আজকের সময়ের সেরা খবর
হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে কঠোর বার্তা, বাসিয়া নদী দখলমুক্ত করার ঘোষণা

বিশ্বনাথে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বনাথ পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় তিনি পৌরসভার উন্নয়ন, রাজস্ব আদায়, হোল্ডিং ট্যাক্স ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পৌর প্রশাসক বলেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার আয়তন বড় হলেও আয় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় পৌর এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে যেসব হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বকেয়াদারদের মার্কেট, বিল্ডিং বা বাড়িতে বকেয়ার তালিকা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপনসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে পাঁচ বছরের জন্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ছিল অপরিকল্পিত। কোথাও অতিরিক্ত, কোথাও কম, আবার কোথাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে ট্যাক্স প্রদানে অনীহা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকায় আনুমানিক মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। বড় একটি অংশ বকেয়ার তালিকায় রয়েছে এবং অনেক ভবন এখনও হোল্ডিংয়ের আওতার বাইরে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাসিয়া নদী প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক জানান, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে নদীর তীরে পাকা স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণ করা হবে। চলমান মামলা ও রিট নিষ্পত্তি হলেই বাসিয়া নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর পাশাপাশি বাসিয়া নদীর উৎসমুখ পুনঃখননের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ চাইলে অগ্রিম হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কেটের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে ভাড়াটে দোকান মালিকরা সচেতন হলে ট্রেড লাইসেন্স নিতে গিয়ে কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রদান বিষয়ে তিনি জানান, আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেবার স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রকৌশলী উদ্দিন আহমদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবাযের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ জামাল মিয়া, সদস্য আহমদ আলী হিরণ, সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের শিক্ষানবিশ সদস্য আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জামিন পেলেন সেই নেতা

এইসময় ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন।

রবিবার সকালে তাকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালতে তোলা হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর এলাকা থেকে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।

রাতভর থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা মাহদী হাসানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে রাতেই আদালত বসিয়ে তার জামিন শুনানি গ্রহণের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা। তবে রাতে আদালত না বসায় তাদের দাবি পূরণ হয়নি। পরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকে।

আজ সকালে মাহদী হাসানকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানে তার সমর্থক ও সহকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। জামিন পাওয়ার খবরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা দাবি করেন, মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আদালত মামলার নথি ও শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেছেন। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বনাথের গোয়াহরী গ্রামে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বিস্তীর্ণ বড়বিল যেন একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিল শত বছর আগের গ্রামীণ বাংলায়।

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসবকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১লা জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিলপাড়ে জমে ওঠে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই বড়বিলে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব দেখতে ও অংশ নিতে জড়ো হন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়াহরি ও আশপাশের গ্রামের মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েন উৎসবের প্রস্তুতিতে। হাতে হাতে পলো, উড়াল জাল, টেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সবাই একত্রিত হন বড়বিলের পাড়ে। নির্দিষ্ট সংকেতের পর মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। পানির ঢেউ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে বড়বিল যেন প্রাণ ফিরে পায়।

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী মাছ শিকারে ধরা পড়ে নানা প্রজাতির বড় ও ছোট মাছ। কারও পলোতে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির বোয়াল, কারও ঝুড়ি ভরে ওঠে রুই-কাতলা আর ঘনিয়ায়। টেলা ও ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেওয়া সুস্বাদু বাউশ, শোলসহ নানা জাতের দেশি মাছ। মুহূর্তে মুহূর্তে আনন্দধ্বনি, উল্লাস আর হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিলপাড়।

এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে বিলের চারপাশে ভিড় জমান নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। অনেক প্রবাসী পরিবার বিশেষভাবে এই পলো বাওয়া উৎসবকে কেন্দ্র করেই দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দে গোয়াহরি বড়বিল পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।

পলোতে বড় বোয়াল ধরতে পেরে উচ্ছ্বসিত যুবক রাজু আহমদ বলেন, “নিজের হাতে এত বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আজ সবাই মাছ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য দারুণ খুশির দিন।”

উৎসব দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী হাজী মো. তৈমুছ আলী বলেন, “গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে আনন্দের সঙ্গে মাছ ধরতে দেখা—এই দৃশ্য দেখার জন্যই দেশে আসা। বসে বসে পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করছি, মনটা ভরে গেছে।”

প্রবাসী হাজী মো. আবদুল বারী ও শাহনুর হোসাইন ছাদিক বলেন, “এই উৎসব দেখার টানেই আমাদের দেশে ফেরা। গ্রামের মানুষ, ঐতিহ্য আর এই আনন্দ আমাদের কাছে পরমানন্দের মতো।”

আয়োজক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন মেম্বার ও ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমাদের গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে প্রতিবছরই এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করা হয়। এটি শুধু একটি মাছ ধরার আয়োজন নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। যুগ যুগ ধরে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও গর্বের অংশ।”

