আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তাহসিনা রুশদীর লুনা :

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, নতুন সরকারের বয়স মাত্র কয়েকদিন হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা যে আস্থা ও প্রত্যাশা নিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আগামী পাঁচ বছর হবে উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বছর।”

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে পৌর শহরের রামসুন্দর সরকারী অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ‌্যালয়ের  মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “দল বা ক্ষমতার নাম ব্যবহার করে কেউ যেন দুর্নীতি, দখলবাজি কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন। আমরা চাই এই জনপদ হোক দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন মূলত এম. ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে। আমি সেই দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাল পুনঃখনন, রাস্তাঘাট সংস্কার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নেও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে এমন একটি জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে, যেখানে থাকবে শান্তি, মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পরিবেশ।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও জনস্বার্থের বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া ও পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এম আছকির আলী এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও ইলিয়াসপুত্র ‌ব‌্যারেস্টার আবরার ইলিয়াস অর্নব। স্বাগত বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই।

এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম এবং উপজেলা আল ইসলাহ’র সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুল ইসলাম।

দোয়া ও ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে পাওয়ার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা উলামা দলের সমন্বয়ক মাওলানা মাহমুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইফতার মাহফিলটি এলাকায় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

বিশ্বনাথে ডেফোডিল এসোসিয়েশন’র উদ্যোগে রমজানের খাদ্য বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

 সিলেট ২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ‘নিখোঁজ’ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর বলেছেন, বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশন আর্তসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীরা দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চিন্তা করে। প্রবাসীরা প্রতিটি বন্যা, খরা, মরামারি, পরিত্র রমজান মাসে অসহায় মানুষকে সহায়তা প্রদানে সব সময় এগিয়ে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। অনেক সময় প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় তাদের কর্মসূচি পালন করে থাকেন। তাদের এ অবদান সত্যিই প্রসংসার দাবী রাখে।

তিনি বৃহৎস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ও অর্থায়নে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশনের সভাপতি হোসাইন আহমদ প্রবেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলছুমা রুবি, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশনের উপদেষ্ঠা আব্দুল মান্নান রিপন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশনের উপদেষ্ঠা সামছুল ইসলাম, ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ইউকে শাখার সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আল-আমিন আসাদ, সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ইমন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক নূর উদ্দিন সামী। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সংগঠনের সদস্য জামিল আহমদ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্যের একান্ত সচিব ময়নুল হক, বিশ্বনাথ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শামছুল ইসলাম, বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশন ইউকের উপদেষ্ঠা আসাদুজামান নূর আসাদ, তজম্মুল আলী রাজু, তারেক আহমদ খজির, ইমাম উদ্দিন, শাহ আমির উদ্দিন, তানিমুল ইসলাম তামিম, খালেদ মিয়া, সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিন, বিশ্বনাথ ডেফোডিল এসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাজুল ইসলাম সাজু, দিলোয়ার হোসেন সজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাওছার আহমদ, দপ্তর সৎম্পাদক এবাদুল হক, ক্রীড়া সম্পাদক তামজিদ আহমদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সদস্য তাজুল ইসলাম, হাসান আল-মামুন, উমায়ের আহমদ, নাবেদ উমর, রাকিব আলী, সাজ্জাদুল ইসলাম সাজু, মিশকাত আল-ফাতিন, জয়নুল ইসলাম, তাহমিদ আল আবির, শরিফ উদ্দিন আহমদ, এমাদুর রহমান ইমাদ, শিমুল আহমদ, শাহ উবাইদ রহমান, নিয়াজ আহমদ নাদিম প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলার ৬০ জন মধ্যবিত্ত ও ২শত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডেফোডিল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিশ্বনাথে প্রবাসী দম্পতির উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা ইফতার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক সমাজসেবী দম্পতির উদ্যোগে অসহায় ও ভিক্ষুকদের মাঝে রান্না করা ইফতার বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫মার্চ) বিকেলে পৌর শহরের বাসিয়া সেতুর ওপর শতাধিক অসহায় ও ভিক্ষুকের মধ্যে রান্না করা ইফতার বিতরণ করা হয়। পালেরচক গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তি হাজী ছবুর আলী এবং তার সহধর্মিণী শিরিন চৌধুরী আলীর পক্ষ থেকে এ ইফতার বিতরণ করা হয়।

প্রবাসে অবস্থান করায় দম্পতির পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাদের চাচাতো ভাই কয়সর আহমদ। তিনি বলেন, রমজান মাসের পবিত্রতা ও মানবিক চেতনা থেকে প্রতি বছরই হাজী ছবুর আলী ও শিরিন চৌধুরী আলী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তাদের উদ্যোগে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রবাসে অবস্থান করেও এই দম্পতি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুছ সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর রমজান মাসে হাজী ছবুর আলী ও শিরিন চৌধুরী আলী দম্পতি এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা এবং রান্না করা ইফতার বিতরণ করে থাকেন। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও তাদের পক্ষ থেকে রমজান উপলক্ষে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্বনাথে ৪১ ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সম্মাননা প্রদান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ও পৌরসভা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে ৪১ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) বেলা ২টায় রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়-এর হলরুমে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ও পৌরসভা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের সিনিয়র ট্রাস্টি আব্দুল মজিদ। বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সমন্বয়ক নিশি কান্ত পাল’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের সিনিয়র ট্রাস্টি গৌছ আলী।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল মজিদ বলেন, সমাজে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সম্মান জানানো মানে দ্বীনের খেদমতকে সম্মান জানানো। প্রবাসে থেকেও এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধান অতিথি গৌছ আলী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে ওঠে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করেন। তাদের দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও আন্তরিকতা সমাজকে আলোকিত করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদ, হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক শিক্ষক মো. ইমাদ উদ্দিন, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারি এবং ট্রাস্টি আজিজুর রহমান মিলন। বক্তারা ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের মর্যাদা রক্ষায় সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবুল বাশার। আলোচনা শেষে ৪১ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনের প্রতিনিধিদের হাতে অতিথিবৃন্দের মাধ্যমে সম্মাননার নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

