আজকের সময়ের সেরা খবর
ধানের শীষে ভোট দিলে জনগণের বিজয় হবে: তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, জননেতা এম. ইলিয়াস আলীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনের কথা স্মরণ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন।

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হলে সেটি হবে জনগণের বিজয়, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিজয়। বিএনপি জনগণের দল, উন্নয়নের দল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতীক বরাদ্দের পর ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত প্রথম প্রচার মিছিল শেষে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার প্রবাসী চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলার সামনে থেকে প্রচার মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে সওজের ডাকবাংলার সামনে জড়ো হয়।

ধানের শীষের প্রচার মিছিল ও পথসভায় প্রতীকী ধানের শীষ হাতে নিয়ে মায়ের সঙ্গে উপস্থিত থেকে ভোট চান ‘ইলিয়াস-লুনা’ দম্পতির দুই পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও লাবীব শারার। এ সময় মায়ের সঙ্গে ছাদখোলা গাড়িতে ছিলেন তাঁদের একমাত্র কন্যা সায়ারা নাওয়াল।

প্রচার মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম. আছকির আলী।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রচার মিছিল ও পথসভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, প্রবাসী বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দোষারোপের রাজনীতি ছাড়তে তরুণদের পরামর্শ চান তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আয়োজিত ‘পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের ভাবনা ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের পরামর্শ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা হবে।

তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির মজুত বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের কোনো লাভ নেই। জনগণ তখন সেই দলের পাশে দাঁড়ায় না।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজির মতো সমস্যা সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, তাহলে এসব অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে বৈশ্বিকভাবে কোন কোন ভোকেশনাল দক্ষতার চাহিদা বাড়বে, তা চিহ্নিত করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানো গেলে মানসম্মত শ্রমশক্তি রফতানি সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তিনি বলেন, শুধু জেলায় জেলায় হাসপাতাল নির্মাণ করলেই টেকসই সমাধান আসে না। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। বরং হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজ্যুয়াল সংযোগের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ডিভাইস সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মা-বাবাই শিশুর প্রথম শিক্ষক: বিশ্বনাথে প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মা-বাবাই হচ্ছেন শিশুদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। শৈশব থেকেই যদি সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিক গঠনে পরিবার যথাযথ গুরুত্ব দেয়, তবে সেই শিশুর ভবিষ্যৎ অনেক বেশি আলোকিত হয়। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও সচেতন পরিবারই একটি জাতির মেরুদণ্ড গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থেই সৌভাগ্যবান। কারণ, তাদের পাশে রয়েছে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের মতো একটি মানবিক ও দূরদর্শী সংগঠন, যা আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিরলসভাবে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ট্রাস্ট যে অবদান রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া (কামিল) মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে চলতি বছরে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৬৬ জন শিক্ষার্থীকে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নগদ বৃত্তি প্রদান করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রাস্ট শিক্ষা বিস্তারে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা বিশ্বনাথসহ পুরো অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মো. মাফিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর। তিনি বলেন, প্রতি বছর গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট যদি বোর্ড পরীক্ষার আগে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক দিয়ে বিশেষ কোচিং বা ক্লাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি গোলজার খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা মো. খায়রুল ইসলাম। প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি মাওলানা আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ‌্যাপক ড. মুজিবুর রহমান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সিনিয়র ট্রাস্টি হাজী মো. রইছ আলী, আব্দুল মজিদ, বসির উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, গৌছ আলী, গৌছ খান, মাকরাম আলী আফরোজ ডিএল, মাসুক মিয়া, আব্দুন নূর, আজহার আলী, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল কুদ্দুছ, মনির আহমদ, আব্দুল গফুর, সানাম মিয়া আতিক, ফারুক মিয়া, শাহ নুরুল আলম, আলা উদ্দিন, ডাক্তার শানুর আলী মামুন, বাবরুল হোসেন বাবুল, আবুল কাশেম, মো. ইয়াহইয়া, নেছার আহমদ, নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম, সেবুল মিয়া, এখলাছুর রহমান, ফজলুর রহমান, রুহেল মিয়া, সায়েস্থা মিয়া, শাহ সাহিদুন নুর ইসলাম, এম. এ মতিন, মো. হরুফ মিয়া, সাজিদ আলী, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মিজান রহমান, শেখ হারুনুর রশীদ, এনামুর রহমান, আবুল বাসির খান, আনহার মিয়া, আব্দুল খালিক গাফফার, আব্দুল বাছিত, মিজানুর রহমান, আবুল বাসার মিয়া, মুমিন খান মুন্না, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং বিশিষ্ট মুরব্বী গোলাব খান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফিল্ড অফিসার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ও সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সদস্য, স্থানীয় অফিসের দায়িত্বশীলরা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।