আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইর সম্ভাবনা

তৌফিকুর রহমান হাবিব:

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। বাকি দুই আসনের একটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর আসনটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জোটসঙ্গী জমিয়ত উল উলামাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে। ফলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি-জামায়াত এবং আরও একটিতে জমিয়ত-জামায়াত মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর), যা বিএনপির গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনো এ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম। তাঁর সেই জনপ্রিয়তা ও স্মৃতিকে ধারণ করে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লুনাকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এই আসনে লুনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। মাঠপর্যায়ে তার ছাত্র এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সমর্থকরা মনে করেন, এলাকায় হান্নানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাবে।

একই আসনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে লড়াই করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলেম ও গবেষক ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় শিক্ষা এবং প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে ক্বাসিমী নিজস্ব জনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা রাজনগর গ্রামের সন্তান ক্বাসিমী একটি সম্মানিত ধর্মীয় পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মৌলভী আলতাফুর রহমান এবং বড় ভাই মাওলানা শায়েখ হাবিবুর রহমান ফারুক্ব—উভয়েই জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ত্রিমুখী আকার নিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডা—সব স্থানেই এখন আলোচনায় লুনা, হান্নান এবং ক্বাসিমীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভোটযুদ্ধ।

সিলেটে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল শিগ্রই শুরু হচ্ছে

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট সদর উপজেলার শেষপ্রান্তে ছালিয়া গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে উঠছে অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। সিলেট–কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে কাঁচা-ভাঙাচোরা সড়ক পেরুতেই চোখে পড়ে লাল টিনের সারিবদ্ধ একতলা দৃষ্টিনন্দন ভবন—যেখানে বাস্তবায়িত হচ্ছে সামাজিক সংগঠন ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন’ এর মানবিক উদ্যোগ ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’।

১৫০ শতক জায়গাজুড়ে নির্মিত এই শিক্ষা কমপ্লেক্সে ব্রিটিশ কারিকুলামে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু তাই নয়, এখানকার সব শিক্ষার্থীই থাকবে আবাসিক সুবিধায়—থাকা, খাওয়া, শিক্ষা ও পরিচর্যা সবই ফ্রি। প্রথম ধাপে ১০০ জন এতিম শিশুকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাছাই করে ভর্তি করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুন জানান, এখানে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চাকরি বা কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষা কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে তিনটি ডরমিটরি, একাডেমিক ভবন, মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন, ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স, স্টাফ হাউস, মসজিদ, দৃষ্টিনন্দন একটি লেক ও প্রশস্ত খেলার মাঠ।
প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর এখন প্রায় শেষের পথে। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যদিও আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি আছে।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর জানান, ‘এটি একটি পাইলট প্রকল্প। এই উদ্যোগ সফল হলে আরও কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ক্যাপ ফাউন্ডেশন ২০১২ সাল থেকে সিলেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির মতো বিষয়ে কাজ করে আসছে। এনজিও ব্যুরো অনুমোদিত এ প্রতিষ্ঠান এবার শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে।


প্রকল্প পরিদর্শনে পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’ পরিদর্শনে আসেন পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য। তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং লেকের উদ্বোধন করেন। স্মৃতি হিসেবে শিক্ষাপ্রাঙ্গণে তিনটি গাছও রোপণ করেন অতিথিরা।

পরিদর্শনে আসা রাজপরিবারের সদস্যরা হলেন, এইচআরএইচ দ্যুম ডুয়ার্থ পিই ডি ব্রাগানজা,এইচআরএইচ ইসাবেল ইনেস ডি কাস্ত্রো সি. ডি হেরেডিয়া ডি ব্রাগানজা, এইচআরএইচ আফোন্সো ডি সান্তা মারিয়া ডি ব্রাগানজা।

তারা এই উদ্যোগকে ‘অসাধারণ ও মানবিক প্রয়াস’ বলে উল্লেখ করেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শীতকালীন সময়ে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পৌর শহরের নতুন বাজার টিএনটি রোড এলাকায় স্তুপ হয়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাসিয়া নদীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সুরমা নদীর সঙ্গে বাসিয়া নদীর সংযোগমুখ পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার এবং গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী সৈয়দ বদরুছ ছালেকীন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম মেম্বার, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহবায়ক মশিউর রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুব, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বদরুন নাহার, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আক্রামুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নদী সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

সচেতনতা ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ: বিশ্বনাথে ইউএনও সুনন্দা রায়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেছেন, “সচেতনতা ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যায় না। বিদেশে যাওয়ার আগে দক্ষতা অর্জন, ভাষা শিক্ষা এবং আইন-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়েই ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, বিশেষ করে নারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা—সবার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা বিআরডিবি মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্ট্রিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ইউএনও সুনন্দা রায় আরও বলেন, “বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে ব্র্যাকের গৃহীত মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন প্রবণ এলাকায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে—যা প্রশংসার দাবি রাখে।”

