আজকের সময়ের সেরা খবর
বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেবল কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে-লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, বিএনপি মানেই উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেবল কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেগমপুর বাজারে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সিলেট-২ আসন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ভাঙাচোরা রাস্তা, উন্নয়নের নামে বৈষম্য আর অসমতা এই জনপদের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্র আর দেখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকার প্রতিটি রাস্তা হবে টেকসই ও মানসম্মত। গ্রাম থেকে শুরু করে হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা হবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। যুবসমাজকে আর বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাজ ও মর্যাদা।

এম. ইলিয়াস আলীর স্মৃতিচারণ করে লুনা বলেন, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি এই এলাকার ভালোবাসার নাম এবং প্রতিবাদের প্রতীক। তিনি বলেন, আজ তিনি ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী হিসেবে নয়, বরং এই এলাকার একজন সন্তান হিসেবে ভোটারদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে অন্যায়, দুঃশাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয় কিংবা লোভ নয়, ভোট দিন বিবেক দিয়ে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। বিজয় সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

জনসভায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা রাজা মিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মঈনুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. ময়নূল হকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ‌্যোগে ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও ভালোবাসার মিলনে একদিনের আনন্দভ্রমণ

সালেহ আহমদ সাকী

ব্যস্ত জীবন, প্রবাসের কর্মচাপ আর নানামুখী দায়িত্বের ভিড় ঠেলে একটি দিন নিজের করে নেওয়ার সুযোগ সবসময় আসে না। সেই সুযোগটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ থেকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

এই আনন্দ ভ্রমণের  আয়োজন করেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকশেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি বৃন্দ।  ভ্রমণে অংশগ্রহণে করেন বাংলাদেশ শাখার উপদেষ্টা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজনরা। প্রকৃতি, ইতিহাস আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মেলবন্ধনে দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য স্মৃতির পাতায়।

ইতিহাসের ছোঁয়ায় ভ্রমণের শুরু

সবুজে ঘেরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পৌঁছেই যেন ভ্রমণকারীদের মন ছুঁয়ে যায় ইতিহাসের আবহ। কারণ এখানেই অবস্থিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনা সদর দপ্তর। আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা এই ঐতিহাসিক স্থান, স্মৃতিসৌধ এবং চা বাগান এলাকা পরিদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই নীরবে শ্রদ্ধা জানান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই যুগল উপস্থিতি ভ্রমণকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

যাত্রার শুরুতেই আনন্দভ্রমণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। আবুল কালামের সুললিত কন্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত সকলের হৃদয় ছোয়ে যায়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রাণবন্ত উৎসবে। অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ, কৌতূহল আর পারস্পরিক বন্ধনের উষ্ণতা।

দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মোট ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল কোরআন তেলাওয়াত, কুইজ, সংগীত, অভিনয়, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, চেয়ার দৌড়, হাঁড়ি ভাঙা, বেলুন ফুলানো, বোতল নিক্ষেপ এবং বোতলে পানি ভরা।

আনন্দ ভ্রমণের আসল  চমক দেখান সদর ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার্ পরপর তিনিটি গান পরিবেশন করে সকলের নজর কাড়েন। বয়স, পদবি কিংবা অবস্থানের কোনো ভেদাভেদ না রেখে সবাই অংশ নেন খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে। কখনো হাসিতে, কখনো উৎসাহে, আবার কখনো প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো চা বাগান এলাকা।

প্রতিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপদের জন্য ছিল দৃষ্টিনন্দন ক্রেস্ট। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মাঝেও ছিল সমান আনন্দ, কারণ এখানে হারজিতের চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল বড় বিষয়।

আনন্দভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এই ড্রতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য ছিল নগদ অর্থ পুরস্কার। রাফেল ড্র ঘোষণার সময় একে একে নাম ডাকা হলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। ছোট এই আয়োজন সবার মুখে এনে দেয় প্রশান্ত হাসি।

দুপুরে আয়োজন করা হয় পাঁচ রকমের মুখরোচক খাবারে পরিপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ। সবুজ চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে একসাথে বসে খাবার গ্রহণের মুহূর্তগুলো ছিল ভ্রমণের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। খাবারের টেবিলে চলতে থাকে গল্প, স্মৃতিচারণ আর প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি।

এই আনন্দভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মোঃ মাফিজ খান, ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আব্দুর রহিম রঞ্জু, প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গয়াছ মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মুজিব আহমদ মনির, ট্রাস্টের ট্রাস্টি বশির উদ্দিন, হাজী ফারুক মিয়া, বাবরুল হোসেন বাবুল, মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, ফয়জুর রহমান, লিলু মিয়া, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, মোঃ আবুল কালাম, রুহেল মিয়া।

