আজকের সময়ের সেরা খবর
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ,সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিপূর্ণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিস্মরণীয় নেত্রী। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ, সংগ্রাম, আপসহীনতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিপূর্ণ। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, আগামীর একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে হলে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে হবে। কারণ একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বিএনপির বিকল্প কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে উপজেলা মহিলা দলের উদ্যোগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। বারবার নির্যাতন, কারাবরণ ও গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও তিনি কখনো দেশের জনগণের অধিকার প্রশ্নে আপোস করেননি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্ব আগামী দিনের রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী বিলকিছ আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুন, যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন, কবির উদ্দিন মেম্বার, সাইদুর রহমান, ধনাই মিয়া, মাসুক মিয়া, নজরুল ইসলাম, গোলাম আকবর, জেলা মহিলা দলের নেত্রী বেগম স্বপ্না শাহীন, পৌর মহিলা দলের নেত্রী নুরুন নাহার ইয়াসমিন, উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী জলি বেগম, রিমা বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোকসভা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন খাজাঞ্চী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বশর মো. ফারুক। এসময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্বনাথে ছহিফাগঞ্জ সুলতানিয়া আলিম মাদ্রাসার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মহা-মিলনমেলা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্জী ইউনিয়নের নিরিবিলি গ্রামাঞ্চলে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতবছরের প্রাচীন ছহিফাগঞ্জ সুলতানিয়া আলিম মাদ্রাসার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মহা-মিলনমেলা আনন্দঘন পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল রোববার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ তাজ উদ্দিন এবং সিলেট-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, একটি মানুষকে হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। মানুষের জীবন শুধু এই দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উপলব্ধি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে হবে। কারণ পরকালে আমাদের আরেকটি জীবনের হিসাব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হলেও ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে ইসলামী কোনো বিভাগ নেই। এ বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, জীবনের সায়াহ্নে এসে আমি আল্লাহ তায়ালার দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তিনি আমাকে আমার নিজ এলাকার শিক্ষা ও উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সৌভাগ্য সবার জীবনে আসে না। সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী হাফেজ মাওলানা নাসিম আহমদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুর রউফ। দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে হামদ-নাত, অতিথিদের বক্তব্য, স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ফয়ছল আহমদ সুবাহদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ হাসমত উল্লাহ, মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি তাহেরা নুসরাত জাহান চৌধুরী, কামালবাজার ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা বুরহান হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম মনোত্তর আলী, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, ওল্ডহাম বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংবাদিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্বনাথ ও ছাতকের এতিম শিক্ষার্থীসহ ৩৫০ হতদরিদ্রের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ ও ছাতকের ৩টি মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আরও ৩৫০জন অসহায় শীতার্তদের মধ্যে উন্নতমানের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ছাতকের খাগহাটা খানবাড়ির বাসিন্দা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী, লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য, খাগহাটাস্থ হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার খসরু মোহাম্মদ খান ও ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি একাউন্টেন্ট কবির খানের পক্ষ থেকে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

সোমবার (৫জানুয়ারি) দিনব্যাপী পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে খাগহাটা খান-বাড়িতে হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী, খাগহাটা ও আশপাশ গ্রাম, বুরাইয়া বাজার, বুরাইয়া মাওলানা শামছুল হক (রহ) সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও বুরাইয়া এলাকা, যোগলনগর মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও বিশ্বনাথ বজারের অসহায় ছিন্নমুল শীতার্ত মানুষদের মধ্যে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় খাগহাটা খান-বাড়িতে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরনের উদ্বোধন করা হয়। এসময় হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, খাগহাটা ও আশপাশ গ্রামের অসহায় হতদরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এরপর দুপুর ১২টায় খানবাড়ির বাসিন্দা ও ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার সুলতান খানের নেতৃত্বে দু’টি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে বুরাইয়া বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এরপর দুপুর ১টায় বুরাইয়া মাওলানা শামছুল হক (রহ) সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও বুরাইয়া এলাকায় এবং দুপুর ২টায় যোগলনগর মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। সর্বশেষ বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিশ্বনাথ বাজারের অসহায় ছিন্নমূল মানুষের

মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম, হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার সুলতান খান, যোগলনগর মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল মানিক মেম্বার, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মাহবুবুল হক, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বুরাইয়া মাওলানা শামছুল হক (রহ) সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ ফজলুর রহমান, ও হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজ মো. বজলুর রশিদ।

এদিকে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলী আহমদ, সাদ খান, করিম খান, মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজ আব্দুল আলী, ব্যবসায়ী ইউছুফ খান, শাকিল খানসহ আরও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট ও আশপাশে ভোররাতে মৃদু ভূকম্পন, আতঙ্কে ঘুম ভাঙে মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোররাতে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠে। এতে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেক মানুষ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সংশ্লিষ্টরা ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক এবং আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ তার ফেসবুক পোস্টে জানান, বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পটি ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটির নিকটবর্তী মরিগাঁও এলাকায়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ এবং এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এখানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প বিষয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে কঠোর বার্তা, বাসিয়া নদী দখলমুক্ত করার ঘোষণা