ব্র্যাকের সিলেট জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আরিফ এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রোগ্রাম অর্গানাইজার আনহার আলী এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল শহিদ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বদরুন নাহার, দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর আরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ফেরত লুকসানা বেগম ও লিবিয়া ফেরত রবিউল ইসলাম বিদেশে থাকার সময় নির্যাতন ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরেন; যা উপস্থিতদের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দেয়।

পরিশেষে ইউএনও সুনন্দা রায় ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের অধীনে বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।

বিশ্বনাথে প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
রাব্বানী ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইন্কের প্রতিষ্ঠাতা ও আমেরিকা প্রবাসী গোলাম রাব্বানী-র উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউরা গ্রামস্থ প্রবাসীর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে এলাকার ২৭ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ১ কেজি ধানের বীজ ও ৩ কেজি সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল পাল। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য মানুষকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষিখাতে সাফল্য আনতে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, সমাজসেবক ও বৃত্তবানদের স্বেচ্ছাসেবামূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি যাতে অনাবাদি না থাকে, এজন্য ধানের পাশাপাশি ‘সরিষা, ভূট্টা, পরাস’সহ বিভিন্ন শস্য ও সবজি চাষ বাড়াতে হবে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি। কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় প্রস্তুত—“কৃষক হাসলে দেশ হাসবে”—যোগ করেন বুলবুল পাল।

সমাজসেবক মুরব্বী আমির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং ধারাভাষ্যকার জয়নাল আবেদীন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘বীজ ও সার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক সমুজ মিয়া ও কবির উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কাওছার আহমদ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

জুলাই বিপ্লব-২০২৪ নিয়ে বিশ্বনাথে মতবিনিময়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এর গুরুত্ব, প্রবাসীদের অবদান এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্কের সাধারণ সম্পাদক ও টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা কানাডা প্রবাসী এম আর আজিজ।

রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এম আর আজিজ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-২০২৪’ কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, ঐক্য ও সাহসিকতার ফসল। তিনি বিশেষভাবে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে-বিদেশে একই সময়ে গণআন্দোলনের ঢেউ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মানববন্ধন, আন্দোলন, লবি, প্রচারণা ও গণতন্ত্র সচেতনতা তৈরিতে নিরন্তর কাজ করেছেন। এসময় এম আর আজিজ বলেন, “জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এ প্রবাসীদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে”।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু আন্দোলনের সময় নয়, যেকোনো জাতীয় সংকটে প্রথমেই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। সিলেট বিভাগের মানুষকে নিয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। করোনা মহামারি, ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যেকোনো দুর্যোগে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি জানান, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তারা দেশে-বিদেশে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এম আর আজিজ বলেন, টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডা-র মাধ্যমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করা হচ্ছে। নতুন কেউ কানাডায় গেলে তাদের থাকার জায়গা, তথ্য-উপাত্ত, চাকরি অনুসন্ধানসহ সব ধরণের সহায়তা প্রবাসীরা একাত্মতার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। “দেশকে নিয়ে আমাদের টান আজীবন”।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এটি হবে একটি স্মরণীয় ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দেশের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হলে পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে চান। বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা সভায় প্রকাশ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিজ আলী। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

হবিগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব: সচিব জাবের


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেছেন, হবিগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের লীলাভূমি হবিগঞ্জে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, তেমনি গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এ জেলার সম্ভাবনা আরো প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সিলেট মহানগরীতে বসবাসরত হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের সংগঠন ‘হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সম্প্রীতি, মানবতা ও সমাজকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে সুনিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সচিব জাবের।

হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও ‘খোয়াই নদীর বাঁকে’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দরগাগেইটস্থ হোটেল স্টার প্যাসিফিকের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত সভাপতি, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী অধ্যাপক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী।

