আজকের সময়ের সেরা খবর
‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও—কেড়ে নিতে এলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো’—ডা. শফিকুর রহমান

এইসময় ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ডাকসু দিয়ে শুরু হয়ে জকসুতে এসে যে পরিবর্তনের বার্তা দেখা গেছে, তা আপাতত থামেনি, বরং নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মঞ্চে উঠে প্রথমেই চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অনারা গম আছন নি?’—এই আন্তরিক প্রশ্নে মুহূর্তেই জনতার সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল—আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু কেউ যদি আমার ভোট কেড়ে নিতে আসে, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দেশের মা-বোনেরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। সম্প্রতি কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। কিন্তু এতে তাদের কোনো লাভ হবে না, বরং তারা নিজেরাই বিপদে পড়বে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমি বিশ্বাস করি বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানে। আমরা, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা চাই রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ন্যায়ভিত্তিকভাবে জনগণের মধ্যে বণ্টন করতে।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, যারা ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন। এই জোট ক্ষমতায় গেলে কোনো দলীয় রাজত্ব কায়েম হবে না, পরিবারতন্ত্র চলবে না।

গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ সময় দেশে কিছুই হয়নি—এ কথা বলা ঠিক হবে না। উন্নয়ন হয়েছে। তবে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ, যারা ভোটের আগে মানুষের কাছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হওয়ার পর তারাই সুর পাল্টে ফেলেছে।

তিনি বলেন, জুলাই মাসে রাজপথে যে স্লোগান শোনা গেছে—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, সেটাই আজও জনগণের মূল দাবি। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও—এই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হতে হবে।

ভোট কেনাবেচার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে—আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই, আমরা দুর্নীতির রাজনীতি চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না, পরিবারতন্ত্রে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়।

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতে ইসলামীর আমির চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি সংসদীয় আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুত্র: বাসস

যশোরে জনসভায় ‘ভোট গণনায় দেরি’র গল্প জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র—তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

‘এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে’—এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ইদানীং একটি নতুন গল্প শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে। এই গল্প জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি অপচেষ্টা।

সোমবার যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এ দেশের মানুষ গত এক যুগ ধরে ভোট দিতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই—এ কথা ঠিক নয়। ১৯৯১ সালে মানুষ ভোট দিয়েছে, ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়েছে, ২০০১ সালেও ভোট দিয়েছে। ভোট গণনায় কত সময় লাগে, তা বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালোভাবেই জানে।

তিনি বলেন, যদি কেউ ভোট গণনায় দেরির অজুহাত তুলে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে চায়, তাহলে জনগণকেই সেই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, এই দায়িত্ব দেশের প্রতিটি নাগরিকের।

যশোর জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুপুরে উপশহর কলেজ মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। খুলনার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরের উপশহর কলেজ মাঠের পাশে অবতরণ করেন। বেলা আড়াইটার দিকে মঞ্চে ওঠেন তিনি এবং ২টা ৩৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

এক ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত যশোর সফরের শেষাংশে তারেক রহমান যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা—যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান, এসব প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি পক্ষ এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তারা দাবি করছে, নাকি তারা সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। অথচ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো অসৎ প্রস্তাব দিয়েই যদি কাজ শুরু হয়, তাহলে কীভাবে তারা সৎ শাসনের কথা বলে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তারা মিথ্যা দাবি করেছে যে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। অথচ বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, সেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। শুধু নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য তারা এখন একের পর এক মিথ্যা কথা বলছে। যারা নির্বাচনের আগেই জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পর কী করবে, তা সহজেই অনুমেয়।

তারেক রহমান বলেন, আজকে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়।

বক্তব্যে দেশ পুনর্গঠনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও নানা প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে এই অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে তিনি আখ চাষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, যশোরের উলাসী খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন জিয়াউর রহমান নিজেই। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তিনি নিজেও খাল কাটতে যশোরে আসবেন বলে ঘোষণা দেন এবং সেই কাজে সকলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রকল্প আবারও সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নারী সমাজ নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা যায়, সে ধরনের চিন্তাভাবনার কথা বলছে। সম্প্রতি সেই দলের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা শুধু অশালীনই নয়, কলঙ্কজনকও।

তিনি হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। ইসলামের ইতিহাসেই নারীর কর্মজীবনের এই দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাই কর্মজীবী নারীদের অপমান করার কোনো অধিকার কারও নেই।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম, দেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন এসেছে। আশা করেছিলাম, রাজনীতিতে শালীনতা ও জনগণের মর্যাদা রক্ষার ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, একটি রাজনৈতিক দল আবারও মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করেছে এবং তাদের ঘরের ভেতর আটকে রাখার চিন্তা সামনে আনছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশ পুনর্গঠন ও এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা আরও সহজ হবে।