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিক মিলনে গোয়াহরি বড়বিলের পলো বাওয়া উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে—গ্রামীণ বাংলার প্রাণ এখনও অটুট, এখনও বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ঝাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথে ‘বিশ্বনাথনিউজ বিশ্বনাথ সেরা হাফেজ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল সম্পন্ন

এইসময় ডেস্ক:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘বিশ্বনাথনিউজ বিশ্বনাথ সেরা হাফেজ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৌর শহরের একটি অভিজাত পার্টি সেন্টারে প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

তিন পর্বের বাছাই শেষে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। কুরআন তেলাওয়াত ও হিফজের দক্ষতায় বিচারকদের রায়ে ১ম স্থান অর্জন করেন রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মাওলানা নেছার আহমদের পুত্র হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ান।

২য় স্থান অধিকার করেন খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বন্ধুয়া গ্রামের আব্দুর নূরের পুত্র হাফিজ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং ৩য় স্থান লাভ করেন লামাকাজী ইউনিয়নের সৎপুর গ্রামের সাইফুল আলমের পুত্র হাফিজ আহমদ জামী।

গ্র্যান্ড ফিনালের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা ফারুক মাহদী। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন— প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাকরাম আলী আফরোজ, ফারুক মিয়া, আব্দুল বাছিত রফি, আমিনুর রহমান আমিন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বিচারকদের পক্ষে হাফিজ মাওলানা মোশাহিদ আহমদ এবং বিজয়ী হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ানের পিতা মাওলানা নেছার আহমদ।

প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকারী হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ান পেয়েছেন নগদ ১ লাখ টাকা, ২য় স্থান অধিকারী হাফিজ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা এবং ৩য় স্থান অধিকারী হাফিজ আহমদ জামী পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকাসহ সম্মাননা স্মারক, উপহার ও সার্টিফিকেট।

অনুষ্ঠান চলাকালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, যুক্তরাজ্য মহানগর জমিয়াতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা হোসাইন আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কুরআনভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় রয়েছে।

বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সঙ্গে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মুনতাছির আলীর মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১০ দলীয় জোট থেকে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

এর আগে একইদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন মুনতাছির আলী। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি, জোটের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় মুনতাছির আলী বলেন, ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ৮ দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১০ দলীয় জোটে রূপ নিয়েছে। এ কারণে কিছু আসনে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। সব আসনের বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত খেলাফত মজলিস যে কয়েকটি আসন পেয়েছে, তার মধ্যে সিলেট-২ আসন অন্যতম। এ আসনে তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন, সেখানে সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। এতে করে জোটের প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

নির্বাচনী রাজনীতি প্রসঙ্গে মুনতাছির আলী বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগেই নিজেকে বিজয়ী ভাবা সঠিক নয়; বরং জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের মাধ্যমেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি সুস্থধারার রাজনীতির স্বার্থে সবার জন্য সমান রাজনৈতিক মাঠ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রতিহিংসার স্থান থাকতে পারে না।

মুনতাছির আলী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোট’কে বিজয়ী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট কাজ করছে। জনগণের ভোটে জোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করা হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জনগণের প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১০ দলীয় জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাকে কোনো একক দলের প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং ১০ দলীয় জোটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে আমি শাসক হয়ে নয়, একজন সেবক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাব—এই অঙ্গীকার করছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন, বিশ্বনাথ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, পৌর খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি অধ্যক্ষ গৌছ উদ্দীন, সহসভাপতি মুহাম্মদ ছালিক মিয়া মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত, সহসম্পাদক মুহাম্মদ শরীফ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক আহমদ, অর্থ সম্পাদক এনামুল হক, সংগঠক হাসান আহমদ চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সিলেট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দিচ্ছে না, খেলাফত মজলিসকে সমর্থন

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিচ্ছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দশ দলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে দলটি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-২ আসনটি বিরোধী রাজনীতির একটি আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিএনপির প্রভাব ও ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর লুনা। তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১৭ সালে ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকেই সিলেট-২ আসনটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখনো তার সন্ধান না মেলায় এ আসনটি রাজনৈতিক ও আবেগী গুরুত্ব বহন করছে।

উল্লেখ্য, সিলেট-২ আসন থেকে জামায়াত ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার সিলেটের বাকি পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে তিনিও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পরবর্তীতে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সিলেট-২ আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য আসনগুলোতে ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার ফলে সিলেট-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াতের সমর্থন পাওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক আবেগ ও জনসমর্থনও এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্বনাথে ২৯তম টি-টুয়েন্টিক্রিকেট লীগের ট্রফি উন্মোচন

