আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন: সোনালি শীষে ভরে উঠেছে মাঠপ্রান্তর, কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক


সালেহ আহমদ সাকী
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন আনন্দ–উৎসবের আমেজ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বাতাসে ভাসছে নতুন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। চারদিকে শুধু সোনালি রঙের শীষের সমাহার। হাওর, বিল, উঁচুনিচু জমি সবখানেই এখন ধানের সমারোহ। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে হাওরের বিশাল অংশে ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। তবে শ্রমিক সংকট থাকার কারণে এবার কৃষকদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন। যন্ত্রের সহায়তায় তারা সময়মতো ধান কেটে বাড়িতে তুলতে পারছেন। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের গোলায় উঠবে এই ফসল, আর হেমন্তের আগমনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নবান্নের আমেজ, ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধান দিয়ে পিঠা তৈরির উৎসব।
বিশ্বনাথ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন সত্যিই বাম্পার হয়েছে। আগাম জাতের কিছু ধান পেকে যাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে কাটা শুরু করেছেন। তবে প্রধান আবাদি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, ভালো আবহাওয়া, বৃষ্টি কম হওয়া, রোগবালাই কম দেখা দেওয়া এবং কৃষকদের সময়মতো পরিচর্যা সব মিলিয়ে এ বছর ফলন অতীতের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।

Biswanath Pic 03


হাটবাজার গুলোতেও এখন নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। সবচেয়ে আশার খবর হলো বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া আগাম ধান কেটে ফেলার ফলে একই জমিতে দ্রুত রবি ফসল যেমন সরিষা, সবজি, ভুট্টা ইত্যাদি আবাদ করতে পারবেন কৃষকেরা।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে ১৭,২০৫ হেক্টর। তার মধ্যে সাধারণত প্রতিবছর ১৭৮ হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। রোর মৌসুমে পতিত জমি: ৬,৫২৫ হেক্টর, আমন মৌসুমে পতিত জমি: ৩,৫০০ হেক্টর, তবে এ বছর আমন চাষ হয়েছে বড় পরিসরে ১৩,২৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টরে হাইব্রিড আমন ধান চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত: ব্রি ধান ১০৩, ব্রি ধান ৯৫, ব্রি ধান ৯৪, ব্রি ধান ৯৩, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৪৯,বিআর ২২, বি আর ২৩, বিনা ধান ৭, বিনা ধান ১৭ উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ব্রি ধান ১০৩ ও ব্রি ধান ৪৯ অন্যান্য ধানের তুলনায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ মৌসুমে ধানের গড় ফলন দাঁড়িয়েছে হেক্টরপ্রতি ২.৮০ মেট্রিক টন চাউল, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে উপজেলায় খাদ্যঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামের পর গ্রামজুড়ে এখন ধান শুকানোর ব্যস্ততা। গোলা, খলা, আঙিনা, যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই নতুন ধান ছড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। সোনালি রঙের ধানের স্তূপ আর শুকাতে দেওয়া ধানের সারি যেন কৃষকদের বছরের পরিশ্রমের সাক্ষ বহন করছে।
দেওকলস ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক আখতার হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৪০ কেদার জমিতে আমন চাষ করেছেন, যার মধ্যে ব্রি ধান ৪৯ জাতের ধানের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর তিনি সরিষা চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কজাকাবাদ গ্রামের হাজী আবুল মনছুর খান বলেন, “এবার ফলন এমন হয়েছে যে চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রমিক কম থাকলেও মেশিনের সাহায্যে ঠিকমতো ধান তুলতে পারছি।”
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বছর খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সন্তুষ্ট।
তিনি জানান, রবি মৌসুমে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৩০০ হেক্টর। এ মৌসুমে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮২০ হেক্টর।
এবার এসব জমিতে ধান, সরিষা, শাকসবজি, ভূট্টা এবং আরও বিভিন্ন উচ্চমূল্যের রবি ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাঠজুড়ে সোনালি শীষের সমারোহ, আকাশে ভেসে বেড়ানো ধানের গন্ধ এবং কৃষকদের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে বিশ্বনাথ এখন এক উৎসবের উপজেলা। আমন ধানের এ বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বস্তিই এনে দিচ্ছে না, বরং নতুন মৌসুমে আরও ফসল চাষে তাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামনে রবি মৌসুম, কৃষকদের নতুন স্বপ্ন নতুন ফসলের পথে এই সফলতার ধারাকে ধরে রাখবে এটাই সকলের কাম্য।

