আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনসার-ভিডিপি, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র বিশ্বনাথ জোনাল অফিস, বিশ্বনাথ পিএফজি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি-এর সভাপতিত্বে এবং প্রকৌশলী আবু সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করে। বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, থানার অফিসার ইন-চার্জ গাজী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবসহ অন্যান্য বক্তারা ভাষা শহীদদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু একটি ভাষার প্রশ্ন ছিল না, এটি ছিল আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। বর্তমান প্রজন্মকে ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে ভাষার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগেও পৃথকভাবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সার্বিকভাবে, বিশ্বনাথে পালিত শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ছিল শ্রদ্ধা, চেতনা ও অঙ্গীকারের এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই ছিল দিনের মূল বার্তা।

মাতৃভাষা দিবসে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য ইকবাল হাসান টুকুর

এইসময় ডেস্ক:

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও জাতীয় চেতনা নিয়ে সরব মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে ধারণ করতে হলে এবং একে সত্যিকার অর্থে মাতৃভাষা হিসেবে মর্যাদা দিতে হলে ভাষার ক্ষেত্রে আপস করা যাবে না।

তিনি বলেন, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না। এই শব্দ ও স্লোগানগুলোর সঙ্গে বাংলার আত্মিক সম্পর্ক নেই। ‘ইনকিলাব’ অন্য ভাষার শব্দ, যে শক্তি একসময় আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আজ সেটাই আমাদের তরুণদের মুখের ভাষা হয়ে গেছে। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা।”

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সমাজ বদলানোর জন্য। এখন দেখছি সমাজ উল্টো পথে হাঁটছে,” বলেন তিনি।

নিজের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন টুকু। তিনি বলেন, “এ কথা বললে আমাকে ভারতের দালাল বলা হতে পারে। তবুও বলব। কারণ আদর্শের জায়গা থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি, সেই বিশ্বাস থেকেই আজও কথা বলি।”

বক্তব্যে তিনি উপনিবেশিক শাসনের প্রভাবের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, ব্রিটিশ শাসন এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ভাষা ও সাংস্কৃতিক দমননীতি থেকেই প্রতিরোধের বীজ রোপিত হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে।

তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভাষা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে সচেতন না হলে চরমপন্থী প্রবণতা সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। “নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ শক্তভাবে গড়ে ওঠেনি,” মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, “নিজের ভাষা ও নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদের দায়িত্ব নেবে না।”

১২ মার্চের মধ্যে বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এ অধিবেশনের মাধ্যমে।

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশসমূহ এ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংসদের রীতিনীতি অনুসারে শোক প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারম্যান। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির।

রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন অধিবেশনেই নতুন সংসদের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন

.বাহরাইন প্রতিনিধি:

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে দূতাবাস প্রাঙ্গণে কর্মসূচির সূচনা হয়।

দিবসের শুরুতেই বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। বাণীসমূহ পাঠ করেন প্রথম সচিব (ভিসা ও পাসপোর্ট) ইলিয়াসুর রহমান, প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মাহফুজুর রহমান, প্রথম সচিব (ভিসা ও পাসপোর্ট) মোহাম্মদ সোহাগ হোসেন এবং তৃতীয় সচিব মামুনুর রশীদ তালুকদার।

রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই সংগ্রাম কেবল ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল জাতির আত্মমর্যাদা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শোয়েব হোসেন। ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের অব্যাহত অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দূতাবাসের আইন সহকারী ড. নাজমুল হাসান।

এ সময় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কবিতা আবৃত্তি করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বাংলাদেশ স্কুল বাহরাইন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিকভাবে, প্রবাসের মাটিতে ভাষা শহিদদের স্মরণে আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশপ্রেম, ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও জাতীয় চেতনা আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেন।

মহান শহিদ দিবসে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রী কলেজে ব্যাপক কর্মসূচি

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

গভীর শ্রদ্ধা, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রী কলেজ। দিবসটি উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা, সাহস এবং আত্মপরিচয়ের প্রতীক। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরস্ত্র ছাত্রদের আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করতে। ভাষার প্রশ্নে আপস না করার যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি, সেটিই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা, সৃজনশীল ব্যবহার এবং গবেষণাভিত্তিক অধ্যয়নের মাধ্যমে ভাষাকে সমৃদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

ইংরেজি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বৈশ্বিক স্বীকৃত একটি দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে নিজের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। বিশ্বায়নের এই যুগে বহুভাষা শেখা প্রয়োজন, তবে নিজের ভাষার মর্যাদা ও শুদ্ধতা রক্ষা করা আরও বেশি জরুরি।

সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুনিম পারভেজ বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার চেতনার বিকাশ ঘটেছে। তিনি বলেন, ইতিহাস শুধু জানার বিষয় নয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে গড়ে তোলার বিষয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে জাতির উন্নয়নে অবদান রাখে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন মোস্তফা কামাল ও খায়ের আহমদ। তারা বলেন, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতিসত্তার ভিত মজবুত করেছে। আজ প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা তরুণ প্রজন্মকে ভাষার বিকাশে সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক আমিনুল হক, হিসাবরক্ষক আব্দুস সালাম, আশিকুর রহমান, ফখরুজ্জামান খান, জুয়েল আহমদ, রুবেল আহমদ, নন্দগোপাল দেবসহ কলেজের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।

সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশিত হয়। আবৃত্তিতে উঠে আসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আর সংগীতে ধ্বনিত হয় দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদার বার্তা। উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বক্তারা ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, একুশের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন করে তোলার মধ্য দিয়েই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

সার্বিকভাবে, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।