বাংলাদেশ শাখার কো-অর্ডিনেটর নিশি কান্ত পাল, এডভাইজারী কমিটির সদস্য দয়াল উদ্দিন তালুকদার, রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, কাজী মোঃ জামাল উদ্দিন, মতিউর রহমান, তজম্মুল আলী রাজু, ফখরুল ইসলাম, নবীন সুহেল, শিক্ষক মনোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রহমান, বাবুল হোসেন, আইটি শিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী ও অফিস সহকারী আল আমিনও এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন।

নানান আয়োজন, খেলাধুলা, ইতিহাস পরিদর্শন আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে কাটানো এই দিনটি অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে গেছে গভীর ছাপ। এই আনন্দভ্রমণ শুধু একটি ভ্রমণই নয়, বরং প্রবাস ও দেশের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত প্রতিফলন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—একটি দিনও যদি আন্তরিকভাবে কাটানো যায়, তা হয়ে উঠতে পারে আজীবনের স্মৃতি।

হাজী মদরিছ আলী একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র রাহাতের সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হাজী মদরিছ আলী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র মোহাম্মদ রাহাত মিয়া রাজা কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে সফলভাবে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

মোহাম্মদ রাহাত মিয়া রাজা হাজী মদরিছ আলী একাডেমির পরিচালক এবং সাতপাড়া গ্রামের আব্দুর রশীদের একমাত্র পুত্র। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী ছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিলান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পেশাগতভাবে কাজ করছেন।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার এই অর্জন ও অগ্রযাত্রায় এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রাহাত মিয়া রাজার এ সাফল্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি হাজী মদরিছ আলী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের পক্ষ থেকেও তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।

ধানের শীষে ভোট দিলে জনগণের বিজয় হবে: তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, জননেতা এম. ইলিয়াস আলীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনের কথা স্মরণ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন।

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হলে সেটি হবে জনগণের বিজয়, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিজয়। বিএনপি জনগণের দল, উন্নয়নের দল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতীক বরাদ্দের পর ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত প্রথম প্রচার মিছিল শেষে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার প্রবাসী চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলার সামনে থেকে প্রচার মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে সওজের ডাকবাংলার সামনে জড়ো হয়।

ধানের শীষের প্রচার মিছিল ও পথসভায় প্রতীকী ধানের শীষ হাতে নিয়ে মায়ের সঙ্গে উপস্থিত থেকে ভোট চান ‘ইলিয়াস-লুনা’ দম্পতির দুই পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও লাবীব শারার। এ সময় মায়ের সঙ্গে ছাদখোলা গাড়িতে ছিলেন তাঁদের একমাত্র কন্যা সায়ারা নাওয়াল।

প্রচার মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম. আছকির আলী।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রচার মিছিল ও পথসভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, প্রবাসী বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মা-বাবাই শিশুর প্রথম শিক্ষক: বিশ্বনাথে প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মা-বাবাই হচ্ছেন শিশুদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। শৈশব থেকেই যদি সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিক গঠনে পরিবার যথাযথ গুরুত্ব দেয়, তবে সেই শিশুর ভবিষ্যৎ অনেক বেশি আলোকিত হয়। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও সচেতন পরিবারই একটি জাতির মেরুদণ্ড গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থেই সৌভাগ্যবান। কারণ, তাদের পাশে রয়েছে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের মতো একটি মানবিক ও দূরদর্শী সংগঠন, যা আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিরলসভাবে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ট্রাস্ট যে অবদান রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া (কামিল) মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে চলতি বছরে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৬৬ জন শিক্ষার্থীকে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নগদ বৃত্তি প্রদান করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রাস্ট শিক্ষা বিস্তারে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা বিশ্বনাথসহ পুরো অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মো. মাফিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর। তিনি বলেন, প্রতি বছর গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট যদি বোর্ড পরীক্ষার আগে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক দিয়ে বিশেষ কোচিং বা ক্লাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি গোলজার খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা মো. খায়রুল ইসলাম। প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি মাওলানা আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ‌্যাপক ড. মুজিবুর রহমান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সিনিয়র ট্রাস্টি হাজী মো. রইছ আলী, আব্দুল মজিদ, বসির উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, গৌছ আলী, গৌছ খান, মাকরাম আলী আফরোজ ডিএল, মাসুক মিয়া, আব্দুন নূর, আজহার আলী, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল কুদ্দুছ, মনির আহমদ, আব্দুল গফুর, সানাম মিয়া আতিক, ফারুক মিয়া, শাহ নুরুল আলম, আলা উদ্দিন, ডাক্তার শানুর আলী মামুন, বাবরুল হোসেন বাবুল, আবুল কাশেম, মো. ইয়াহইয়া, নেছার আহমদ, নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম, সেবুল মিয়া, এখলাছুর রহমান, ফজলুর রহমান, রুহেল মিয়া, সায়েস্থা মিয়া, শাহ সাহিদুন নুর ইসলাম, এম. এ মতিন, মো. হরুফ মিয়া, সাজিদ আলী, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মিজান রহমান, শেখ হারুনুর রশীদ, এনামুর রহমান, আবুল বাসির খান, আনহার মিয়া, আব্দুল খালিক গাফফার, আব্দুল বাছিত, মিজানুর রহমান, আবুল বাসার মিয়া, মুমিন খান মুন্না, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং বিশিষ্ট মুরব্বী গোলাব খান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফিল্ড অফিসার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ও সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সদস্য, স্থানীয় অফিসের দায়িত্বশীলরা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।

