আজকের সময়ের সেরা খবর
বাসিয়া নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর সদরে প্রবাহিত বাসিয়া নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক মহলেও প্রতিবাদ চলছিল। এরই প্রেক্ষাপটে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

নদীর দক্ষিণ পাড়ের টিএনটি রোড এলাকায় সম্প্রতি টিনসেডের দুটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীর দখল করে এমন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজী গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুল ইসলাম (৬৫) এবং পৌরসভার মুফতিরগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া (৬০) পৃথকভাবে এই দুটি টিনসেডের দোকানঘর নির্মাণ করেন। তবে দখল করে নির্মিত স্থাপনা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারেননি তারা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত দুটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং দখলকৃত জায়গা মুক্ত করা হয়।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদীর তীর বা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বাসিয়া নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রভাব বা পরিচয়ের জোরে সরকারি সম্পত্তি দখল করতে পারবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে বাসিয়া নদী তার আগের রূপ ও প্রবাহ ফিরে পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের দাবি হামলায় ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত

এইসময় ডেস্ক:

আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, এখন পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, সীমান্তে সামরিক অভিযানে তালেবানের ৭৪টি চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১৮টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, পাকিস্তানের হামলা ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ হিসাবে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং দুটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

সীমান্তের এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বিপরীতমুখী তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে এখনো হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, টানা উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বনাথের উন্নয়নে নতুন বার্তা, মেয়র প্রার্থী হতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ আবুল কালাম

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজনীতিক শাহ আবুল কালাম। তিনি সদ্য বিলুপ্ত যুক্তরাজ্যের ওল্ডহ্যাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

শৈশব থেকেই পারিবারিকভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। বাবার হাত ধরেই সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে নিয়মিতভাবে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার বিষয়টিকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন।

বিশ্বনাথ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মসুলা (জানাইয়া) গ্রামের কৃতি সন্তান শাহ আবুল কালাম শাহ হাজী জামশেদ আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি শাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু দুর্যোগকালেই নয়, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং অসহায়দের নানামুখী সহযোগিতায় নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশে অবস্থানকালে তিনি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনসচেতনতা ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ সোসাইটি ইউকের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে ও প্রবাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে প্রবাসে অবস্থান করেও মোবাইল ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রবাসে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশ ও কমিউনিটি কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে সক্রিয় সম্পৃক্ততার কারণে দেশে ও বিদেশে বাঙালি সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে শক্ত অবস্থান তৈরি করায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে শাহ আবুল কালাম বলেন, “বিশ্বনাথ পৌরবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুপ্রেরণায় আমি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আমার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতাভিত্তিক একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”