আজকের সময়ের সেরা খবর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের কড়া বার্তা, পাল্টা হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

এইসময় ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরি ররিজানি তিনি দাবি করেন, গতকাল ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং তা নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত হেনেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আজ আমরা তাদের এমন শক্তিতে আঘাত করবো, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” তার এই বক্তব্য ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট **ডোনাল্ড ট্রাম্প**ও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কঠোরভাবে আঘাত হানবে।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ইরান জানিয়েছে তারা আজ ভয়াবহ আঘাত হানবে, যা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তবুও যদি তারা তা করে, তাহলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেবো, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।”

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত — যুদ্ধে উত্তেজনা তীব্র

এই সময় ডেস্ক:

রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) বিশ্ব রাজনীতি এক বড় ও চাঞ্চল্যকর অশান্তির মুখোমুখি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে ইরানি সরকারি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সূত্রে জানানো হয়েছে।

হামলা ও ঘটনাক্রম

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে “অপারেশন ইপিক ফিউরি” নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর উপরে হামলা করা। এরই মধ্যে তেহরানের খামেনির কমপ্লেক্সে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরণের ছবি প্রকাশ হয়েছে, যেখানে তার নিরাপদ বাংকারসহ ভবনের অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইহা বলে হচ্ছে যে, যুদ্ধ ও হামলার সময় খামেনি তার অফিসে ছিলেন, এবং হামলার আঘাতে তিনি গুরুতর হতাহত হয়েছেন বলে সংবাদ ঘোষণা এসেছে।

কী জানা যাচ্ছে

ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং তাকে “শহীদ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

হামলায় খামেনির সঙ্গে কিছু পারিবারিক সদস্যও নিহত হয়েছে এমন সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা বেড়ে গেছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসহ বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক দল প্রতিশোধ গ্রহণের হুমকি দিয়েছে, যেখানে তারা “খুনিদের শাস্তি” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় সংকট তৈরি করেছে। পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া, সামরিক সমর্থন ও সম্ভাব্য সংঘাতের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বিগ্ন।

ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে — কারা নেতৃত্ব গ্রহন করবে, তা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যতম বড় প্রশ্ন। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।