আজকের সময়ের সেরা খবর
বাংলাদেশ বিদু‌্যত উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরীর আবেদন

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সাহায্যকারী’ পদে ১ হাজার ৫৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হবে ২৪ নভেম্বর।

চাকরির বিবরণ

পদের নাম: সাহায্যকারী

পদসংখ্যা: ১৫৯৬

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/সমমান বা সরকার অনুমোদিত কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি সমমানের কারিগরি ট্রেড কোর্স পাস। কোনো পরীক্ষাতেই দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি/সমমানের জিপিএ/সিজিপিএর নিচে নয়।

গ্রেড: ১৯

বেতন স্কেল: ৮,৫০০-২০,৫৭০ টাকা।

বয়সসীমা

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১৮-৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম

পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি এই লিংকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন।

আবেদন ফি

পরীক্ষার ফি বাবদ বাবদ ৫০ টাকা, টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

*আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টা।

*আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫টা।

শর্তগুলো

১. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে নিয়োগের পর ২ বছর সময়ের মধ্যে তারা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। ওই প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী তাঁদের সাহায্যকারীর শূন্য পদের বিপরীতে নিয়মিত নিয়োগ প্রদান করা হবে।

২. প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র প্রেরণ করতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদির মূল কপি ও ১ সেট সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।

৩. লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না।

*বিজ্ঞপ্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট www.bpdb.gov.bd এবং http://bpdb.teletalk.com.bd এ দেখা যাবে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

এই সময় ডেস্ক:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে কোর্স–২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, “দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।”

তিনি জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমি তাদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।”

এবারের কোর্সে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ ২৪টি দেশের মোট ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসার অংশ নেন। কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা জানান, অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে তাদেরকে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশি এক অফিসার বলেন, “ডিএসসিএসসির নেতৃত্ব ও কৌশল প্রশিক্ষণ আমাদেরকে দেশ-বিদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকটে এ জ্ঞান প্রয়োগে আমরা প্রস্তুত।”

চীনের এক অফিসার মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছে।”

বাংলাদেশি আরেক অফিসার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ভূমিকা রাখব।”

ধ্বংসের মুখে হাছন রাজার বাড়ি, পুনর্গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন উত্তরাধিকারীরা

সালেহ আহমদ সাকী
‘লোকে বলে, বলেরে ঘর-বাড়ি ভালা না আমার, জানতো যদি হাছন রাজা বাঁচব কতদিন, বানাইতো দালান-কোঠা করিয়া রঙিন।’
মরমি কবি হাছন রাজার এই অমর পঙ্ক্তি যেন আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরই জন্মভিটায়। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সেই বাড়িটি আজো রয়েছে জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশায়।
বিলুপ্তির পথে হাছন রাজার শতবর্ষ পুরনো এই বাড়ি এখনো টানে হাজারো পর্যটককে। কিন্তু ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় থাকা বাড়িটি দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান অনেকে। তবে এবার আশার আলো দেখাচ্ছেন হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ । তারা আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর আয়োজনে ‘হাছন উৎসব’ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এব্যপারে হাছন রাজার উত্তরাধিকারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরীও
হাছন রাজার বাড়িটি সংস্কার করে লাইব্রেরি, মিউজিয়াম ও সুফিবাদ দর্শনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এতে হাছন রাজার দর্শন, জীবনবোধ ও লোকসংগীতচর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্ম নেন মরমি কবি হাছন রাজা। ১৮৬৯ সালে তার পিতা আলী রাজার মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তার বড় ভাই ওবায়দুর রেজা মারা যান। পিতা ও ভাইয়ের জমিদারিস্থল রামপাশায় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই হাছন জমিদারিতে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। অপরিপক্ব বয়সে লক্ষনশ্রী ও রামপাশার বিশাল জমিদারির একক আধিপত্য পেয়ে হাছন রাজা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগ-বিলাসী এক শৌখিন জমিদার। বর্ষায় বজরা নৌকা সাজিয়ে গান-বাজনায় ঘুরে বেড়াতেন। বিলাসী জীবনের মাঝে আধ্যাত্মিক বোধের জন্ম নেয় তার মনে। জমিদারির বিলাসী পোশাক ছেড়ে নেন সাধারণ পোশাক। তিনি জমিদার থেকে হয়ে ওঠেন এক সুফি সাধক । বাউল জীবন বেছে নিয়ে একের পর এক গান রচনা করতে থাকেন। তাঁর গান আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত।
সরেজমিন দেখা যায়, রামপাশার ঐতিহাসিক বাড়িটিতে এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগাছায় ঢাকা জায়গায় রয়েছে দুটি জরাজীর্ণ কক্ষ, একটি ছাদবিহীন ঘর ও লতাগুল্মে ঘেরা ভাঙা দেয়াল। রয়েছে জমিদার আমলের বিশাল দীঘি ও রাজপরিবারের পুরনো কবরস্থান।
বছরজুড়ে দেশ-বিদেশ থেকে হাছন অনুরাগীরা বাড়িটি দেখতে এলেও, সংরক্ষণের অভাবে সেটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ হাছন রাজার শেষ স্মৃতিচিহ্নটি রক্ষায় কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি।

হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী বলেন, “হাছন রাজার সুফিবাদ ও মরমি দর্শন, সৃষ্টিকর্তা ও পরকালকেন্দ্রীক দর্শনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আমরা আয়োজন করছি হাছন স্মরণোৎসব। এটি হবে বাঙালি লোকসংস্কৃতির এক নবজাগরণের উৎসব।”
এব্যপারে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু বলেন “হাছন রাজার গান, ভাবনা ও দার্শনিক চেতনা গবেষণা, চর্চা ও প্রকাশে সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। গ্রামীণ সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোতে হাছনের গান নিয়মিত পরিবেশিত হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজের শিকড়কে চিনতে পারে।”

বিশ্বনাথ থিয়েটারের সভাপতি ও চাউলধনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনহার আলী বলেন, “লোকসংগীতের মূল সূর, হাছনের ভাব ও তাঁর সহজ সরল জীবনের দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। হাছন উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি সংস্কৃতি জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠবে।”


যে কবি নিজেই বলেছিলেন, ‘ঘরবাড়ি ভালা না আমার’, শত বছর পর তাঁর সেই কথাই যেন বাস্তবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তবে উত্তরসূরি ও সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে যদি এবার সংস্কারের কাজ সফল হয়, তবে হয়তো আবারও রামপাশা গ্রাম ভরে উঠবে হাছনের গানে, দর্শনে ও লোকসংস্কৃতির আলোয়।

জাপানের ওইতায় ভয়াবহ অ গ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল ১৭০টির বেশি ভবন, নিখোঁজ ১

এই সময় ডেস্ক:
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ওইতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭০টিরও বেশি ভবন পুড়ে গেছে। আগুন রাতভর জ্বলতে থাকার পরও স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওইতা শহরের সাগানোসেকি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৭৫ বাসিন্দাকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এখনো একজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে—শহরজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া, পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ এবং আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের ছুটোছুটি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওইতা প্রিফেকচারের অনুরোধে একটি সামরিক অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

কিউশু দ্বীপে অবস্থিত পাহাড়ঘেরা উপকূলীয় শহর ওইতা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি সাগানোসেকি মৎস্যবন্দর এবং উচ্চমানের ম্যাকারেল মাছের উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।

সিলেটে মাদরাসাছাত্র অপহরণচেষ্টা: প্রাইভেটকার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, যুবক আটক

এই সময় ডেস্ক:
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নবাবরোড এলাকায় প্রাইভেটকার থেকে এক মাদরাসাছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় লামাবাজার ফাঁড়ি পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পুলিশ অভিযানে নামে।

আটককৃত যুবক হলেন সিলেট মহানগরীর লালাদিঘীর এলাকার আলিম মিয়ার ছেলে হিসাম আহমদ (২০)।

পুলিশ সূত্র জানায়, লামাবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলী খানের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে অপহরণচেষ্টার ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লালাদিঘীরপারের মাহমুদ ভিলা-৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে হিসাম আহমদকে আটক করা হয়।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অপহরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও পুলিশ বলছে, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২২ বছরের দুঃস্বপ্নের অবসান: মোরসালিনের জয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

এই সময় ডেস্ক:
২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ ফুটবল দল। ঘরের মাঠে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেই ‘মরীচিকার জয়’কে এবার বাস্তবে রূপ দিলেন হামজা চৌধুরী ও শেখ মোরসালিনরা। জাতীয় স্টেডিয়ামে যেন উৎসবের বন্যা বয়ে গেল মোরসালিনের জয়সূচক গোলের পর।

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতের বিপক্ষে জয় ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য। সেই স্মৃতিকে পাতায় পরিণত করে আজ নতুন ইতিহাস লিখেছে জামাল ভূঁইয়ারা।

চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারলেও ভারতের বিপক্ষে ফিরে এসে বাজিমাত করেন মোরসালিন। ম্যাচের ১১ মিনিটে রাকিব হোসেনের দুর্দান্ত পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ফিনিশিং—ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের সপ্তম গোল। গোল হওয়ার পর পুরো স্টেডিয়ামের ২৩ হাজার ৭১২ দর্শক একসাথে উল্লাসে ফেটে পড়ে।

