আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন: সোনালি শীষে ভরে উঠেছে মাঠপ্রান্তর, কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক


সালেহ আহমদ সাকী
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন আনন্দ–উৎসবের আমেজ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বাতাসে ভাসছে নতুন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। চারদিকে শুধু সোনালি রঙের শীষের সমাহার। হাওর, বিল, উঁচুনিচু জমি সবখানেই এখন ধানের সমারোহ। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে হাওরের বিশাল অংশে ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। তবে শ্রমিক সংকট থাকার কারণে এবার কৃষকদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন। যন্ত্রের সহায়তায় তারা সময়মতো ধান কেটে বাড়িতে তুলতে পারছেন। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের গোলায় উঠবে এই ফসল, আর হেমন্তের আগমনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নবান্নের আমেজ, ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধান দিয়ে পিঠা তৈরির উৎসব।
বিশ্বনাথ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন সত্যিই বাম্পার হয়েছে। আগাম জাতের কিছু ধান পেকে যাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে কাটা শুরু করেছেন। তবে প্রধান আবাদি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, ভালো আবহাওয়া, বৃষ্টি কম হওয়া, রোগবালাই কম দেখা দেওয়া এবং কৃষকদের সময়মতো পরিচর্যা সব মিলিয়ে এ বছর ফলন অতীতের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।

Biswanath Pic 03


হাটবাজার গুলোতেও এখন নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। সবচেয়ে আশার খবর হলো বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া আগাম ধান কেটে ফেলার ফলে একই জমিতে দ্রুত রবি ফসল যেমন সরিষা, সবজি, ভুট্টা ইত্যাদি আবাদ করতে পারবেন কৃষকেরা।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে ১৭,২০৫ হেক্টর। তার মধ্যে সাধারণত প্রতিবছর ১৭৮ হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। রোর মৌসুমে পতিত জমি: ৬,৫২৫ হেক্টর, আমন মৌসুমে পতিত জমি: ৩,৫০০ হেক্টর, তবে এ বছর আমন চাষ হয়েছে বড় পরিসরে ১৩,২৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টরে হাইব্রিড আমন ধান চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত: ব্রি ধান ১০৩, ব্রি ধান ৯৫, ব্রি ধান ৯৪, ব্রি ধান ৯৩, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৪৯,বিআর ২২, বি আর ২৩, বিনা ধান ৭, বিনা ধান ১৭ উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ব্রি ধান ১০৩ ও ব্রি ধান ৪৯ অন্যান্য ধানের তুলনায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ মৌসুমে ধানের গড় ফলন দাঁড়িয়েছে হেক্টরপ্রতি ২.৮০ মেট্রিক টন চাউল, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে উপজেলায় খাদ্যঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামের পর গ্রামজুড়ে এখন ধান শুকানোর ব্যস্ততা। গোলা, খলা, আঙিনা, যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই নতুন ধান ছড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। সোনালি রঙের ধানের স্তূপ আর শুকাতে দেওয়া ধানের সারি যেন কৃষকদের বছরের পরিশ্রমের সাক্ষ বহন করছে।
দেওকলস ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক আখতার হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৪০ কেদার জমিতে আমন চাষ করেছেন, যার মধ্যে ব্রি ধান ৪৯ জাতের ধানের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর তিনি সরিষা চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কজাকাবাদ গ্রামের হাজী আবুল মনছুর খান বলেন, “এবার ফলন এমন হয়েছে যে চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রমিক কম থাকলেও মেশিনের সাহায্যে ঠিকমতো ধান তুলতে পারছি।”
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বছর খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সন্তুষ্ট।
তিনি জানান, রবি মৌসুমে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৩০০ হেক্টর। এ মৌসুমে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮২০ হেক্টর।
এবার এসব জমিতে ধান, সরিষা, শাকসবজি, ভূট্টা এবং আরও বিভিন্ন উচ্চমূল্যের রবি ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাঠজুড়ে সোনালি শীষের সমারোহ, আকাশে ভেসে বেড়ানো ধানের গন্ধ এবং কৃষকদের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে বিশ্বনাথ এখন এক উৎসবের উপজেলা। আমন ধানের এ বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বস্তিই এনে দিচ্ছে না, বরং নতুন মৌসুমে আরও ফসল চাষে তাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামনে রবি মৌসুম, কৃষকদের নতুন স্বপ্ন নতুন ফসলের পথে এই সফলতার ধারাকে ধরে রাখবে এটাই সকলের কাম্য।

