আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা সামাজিকভাবে সম্মানজনক হলেও বাস্তবতায় এটি সবচেয়ে কম আয়ের ও কষ্টসাধ্য পেশাগুলোর একটি। তবুও যারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তারা কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্য নয়; সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং এক ধরনের গভীর নেশা থেকেই সাংবাদিকতা করেন। তিনি বলেন, যাদের প্রধান লক্ষ্য বেশি অর্থ উপার্জন, তাদের জন্য সাংবাদিকতা উপযুক্ত পেশা নয়। কারণ এই পেশায় ত্যাগ, ধৈর্য, সততা ও আদর্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিভক্তি ও অনৈক্যের কারণে সামগ্রিকভাবে পেশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাও ব্যাহত হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা একাধিক প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনকে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক সমাজ গড়ে তুলতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তিনি সিলেট থেকেই শুরু করতে চান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ৪র্থ অভ্যন্তরীণ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাত থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।

‘গাফলা’ খেলায় চ্যাম্পিয়ন হন প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু এবং রানারআপ সুজিত দেব। ক্যারাম প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন তজম্মুল আলী রাজু ও রানারআপ প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু। লুডু খেলায় চ্যাম্পিয়ন নূর উদ্দিন এবং রানারআপ মাজহারুল ইসলাম সাব্বির। ক্রিকেট ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন জামাল মিয়া এবং ফুটবল ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন সমুজ আহমদ সায়মন।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য আবুল কালাম এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান এমএস হাউজিংয়ের পরিচালক মাসুক মিয়া ও আশিক মিয়া। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও তজম্মুল আলী রাজু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ নূর উদ্দিন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ শহিদুর রহমান, জামাল মিয়া, সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, আহমদ আলী হিরণ, আব্দুস সালাম মুন্না, সমুজ আহমদ সায়মন, সুজিত দেব, ফারুক আহমদ, মাজহারুল ইসলাম সাব্বির, শিক্ষানবিস সদস্য মোস্তাক আহমদ মোস্তফা, জাহান মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ট্রাস্টের কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মাফিজ খানের সভাপতিত্বে এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের শিক্ষক সালেহ আহমদ সাকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল গোলজার খান, ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি শরিফ উদ্দিন, সাবেক কো-অর্ডিনেটর ও ট্রাস্টি অধ্যাপক আব্দুল মতিন, ট্রাস্টি ফারুক মিয়া, বাবুল আলী এবং অভিভাবক বিলকিছ আক্তার।

সভাপতির বক্তব্যে মাফিজ খান বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রবাসীদের সহযোগিতায় এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
সেক্রেটারি জেনারেল গোলজার খান বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনে এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।
অন্যান্য বক্তারাও শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রশিক্ষণার্থী শাবলু মিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর নিশী কান্ত পাল। প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মাসুমা জাহান মুক্তা ও জাবেদুল ইসলাম জাবেদ।

শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

সিলেট-২ আসনে লুনার সমর্থনে প্রবাসীদের মতবিনিময় সভা, ধানের শীষের বিজয়ে অঙ্গীকার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনার সমর্থনে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে ধারণ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় দুইশত প্রবাসীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সিলেট-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনআরবি এলাইন্স এ বিশেষ সভার আয়োজন করে।

সভায় নির্বাচনের উদ্দেশ্যে দেশে আগত যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অন্যতম চালিকাশক্তি। সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ এবং বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন জনপদে রূপ দিতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের শক্তিই হবে এ বিজয়ের মূল প্রেরণা।”

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নিরাপদ রেমিট্যান্স প্রবাহ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে ফিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিএনপি সরকার অতীতে আন্তরিক ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী কল্যাণে বাস্তবমুখী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলজার খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজল হোসেন, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ খান, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা বশির আহমদ, আবদুল মজিদ, আবদুল কুদ্দুছ, জামাল আহমদ, সিরাজুল ইসলাম, মুমিন খান মুন্না, সেবুল মিয়া, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, আবদুল বাছিত বকুল, মাফিজ খান, বাছির খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ঘরে ঘরে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সিলেটের উন্নয়ন, প্রবাসীবান্ধব নীতি এবং ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে তাহসিনা রুশদীর লুনাই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। তাঁদের মতে, বিগত সময়ে এ আসনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি; ফলে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক ধানের শীষ।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং এম. ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ধানের শীষের বিজয় কামনা করা হয়।

