আজকের সময়ের সেরা খবর
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৪৮ ঘণ্টায় ৭৬ ঘটনা: কঠোর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরের

এইসময় ডেস্ক:

নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচন শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়নি—এমন সতর্ক উচ্চারণ করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকেই দেশের সব জেলাকে বিশেষ মনিটরিংয়ে রাখা হয়। কয়েক দফায় পুলিশ সুপারদের সতর্ক করেছেন খোদ বাংলাদেশ পুলিশ-এর মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। ভোটগ্রহণ শেষে সম্ভাব্য সহিংসতা, প্রতিহিংসামূলক হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪৮ ঘণ্টায় ৭৬টি সহিংসতা, আহত ৮৩

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের পর ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ৭৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৬টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, টঙ্গী, কুষ্টিয়া, ফেনী, যশোর, মাদারীপুর ও বাগেরহাটে অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায়। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ওসমান সরদার (২৯) নামে বিএনপির এক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের সমর্থক ছিলেন।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণ

পুলিশের বিশ্লেষণে দেখা গেছে—

  • বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্ট ৩০টি ঘটনায় আহত ৩০ জন
  • বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৬টি ঘটনায় আহত ৬ জন
  • বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংঘাতে ১২টি ঘটনায় আহত ২০ জন
  • আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ঘিরে ৪টি ঘটনায় আহত ১০ জন
  • অন্যান্য ১১টি ঘটনায় আহত ১৭ জন
  • বিচ্ছিন্ন আরও ২টি ঘটনার তথ্য রয়েছে

কঠোর নজরদারির নির্দেশ

এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইজিপি বলেন, ফল ঘোষণার পর যেন কোথাও অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা উসকানিমূলক প্রচারের বিরুদ্ধেও তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, সদর দপ্তর থেকে কেবল ভোটের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা ছিল এবং সেটি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় অপারেশন শাখা থেকে জেলার পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ প্যাট্রল কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

বাড়তি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি

পুলিশ সদর দপ্তর জেলা পুলিশ সুপারদের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার, উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যেকোনো নাশকতার তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছোটখাটো বিরোধ বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি থানাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রেখে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক ব্রিফিংয়ে আইজিপি বলেন, “জনগণের জানমাল রক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”