বিশ্বনাথে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বনাথ পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় তিনি পৌরসভার উন্নয়ন, রাজস্ব আদায়, হোল্ডিং ট্যাক্স ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পৌর প্রশাসক বলেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার আয়তন বড় হলেও আয় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় পৌর এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে যেসব হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বকেয়াদারদের মার্কেট, বিল্ডিং বা বাড়িতে বকেয়ার তালিকা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপনসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে পাঁচ বছরের জন্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ছিল অপরিকল্পিত। কোথাও অতিরিক্ত, কোথাও কম, আবার কোথাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে ট্যাক্স প্রদানে অনীহা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকায় আনুমানিক মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। বড় একটি অংশ বকেয়ার তালিকায় রয়েছে এবং অনেক ভবন এখনও হোল্ডিংয়ের আওতার বাইরে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাসিয়া নদী প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক জানান, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে নদীর তীরে পাকা স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণ করা হবে। চলমান মামলা ও রিট নিষ্পত্তি হলেই বাসিয়া নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর পাশাপাশি বাসিয়া নদীর উৎসমুখ পুনঃখননের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ চাইলে অগ্রিম হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কেটের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে ভাড়াটে দোকান মালিকরা সচেতন হলে ট্রেড লাইসেন্স নিতে গিয়ে কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রদান বিষয়ে তিনি জানান, আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেবার স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রকৌশলী উদ্দিন আহমদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবাযের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ জামাল মিয়া, সদস্য আহমদ আলী হিরণ, সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের শিক্ষানবিশ সদস্য আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জামিন পেলেন সেই নেতা

এইসময় ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন।

রবিবার সকালে তাকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালতে তোলা হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর এলাকা থেকে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।

রাতভর থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা মাহদী হাসানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে রাতেই আদালত বসিয়ে তার জামিন শুনানি গ্রহণের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা। তবে রাতে আদালত না বসায় তাদের দাবি পূরণ হয়নি। পরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকে।

আজ সকালে মাহদী হাসানকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানে তার সমর্থক ও সহকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। জামিন পাওয়ার খবরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা দাবি করেন, মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আদালত মামলার নথি ও শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেছেন। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বনাথের গোয়াহরী গ্রামে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বিস্তীর্ণ বড়বিল যেন একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিল শত বছর আগের গ্রামীণ বাংলায়।

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসবকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১লা জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিলপাড়ে জমে ওঠে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই বড়বিলে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব দেখতে ও অংশ নিতে জড়ো হন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়াহরি ও আশপাশের গ্রামের মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েন উৎসবের প্রস্তুতিতে। হাতে হাতে পলো, উড়াল জাল, টেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সবাই একত্রিত হন বড়বিলের পাড়ে। নির্দিষ্ট সংকেতের পর মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। পানির ঢেউ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে বড়বিল যেন প্রাণ ফিরে পায়।

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী মাছ শিকারে ধরা পড়ে নানা প্রজাতির বড় ও ছোট মাছ। কারও পলোতে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির বোয়াল, কারও ঝুড়ি ভরে ওঠে রুই-কাতলা আর ঘনিয়ায়। টেলা ও ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেওয়া সুস্বাদু বাউশ, শোলসহ নানা জাতের দেশি মাছ। মুহূর্তে মুহূর্তে আনন্দধ্বনি, উল্লাস আর হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিলপাড়।

এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে বিলের চারপাশে ভিড় জমান নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। অনেক প্রবাসী পরিবার বিশেষভাবে এই পলো বাওয়া উৎসবকে কেন্দ্র করেই দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দে গোয়াহরি বড়বিল পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।

পলোতে বড় বোয়াল ধরতে পেরে উচ্ছ্বসিত যুবক রাজু আহমদ বলেন, “নিজের হাতে এত বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আজ সবাই মাছ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য দারুণ খুশির দিন।”

উৎসব দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী হাজী মো. তৈমুছ আলী বলেন, “গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে আনন্দের সঙ্গে মাছ ধরতে দেখা—এই দৃশ্য দেখার জন্যই দেশে আসা। বসে বসে পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করছি, মনটা ভরে গেছে।”

প্রবাসী হাজী মো. আবদুল বারী ও শাহনুর হোসাইন ছাদিক বলেন, “এই উৎসব দেখার টানেই আমাদের দেশে ফেরা। গ্রামের মানুষ, ঐতিহ্য আর এই আনন্দ আমাদের কাছে পরমানন্দের মতো।”