বাসিয়া নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর সদরে প্রবাহিত বাসিয়া নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক মহলেও প্রতিবাদ চলছিল। এরই প্রেক্ষাপটে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

নদীর দক্ষিণ পাড়ের টিএনটি রোড এলাকায় সম্প্রতি টিনসেডের দুটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীর দখল করে এমন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজী গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুল ইসলাম (৬৫) এবং পৌরসভার মুফতিরগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া (৬০) পৃথকভাবে এই দুটি টিনসেডের দোকানঘর নির্মাণ করেন। তবে দখল করে নির্মিত স্থাপনা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারেননি তারা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত দুটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং দখলকৃত জায়গা মুক্ত করা হয়।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদীর তীর বা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বাসিয়া নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রভাব বা পরিচয়ের জোরে সরকারি সম্পত্তি দখল করতে পারবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে বাসিয়া নদী তার আগের রূপ ও প্রবাহ ফিরে পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বনাথের উন্নয়নে নতুন বার্তা, মেয়র প্রার্থী হতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ আবুল কালাম

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজনীতিক শাহ আবুল কালাম। তিনি সদ্য বিলুপ্ত যুক্তরাজ্যের ওল্ডহ্যাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

শৈশব থেকেই পারিবারিকভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। বাবার হাত ধরেই সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে নিয়মিতভাবে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার বিষয়টিকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন।

বিশ্বনাথ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মসুলা (জানাইয়া) গ্রামের কৃতি সন্তান শাহ আবুল কালাম শাহ হাজী জামশেদ আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি শাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু দুর্যোগকালেই নয়, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং অসহায়দের নানামুখী সহযোগিতায় নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশে অবস্থানকালে তিনি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনসচেতনতা ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ সোসাইটি ইউকের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে ও প্রবাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে প্রবাসে অবস্থান করেও মোবাইল ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রবাসে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশ ও কমিউনিটি কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে সক্রিয় সম্পৃক্ততার কারণে দেশে ও বিদেশে বাঙালি সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে শক্ত অবস্থান তৈরি করায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে শাহ আবুল কালাম বলেন, “বিশ্বনাথ পৌরবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুপ্রেরণায় আমি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আমার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতাভিত্তিক একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”

বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা

দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে ছাড় নয়: এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, নিখোঁজ সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলী-এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না। দখলদারি, চাঁদাবাজি কিংবা মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা দলের কেউ হতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। দলীয় পদ-পদবী দেখিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ পাবে না। আইন মানতে হবে, আইনকে সম্মান করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে অনিয়ম করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এমপি লুনা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অত্যাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশ উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। এখন আর কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাই জনগণ যেন হয়রানির শিকার না হয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীরা দেশে এসে যেন কোনো ধরনের ঝামেলা বা দৌড়ঝাঁপ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস শহিদ এবং থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও মতামত তুলে ধরেন।

সভার শুরুতে নবনির্বাচিত এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় প্রশাসন। পরে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খননের বিকল্প নেই: তাহসিনা রুশদী লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও নিখোঁজ সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী-এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের রাজার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই মহৎ উদ্যোগ থেমে যায়। খাল-নদী ভরাট ও দখলের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়েছে। এতে কৃষি ও পরিবেশ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাল পুনঃখনন করা হলে সারা বছর পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষক তার উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবে।

লুনা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খননকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটি কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর উদ্যোগ। খাল বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের সম্পদ। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই এগিয়ে এলে একটি অঞ্চল বদলে দেওয়া সম্ভব।

ইলিয়াসপত্নী লুনা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে এম. ইলিয়াস আলীকে ভোট দিয়ে মানুষ উন্নয়নের সুফল পেয়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও শান্তির জনপদে রূপান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম রুবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএডিসি সেচ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া এবং দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সেচ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, শপথ ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

:
সিলেটের বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সংগঠন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব-এর নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে দুইটি অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়েরের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেলের পরিচালনায় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় বিদায়ী আহ্বায়ক নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথে পেশাগত নৈতিকতা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে নবগঠিত কমিটির সভাপতি এম আর টুনু তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং গণমানুষের কথা নির্ভয়ে প্রকাশ করাই একজন সাংবাদিকের প্রধান কর্তব্য। সংগঠনের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন বিদায়ী আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি রোহেল উদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল হোসেন মুন্না, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং নির্বাহী সদস্য মোশাহিদ আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনসার-ভিডিপি, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র বিশ্বনাথ জোনাল অফিস, বিশ্বনাথ পিএফজি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি-এর সভাপতিত্বে এবং প্রকৌশলী আবু সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করে। বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, থানার অফিসার ইন-চার্জ গাজী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবসহ অন্যান্য বক্তারা ভাষা শহীদদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু একটি ভাষার প্রশ্ন ছিল না, এটি ছিল আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। বর্তমান প্রজন্মকে ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে ভাষার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগেও পৃথকভাবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সার্বিকভাবে, বিশ্বনাথে পালিত শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ছিল শ্রদ্ধা, চেতনা ও অঙ্গীকারের এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই ছিল দিনের মূল বার্তা।