সমিতির সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল, ঢাকা হবিগঞ্জ সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা ড. মো. শাহাব উদ্দিন, ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এসএম হাবিবউল্লাহ সেলিম, আবু মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মো. আবুল ফজল এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহমুদুল আলম মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা শফিউল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন গাজী আব্দুল মাবুদ মমশাদ, অ্যাডভোকেট জোৎস্না ইসলাম, মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমদ, মো. আবু সালেহ আহমদ ও মো. আব্দুল আউয়াল।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিলেট: ২৩ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে উঠছে সিলেট। কখনো সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট, কখনো আবার উৎপত্তিস্থল সিলেট বিভাগের ভেতরেই। এমনকি ঢাকাকেন্দ্রিক ভূমিকম্পও অনুভূত হচ্ছে সিলেটে। একের পর এক কম্পনে আতঙ্কে দিন কাটছে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা স্থানীয় ফল্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভূমিকম্পের হার দ্রুত বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে ‘ডেঞ্জার জোন’-এ থাকা সিলেটে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের বহু পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে ‘যমদূতের মতো’ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় ভূমিকম্প হলে এসব ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, নগরীর ২৩টি বিপজ্জনক ভবন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো খুব শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ভবনই রয়েছে। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই এসব ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, নগরীর বহু পুরনো ভবনের নকশায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি নেই। তীব্র ভূকম্পনে এসব ভবনেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ভবনগুলোয় রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন দফা ভূমিকম্পের পর সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প (৩.৭ ও ৪.৩ মাত্রা) এবং সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় কয়েকশ মানুষ।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “চিহ্নিত ভবনগুলোতে এখনো অনেকে বসবাস করছে বা ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্রুত অপসারণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্যই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা শহরের সংকীর্ণ রাস্তা—ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারলে রেসকিউ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

২০১৯ সালে সিসিক নগরীর মোট ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করা হলেও ১৮টি ভবন এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ বেশ কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।

এ ছাড়া পূর্বের তালিকা থেকে কালেক্টরেট ভবন-৩, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, কিবরিয়া লজ, বনকলাপাড়ার নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর পাড়ের পৌর শপিং সেন্টারসহ কয়েকটি ভবন অপসারণ বা সংস্কার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিহ্নিত ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল, হেলে পড়া দেয়াল, নড়বড়ে সিঁড়ি—সব মিলিয়ে বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিলেট ও মেঘালয় অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল একাধিকবার সিলেট বিভাগই ছিল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাতকে হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ছাতক প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সোনালী বাংলাবাজারে অবস্থিত হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ছাতক ও বিশ্বনাথ উপজেলার মোট ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে পুরো পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল উৎসবমুখর।

পরীক্ষা চলাকালে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হল পরিদর্শনে যান হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর পরিচালক আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি আছলম আলী, হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সদস‌্য সালেহ আহমদ সাকী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাদ্দাম হোসেন জুনেদ, অভিভাবক ডা. বিভাংশু গুন বিভু, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরন। তারা পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং পরিচালকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় দায়িত্ব পালন করেন হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফাহমিদ আক্তার মিশু, সহকারী শিক্ষক এখলাছ আলী, মোছা. সুমাইয়া আক্তার, শিফা বেগম, মোছা. লাভলী বেগম, ছাইমা বেগম এবং আকলিমা বেগম। তাদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাকেন্দ্র জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা ও মনোযোগী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরই এই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফাউন্ডেশনের কর্তারা জানান, ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরীক্ষা আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বনাথে ‘বিলাতের বৃষ্টি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বহুল প্রতীক্ষিত গ্রন্থ ‘বিলাতের বৃষ্টি’ অনাড়ম্বর ও বর্ণিল অনুষ্ঠানের মাধ‌্যমে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ প্রকাশনা উৎসব।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নানা শ্রেণি–পেশার সাহিত্যপ্রেমী, গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটি রচনা করেছেন প্রবাসী লেখক ও গবেষক সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি কবি মোঃ রহমত আলী। যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিলাতের সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রবাসজীবনের বাস্তবতা নিয়ে লেখালেখি করছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোঃ আশরাফুজ্জামান পিপিএম-সেবা। তিনি বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, প্রবাস জীবনের সংগ্রাম এবং আগামীর সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সুন্দর, মার্জিত ও বাস্তবধর্মী লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ‘বিলাতের বৃষ্টি’ কেবল একটি গ্রন্থ নয়, এটি প্রবাসী জীবনের জীবন্ত দলিল।” বইটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে তিনি সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার মতো বলেও মন্তব্য করেন।

গ্রন্থের লেখক কবি মোঃ রহমত আলী বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও অনুভূতির বাস্তব রূপ হলো ‘বিলাতের বৃষ্টি’। বইটির প্রতিটি লেখায় চেষ্টা করেছি প্রবাসজীবনের আনন্দ–দুঃখ, সংগ্রাম–সাফল্য এবং স্মৃতি-বেদনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে। এসময় তিনি বলেন,মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার মতো কিছু রেখে যেতে চাই। এসময় তিনি পাঠকদের ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের এবং সঞ্চালনা করেন তরুণ উপস্থাপিকা সুইটি আক্তার রুনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ পয়েন্টস ক্লাবের সভাপতি কবি মুস্তাফিজুর রহমান, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু। লেখকের জীবনী পাঠ করেন কবি জুবের আহমদ সার্জন। অনুষ্ঠানে এলাকার সাংবাদিক, লেখক, সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।