প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আবেগঘন বক্তব্য এবং ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সিলেট-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁদের মতে, প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে এনআরবি কমিউনিটির সক্রিয় অবস্থান নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান লুনার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, প্রবাসীরা মনের টানে ও নাড়ীর টানে দেশে এসে নির্বাচনে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোটারদের উপস্থিতি বাড়িয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ গেইটের সামনে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লুনা বলেন, সিলেট-২ আসনটি এম. ইলিয়াস আলীর আসন এবং এ এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশনা তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে পেয়েছেন। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দেওয়ার এখনই সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি দেশের নেতৃত্বে এলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনিও সে বাস্তবায়নের অংশীদার হতে চান।

তিনি আরও বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ভোটের দিন ফজরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রভিত্তিক অবস্থান নেওয়া এবং ফলাফল ঘোষণার পর কেন্দ্র ত্যাগ করার জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা রুমেল মিয়া ও আমির আলীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খায়রুল আমিন আজাদ, উপজেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন নেতা, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রায়হান আহমদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল আহমদ।

পূর্ণার্থীদের ঢলে বিশ্বনাথে শ্রীশ্রী ঠাকুরবৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পূর্ণার্থীদের ঢলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের মিয়ারবাজারের নিকটস্থ বিষ্ণুপুর সিদ্ধ বকুলতলা ধামে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের ৩ দিনব্যাপী (৩১ জানুয়ারী, ১ ও ২ ফেব্রুয়ারী) অন্তর্ধান মহোৎসব সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূূর্ণিমা তিথিতে ওই মহোৎসব পালন করে আসছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসবে সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বী লোকজনের উপস্থিতিতে মহোৎসব এক মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরা এসে ওই মহোৎসবে যোগদান করেছেন। মনবাসনাপূরণের জন্য অনেক পূর্ণাথীই আদায় করেন নিজেদের মানস, অনেকেই আবার নতুন করে মানস করে গেছেন মহোৎসব থেকে।
জানা গেছে, চৌষট্টি মোহান্তের অন্যতম শ্রীল নারায়ন বাচস্পতির পুত্র শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় প্রায় সাড়ে ৫শত বছর পূর্বে গৌরভূমি শ্রীহট্টে আসিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে শ্রীপাট স্থাপন করে শ্রীভূমির তাপিত মানুষকে শ্রীচৈতন্যের নাম ও প্রেমের পথে সঞ্জীবিত করিয়া মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে সিদ্ধ বকুল বৃক্ষে লীন হন। তাই শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূূর্ণিমা তিথিতে ওই অন্তর্ধান মহোৎসব পালন হয়ে আসছে।
মহোৎসবস্থল পরিদর্শন করেন ও বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ আসনে ‘ধানের শীষের’ কান্ডারী তাহসিনা রুশদীর লুনার দেবর ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এবং জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম. আছকির আলী, সিলেট-২ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত ‘লাঙ্গল’প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও গণফোরাম মনোনীত ‘উদিয়মান সূর্য’ মুজিবুল হক, বিশ্বনাথ পৌর শহরস্থ রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দ্যু জ্যোতি দে, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মানিক লাল
দে, মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রদীপ কুমার দেব, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য নিশি কান্ত পাল, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিভাংশু গুন বিভু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব ‘সরকার ও প্রশাসন’সহ সমাজের সর্বমহলের সার্বিক সহযোগীতা ও উপস্থিতিতে সুষ্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রহলাদ চন্দ্র দেব ও সাধারণ সম্পাদক শংকর দাস শংকু।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ জানুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী কালাচাঁদের অর্চ্চনার মাধ্যমে মহোৎসব শুরু হয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন সমর্পন (পুর্ণা)’র মাধ্যমে শেষ হয়। রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) ব্রাক্ষমুহুর্ত থেকে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন এবং দুপুর ২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। মহোৎসবে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলার শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য সংঘের নিরঞ্জন দাস, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীশ্রী ব্রজবালক সম্প্রদায়ের বিদ্যুৎ দাস (পুলিশ), সিলেটের
বালাগঞ্জ উপজেলার মজলিসপুরের শ্রীশ্রী গোপাল সম্প্রদায়ের রুপম ধর, সিটি কর্পোরেশনের দাড়িয়াপাড়ার শ্রী চৈতন্য সম্প্রদায়ের নিশিকান্ত তালুকদার ও বিশ্বনাথ উপজেলার মদনপুরের সোনার গৌর সম্প্রদায়ের বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী।