সিলেট–২ আসনে উন্নয়ন আর সুশাসনের অঙ্গীকার—অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বিশ্বনাথ উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নির্বাচন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলার আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর ভিশন ও জনমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসময়  তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণই হবে আমার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমার লক্ষ্য উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে বাসযোগ্য, উন্নত ও আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই আমার একমাত্র প্রতিশ্রুতি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেট-২ আসনের দুই উপজেলায় আধুনিকমানের দুটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অকার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনরায় সচল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাত্যহিক জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অধ্যাপক হান্নান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত স্থানীয় সমস্যাগুলোর দিক তুলে ধরে বলেন, “এলাকার প্রত্যেকটি সমস্যা আমি চিহ্নিত করেছি। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার টেকসই সমাধান করতে চাই। উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজের উন্নয়নের বড় শক্তি।” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির মাওলানা এইচ এম আখতার ফারুক, উপজেলার নায়েবে আমির মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির ও বিশ্বনাথ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুস সোবহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল মুকসিদ আক্তার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির উপজেলা সভাপতি আশিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্র শিবির পৌরসভার সভাপতি মতিউর রহমান ইমন, উপজেলার পশ্চিম সাথী শাখার সভাপতি শাহ হোসাইন আলী প্রমূখ।

এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, আশিক আলী, তজম্মুল আলী রাজু, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সালেহ আহমদ সাকী, রুহেল উদ্দিন, আব্বাস হোসেন ইমরান, মশিউর রহমান, আব্দুস সালাম, বদরুল ইসলাম মহসিন, আব্দুস সালাম মুন্না, তাউফিকুর রহমান হাবিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলে অধ্যাপক হান্নান সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ: বাজেটবান্ধব যেসব দেশে ঘুরে আসা সম্ভব

এইসময় ডেস্ক:

দেশ–বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সেই ইচ্ছে পূরণ করতে পারেন না। কিন্তু পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে অল্প খরচে ঘুরে দেখা যায় মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন আর অনন্য সংস্কৃতি। ভিসা ফি থেকে শুরু করে থাকা–খাওয়া, পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী হওয়ায় বাজেট ভ্রমণকারীদের কাছে এসব দেশ দ্রুত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সহজ ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপদ পরিবেশ এবং কম খরচে ঘোরাঘুরির সুযোগ দেওয়ায় ২০২৫ সালে আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণ করছে। সামান্য পরিকল্পনা ও কিছু দরকারি তথ্য আগে থেকে জেনে রাখলে খুব সহজেই তৈরি করা যায় আনন্দদায়ক ও অর্থসাশ্রয়ী একটি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—কম বাজেটে ঘুরে আসার মতো দেশগুলোর তালিকা এবং তাদের ভিসা ফি-সংক্রান্ত তথ্য।


নেপাল

আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজেটবান্ধব ভ্রমণ গন্তব্য নেপাল।
১৫ দিনের ভিসার খরচ প্রায় ৩৬০০ টাকা, ৩০ দিনের ৬০০০ টাকা, আর ৯০ দিনের ভিসা পাওয়া যায় মাত্র ১৫,০০০ টাকায়
ভিসা সম্প্রসারণও সহজ হওয়ায় হিমালয়পাড়ি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে এটি প্রথম পছন্দ।


কম্বোডিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য কম্বোডিয়া।
৩০ দিনের পর্যটক ভিসা পাওয়া যায় মাত্র ৩৬০০ টাকায়। আর ই-ভিসার খরচ প্রায় ৪২০০ টাকা
২০২৫ সালে আংকর ওয়াট মন্দির থেকে ফনমপেনের ঐতিহাসিক স্থান—সবকিছুই কম খরচে ঘুরে দেখার সুযোগ দিচ্ছে এই দেশ।


জর্ডান

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য জর্ডান।
৩০ দিনের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার খরচ প্রায় ৪০ জর্ডানীয় দিনার—বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০০০ টাকা
পেত্রার রূপ, ডেড সি-র রহস্যময়তা আর ওয়াদি রুম মরুভূমি ভ্রমণের জন্য এই খরচ যুক্তিসঙ্গত।
এ ছাড়া জর্ডান পাস নিলে অনেক সময় ভিসা ফিও মওকুফ হয়।


তানজানিয়া

আফ্রিকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বাজেটবান্ধব বিকল্প তানজানিয়া।
ভিসার খরচ প্রায় ৬১০০ টাকা, এবং এতে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়।
সেরেনগেটির সাফারি, কিলিমাঞ্জারো পর্বত কিংবা জাঞ্জিবারের নীল পানির সৈকত—সবই পাওয়া যায় তুলনামূলক কম খরচে।


উগান্ডা

আফ্রিকার আরেক সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য উগান্ডা।
৩০–৯০ দিনের পর্যটক ভিসার খরচ প্রায় ৬১০০ টাকা
পর্বতগোরিলা, সবুজ পাহাড়, জাতীয় উদ্যান এবং নীল নদের উৎস—সব মিলিয়ে উগান্ডা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি ডেস্টিনেশন। বিশেষ করে বুইন্দি ইমপেনেট্রেবল ন্যাশনাল পার্ক পর্বতগোরিলা দেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।