সিলেট–২ আসনে উন্নয়ন আর সুশাসনের অঙ্গীকার—অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বিশ্বনাথ উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নির্বাচন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলার আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর ভিশন ও জনমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসময়  তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণই হবে আমার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমার লক্ষ্য উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে বাসযোগ্য, উন্নত ও আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই আমার একমাত্র প্রতিশ্রুতি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেট-২ আসনের দুই উপজেলায় আধুনিকমানের দুটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অকার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনরায় সচল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাত্যহিক জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অধ্যাপক হান্নান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত স্থানীয় সমস্যাগুলোর দিক তুলে ধরে বলেন, “এলাকার প্রত্যেকটি সমস্যা আমি চিহ্নিত করেছি। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার টেকসই সমাধান করতে চাই। উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজের উন্নয়নের বড় শক্তি।” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির মাওলানা এইচ এম আখতার ফারুক, উপজেলার নায়েবে আমির মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির ও বিশ্বনাথ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুস সোবহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল মুকসিদ আক্তার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির উপজেলা সভাপতি আশিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্র শিবির পৌরসভার সভাপতি মতিউর রহমান ইমন, উপজেলার পশ্চিম সাথী শাখার সভাপতি শাহ হোসাইন আলী প্রমূখ।

এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, আশিক আলী, তজম্মুল আলী রাজু, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সালেহ আহমদ সাকী, রুহেল উদ্দিন, আব্বাস হোসেন ইমরান, মশিউর রহমান, আব্দুস সালাম, বদরুল ইসলাম মহসিন, আব্দুস সালাম মুন্না, তাউফিকুর রহমান হাবিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলে অধ্যাপক হান্নান সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা (পশ্চিম হাটি) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি হাফেজ আব্দুল কাদির।

সভায় মাওলানা ফখরুল ইসলামকে সভাপতি, শামছুল ইসলাম জুনেদকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা ইলিয়াস উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
সহ সভাপতি: ক্বারী ইরশাদ হোসেন, মাওলানা হেলাল আহমদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান। সহ সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল আলীম, হাফেজ আব্দুল কাদির। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: মাওলানা জয়নাল আবেদীন। অর্থ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল হামিদ তানজিম। প্রচার সম্পাদক: মাওলানা মুশাররফ হোসেন সিরাজী। সহ প্রচার সম্পাদক: হাফেজ নূর মিয়া
অফিস সম্পাদক: মাওলানা আমির উদ্দিন। সহ অফিস সম্পাদক: হাফেজ শাহজাহান মিয়া
সাহিত্য সম্পাদক: মাওলানা রুহুল আমিন। সহ সাহিত্য সম্পাদক: হাফেজ নাজমুল ইসলাম
সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মাওলানা সালেহ আহমদ।

সোসাইটির উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ আব্দুল কাদির ও মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নতুন কমিটি আগামীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

বিশ্বনাথে ড. ক্বাসিমীর উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ! মানবিক সহায়তায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী এই শিক্ষাবিদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমীর পক্ষ থেকে শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার এই আয়োজনে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌর শহরের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কার্যালয়, রামপাশা ইউনিয়নের মাঝপাড়া জামে মসজিদ এবং দশঘর ইউনিয়নের পিরের বাজার এলাকায় তিন দফায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল—চাল, ডাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ, যা সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর জন্য বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন নোমান আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এম. আশরাফুল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বাসিত ও ক্বারী মাওলানা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “করোনা, বন্যা কিংবা যেকোনো দুর্যোগে প্রবাস থেকে ড. ক্বাসিমী বিপুল সহযোগিতা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই সহায়তা নিজ হাতে পৌঁছে দিচ্ছি অসহায় মানুষের দ্বারে। মানবিকতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এবং আগামীতেও ইনশাআল্লাহ চলবে।”