আয়োজক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন মেম্বার ও ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমাদের গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে প্রতিবছরই এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করা হয়। এটি শুধু একটি মাছ ধরার আয়োজন নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। যুগ যুগ ধরে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও গর্বের অংশ।”

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিক মিলনে গোয়াহরি বড়বিলের পলো বাওয়া উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে—গ্রামীণ বাংলার প্রাণ এখনও অটুট, এখনও বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ঝাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথে ‘বিশ্বনাথনিউজ বিশ্বনাথ সেরা হাফেজ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল সম্পন্ন

এইসময় ডেস্ক:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘বিশ্বনাথনিউজ বিশ্বনাথ সেরা হাফেজ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৌর শহরের একটি অভিজাত পার্টি সেন্টারে প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

তিন পর্বের বাছাই শেষে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। কুরআন তেলাওয়াত ও হিফজের দক্ষতায় বিচারকদের রায়ে ১ম স্থান অর্জন করেন রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মাওলানা নেছার আহমদের পুত্র হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ান।

২য় স্থান অধিকার করেন খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বন্ধুয়া গ্রামের আব্দুর নূরের পুত্র হাফিজ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং ৩য় স্থান লাভ করেন লামাকাজী ইউনিয়নের সৎপুর গ্রামের সাইফুল আলমের পুত্র হাফিজ আহমদ জামী।

গ্র্যান্ড ফিনালের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা ফারুক মাহদী। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন— প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাকরাম আলী আফরোজ, ফারুক মিয়া, আব্দুল বাছিত রফি, আমিনুর রহমান আমিন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বিচারকদের পক্ষে হাফিজ মাওলানা মোশাহিদ আহমদ এবং বিজয়ী হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ানের পিতা মাওলানা নেছার আহমদ।

প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকারী হাফিজ তাহমিদ হোসাইন নাহিয়ান পেয়েছেন নগদ ১ লাখ টাকা, ২য় স্থান অধিকারী হাফিজ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা এবং ৩য় স্থান অধিকারী হাফিজ আহমদ জামী পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকাসহ সম্মাননা স্মারক, উপহার ও সার্টিফিকেট।

অনুষ্ঠান চলাকালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, যুক্তরাজ্য মহানগর জমিয়াতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা হোসাইন আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কুরআনভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় রয়েছে।

বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সঙ্গে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মুনতাছির আলীর মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১০ দলীয় জোট থেকে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

এর আগে একইদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন মুনতাছির আলী। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি, জোটের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় মুনতাছির আলী বলেন, ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ৮ দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১০ দলীয় জোটে রূপ নিয়েছে। এ কারণে কিছু আসনে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। সব আসনের বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত খেলাফত মজলিস যে কয়েকটি আসন পেয়েছে, তার মধ্যে সিলেট-২ আসন অন্যতম। এ আসনে তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন, সেখানে সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। এতে করে জোটের প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

নির্বাচনী রাজনীতি প্রসঙ্গে মুনতাছির আলী বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগেই নিজেকে বিজয়ী ভাবা সঠিক নয়; বরং জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের মাধ্যমেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি সুস্থধারার রাজনীতির স্বার্থে সবার জন্য সমান রাজনৈতিক মাঠ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রতিহিংসার স্থান থাকতে পারে না।

মুনতাছির আলী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোট’কে বিজয়ী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট কাজ করছে। জনগণের ভোটে জোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করা হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জনগণের প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১০ দলীয় জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাকে কোনো একক দলের প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং ১০ দলীয় জোটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে আমি শাসক হয়ে নয়, একজন সেবক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাব—এই অঙ্গীকার করছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন, বিশ্বনাথ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, পৌর খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি অধ্যক্ষ গৌছ উদ্দীন, সহসভাপতি মুহাম্মদ ছালিক মিয়া মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত, সহসম্পাদক মুহাম্মদ শরীফ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক আহমদ, অর্থ সম্পাদক এনামুল হক, সংগঠক হাসান আহমদ চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সিলেট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দিচ্ছে না, খেলাফত মজলিসকে সমর্থন

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিচ্ছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দশ দলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে দলটি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-২ আসনটি বিরোধী রাজনীতির একটি আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিএনপির প্রভাব ও ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর লুনা। তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১৭ সালে ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকেই সিলেট-২ আসনটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখনো তার সন্ধান না মেলায় এ আসনটি রাজনৈতিক ও আবেগী গুরুত্ব বহন করছে।

উল্লেখ্য, সিলেট-২ আসন থেকে জামায়াত ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার সিলেটের বাকি পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে তিনিও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পরবর্তীতে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সিলেট-২ আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য আসনগুলোতে ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার ফলে সিলেট-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াতের সমর্থন পাওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক আবেগ ও জনসমর্থনও এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।