আজকের সময়ের সেরা খবর
প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবে: কীভাবে চলবে পুরো প্রক্রিয়া

প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবে: কীভাবে চলবে পুরো প্রক্রিয়া
এই সময় ডেস্ক:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় প্রবাসীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালট পেপার গ্রহণ ও ফেরত পাঠাতে পারবেন।
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ চালুর পর প্রবাসীরা অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে তাঁদের বিদেশের ঠিকানায় ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ব্যালট পাওয়ার পর ভোট প্রদান শেষে সেই ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এ লক্ষ্যে বিদেশে পাঠানো ব্যালট পেপারে থাকবে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নির্বাচনে বরাদ্দ ১১৯ প্রকার প্রতীক। একই সঙ্গে থাকবে ‘না ভোট’। কোনো আসনে যদি একমাত্র প্রার্থী থাকেন, শুধুমাত্র সেই আসনের প্রবাসী ভোটাররাই ‘না ভোট’ দিতে পারবেন।
ইসির অতিরিক্ত সচিব ও প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, অ্যাপে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রবাসী ভোটার অ্যাপে প্রবেশ করে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে তাঁর আসনের প্রার্থী তালিকা দেখতে পাবেন এবং পছন্দের প্রতীকে ভোট চিহ্নিত করে ব্যালট ফেরত পাঠাবেন।
এ প্রক্রিয়ায় ব্যয় হবে ভোটারপ্রতি ৭০০ টাকা, যা ব্যালট প্রেরণ ও গ্রহণসহ পুরো ডাক ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত।
অ্যাপে নিবন্ধন যেভাবে:
আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে প্রবাসীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন। অ্যাপটি শুধুমাত্র বিদেশে ব্যবহার করা যাবে—কারণ জিও-লোকেশন সক্রিয় থাকবে।
নিবন্ধনের ধাপগুলো হলো:

আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশন

এনআইডির ছবি আপলোড

ফেসিয়াল রিকগনিশন (কমপক্ষে ৭০% মিল থাকতে হবে)

নিজের ছবি ও বিদেশের ঠিকানা প্রদান

পাসপোর্ট থাকলে সেটির তথ্যও দেওয়া যাবে, তবে বাধ্যতামূলক নয়

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ভোটারের তথ্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে এবং তৈরি হবে পৃথক ভোটার তালিকা।
কখন ভোট দিতে পারবেন:
প্রবাসীরা ব্যালট পেলেও প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অ্যাপে প্রার্থীদের নাম দেখা যাবে। এরপর ভোট চিহ্নিত করে ব্যালট রিটার্ন খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে।
ব্যালটের সঙ্গে পাঠানো ঘোষণাপত্রে ভোটারকে স্বাক্ষর করতে হবে। ঘোষণাপত্র ছাড়া পাঠানো ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।
জাতীয় নির্বাচনের দিন বিকাল চারটার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানো ব্যালটই বৈধ গণ্য হবে। সময়মতো না পৌঁছানো ব্যালট বাতিল হবে।
ইসি বলছে, সময় ব্যবস্থাপনা, ব্যালট সময়মতো পৌঁছানো এবং প্রার্থী পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি—এ তিনটি বিষয়ই এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।