ড. ক্বাসিমীর দীর্ঘদিনের মানবিক উদ্যোগ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় অনেকেই বলেন, প্রবাসে থেকেও তিনি সবসময় দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা সত্যিই অনুকরণীয়।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে সুবিধাভোগীদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। তারা প্রবাসী এই শিক্ষাবিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার আশা ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমীর মানবিক উদ্যোগ: দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. লুৎফুর ক্বাসীমী। তারই ধারাবাহিকতায় শীতার্ত ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর ) বাদ জোহর বিশ্বনাথ পৌরসভার কারীকোনা এলাকার চাদের হাট রেস্টুরেন্টে এ উপহার সামগ‌্রী বিতরণ করা হয়।
মানবিক এ উদ্যোগের পুরো আয়োজন ও ব্যয়ভার বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত পদপ্রার্থী নেতা ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কঠোর শীতের এই সময়টিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই ড. ক্বাসীমীর পক্ষ থেকে এ উপহার বিতরণের আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্থানীয় সমাজকর্মী ও আয়োজকরা চালকদের হাতে রিকশার লোগো সম্বলিত টি–শার্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী মাওলানা আশরাফুল হক। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুল বাছিত।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বশীল হাফিজ মাওলানা রুহুল আমিন জাকারিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হোসাইন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, দশঘর ইউনিয়নের নির্বাহী সদস‌্য মাওলানা শেখ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত মজলিসের সদস্য মো. নোমান আহমদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, “ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার মানবিক সহায়তা এলাকায় প্রশংসনীয় উদাহরণ তৈরি করেছে। শীত মৌসুমে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিকারের মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের হাতে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
উপহার পেয়ে চালকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফুল হক।

এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার—আনন্দ উদ্‌যাপন দলের মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ উল্লাস ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

01

দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারের শাস্তিতে থাকা এসব নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বসির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আরব খান, মহিলা সম্পাদক স্বপ্না শাহিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুমিন খান মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান এবং খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ‘ধানের শীষ’কে শক্তিশালী করতে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বহিষ্কার প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথের বিএনপি নতুন উদ্দীপনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।

সিলেট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইর সম্ভাবনা

তৌফিকুর রহমান হাবিব:

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। বাকি দুই আসনের একটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর আসনটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জোটসঙ্গী জমিয়ত উল উলামাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে। ফলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি-জামায়াত এবং আরও একটিতে জমিয়ত-জামায়াত মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর), যা বিএনপির গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনো এ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম। তাঁর সেই জনপ্রিয়তা ও স্মৃতিকে ধারণ করে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লুনাকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এই আসনে লুনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। মাঠপর্যায়ে তার ছাত্র এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সমর্থকরা মনে করেন, এলাকায় হান্নানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাবে।

একই আসনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে লড়াই করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলেম ও গবেষক ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় শিক্ষা এবং প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে ক্বাসিমী নিজস্ব জনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা রাজনগর গ্রামের সন্তান ক্বাসিমী একটি সম্মানিত ধর্মীয় পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মৌলভী আলতাফুর রহমান এবং বড় ভাই মাওলানা শায়েখ হাবিবুর রহমান ফারুক্ব—উভয়েই জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ত্রিমুখী আকার নিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডা—সব স্থানেই এখন আলোচনায় লুনা, হান্নান এবং ক্বাসিমীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভোটযুদ্ধ।

