আজকের সময়ের সেরা খবর
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনা আপিলের রায় কাল

এই সময় ডেস্ক:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিষয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে সৃষ্ট আপিলের রায় আগামী কাল (২০ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। গত ১১ নভেম্বর টানা দশ দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।

বহুল আলোচিত এই মামলায় বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামী’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সংযুক্ত করে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ৩০ জুন এবং একই বছরের ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক এবং আরও একজন ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। ওই রিভিউ আবেদন থেকেই সৃষ্ট আপিল শুনানির জন্য আদালত গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।

এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করেন।

আজকের রায় দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


সূত্র: বাসস

ভারতীয় ব্যবসায়িক ভিসা পুনরায় চালু: জরুরি আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণ

এই সময় ডেস্ক:
সীমিত জনবল ও সক্ষমতার মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে ভারতীয় হাইকমিশন। জরুরি প্রয়োজনের আবেদনের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠান ‘ফার্মা কানেক্ট’–এ তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ভিসা পেতে যে জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সড়কপথে পণ্য পরিবহন আরও সহজীকরণের দাবি তোলেন অংশগ্রহণকারীরা।

ভারতের আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল মেলা সিপিএইচআই–পিএমইসি ইন্ডিয়া ২০২৫–এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়। আগামী ২৫-২৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রদর্শনী।

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে সীমিত জনবল দিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিসা পুনরায় ইস্যু করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ব্যবসায়িক ভিসা এখন আবার ইস্যু করা হচ্ছে এবং জরুরি আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আবেদনকারীরা হাইকমিশনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুবিধা পাবেন বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফার্মা কানেক্টের মতো উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা সহযোগিতা ও সাপ্লাই চেইন সংযুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে কাঁচামাল শিল্প বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর ভারত এ ক্ষেত্রে আরও অগ্রসর। স্থলসীমান্ত থাকার কারণে ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করলে বাংলাদেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে।

অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. জাকির হোসেন বলেন, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর সিপিএইচআই–পিএমইসি প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে খুব কমসংখ্যক প্রতিনিধি যাচ্ছেন। সাধারণত কয়েকশ পেশাজীবী অংশ নিলেও এবার মাত্র ৮৩ জন আবেদন করেছেন। ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আবেদনকারীদের বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ বিদু‌্যত উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরীর আবেদন

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সাহায্যকারী’ পদে ১ হাজার ৫৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হবে ২৪ নভেম্বর।

চাকরির বিবরণ

পদের নাম: সাহায্যকারী

পদসংখ্যা: ১৫৯৬

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/সমমান বা সরকার অনুমোদিত কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি সমমানের কারিগরি ট্রেড কোর্স পাস। কোনো পরীক্ষাতেই দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি/সমমানের জিপিএ/সিজিপিএর নিচে নয়।

গ্রেড: ১৯

বেতন স্কেল: ৮,৫০০-২০,৫৭০ টাকা।

বয়সসীমা

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১৮-৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম

পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি এই লিংকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন।

আবেদন ফি

পরীক্ষার ফি বাবদ বাবদ ৫০ টাকা, টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

*আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টা।

*আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫টা।

শর্তগুলো

১. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে নিয়োগের পর ২ বছর সময়ের মধ্যে তারা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। ওই প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী তাঁদের সাহায্যকারীর শূন্য পদের বিপরীতে নিয়মিত নিয়োগ প্রদান করা হবে।

২. প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র প্রেরণ করতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদির মূল কপি ও ১ সেট সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।

৩. লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না।

*বিজ্ঞপ্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট www.bpdb.gov.bd এবং http://bpdb.teletalk.com.bd এ দেখা যাবে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

এই সময় ডেস্ক:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে কোর্স–২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, “দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।”

তিনি জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমি তাদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।”

এবারের কোর্সে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ ২৪টি দেশের মোট ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসার অংশ নেন। কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা জানান, অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে তাদেরকে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশি এক অফিসার বলেন, “ডিএসসিএসসির নেতৃত্ব ও কৌশল প্রশিক্ষণ আমাদেরকে দেশ-বিদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকটে এ জ্ঞান প্রয়োগে আমরা প্রস্তুত।”

চীনের এক অফিসার মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছে।”

বাংলাদেশি আরেক অফিসার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ভূমিকা রাখব।”

ধ্বংসের মুখে হাছন রাজার বাড়ি, পুনর্গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন উত্তরাধিকারীরা