শেষ কথা

যারা কম বাজেটে একটি স্মরণীয় বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই দেশগুলো হতে পারে দুর্দান্ত বিকল্প। সাশ্রয়ী ভিসা ফি, স্বল্প খরচে থাকা–খাওয়া আর সহজ যাতায়াত—সব মিলিয়ে খুব অল্প টাকায় দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘুরে আসা সম্ভব এসব দেশ থেকে।

নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করায় বিএনপি আশাবাদী। তিনি জানান, সামনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানাবেন এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী নির্বাচনে যদি জনগণ সমর্থন দেয়, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কারণ দলটির সরকারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুযোগ পেলে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বিএনপি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি।

রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছিল, বিএনপি সেই অঙ্গীকার নিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রেজা কিবরিয়ার যোগদান শুধু তার নিজ এলাকায় নয়, পুরো দেশেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মেধা ও দক্ষতা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

বিশ্বনাথে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ২০২৫–২৬ মৌসুমের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌরশহরের পুরাণ বাজার এলাকার একটি মার্কেটের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের।

এসময় তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বনাথে ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঘোষিত কমিটিতে ক্রীড়া সংগঠক আমির হামজা রুকেল সভাপতি, সোহাগ মিয়া সাধারণ সম্পাদক এবং মাজহারুল ইসলাম সাব্বির পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে ক্রিকেট উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া অভিজ্ঞ ও তরুণ সংগঠকদের সমন্বয় রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন:
সহ সভাপতি: রুফু মিয়া, জহিরুল মামুন, রুকন মিয়া
সহ সাধারণ সম্পাদক: সাব্বির আহমদ
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: আবদাল হোসেন
অর্থ সম্পাদক: মাহফুজুর রহমান ইমন
প্রচার সম্পাদক: রেজুয়ান বিন-লোকমান

কমিটি ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, নির্বাচন কমিশনার তারেক আহমদ খজির, আরব শাহ, লুৎফুর রহমান জুয়েলসহ ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, বিশ্বনাথে ক্রিকেটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্যম এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরই আগামী মৌসুমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা (পশ্চিম হাটি) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি হাফেজ আব্দুল কাদির।

সভায় মাওলানা ফখরুল ইসলামকে সভাপতি, শামছুল ইসলাম জুনেদকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা ইলিয়াস উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
সহ সভাপতি: ক্বারী ইরশাদ হোসেন, মাওলানা হেলাল আহমদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান। সহ সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল আলীম, হাফেজ আব্দুল কাদির। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: মাওলানা জয়নাল আবেদীন। অর্থ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল হামিদ তানজিম। প্রচার সম্পাদক: মাওলানা মুশাররফ হোসেন সিরাজী। সহ প্রচার সম্পাদক: হাফেজ নূর মিয়া
অফিস সম্পাদক: মাওলানা আমির উদ্দিন। সহ অফিস সম্পাদক: হাফেজ শাহজাহান মিয়া
সাহিত্য সম্পাদক: মাওলানা রুহুল আমিন। সহ সাহিত্য সম্পাদক: হাফেজ নাজমুল ইসলাম
সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মাওলানা সালেহ আহমদ।

সোসাইটির উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ আব্দুল কাদির ও মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নতুন কমিটি আগামীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

বিশ্বনাথে ড. ক্বাসিমীর উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ! মানবিক সহায়তায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী এই শিক্ষাবিদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমীর পক্ষ থেকে শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার এই আয়োজনে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌর শহরের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কার্যালয়, রামপাশা ইউনিয়নের মাঝপাড়া জামে মসজিদ এবং দশঘর ইউনিয়নের পিরের বাজার এলাকায় তিন দফায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল—চাল, ডাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ, যা সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর জন্য বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন নোমান আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এম. আশরাফুল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বাসিত ও ক্বারী মাওলানা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “করোনা, বন্যা কিংবা যেকোনো দুর্যোগে প্রবাস থেকে ড. ক্বাসিমী বিপুল সহযোগিতা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই সহায়তা নিজ হাতে পৌঁছে দিচ্ছি অসহায় মানুষের দ্বারে। মানবিকতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এবং আগামীতেও ইনশাআল্লাহ চলবে।”

ড. ক্বাসিমীর দীর্ঘদিনের মানবিক উদ্যোগ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় অনেকেই বলেন, প্রবাসে থেকেও তিনি সবসময় দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা সত্যিই অনুকরণীয়।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে সুবিধাভোগীদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। তারা প্রবাসী এই শিক্ষাবিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার আশা ব্যক্ত করেন।

আবুধাবির সড়কে ঝড়ল সিলেটি যুবকের প্রাণ

এইসময় ডেস্ক:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে টানা ১০ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশি প্রবাসী রুবেল আহমদ (৩৫)। শুক্রবার রাতে মাফরাক বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সিলেটের মোগলাবাজার উপজেলার কলদিয়ার চর এলাকার বাসিন্দা রুবেল প্রায় পাঁচ বছর ধরে আবুধাবিতে ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। দেশে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