বিশ্বনাথে জমির আহমদ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে আলহাজ্ব মোক্তার আলী সংবর্ধিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের কৃতি সন্তান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন এবং মোক্তার আলী রিসোর্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোক্তার আলীর সম্মানে এক সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ আলহাজ্ব জমির আহমদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন-এর সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র দেব-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন ইবনে হক এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন একই শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী দেব অনন্যা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি আলহাজ্ব মোক্তার আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“আমি এই এলাকার সন্তান। আজ আপনাদের ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। প্রবাসে থেকেও দেশের মাটি ও মানুষের কথা সবসময় হৃদয়ে ধারণ করি। শিক্ষা, মানবসেবা ও এলাকার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র দেব। তিনি বলেন, “আলহাজ্ব মোক্তার আলী একজন মানবিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তাঁর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহী মোঃ গোলাম মোস্তফা, কৃষ্ণধন বৈষ্ণব, মোঃ নাজমুল ইসলাম, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য আহমদ আলী হিরণ, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সম্মানিত অভিভাবক সদস্য মোঃ আবুল কালাম, ইউকে ইয়ুথের সম্মানিত শিক্ষক সিতাব আলী এবং বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ আব্দুল হান্নান।

বক্তারা আলহাজ্ব মোক্তার আলীর প্রবাসজীবনে অর্জিত সাফল্য, সমাজসেবা ও শিক্ষাবান্ধব কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

সংবর্ধনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকসানা ইয়াসমিন, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ আলমগীর হোসেন, মোঃ শাফিদুল হক, সুব্রত কুমার, মোঃ ছাইদুল ইসলাম, মোঃ আবু রাইয়ুব, অভিভাবক আব্দুর রকিব, কাওছার আহমদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল ও আবেগঘন।

বনার্ঢ্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ভালবাসায়সিক্ত হলেন শিক্ষক জালাল উদ্দীন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি


সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হলেন পৌর শহরের ভোগশাইল গ্রামস্থ শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ২৭ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে যাওয়া এই গুণী শিক্ষককে সম্মান জানাতে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশাল বিদায় সংবর্ধনার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় সম্মুখ মাঠে নানা কর্মসূচি ও হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে সম্পন্ন হয় সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা। জানা যায়, মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে টানা ২৭ বছর ৫ মাস ১৩ দিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে গণিতের পাশাপাশি জীবনবোধ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, কিন্তু সেই জ্ঞানকে আলোকিত ও অর্থবহ করে তোলে মূল্যবোধ, নীতিবোধ ও মানবিক শিক্ষা। আর এই মহান দায়িত্বটি যুগ যুগ ধরে পালন করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা, যারা প্রকৃত অর্থে মানুষ গড়ার কারিগর।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা নয়। বরং দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আজ আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন সমাজে নীতি-নৈতিকতার অভাব আমাদের অগ্রগতিকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে। দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের প্রতিযোগিতা সমাজের গভীরে শিকড় গেড়ে বসেছে। এই সংকটময় সময়ে শিক্ষকরা হচ্ছেন আলোর দিশারি। তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে, বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও প্রকৃত শক্তি অর্জিত হয় সুশিক্ষা ও যোগ্যতার মাধ্যমে। নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারলেই বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই ভালোবাসার সংবর্ধনা আমাকে আজীবনের ঋণে আবদ্ধ করেছে। আপনাদের এই সম্মান আমি কোনো দিন ভুলব না। আমি শিক্ষকতা জীবনে কখনও জেনে-শুনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কখনও কঠোর হয়েছি, আবার কখনও সন্তানের মতো আগলে রেখেছি।