সিলেট-২ আসনে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তাহসিনা রুশদীর লুনার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি ভোটের লড়াই নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে এবং ভোটের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। একটি অদৃশ্য শক্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো ভোটের দিন সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোট নিজে দেওয়া এবং ভোটের ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ না করা। শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, ভোটের মর্যাদা রক্ষাও আমাদের দায়িত্ব।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় বিশ্বনাথ পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষের সমর্থনে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কালিগঞ্জ বাজারে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াসপত্নী লুনা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে এম. ইলিয়াস আলীকে ভালোবেসে অনেক ভোটার ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। অনেক কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এবার সেই ভয় ভেঙে দিতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের মানুষ এম. ইলিয়াস আলীকে কতটা ভালোবাসে এবং তাঁর আদর্শকে কতটা ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, এম. ইলিয়াস আলী মাত্র পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করেছিলেন, সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিগত ১৭ বছরে কেউ রক্ষা করতে পারেনি। ইলিয়াস আলীর রাজনীতির মূল দর্শন ছিল কথা নয়, কাজ। উন্নয়নের জন্য আলাদা করে বলতে হয় না, মানুষের প্রয়োজন বুঝে উন্নয়ন আপনাআপনি হয়। সেই পরিকল্পনা আমাদের প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ-সিংগেরকাছ সড়কসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকার অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে। অনেক সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, বাকিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আছকির আলী। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর প্রতিকূল ও দমন-পীড়নের পরিবেশেও আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আর আপনারাও আমাদের পাশে ছিলেন। এম. ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর দল-মত নির্বিশেষে এই জনপদের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এম. ইলিয়াস আলী এই জনপদকে শান্তি ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে আমরা আপনাদের সামনে তাঁরই প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনাকে নিয়ে এসেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়যুক্ত করুন। জয়ী হলে এই অঞ্চলে আবারও শান্তি ফিরবে, সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।

বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. আসকির আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু, সাবেক সহ-সভাপতি তৈমূছ আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গুলজার খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, এম. ইলিয়াস আলী ও তাহসিনা রুশদীর লুনা দম্পতির ছোট ছেলে লাবীব শারার, মো. ময়নুল হক, গউচ খান, নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা এটিএম হেলাল উদ্দিন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব সুমন আহমদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল, সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান, এনামুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল, মুহিবুর রহমান বাচ্চু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহমেদ দুলাল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, প্রচার সম্পাদক দবিরুল ইসলাম মেম্বার ও দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেবল কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে-লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, বিএনপি মানেই উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেবল কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেগমপুর বাজারে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সিলেট-২ আসন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ভাঙাচোরা রাস্তা, উন্নয়নের নামে বৈষম্য আর অসমতা এই জনপদের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্র আর দেখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকার প্রতিটি রাস্তা হবে টেকসই ও মানসম্মত। গ্রাম থেকে শুরু করে হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা হবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। যুবসমাজকে আর বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাজ ও মর্যাদা।

এম. ইলিয়াস আলীর স্মৃতিচারণ করে লুনা বলেন, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি এই এলাকার ভালোবাসার নাম এবং প্রতিবাদের প্রতীক। তিনি বলেন, আজ তিনি ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী হিসেবে নয়, বরং এই এলাকার একজন সন্তান হিসেবে ভোটারদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে অন্যায়, দুঃশাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয় কিংবা লোভ নয়, ভোট দিন বিবেক দিয়ে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। বিজয় সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

জনসভায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা রাজা মিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মঈনুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. ময়নূল হকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ‌্যোগে ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও ভালোবাসার মিলনে একদিনের আনন্দভ্রমণ

সালেহ আহমদ সাকী

ব্যস্ত জীবন, প্রবাসের কর্মচাপ আর নানামুখী দায়িত্বের ভিড় ঠেলে একটি দিন নিজের করে নেওয়ার সুযোগ সবসময় আসে না। সেই সুযোগটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ থেকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

এই আনন্দ ভ্রমণের  আয়োজন করেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকশেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি বৃন্দ।  ভ্রমণে অংশগ্রহণে করেন বাংলাদেশ শাখার উপদেষ্টা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজনরা। প্রকৃতি, ইতিহাস আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মেলবন্ধনে দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য স্মৃতির পাতায়।

ইতিহাসের ছোঁয়ায় ভ্রমণের শুরু

সবুজে ঘেরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পৌঁছেই যেন ভ্রমণকারীদের মন ছুঁয়ে যায় ইতিহাসের আবহ। কারণ এখানেই অবস্থিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনা সদর দপ্তর। আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা এই ঐতিহাসিক স্থান, স্মৃতিসৌধ এবং চা বাগান এলাকা পরিদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই নীরবে শ্রদ্ধা জানান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই যুগল উপস্থিতি ভ্রমণকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

যাত্রার শুরুতেই আনন্দভ্রমণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। আবুল কালামের সুললিত কন্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত সকলের হৃদয় ছোয়ে যায়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রাণবন্ত উৎসবে। অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ, কৌতূহল আর পারস্পরিক বন্ধনের উষ্ণতা।

দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মোট ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল কোরআন তেলাওয়াত, কুইজ, সংগীত, অভিনয়, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, চেয়ার দৌড়, হাঁড়ি ভাঙা, বেলুন ফুলানো, বোতল নিক্ষেপ এবং বোতলে পানি ভরা।

আনন্দ ভ্রমণের আসল  চমক দেখান সদর ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার্ পরপর তিনিটি গান পরিবেশন করে সকলের নজর কাড়েন। বয়স, পদবি কিংবা অবস্থানের কোনো ভেদাভেদ না রেখে সবাই অংশ নেন খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে। কখনো হাসিতে, কখনো উৎসাহে, আবার কখনো প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো চা বাগান এলাকা।

প্রতিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপদের জন্য ছিল দৃষ্টিনন্দন ক্রেস্ট। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মাঝেও ছিল সমান আনন্দ, কারণ এখানে হারজিতের চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল বড় বিষয়।

আনন্দভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এই ড্রতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য ছিল নগদ অর্থ পুরস্কার। রাফেল ড্র ঘোষণার সময় একে একে নাম ডাকা হলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। ছোট এই আয়োজন সবার মুখে এনে দেয় প্রশান্ত হাসি।

দুপুরে আয়োজন করা হয় পাঁচ রকমের মুখরোচক খাবারে পরিপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ। সবুজ চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে একসাথে বসে খাবার গ্রহণের মুহূর্তগুলো ছিল ভ্রমণের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। খাবারের টেবিলে চলতে থাকে গল্প, স্মৃতিচারণ আর প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি।

এই আনন্দভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মোঃ মাফিজ খান, ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আব্দুর রহিম রঞ্জু, প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গয়াছ মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মুজিব আহমদ মনির, ট্রাস্টের ট্রাস্টি বশির উদ্দিন, হাজী ফারুক মিয়া, বাবরুল হোসেন বাবুল, মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, ফয়জুর রহমান, লিলু মিয়া, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, মোঃ আবুল কালাম, রুহেল মিয়া।

বাংলাদেশ শাখার কো-অর্ডিনেটর নিশি কান্ত পাল, এডভাইজারী কমিটির সদস্য দয়াল উদ্দিন তালুকদার, রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, কাজী মোঃ জামাল উদ্দিন, মতিউর রহমান, তজম্মুল আলী রাজু, ফখরুল ইসলাম, নবীন সুহেল, শিক্ষক মনোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রহমান, বাবুল হোসেন, আইটি শিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী ও অফিস সহকারী আল আমিনও এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন।

নানান আয়োজন, খেলাধুলা, ইতিহাস পরিদর্শন আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে কাটানো এই দিনটি অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে গেছে গভীর ছাপ। এই আনন্দভ্রমণ শুধু একটি ভ্রমণই নয়, বরং প্রবাস ও দেশের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত প্রতিফলন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—একটি দিনও যদি আন্তরিকভাবে কাটানো যায়, তা হয়ে উঠতে পারে আজীবনের স্মৃতি।

হাজী মদরিছ আলী একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র রাহাতের সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হাজী মদরিছ আলী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র মোহাম্মদ রাহাত মিয়া রাজা কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে সফলভাবে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

মোহাম্মদ রাহাত মিয়া রাজা হাজী মদরিছ আলী একাডেমির পরিচালক এবং সাতপাড়া গ্রামের আব্দুর রশীদের একমাত্র পুত্র। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী ছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিলান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পেশাগতভাবে কাজ করছেন।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার এই অর্জন ও অগ্রযাত্রায় এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রাহাত মিয়া রাজার এ সাফল্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি হাজী মদরিছ আলী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের পক্ষ থেকেও তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।

ধানের শীষে ভোট দিলে জনগণের বিজয় হবে: তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, জননেতা এম. ইলিয়াস আলীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনের কথা স্মরণ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন।

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হলে সেটি হবে জনগণের বিজয়, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিজয়। বিএনপি জনগণের দল, উন্নয়নের দল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতীক বরাদ্দের পর ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত প্রথম প্রচার মিছিল শেষে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার প্রবাসী চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলার সামনে থেকে প্রচার মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে সওজের ডাকবাংলার সামনে জড়ো হয়।

ধানের শীষের প্রচার মিছিল ও পথসভায় প্রতীকী ধানের শীষ হাতে নিয়ে মায়ের সঙ্গে উপস্থিত থেকে ভোট চান ‘ইলিয়াস-লুনা’ দম্পতির দুই পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও লাবীব শারার। এ সময় মায়ের সঙ্গে ছাদখোলা গাড়িতে ছিলেন তাঁদের একমাত্র কন্যা সায়ারা নাওয়াল।

প্রচার মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম. আছকির আলী।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রচার মিছিল ও পথসভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, প্রবাসী বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।