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২৯তম টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট লীগের ট্রফি উন্মোচন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় পৌরশহরের প্রবাসী চত্ত্বরে এ ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশন। টূর্ণামেন্টের স্পন্সর বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকের সহ সভাপতি রাজু মিয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া। বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি আমির হামজা রুকেল’র সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাব্বির’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য নিউহ্যাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না।
শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ পৌর ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মামুন, রুকন মিয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ইমন, পৌর ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পারভেজ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম মিয়া প্রমুখ।
এসময় এসোসিয়েশনের দায়িত্বশীলদের মাঝে জার্সি উপহার দেন স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকের সহ সভাপতি রাজু মিয়া।
উল্লেখ্য, আগামী ১লা জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় পৌর এলাকার জানাইয়া শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠে উপজেলার ১২ টিম নিয়ে পর্দা উঠবে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট লীগের।

বিশ্বনাথে আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের ৪র্থ মেধাবৃত্তি বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মঈন উদ্দিন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষাভিত্তিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে না। আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তকের লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে যুগোপযোগী ও বহুমাত্রিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে না পারলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। শিক্ষা জীবনে অর্জিত জ্ঞান দিয়েই শিক্ষার্থীদেরকে সারাজীবন দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর শহরের পুরাণ বাজার এলাকায় রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ‘আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের ৪র্থ মেধাবৃত্তি’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. মঈন উদ্দিন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানদের প্রতি সময় দেওয়া, নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের মধ্যে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব। মেধাবৃত্তির মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন দেখার সাহস তৈরি করে।

উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫ম ও ৭ম শ্রেণীর ৪১৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করে।

রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে এবং বৃত্তি পরীক্ষার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য আহমদ আলী হিরনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি মো. খালেদ উদ-দীন, বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্টু দে, শাহজালাল মর্ডাণ একাডেমির প্রিন্সিপাল কবি-গীতিকার এইচ এম আরশ আলী, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন ইমরান ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ওসমানীনগর উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার মাওলানা মাসুক আহমদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

এই সময় ডেস্ক:
সারা দেশের ন্যায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ও সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুই দিনব্যাপী বিশ্বনাথের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্রে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের মোট ৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক উম্মে কুলসুম রুবিকে আহ্বায়ক এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রিন্সিপাল মণিকাঞ্চন চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুব।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাকেন্দ্র চলাকালে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি’সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রিন্সিপাল ও বৃত্তি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মণিকাঞ্চন চৌধুরী জানান, সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

আর্তসামাজিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি মো. মাফিজ খান পাচ্ছেন ‘প্রবাসী সম্মাননা-২০২৫’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ও প্রবাসে শিক্ষা, মানবিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সভাপতি মো. মাফিজ খানকে ‘প্রবাসী সম্মাননা-২০২৫’ প্রদান করা হচ্ছে।

আগামী ২৭ ডিসেম্বর সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানটি কবি নজরুল একাডেমী রিকাবী বাজার,সিলেট-এ অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি সিলেট জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাসুদ রানা আনুষ্ঠানিকভাবে মো. মাফিজ খানকে এ সম্মাননা প্রাপ্তির বিষয়টি অবহিত করেন।

মো. মাফিজ খান দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করেও দেশের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টী এবং বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত জালালাবাদ সুন্নি জামে মসজিদ-এর সাবেক ট্রাস্টি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি গ্রেটার সিলেট  ওয়েলফেয়ার এন্ড ডেভেলাপমেন্ট কাউন্সিল, ওয়েস্ট মিডল্যান্ড রিজন-এর সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি, বার্মিংহাম-এর সাবেক সভাপতি ছিলেন।

তিনি গ্রেটার বিশ্বনাথ উপজেলা সমিতি, ওয়েস্ট মিডল্যান্ড-এর সাবেক সভাপতি, বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রবাসী শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ট্রাস্টি এবং বাংলাদেশ সেন্টার, লন্ডন -এর আজীবন সদস্য এবং লন্ডন ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত মাসিক “বাংলা কাগজ” পত্রিকার সভাপতি মন্ডলির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ান পাউন্ড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য, বিশ্বনাথ এইড এর সদস্য, বিশ্বনাথ এইট্ এবং বিশ্বনাথ ইউনিয়ন এন্ড ওয়েলফেয়ারের ট্রাস্টসহ অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সাথে সত্রিয় ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে-এর মাধ্যমে প্রতিবছর উপজেলার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানসহ দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে একজন দায়িত্বশীল কমিউনিটি লিডার হিসেবেও তিনি সুপরিচিত।

এছাড়া তিনি ১৯৯৩ সালে একক ভাবে নিজ অর্থায়নে ৫লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে আমির্তি নদীর পার থেকে নিজ গ্রামের রাস্তায় গার্ডওয়াল সহ মাঠি ভরাট এবং ইট সলিং করেন। অসংখ্য গৃহহীন মানুষকে নিজ অর্থায়নে গৃহনির্মাণ করে দিয়েছেন এবং সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজ অর্থায়নে নিয়মিত সাহায্য ও সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।

তার এই বহুমুখী ও মানবিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে ‘প্রবাসী সম্মাননা-২০২৫’ প্রদান করা হচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।