সালেহ আহমদ সাকী
‘লোকে বলে, বলেরে ঘর-বাড়ি ভালা না আমার, জানতো যদি হাছন রাজা বাঁচব কতদিন, বানাইতো দালান-কোঠা করিয়া রঙিন।’
মরমি কবি হাছন রাজার এই অমর পঙ্ক্তি যেন আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরই জন্মভিটায়। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সেই বাড়িটি আজো রয়েছে জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশায়।
বিলুপ্তির পথে হাছন রাজার শতবর্ষ পুরনো এই বাড়ি এখনো টানে হাজারো পর্যটককে। কিন্তু ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় থাকা বাড়িটি দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান অনেকে। তবে এবার আশার আলো দেখাচ্ছেন হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ । তারা আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর আয়োজনে ‘হাছন উৎসব’ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এব্যপারে হাছন রাজার উত্তরাধিকারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরীও
হাছন রাজার বাড়িটি সংস্কার করে লাইব্রেরি, মিউজিয়াম ও সুফিবাদ দর্শনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এতে হাছন রাজার দর্শন, জীবনবোধ ও লোকসংগীতচর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্ম নেন মরমি কবি হাছন রাজা। ১৮৬৯ সালে তার পিতা আলী রাজার মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তার বড় ভাই ওবায়দুর রেজা মারা যান। পিতা ও ভাইয়ের জমিদারিস্থল রামপাশায় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই হাছন জমিদারিতে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। অপরিপক্ব বয়সে লক্ষনশ্রী ও রামপাশার বিশাল জমিদারির একক আধিপত্য পেয়ে হাছন রাজা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগ-বিলাসী এক শৌখিন জমিদার। বর্ষায় বজরা নৌকা সাজিয়ে গান-বাজনায় ঘুরে বেড়াতেন। বিলাসী জীবনের মাঝে আধ্যাত্মিক বোধের জন্ম নেয় তার মনে। জমিদারির বিলাসী পোশাক ছেড়ে নেন সাধারণ পোশাক। তিনি জমিদার থেকে হয়ে ওঠেন এক সুফি সাধক । বাউল জীবন বেছে নিয়ে একের পর এক গান রচনা করতে থাকেন। তাঁর গান আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত।
সরেজমিন দেখা যায়, রামপাশার ঐতিহাসিক বাড়িটিতে এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগাছায় ঢাকা জায়গায় রয়েছে দুটি জরাজীর্ণ কক্ষ, একটি ছাদবিহীন ঘর ও লতাগুল্মে ঘেরা ভাঙা দেয়াল। রয়েছে জমিদার আমলের বিশাল দীঘি ও রাজপরিবারের পুরনো কবরস্থান।
বছরজুড়ে দেশ-বিদেশ থেকে হাছন অনুরাগীরা বাড়িটি দেখতে এলেও, সংরক্ষণের অভাবে সেটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ হাছন রাজার শেষ স্মৃতিচিহ্নটি রক্ষায় কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি।

হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী বলেন, “হাছন রাজার সুফিবাদ ও মরমি দর্শন, সৃষ্টিকর্তা ও পরকালকেন্দ্রীক দর্শনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আমরা আয়োজন করছি হাছন স্মরণোৎসব। এটি হবে বাঙালি লোকসংস্কৃতির এক নবজাগরণের উৎসব।”
এব্যপারে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু বলেন “হাছন রাজার গান, ভাবনা ও দার্শনিক চেতনা গবেষণা, চর্চা ও প্রকাশে সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। গ্রামীণ সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোতে হাছনের গান নিয়মিত পরিবেশিত হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজের শিকড়কে চিনতে পারে।”

বিশ্বনাথ থিয়েটারের সভাপতি ও চাউলধনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনহার আলী বলেন, “লোকসংগীতের মূল সূর, হাছনের ভাব ও তাঁর সহজ সরল জীবনের দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। হাছন উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি সংস্কৃতি জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠবে।”


যে কবি নিজেই বলেছিলেন, ‘ঘরবাড়ি ভালা না আমার’, শত বছর পর তাঁর সেই কথাই যেন বাস্তবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তবে উত্তরসূরি ও সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে যদি এবার সংস্কারের কাজ সফল হয়, তবে হয়তো আবারও রামপাশা গ্রাম ভরে উঠবে হাছনের গানে, দর্শনে ও লোকসংস্কৃতির আলোয়।

জাপানের ওইতায় ভয়াবহ অ গ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল ১৭০টির বেশি ভবন, নিখোঁজ ১

এই সময় ডেস্ক:
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ওইতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭০টিরও বেশি ভবন পুড়ে গেছে। আগুন রাতভর জ্বলতে থাকার পরও স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওইতা শহরের সাগানোসেকি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৭৫ বাসিন্দাকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এখনো একজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে—শহরজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া, পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ এবং আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের ছুটোছুটি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওইতা প্রিফেকচারের অনুরোধে একটি সামরিক অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

কিউশু দ্বীপে অবস্থিত পাহাড়ঘেরা উপকূলীয় শহর ওইতা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি সাগানোসেকি মৎস্যবন্দর এবং উচ্চমানের ম্যাকারেল মাছের উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।

সিলেটে মাদরাসাছাত্র অপহরণচেষ্টা: প্রাইভেটকার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, যুবক আটক

এই সময় ডেস্ক:
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নবাবরোড এলাকায় প্রাইভেটকার থেকে এক মাদরাসাছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় লামাবাজার ফাঁড়ি পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পুলিশ অভিযানে নামে।

আটককৃত যুবক হলেন সিলেট মহানগরীর লালাদিঘীর এলাকার আলিম মিয়ার ছেলে হিসাম আহমদ (২০)।

পুলিশ সূত্র জানায়, লামাবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলী খানের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে অপহরণচেষ্টার ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লালাদিঘীরপারের মাহমুদ ভিলা-৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে হিসাম আহমদকে আটক করা হয়।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অপহরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও পুলিশ বলছে, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।