তিনি বলেন, আজ আমি সবচেয়ে বেশি গর্ব অনুভব করছি এই কারণে যে আমার অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশে-বিদেশে স্ব-স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সাফল্যই আমার শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমাদের প্রিয় শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য আলহাজ্ব লেচু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মো. আনছার আলী ও সহকারী শিক্ষক মোছা. ফিরোজা খাতুনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গৌছ খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বুনন সম্পাদক কবি খালেদ উদ্দীন, উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন খান, শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মনির মিয়া মঈনুল এবং ভোগশাইল কে আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ সামিয়া বেগম।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন হাবিবুল্লাহ মিসবাহ। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষার্থী সামিরা বেগম ও তাবাসসুম জান্নাত মাঈশা। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন ছিদ্দিকুর রহমান এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. আরিবুর রহমান আরিফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। সবশেষে দোয়া পরিচালনা করেন ভোগশাইল বায়তুর জান্নাত জামে মসজিদের ইমাম লায়েক আহমদ লতিফি।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

বিশ্বনাথে ‘মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশনট্রাস্ট’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ‘মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগে উপকৃত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘বাগিছা বাজার প্রগতি পাঠাগার’-এর আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। শিক্ষা উপকরণের মধ্যে ছিল খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী।

শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে উপকরণ তুলে দেন চান্দভরাং উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন মামুন। তিনি বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট যে দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”

সভায় বক্তারা আরও বলেন, শিশুরা যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেজন্য অভিভাবকদের সদা সচেতন থাকতে হবে। শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা নয়, এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণ শেখানো জরুরি। লেখাপড়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখলে তাদের মন-মানসিকতা থাকবে প্রফুল্ল এবং সুস্থ।

মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি হাজী আব্দুল হাসিমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক কদর আলী ও প্রবীর দে’র যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমির আলী, ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার লায়েক আহমদ, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আংঙ্গুর মিয়া, ভল্লবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্টু কান্ত দে, রায়খেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ, কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছু উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী মঈন উদ্দিন, শিক্ষানুরাগী হাজী গয়াছ উদ্দিন, সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মিয়া, বাগিছা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কামরুজ্জামান নেছার এবং মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বাগিছা বাজার দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জিব দে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দোয়া পরিচালনা করেন বাগিছা বাজার দারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক মৌলানা সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সঞ্চিত আচার্য্য, কোকিল দাশ, সইবুর মিয়া, ফজল মাহমুদ, রুমেল আলী, সুবির দে, লিটু মিয়া, রতন বৈদ্য, মানিক বৈদ্য, আব্দুন নূর, ফুজেল মিয়া, চয়ন দে, রিয়াজ আহমদ, রনি দাস, গুলকর মিয়া, সিরাজ মিয়া, হাবিবুর মিয়া, নাঈম হাসিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট এ ধরনের শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষার প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বনাথে দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় প্রবাসী সমাজসেবক মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসার হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি চানপুর গ্রামের কৃতিসন্তান এবং আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন ও মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হাফিজ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মৌলভী হেলাল আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম‌্যান হাফিজ আরব খান। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোক্তার আলী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রবাসে থেকেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও তিনি এই মাদ্রাসাসহ এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাশিম আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন দশপাইকা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা লুতফুর রহমান বাবুল, মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির এবং অভিভাবক সদস্য বকুল খান। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসাসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রবাসী সমাজসেবকদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, এলাকার মুরুব্বি হাজী রাশিদ আলী, সুন্দর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আলহাজ্ব মোক্তার আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রবাসীদের কল্যাণ, মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মহান রবের দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

বিশ্বনাথ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বিশ্বনাথ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার গন্দরকাপন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম কয়ছর আলী (৩৫)। সে গন্দরকাপন গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হাজী ইউসুফ আলীর পুত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ভোররাতে কয়ছর আলীর নিজ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার বসতঘরের কাঠের নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১০৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়েছে,৪০ বোতল আইস বুটকা, ১৮ বোতল ম্যাকডুয়েল, ৪৮ বোতল ব্ল্যাক মদ।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কয়ছর আলী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে এলাকায় বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মাদকসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

বিশ্বনাথ থানার এসআই শামসুল ইসলাম সুমন ও এসআই মোতাহের আলী-এর নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন কনস্টেবল সুযোগ হাসনাত। সফল এই যৌথ অভিযানে আসামিকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধারকৃত মদ জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।