আজকের সময়ের সেরা খবর
নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশের নারীস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দেখাবে।

তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন। নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলো নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে দেশব্যাপী এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মীর প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর জন্য দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না, এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা ঢাকায় যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়, বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন

নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবার পরিকল্পনার ওপর জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অংশীদারত্বের জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের নিরাপদ শৈশব, প্রতিটি মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকার এবং গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চুক্তি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন ও মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করে। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারে বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে-ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধিদল।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

এই সময় ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং দেশটির স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আরবের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও কিংবা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া, এ-সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো:

  • শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫
  • পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬
  • ডিপ্লোমেটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪
  • মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০

সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন মেনে চলা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় দুই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পেশাগত সম্পর্ক জোরদার এবং সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বর্তমান সহ-সভাপতি মো. রুহেল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং নির্বাহী সদস্য আফজল মিয়া।

অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো. বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বাবর, প্রচার সম্পাদক ফাহিম আহমদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ হোসাইন, ক্রীড়া সম্পাদক তামিম আহমদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক শামিল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য বাবর জোয়ার্দার এবং সদস্য হোসেন মাহমুদ দেলওয়ার।

সাক্ষাৎকালে উভয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের অধিকার তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে পেশাগত উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

সৌজন্য সাক্ষাৎটি দুই প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আন্তরিক মতবিনিময় ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

বিশ্বনাথের আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে পুনর্মিলনী ও প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণসভা

প্রয়াত শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী, প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে আলোচনা সভা ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ ময়নুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী শুয়েব আহমদ।

কলেজ ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ‍শিক্ষকবৃন্দ

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ফাহিমা বেগম শাম্মী, আমিনুল হক, নাসরিন জাহান, সুভদ্রা রাণী তালুকদার, আফিয়া বেগম ও দিলোয়ার হোসেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন হাজেরা বেগম ও কাওসার আহমদ।

বক্তারা কলেজের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম আকরাম আলী, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মইজ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল খালিক, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মাহমুদা বেগম এবং সাবেক অধ্যক্ষ নেছার আহমদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন, কলেজের শিক্ষা বিস্তার ও অগ্রযাত্রায় প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের কর্মনিষ্ঠা, আদর্শ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ শুধু অবকাঠামো কিংবা সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়; বরং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং সমাজে প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক অবদান।

তিনি প্রয়াত শিক্ষকদের আদর্শ ও কর্মনিষ্ঠা অনুসরণ করে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও গৌরবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কলেজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব।

তিনি প্রয়াত শিক্ষকদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের অবদান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী কাওসার আহমদ এবং গীতা পাঠ করেন শিল্পী মালাকার।

আলোচনা সভা শেষে রামপাশা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ আব্দাল হোসাইন দোয়া পরিচালনা করেন। এ সময় প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাওসার আহমদ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন। পরে শিক্ষিকা নাসরিন জাহান ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে বাউলসম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান পরিবেশন করেন।

স্মৃতিচারণ, সংগীত পরিবেশনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। প্রয়াত শিক্ষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কলেজের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।