আজকের সময়ের সেরা খবর
বাসিয়া নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর সদরে প্রবাহিত বাসিয়া নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক মহলেও প্রতিবাদ চলছিল। এরই প্রেক্ষাপটে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

নদীর দক্ষিণ পাড়ের টিএনটি রোড এলাকায় সম্প্রতি টিনসেডের দুটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীর দখল করে এমন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজী গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুল ইসলাম (৬৫) এবং পৌরসভার মুফতিরগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া (৬০) পৃথকভাবে এই দুটি টিনসেডের দোকানঘর নির্মাণ করেন। তবে দখল করে নির্মিত স্থাপনা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারেননি তারা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত দুটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং দখলকৃত জায়গা মুক্ত করা হয়।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদীর তীর বা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বাসিয়া নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রভাব বা পরিচয়ের জোরে সরকারি সম্পত্তি দখল করতে পারবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে বাসিয়া নদী তার আগের রূপ ও প্রবাহ ফিরে পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বনাথের উন্নয়নে নতুন বার্তা, মেয়র প্রার্থী হতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ আবুল কালাম

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজনীতিক শাহ আবুল কালাম। তিনি সদ্য বিলুপ্ত যুক্তরাজ্যের ওল্ডহ্যাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

শৈশব থেকেই পারিবারিকভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। বাবার হাত ধরেই সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে নিয়মিতভাবে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার বিষয়টিকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন।

বিশ্বনাথ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মসুলা (জানাইয়া) গ্রামের কৃতি সন্তান শাহ আবুল কালাম শাহ হাজী জামশেদ আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি শাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু দুর্যোগকালেই নয়, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং অসহায়দের নানামুখী সহযোগিতায় নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশে অবস্থানকালে তিনি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনসচেতনতা ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ সোসাইটি ইউকের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে ও প্রবাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে প্রবাসে অবস্থান করেও মোবাইল ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রবাসে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশ ও কমিউনিটি কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে সক্রিয় সম্পৃক্ততার কারণে দেশে ও বিদেশে বাঙালি সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে শক্ত অবস্থান তৈরি করায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে শাহ আবুল কালাম বলেন, “বিশ্বনাথ পৌরবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুপ্রেরণায় আমি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আমার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতাভিত্তিক একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”

বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা

দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে ছাড় নয়: এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, নিখোঁজ সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলী-এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না। দখলদারি, চাঁদাবাজি কিংবা মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা দলের কেউ হতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। দলীয় পদ-পদবী দেখিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ পাবে না। আইন মানতে হবে, আইনকে সম্মান করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে অনিয়ম করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এমপি লুনা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অত্যাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশ উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। এখন আর কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাই জনগণ যেন হয়রানির শিকার না হয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীরা দেশে এসে যেন কোনো ধরনের ঝামেলা বা দৌড়ঝাঁপ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস শহিদ এবং থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও মতামত তুলে ধরেন।

সভার শুরুতে নবনির্বাচিত এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় প্রশাসন। পরে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খননের বিকল্প নেই: তাহসিনা রুশদী লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও নিখোঁজ সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী-এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের রাজার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই মহৎ উদ্যোগ থেমে যায়। খাল-নদী ভরাট ও দখলের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়েছে। এতে কৃষি ও পরিবেশ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাল পুনঃখনন করা হলে সারা বছর পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষক তার উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবে।

লুনা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খননকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটি কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর উদ্যোগ। খাল বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের সম্পদ। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই এগিয়ে এলে একটি অঞ্চল বদলে দেওয়া সম্ভব।

ইলিয়াসপত্নী লুনা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে এম. ইলিয়াস আলীকে ভোট দিয়ে মানুষ উন্নয়নের সুফল পেয়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও শান্তির জনপদে রূপান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম রুবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএডিসি সেচ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া এবং দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সেচ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, শপথ ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

:
সিলেটের বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সংগঠন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব-এর নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে দুইটি অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়েরের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেলের পরিচালনায় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় বিদায়ী আহ্বায়ক নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথে পেশাগত নৈতিকতা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে নবগঠিত কমিটির সভাপতি এম আর টুনু তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং গণমানুষের কথা নির্ভয়ে প্রকাশ করাই একজন সাংবাদিকের প্রধান কর্তব্য। সংগঠনের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন বিদায়ী আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি রোহেল উদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল হোসেন মুন্না, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং নির্বাহী সদস্য মোশাহিদ আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনসার-ভিডিপি, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র বিশ্বনাথ জোনাল অফিস, বিশ্বনাথ পিএফজি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি-এর সভাপতিত্বে এবং প্রকৌশলী আবু সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করে। বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, থানার অফিসার ইন-চার্জ গাজী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবসহ অন্যান্য বক্তারা ভাষা শহীদদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু একটি ভাষার প্রশ্ন ছিল না, এটি ছিল আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। বর্তমান প্রজন্মকে ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে ভাষার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগেও পৃথকভাবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সার্বিকভাবে, বিশ্বনাথে পালিত শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ছিল শ্রদ্ধা, চেতনা ও অঙ্গীকারের এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই ছিল দিনের মূল বার্তা।