সিলেটে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল শিগ্রই শুরু হচ্ছে

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট সদর উপজেলার শেষপ্রান্তে ছালিয়া গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে উঠছে অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। সিলেট–কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে কাঁচা-ভাঙাচোরা সড়ক পেরুতেই চোখে পড়ে লাল টিনের সারিবদ্ধ একতলা দৃষ্টিনন্দন ভবন—যেখানে বাস্তবায়িত হচ্ছে সামাজিক সংগঠন ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন’ এর মানবিক উদ্যোগ ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’।

১৫০ শতক জায়গাজুড়ে নির্মিত এই শিক্ষা কমপ্লেক্সে ব্রিটিশ কারিকুলামে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু তাই নয়, এখানকার সব শিক্ষার্থীই থাকবে আবাসিক সুবিধায়—থাকা, খাওয়া, শিক্ষা ও পরিচর্যা সবই ফ্রি। প্রথম ধাপে ১০০ জন এতিম শিশুকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাছাই করে ভর্তি করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুন জানান, এখানে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চাকরি বা কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষা কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে তিনটি ডরমিটরি, একাডেমিক ভবন, মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন, ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স, স্টাফ হাউস, মসজিদ, দৃষ্টিনন্দন একটি লেক ও প্রশস্ত খেলার মাঠ।
প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর এখন প্রায় শেষের পথে। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যদিও আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি আছে।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর জানান, ‘এটি একটি পাইলট প্রকল্প। এই উদ্যোগ সফল হলে আরও কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ক্যাপ ফাউন্ডেশন ২০১২ সাল থেকে সিলেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির মতো বিষয়ে কাজ করে আসছে। এনজিও ব্যুরো অনুমোদিত এ প্রতিষ্ঠান এবার শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে।


প্রকল্প পরিদর্শনে পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’ পরিদর্শনে আসেন পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য। তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং লেকের উদ্বোধন করেন। স্মৃতি হিসেবে শিক্ষাপ্রাঙ্গণে তিনটি গাছও রোপণ করেন অতিথিরা।

পরিদর্শনে আসা রাজপরিবারের সদস্যরা হলেন, এইচআরএইচ দ্যুম ডুয়ার্থ পিই ডি ব্রাগানজা,এইচআরএইচ ইসাবেল ইনেস ডি কাস্ত্রো সি. ডি হেরেডিয়া ডি ব্রাগানজা, এইচআরএইচ আফোন্সো ডি সান্তা মারিয়া ডি ব্রাগানজা।

তারা এই উদ্যোগকে ‘অসাধারণ ও মানবিক প্রয়াস’ বলে উল্লেখ করেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শীতকালীন সময়ে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পৌর শহরের নতুন বাজার টিএনটি রোড এলাকায় স্তুপ হয়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাসিয়া নদীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সুরমা নদীর সঙ্গে বাসিয়া নদীর সংযোগমুখ পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার এবং গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী সৈয়দ বদরুছ ছালেকীন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম মেম্বার, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহবায়ক মশিউর রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুব, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বদরুন নাহার, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আক্রামুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নদী সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

সচেতনতা ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ: বিশ্বনাথে ইউএনও সুনন্দা রায়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেছেন, “সচেতনতা ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যায় না। বিদেশে যাওয়ার আগে দক্ষতা অর্জন, ভাষা শিক্ষা এবং আইন-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়েই ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, বিশেষ করে নারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা—সবার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা বিআরডিবি মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্ট্রিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ইউএনও সুনন্দা রায় আরও বলেন, “বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে ব্র্যাকের গৃহীত মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন প্রবণ এলাকায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে—যা প্রশংসার দাবি রাখে।”

ব্র্যাকের সিলেট জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আরিফ এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রোগ্রাম অর্গানাইজার আনহার আলী এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল শহিদ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বদরুন নাহার, দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর আরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ফেরত লুকসানা বেগম ও লিবিয়া ফেরত রবিউল ইসলাম বিদেশে থাকার সময় নির্যাতন ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরেন; যা উপস্থিতদের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দেয়।

পরিশেষে ইউএনও সুনন্দা রায় ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের অধীনে বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।