আজকের সময়ের সেরা খবর
‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও—কেড়ে নিতে এলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো’—ডা. শফিকুর রহমান

এইসময় ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ডাকসু দিয়ে শুরু হয়ে জকসুতে এসে যে পরিবর্তনের বার্তা দেখা গেছে, তা আপাতত থামেনি, বরং নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মঞ্চে উঠে প্রথমেই চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অনারা গম আছন নি?’—এই আন্তরিক প্রশ্নে মুহূর্তেই জনতার সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল—আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু কেউ যদি আমার ভোট কেড়ে নিতে আসে, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দেশের মা-বোনেরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। সম্প্রতি কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। কিন্তু এতে তাদের কোনো লাভ হবে না, বরং তারা নিজেরাই বিপদে পড়বে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমি বিশ্বাস করি বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানে। আমরা, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা চাই রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ন্যায়ভিত্তিকভাবে জনগণের মধ্যে বণ্টন করতে।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, যারা ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন। এই জোট ক্ষমতায় গেলে কোনো দলীয় রাজত্ব কায়েম হবে না, পরিবারতন্ত্র চলবে না।

গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ সময় দেশে কিছুই হয়নি—এ কথা বলা ঠিক হবে না। উন্নয়ন হয়েছে। তবে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ, যারা ভোটের আগে মানুষের কাছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হওয়ার পর তারাই সুর পাল্টে ফেলেছে।

তিনি বলেন, জুলাই মাসে রাজপথে যে স্লোগান শোনা গেছে—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, সেটাই আজও জনগণের মূল দাবি। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও—এই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হতে হবে।

ভোট কেনাবেচার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে—আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই, আমরা দুর্নীতির রাজনীতি চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না, পরিবারতন্ত্রে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়।

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতে ইসলামীর আমির চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি সংসদীয় আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুত্র: বাসস