এছাড়া দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পূর্ণার্থীদের ঢলে বিশ্বনাথে শ্রীশ্রী ঠাকুরবৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পূর্ণার্থীদের ঢলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের মিয়ারবাজারের নিকটস্থ বিষ্ণুপুর সিদ্ধ বকুলতলা ধামে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের ৩ দিনব্যাপী (৩১ জানুয়ারী, ১ ও ২ ফেব্রুয়ারী) অন্তর্ধান মহোৎসব সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূূর্ণিমা তিথিতে ওই মহোৎসব পালন করে আসছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসবে সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বী লোকজনের উপস্থিতিতে মহোৎসব এক মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরা এসে ওই মহোৎসবে যোগদান করেছেন। মনবাসনাপূরণের জন্য অনেক পূর্ণাথীই আদায় করেন নিজেদের মানস, অনেকেই আবার নতুন করে মানস করে গেছেন মহোৎসব থেকে।
জানা গেছে, চৌষট্টি মোহান্তের অন্যতম শ্রীল নারায়ন বাচস্পতির পুত্র শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় প্রায় সাড়ে ৫শত বছর পূর্বে গৌরভূমি শ্রীহট্টে আসিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে শ্রীপাট স্থাপন করে শ্রীভূমির তাপিত মানুষকে শ্রীচৈতন্যের নাম ও প্রেমের পথে সঞ্জীবিত করিয়া মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে সিদ্ধ বকুল বৃক্ষে লীন হন। তাই শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূূর্ণিমা তিথিতে ওই অন্তর্ধান মহোৎসব পালন হয়ে আসছে।
মহোৎসবস্থল পরিদর্শন করেন ও বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ আসনে ‘ধানের শীষের’ কান্ডারী তাহসিনা রুশদীর লুনার দেবর ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এবং জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম. আছকির আলী, সিলেট-২ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত ‘লাঙ্গল’প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও গণফোরাম মনোনীত ‘উদিয়মান সূর্য’ মুজিবুল হক, বিশ্বনাথ পৌর শহরস্থ রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দ্যু জ্যোতি দে, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মানিক লাল
দে, মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রদীপ কুমার দেব, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য নিশি কান্ত পাল, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিভাংশু গুন বিভু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব ‘সরকার ও প্রশাসন’সহ সমাজের সর্বমহলের সার্বিক সহযোগীতা ও উপস্থিতিতে সুষ্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রহলাদ চন্দ্র দেব ও সাধারণ সম্পাদক শংকর দাস শংকু।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ জানুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী কালাচাঁদের অর্চ্চনার মাধ্যমে মহোৎসব শুরু হয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন সমর্পন (পুর্ণা)’র মাধ্যমে শেষ হয়। রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) ব্রাক্ষমুহুর্ত থেকে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন এবং দুপুর ২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। মহোৎসবে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলার শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য সংঘের নিরঞ্জন দাস, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীশ্রী ব্রজবালক সম্প্রদায়ের বিদ্যুৎ দাস (পুলিশ), সিলেটের
বালাগঞ্জ উপজেলার মজলিসপুরের শ্রীশ্রী গোপাল সম্প্রদায়ের রুপম ধর, সিটি কর্পোরেশনের দাড়িয়াপাড়ার শ্রী চৈতন্য সম্প্রদায়ের নিশিকান্ত তালুকদার ও বিশ্বনাথ উপজেলার মদনপুরের সোনার গৌর সম্প্রদায়ের বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী।

সিলেট-২ আসনে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তাহসিনা রুশদীর লুনার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি ভোটের লড়াই নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে এবং ভোটের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। একটি অদৃশ্য শক্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো ভোটের দিন সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোট নিজে দেওয়া এবং ভোটের ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ না করা। শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, ভোটের মর্যাদা রক্ষাও আমাদের দায়িত্ব।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় বিশ্বনাথ পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষের সমর্থনে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কালিগঞ্জ বাজারে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াসপত্নী লুনা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে এম. ইলিয়াস আলীকে ভালোবেসে অনেক ভোটার ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। অনেক কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এবার সেই ভয় ভেঙে দিতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের মানুষ এম. ইলিয়াস আলীকে কতটা ভালোবাসে এবং তাঁর আদর্শকে কতটা ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, এম. ইলিয়াস আলী মাত্র পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করেছিলেন, সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিগত ১৭ বছরে কেউ রক্ষা করতে পারেনি। ইলিয়াস আলীর রাজনীতির মূল দর্শন ছিল কথা নয়, কাজ। উন্নয়নের জন্য আলাদা করে বলতে হয় না, মানুষের প্রয়োজন বুঝে উন্নয়ন আপনাআপনি হয়। সেই পরিকল্পনা আমাদের প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ-সিংগেরকাছ সড়কসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকার অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে। অনেক সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, বাকিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আছকির আলী। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর প্রতিকূল ও দমন-পীড়নের পরিবেশেও আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আর আপনারাও আমাদের পাশে ছিলেন। এম. ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর দল-মত নির্বিশেষে এই জনপদের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এম. ইলিয়াস আলী এই জনপদকে শান্তি ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে আমরা আপনাদের সামনে তাঁরই প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনাকে নিয়ে এসেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়যুক্ত করুন। জয়ী হলে এই অঞ্চলে আবারও শান্তি ফিরবে, সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।

বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. আসকির আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু, সাবেক সহ-সভাপতি তৈমূছ আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গুলজার খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, এম. ইলিয়াস আলী ও তাহসিনা রুশদীর লুনা দম্পতির ছোট ছেলে লাবীব শারার, মো. ময়নুল হক, গউচ খান, নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা এটিএম হেলাল উদ্দিন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব সুমন আহমদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল, সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান, এনামুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল, মুহিবুর রহমান বাচ্চু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহমেদ দুলাল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, প্রচার সম্পাদক দবিরুল ইসলাম মেম্বার ও দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।