গত ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে বারোটার দিকে আবুধাবির মুরুর রোডের আল বাতিন পুরনো বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোটরবাইকে খাবার ডেলিভারির কাজে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণহীন একটি পাকিস্তানি চালিত ট্রাক রুবেলের বাইকসহ আরেকটি ডেলিভারি কোম্পানির মিশরীয় রাইডারের মোটরবাইককে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মিশরীয় রাইডারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রুবেলকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ট্রাকচালককে আটক এবং ট্রাকটি জব্দ করেছে স্থানীয় পুলিশ।

বর্তমানে রুবেলের মরদেহ আবুধাবির বানিয়াস সেন্ট্রাল মর্গে রাখা হয়েছে। আমিরাতের জাতীয় দিবসের ছুটি শেষে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে তার কর্মস্থল ‘ক্লিক ডেলিভারি সার্ভিস’ কর্তৃপক্ষ।

রুবেলের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিশ্বনাথে ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমীর মানবিক উদ্যোগ: দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. লুৎফুর ক্বাসীমী। তারই ধারাবাহিকতায় শীতার্ত ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর ) বাদ জোহর বিশ্বনাথ পৌরসভার কারীকোনা এলাকার চাদের হাট রেস্টুরেন্টে এ উপহার সামগ‌্রী বিতরণ করা হয়।
মানবিক এ উদ্যোগের পুরো আয়োজন ও ব্যয়ভার বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত পদপ্রার্থী নেতা ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কঠোর শীতের এই সময়টিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই ড. ক্বাসীমীর পক্ষ থেকে এ উপহার বিতরণের আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্থানীয় সমাজকর্মী ও আয়োজকরা চালকদের হাতে রিকশার লোগো সম্বলিত টি–শার্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী মাওলানা আশরাফুল হক। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুল বাছিত।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বশীল হাফিজ মাওলানা রুহুল আমিন জাকারিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হোসাইন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, দশঘর ইউনিয়নের নির্বাহী সদস‌্য মাওলানা শেখ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত মজলিসের সদস্য মো. নোমান আহমদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, “ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার মানবিক সহায়তা এলাকায় প্রশংসনীয় উদাহরণ তৈরি করেছে। শীত মৌসুমে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিকারের মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের হাতে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
উপহার পেয়ে চালকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফুল হক।

এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টঙ্গীতে পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি

এই সময় ডেস্ক:

টঙ্গীর তুরাগ নদীর পূর্ব তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) থেকে শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে তাবলীগ জামাতের পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। মূল বিশ্ব ইজতেমা শুরুর প্রায় ৪০ দিন আগে অনুষ্ঠিত এই জোড় ইজতেমাকে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী মঙ্গলবার এ প্রস্তুতিমূলক ইজতেমার সমাপ্তি হবে।

প্রতিবছরই শুরায়ে নেজাম (মাওলানা জোবায়ের আহমেদ অনুসারী) বিশ্ব ইজতেমার আগেই এই বিশেষ আয়োজন করে আসছে। এতে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার তাবলীগ সাথী অংশ নেন এবং বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়নসহ পরবর্তী বছরের করণীয় নির্ধারণ করেন।

শুরায়ে নেজামের গণমাধ্যম মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান,
“বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়ন, নির্দেশনা গ্রহণ এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে জোড় ইজতেমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আয়োজন।”

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে আগত তাবলীগ সাথীরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের উত্তর–পূর্ব কোণে, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত টিনশেড মসজিদ এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেছেন। সেখানে স্থাপিত মিম্বার থেকে শুরায়ের মুরব্বিরা ধারাবাহিকভাবে বয়ান, নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

আয়োজকরা জানান, জোড় ইজতেমাকে ঘিরে থাকা-খাওয়া, নামাজ, খুৎবা, বয়ান, যাতায়াত ও নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন শুধুমাত্র ৩ চিল্লার সাথী এবং কমপক্ষে এক চিল্লা সময় লাগানো আলেমরা। এতে করে এর স্বতন্ত্র মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় থাকে।

জোড় ইজতেমার মাধ্যমে তাবলীগ সাথীরা সারাবছরের দাওয়াতি কাজের হিসাব পেশ করেন এবং প্রবীণ মুরব্বিদের কাছ থেকে রাহবারী নেয়ার সুযোগ পান। দাঈদের আমল, দাওয়াতের পদ্ধতি, তরতিব এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়–নিষ্করণীয় বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান উপস্থাপন করা হয়।

এদিকে, টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান,
মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের এ জোড় ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচন শেষে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রধান পর্ব আয়োজন করা হবে।