে ব্যালট পেপার ও প্রার্থী তালিকায় পার্থক্য করা হবে।
ইসি জানায়, প্রয়োজনে প্রতীকের ক্রমানুসারেও প্রার্থীদের নাম সাজানো হবে। ব্যালট পেপার ছাপানো ও সঠিক প্রার্থী শনাক্তকরণে জটিলতা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলবে ডিসির তত্ত্বাবধানে

নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে জনস্বার্থে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে এগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
কর্মসূচি দুটি হলো ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি)। নির্বাচনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এসব প্রকল্প পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন নিরপেক্ষ রাখতে যেমন কড়াকড়ি প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ মানুষের সামাজিক সেবা যাতে ব্যাহত না হয়—সে বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের

এই সময় ডেস্ক:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, জাতি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে— যে অধিকার স্বৈরাচারী সরকার কেড়ে নিয়েছিল।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনায় বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্ক আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং তরুণ রাজনৈতিক কর্মী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

এ সময় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অধ্যাপক ইউনূসকে অভিনন্দন জানান। আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বৃহৎ জানাজা নিয়েও আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে এবং তাদের পলাতক নেতারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের হাতে প্রায় ৫০ দিন সময় রয়েছে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। আমরা এটিকে একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচনে রূপ দিতে চাই।”

টেলিফোনালাপে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ।

সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে ওসমান হাদি

এইসময় ডেস্ক:

সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এক বিবৃতিতে ওসমান হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখা মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ তায়ালা শহীদের মর্যাদা দান করুন।’

এদিকে, ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমাদের ভাই হাদি অনন্ত যাত্রায় পাড়ি জমিয়েছেন। আবরার ও আবু সাঈদদের মতো হাদি না থেকেও আরও শক্তভাবে থাকবেন বাংলাদেশের বুকে। ইউ ফেইলড টু কিল ওসমান হাদি!’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করেন।

পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

এইসময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিকদের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের গৃহীত হালনাগাদ প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়। বিভিন্ন দেশকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণও জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ব্রিফিংয়ে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের পরামর্শ অগ্রহণযোগ্য: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

এইসময় ডেস্ক:
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের কোনো পরামর্শ ঢাকা প্রত্যাশা করে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে—এ বিষয়ে প্রতিবেশী কোনো দেশের পরামর্শ আমরা চাই না।”

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাধিক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সময় ভারত নীরব ভূমিকা পালন করেছে। অথচ এখন, যখন বাংলাদেশ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন হঠাৎ করে পরামর্শ আসছে—যা তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা প্রয়োজনীয় মনে করে না। “এখন আমরা একটি ভালো নির্বাচনের পথে রয়েছি। এই সময়ে হঠাৎ করে পরামর্শ দেওয়া যুক্তিসংগত নয়,” বলেন তিনি।

তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার করে আসছে, যেখানে নাগরিকরা মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন—যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ধরে অনুপস্থিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় ভারত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা ব্যাপক সমালোচনার বিষয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”