আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ‌্যোগে ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও ভালোবাসার মিলনে একদিনের আনন্দভ্রমণ

সালেহ আহমদ সাকী

ব্যস্ত জীবন, প্রবাসের কর্মচাপ আর নানামুখী দায়িত্বের ভিড় ঠেলে একটি দিন নিজের করে নেওয়ার সুযোগ সবসময় আসে না। সেই সুযোগটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ থেকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

এই আনন্দ ভ্রমণের  আয়োজন করেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকশেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি বৃন্দ।  ভ্রমণে অংশগ্রহণে করেন বাংলাদেশ শাখার উপদেষ্টা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজনরা। প্রকৃতি, ইতিহাস আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মেলবন্ধনে দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য স্মৃতির পাতায়।

ইতিহাসের ছোঁয়ায় ভ্রমণের শুরু

সবুজে ঘেরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পৌঁছেই যেন ভ্রমণকারীদের মন ছুঁয়ে যায় ইতিহাসের আবহ। কারণ এখানেই অবস্থিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনা সদর দপ্তর। আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা এই ঐতিহাসিক স্থান, স্মৃতিসৌধ এবং চা বাগান এলাকা পরিদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই নীরবে শ্রদ্ধা জানান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই যুগল উপস্থিতি ভ্রমণকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

যাত্রার শুরুতেই আনন্দভ্রমণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। আবুল কালামের সুললিত কন্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত সকলের হৃদয় ছোয়ে যায়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রাণবন্ত উৎসবে। অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ, কৌতূহল আর পারস্পরিক বন্ধনের উষ্ণতা।

দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মোট ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল কোরআন তেলাওয়াত, কুইজ, সংগীত, অভিনয়, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, চেয়ার দৌড়, হাঁড়ি ভাঙা, বেলুন ফুলানো, বোতল নিক্ষেপ এবং বোতলে পানি ভরা।

আনন্দ ভ্রমণের আসল  চমক দেখান সদর ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার্ পরপর তিনিটি গান পরিবেশন করে সকলের নজর কাড়েন। বয়স, পদবি কিংবা অবস্থানের কোনো ভেদাভেদ না রেখে সবাই অংশ নেন খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে। কখনো হাসিতে, কখনো উৎসাহে, আবার কখনো প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো চা বাগান এলাকা।

প্রতিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপদের জন্য ছিল দৃষ্টিনন্দন ক্রেস্ট। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মাঝেও ছিল সমান আনন্দ, কারণ এখানে হারজিতের চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল বড় বিষয়।

আনন্দভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এই ড্রতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য ছিল নগদ অর্থ পুরস্কার। রাফেল ড্র ঘোষণার সময় একে একে নাম ডাকা হলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। ছোট এই আয়োজন সবার মুখে এনে দেয় প্রশান্ত হাসি।

দুপুরে আয়োজন করা হয় পাঁচ রকমের মুখরোচক খাবারে পরিপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ। সবুজ চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে একসাথে বসে খাবার গ্রহণের মুহূর্তগুলো ছিল ভ্রমণের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। খাবারের টেবিলে চলতে থাকে গল্প, স্মৃতিচারণ আর প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি।

এই আনন্দভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মোঃ মাফিজ খান, ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আব্দুর রহিম রঞ্জু, প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গয়াছ মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মুজিব আহমদ মনির, ট্রাস্টের ট্রাস্টি বশির উদ্দিন, হাজী ফারুক মিয়া, বাবরুল হোসেন বাবুল, মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, ফয়জুর রহমান, লিলু মিয়া, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, মোঃ আবুল কালাম, রুহেল মিয়া।

বাংলাদেশ শাখার কো-অর্ডিনেটর নিশি কান্ত পাল, এডভাইজারী কমিটির সদস্য দয়াল উদ্দিন তালুকদার, রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, কাজী মোঃ জামাল উদ্দিন, মতিউর রহমান, তজম্মুল আলী রাজু, ফখরুল ইসলাম, নবীন সুহেল, শিক্ষক মনোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রহমান, বাবুল হোসেন, আইটি শিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী ও অফিস সহকারী আল আমিনও এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন।

নানান আয়োজন, খেলাধুলা, ইতিহাস পরিদর্শন আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে কাটানো এই দিনটি অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে গেছে গভীর ছাপ। এই আনন্দভ্রমণ শুধু একটি ভ্রমণই নয়, বরং প্রবাস ও দেশের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত প্রতিফলন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—একটি দিনও যদি আন্তরিকভাবে কাটানো যায়, তা হয়ে উঠতে পারে আজীবনের স্মৃতি।