মহান শহিদ দিবসে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রী কলেজে ব্যাপক কর্মসূচি

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

গভীর শ্রদ্ধা, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রী কলেজ। দিবসটি উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা, সাহস এবং আত্মপরিচয়ের প্রতীক। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরস্ত্র ছাত্রদের আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করতে। ভাষার প্রশ্নে আপস না করার যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি, সেটিই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা, সৃজনশীল ব্যবহার এবং গবেষণাভিত্তিক অধ্যয়নের মাধ্যমে ভাষাকে সমৃদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

ইংরেজি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বৈশ্বিক স্বীকৃত একটি দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে নিজের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। বিশ্বায়নের এই যুগে বহুভাষা শেখা প্রয়োজন, তবে নিজের ভাষার মর্যাদা ও শুদ্ধতা রক্ষা করা আরও বেশি জরুরি।

সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুনিম পারভেজ বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার চেতনার বিকাশ ঘটেছে। তিনি বলেন, ইতিহাস শুধু জানার বিষয় নয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে গড়ে তোলার বিষয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে জাতির উন্নয়নে অবদান রাখে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন মোস্তফা কামাল ও খায়ের আহমদ। তারা বলেন, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতিসত্তার ভিত মজবুত করেছে। আজ প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা তরুণ প্রজন্মকে ভাষার বিকাশে সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক আমিনুল হক, হিসাবরক্ষক আব্দুস সালাম, আশিকুর রহমান, ফখরুজ্জামান খান, জুয়েল আহমদ, রুবেল আহমদ, নন্দগোপাল দেবসহ কলেজের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।

সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশিত হয়। আবৃত্তিতে উঠে আসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আর সংগীতে ধ্বনিত হয় দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদার বার্তা। উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বক্তারা ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, একুশের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন করে তোলার মধ্য দিয়েই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

সার্বিকভাবে, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথ কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্থম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে দিবসের সূচনালগ্নে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নীরবতা পালন করেন এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি এমআর টুনু তালুকদার, সহসভাপতি রুহেল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, যুগ্ম সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন, কার্যকরী সদস্য আক্তার আহমদ সাহেদ ও মোসাহিদ আলী।

এসময় ক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই ছিল না, এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে।

এসময় তারা, সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া। মহান শহীদ দিবসের চেতনা ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাহে রমজান উপলক্ষে বিশ্বনাথে ছয় শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ‘আলহাজ্ব হুশিয়ার আলী, জমিলা বিবি এবং ছুরাব আলী (মহাজন বাড়ি) অরফান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে এলাকার ছয় শতাধিক গরিব ও অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের শরিষপুর (মিরেরচর-২) গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাহাব উদ্দিনের বাড়িতে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, ছানাসহ প্রায় ১৫ কেজি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়, যা রমজান মাসে অসচ্ছল মানুষের খাদ্যসংকট লাঘবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী মাওলানা জাহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক মাওলানা ওমর ফারুক বিপ্লবীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার এসআই অনিক বড়ুয়া, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মছন্দর আলী, সংগঠক হাজী আরশ আলী রেজা, আব্দুল ওয়াহিদ, বাবুল ইসলাম, সিকন্দর আলী ও মাওলানা ফখরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ তাজ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্যে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সাহাব উদ্দিন বলেন, মাহে রমজানের শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, ত্যাগ ও মানবিকতার চর্চা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শেষে শরিষপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফয়ছল আহমদের পরিচালনায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসী ব্যক্তিদের এমন উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বনাথে ছাত্রনেতা ফাহিম আহমদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদের যুক্তরাষ্ট্র গমন উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা–পৌর যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি এম. আসকির আলী বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে দল ও দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জনতার নেতা এম. ইলিয়াস আলী তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আপস না করায় গণআন্দোলনের বিজয় সুসংহত হয় এবং পরবর্তীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়। দল ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি গুমের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনার নেতৃত্বে সিলেট-২ আসনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফাহিম নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দীর্ঘদিন ছাত্রদলের নেতৃত্বে থেকে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পারিবারিক প্রয়োজনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলেও তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন লামাকাজী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মামুন।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেলের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব গৌছ খান, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বশির আহমদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা শাহবাজ আহমদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানিমুল ইসলাম তানিম ও ইতালি প্রবাসী শেখ শাহজাহান।

এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামছুল ইসলাম, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কয়েছ আহমদ সবুজ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বকুল, সাবেক সদস্য সচিব এ কে রাজু, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ টিপু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দিন সামি, মামুন আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, দেওকলস ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাবের আহমদ, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, দৌলতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, অংলকারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল ইসলাম, দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি আলী আহমদ, খাজাঞ্চি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং এমসি কলেজ ছাত্রদল নেতা তারেক আহমদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ছাত্রনেতা ফাহিম আহমদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের বাইরে থেকেও সংগঠন ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।