রাকিবের দারুণ পাসটি আসে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতির ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার পর। বাংলাদেশ গোলের পর আরও কয়েকটি আক্রমণের চেষ্টা করলেও তেমন বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

৩১ মিনিটে ভারতের সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেও শেষ মুহূর্তে হেডে বল ক্লিয়ার করে দলকে বাঁচান হামজা চৌধুরী। ৪২ মিনিটে হামজার নেয়া দুর্দান্ত ভলিও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণ—সব জায়গায় অবদান রেখেছেন লেস্টার সিটির এই তারকা।

বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের চাপ মোকাবিলা করে খেলে। অর্ধের শুরুর পাঁচ মিনিটেই দুইবার গোলের কাছে গিয়েছিল ভারত, তবে শেষ মুহূর্তে বল বাইরে যায়।

৭০ মিনিটে মোহাম্মেদ সানানের নেওয়া জোরালো শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন মিতুল। যোগ করা সময়ে আবারও দুর্দান্ত সেভে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

তবু শেষ বাঁশি বাজতেই পুরো স্টেডিয়াম, খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফরা আনন্দে ভাসেন। ২২ বছরের প্রতীক্ষা শেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পঞ্চম ম্যাচে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

অবৈধ পাথর মজুদ: কোম্পানীগঞ্জে পাঁচজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড

এই সময় ডেস্ক:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ্ আরফিন টিলা এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ক্রয় ও মজুদ করার অভিযোগে পাঁচজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার ডাকঘরের পাশে একটি ক্রাশার মিলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

অভিযানে ক্রাশার মিলের ম্যানেজারসহ মোট ছয়জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে তদন্তে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বাকি পাঁচজনকে মোবাইল কোর্ট ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুনসুর আহমেদ (২৭) ও কামরুল হাসান (৩১), কোম্পানীগঞ্জের মহিবুর রহমান (২৭), নেত্রকোনার সিদ্দিক মিয়া (৫৩) এবং গোয়াইনঘাটের ময়না মিয়া (৫০)।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজনকে ইতোমধ্যে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ এলাকা থেকে উত্তোলিত পাথর যার ক্রাশার মিলেই পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

হবিগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় ৭২ ঘণ্টায় আসামি গ্রে ফ তার

এই সময় ডেস্ক:

হবিগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রে ফ তা র করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ভিকটিম হবিগঞ্জ সদর থানার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে ভিকটিমের মা তাকে বাড়িতে রেখে স্কুলে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় মায়ের কাছে মেয়েটি ইশারায় জানায়, পাশের একটি বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সত্যতা যাচাইয়ে ভিকটিমকে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে গেলে সে আসামিকে শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-৪ এর যৌথ দল ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার বউ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র আসামি রনদীর গোপ (৪৫) কে গ্রেফতার করে। তিনি নবীগঞ্জের ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত মনিন্দ্র গোপের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হবিগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির

এই সময় ডেস্ক:
জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA)। সোমবার রাতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এজেন্সির মতে, এসব বক্তব্যে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার মতো মন্তব্য রয়েছে, এমনকি সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি উসকানি বা আহ্বানও দেখা যাচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের এ ধরনের বক্তব্য প্রচার আইনসম্মত নয় বলে উল্লেখ করে এজেন্সি জানায়—অধ্যাদেশের ধারা ৮(২) অনুযায়ী, দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী তথ্য ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশ হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অপসারণ বা ব্লক করতে পারে।

এছাড়া, ধারা ২৬ (১) অনুযায়ী, ছদ্ম পরিচয় বা অবৈধ উপায়ে ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষ বা সহিংসতা প্ররোচনাকারী বক্তব্য প্রচার করা অপরাধ। ধারা ২৬ (২)-তে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতা ও ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সম্মান জানালেও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার গণমাধ্যমের জন্য আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই গণমাধ্যমকে সতর্ক থেকে এ ধরনের কনটেন্ট প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।

সৌদিতে মক্কা–মদিনা মহাসড়কে ভয়াবহ দু র্ঘ টনা: তেলেঙ্গানার ৪২ ওমরাহযাত্রী নি হ ত

এই সময় ডেস্ক:
সৌদি আরবে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে একটি ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ভয়াবহ দু র্ঘ ট না ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী। সোমবার স্থানীয় সময় ভোররাতের দিকে এ দু র্ঘ ট না ঘটে।

নিহতরা সবাই ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ছিলেন। নি হ ত দের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৪২ জন নিহতের মধ্যে ২০ জন নারী এবং ১১ জন শিশু।

জানা গেছে, ওমরাহ পালন শেষে যাত্রীরা মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাস্থলে সৌদি সিভিল ডিফেন্স, হাইওয়ে পেট্রোল ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ভারতজুড়ে শোক নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে তেলেঙ্গানা সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।