আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথের আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে পুনর্মিলনী ও প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণসভা
Spread the love

প্রয়াত শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী, প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে আলোচনা সভা ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ ময়নুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী শুয়েব আহমদ।

কলেজ ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ‍শিক্ষকবৃন্দ

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ফাহিমা বেগম শাম্মী, আমিনুল হক, নাসরিন জাহান, সুভদ্রা রাণী তালুকদার, আফিয়া বেগম ও দিলোয়ার হোসেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন হাজেরা বেগম ও কাওসার আহমদ।

বক্তারা কলেজের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম আকরাম আলী, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মইজ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল খালিক, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মাহমুদা বেগম এবং সাবেক অধ্যক্ষ নেছার আহমদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন, কলেজের শিক্ষা বিস্তার ও অগ্রযাত্রায় প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের কর্মনিষ্ঠা, আদর্শ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ শুধু অবকাঠামো কিংবা সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়; বরং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং সমাজে প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক অবদান।

তিনি প্রয়াত শিক্ষকদের আদর্শ ও কর্মনিষ্ঠা অনুসরণ করে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও গৌরবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কলেজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব।

তিনি প্রয়াত শিক্ষকদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের অবদান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী কাওসার আহমদ এবং গীতা পাঠ করেন শিল্পী মালাকার।

আলোচনা সভা শেষে রামপাশা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ আব্দাল হোসাইন দোয়া পরিচালনা করেন। এ সময় প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাওসার আহমদ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন। পরে শিক্ষিকা নাসরিন জাহান ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে বাউলসম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান পরিবেশন করেন।

স্মৃতিচারণ, সংগীত পরিবেশনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। প্রয়াত শিক্ষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কলেজের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।