আজকের সময়ের সেরা খবর
একলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফ আলীকে সংবর্ধনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথে ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আশরাফ আলীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আলিম উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী।

বক্তব্যে আশরাফ আলী বলেন, একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। বিদ্যালয়টি সরকারি করা এবং ভবিষ্যতে কলেজে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভূমির সংকট দেখা দিলে সেই সংকট সমাধানে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফখর উদ্দিন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিসুজ্জামান খান, ম্যানেজিং কমিটির  সাবেক  অবিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুর রশিদ ইউসুফ, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ইসলাম উদ্দিন এবং সাবেক শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য নূর মিয়া।

বক্তারা আশরাফ আলীর শিক্ষাবান্ধব কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর মতো শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষকদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন হাবিবুর রহমান ও দশম শ্রেণির ছাত্রী ঝুমা বেগম। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণির ছাত্র আলাউর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা দেব।

পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথি আশরাফ আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভুমি দাতা হাজী নুরুল ইসলাম, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ফয়জুন নূর, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মঈন উদ্দিন, মো. ছমরু মিয়া, আসির উদ্দিন, রাশেদ আহমেদ, শাহিন আলম, আহসান উল্লাহ, মাসুম আহমেদ, দূর্জয় দত্ত্ব ও হীরেন কুমার পাল এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর অজিত কুমার দেব।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী ১৬-১৭ জানুয়ারি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়টির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুনর্মিলনী ও স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী।

লিখিত বক্তব্যে আশরাফ আলী বলেন, ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৬ সালে গৌরবময় শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলা শুধু একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, বরং এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতিরও ইতিহাস।

তিনি জানান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে পুরান রাজাগঞ্জ বাজারে ‘একলিমিয়া এম. ই. (Minor Education) মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুরান রাজাগঞ্জ থেকে বর্তমান বৈরাগী বাজারে স্থানান্তরিত হয়।

শিক্ষার বিস্তারের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র স্কুলে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক বিভাগের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরে ১৯৮৬ সালে চালু হয় বিজ্ঞান শাখা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জনের পাশাপাশি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে দশম স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।

শতবর্ষের দীর্ঘ পথচলায় বিদ্যালয় থেকে বহু জ্ঞানী, গুণী, শিক্ষক, সমাজসেবী, পেশাজীবী ও কৃতী মানুষ বেরিয়ে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান বিদ্যালয়ের সুনামকে সমৃদ্ধ করেছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে আশরাফ আলী বলেন, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ছিল বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তোলা। এ লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক উদ্যোগে নয়, বরং সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সর্বসাধারণের সমন্বয়ে শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শতবর্ষ স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ডেটাবেজ তৈরি, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনীর মূল আয়োজন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত তারিখ ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে শতবর্ষ উদযাপনকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে না দেখে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের মিলনমেলা, ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন প্রত্যয়ের সূচনা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের শতবর্ষের আয়োজনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ও আপ্যায়ন উপ কমিটির আহবায়ক আব্দুর রশিদ ইউসুফ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, একলিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান খান, পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাহার হেকিম উদ্দিন, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সচিব আশরাফ আহমেদ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. হোসেন আহমদ, কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আনিছুজ্জামান খান, অর্থ ও বাজেট উপকমিটির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহার, রেজিস্ট্রেশন ও র‌্যাফেল ড্র উপকমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব ফিরোজ আলী, মঞ্চ সাজসজ্জা উপকমিটির আহবায়ক সেবুল মিয়া ,যুগ্ম সদস্য সচিব রাজন খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়েজ আহমদ ফাহিম, একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক  নজরুল ইসলাম, আছির উদ্দিন, মাসুম আহমদসহ  বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, অর্থ ও বাজেট  কমিটি যুগ্ম সচিব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো,ছমরু মিয়া।

এসময় উপস্থিত সকলেই দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ  বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের শতবর্ষের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করার আহবান জানান।

একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি ঘোষণা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ২৫৯ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ উদযাপন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ।

ঘোষিত কমিটিতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদকে সদস্য সচিব করে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড. মুজিবুর রহমানকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়। রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য উপকমিটিতে আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ সারওয়ার হোসেনকে সদস্য সচিব, অর্থ ও বাজেট উপকমিটিতে মুজিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও আশরাফ আহমেদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

স্মরণিকা ও প্রকাশনা উপকমিটিতে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে আহ্বায়ক এবং মো. ইলিয়াছ আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

প্রচার ও মিডিয়া উপকমিটিতে আবুল কাহার মো. হেকিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং সালেহ আহমদ সাকীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আপ্যায়ন উপকমিটিতে আব্দুর রশিদ ইউসুফকে আহ্বায়ক ও শহিদ আহমদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

মঞ্চ সাজসজ্জা উপকমিটিতে সেবুল মিয়াকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব, র‌্যাফেল ড্র উপকমিটিতে আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক ও আবুল কাহারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটিতে মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও ফিরুজ আলীকে সদস্য সচিব, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটিতে ডা. হোসেন আহমদকে আহ্বায়ক ও জহুরা বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এছাড়া শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপকমিটিতে মখন মিয়াকে আহ্বায়ক ও মঈন উদ্দিনকে সদস্য সচিব এবং অডিট উপকমিটিতে নুরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক ও আতাউর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সভায় আয়োজকরা জানান, শতবর্ষ উদযাপনকে সুশৃঙ্খল, জাঁকজমকপূর্ণ ও স্মরণীয় করে তুলতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, ঐতিহ্য ও গৌরবময় পথচলাকে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বনাথে জমি বিরোধে মাইকিং করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৩০

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ উভয়পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়া  (৬০), মো. মাসুক মিয়া (৫৫), কবির মিয়া (৩৮), মিজানুর রহমান, আতিকুর রহমান (৫০), আব্দুল ওয়াহিদ টিটন (৫০), জাকির আহমদ, হাজী ছফির আলী (৬৫), তাজ মিয়া (৫৫), জনি আহমদ, জয়নাল মিয়া, কয়ছর মিয়া, জমিল মিয়া, সাইদ উদ্দিন ও আলিম উদ্দিন। বাকীদের নাম এখনো জানা যায়নি।

গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা ও লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এবং ইশবপুর গ্রামের হাজী ছফির আলীর লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয়পক্ষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।

খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানার বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পরও এলাকায় উত্তেজনা থাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে সূত্র জানায়।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাজাঞ্চী ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই: কামরুল ইসলাম বাদশা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাদশা ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে কামরুল ইসলাম বাদশার এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কামরুল ইসলাম বাদশা বলেন, “খাজাঞ্চী ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ে আমি কাজ করতে চাই। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইউনিয়নবাসী আমাকে যে উৎসাহ, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করলে ইনশাআল্লাহ আমরা খাজাঞ্চী ইউনিয়নকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারব।”

তিনি বলেন, “অতীতে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাকে ইউনিয়নবাসীর সেবা করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করাই একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।”

কামরুল ইসলাম বাদশা আরও বলেন, “রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভালোবাসা ও সমর্থনও আমি পেয়েছি। তাঁর সহযোগিতা থাকলে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আমি আশাবাদী।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, পুরো ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা ও সামগ্রিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ খাজাঞ্চী ইউনিয়ন গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”

সৎপুর কামিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক ও সালিশ ব্যক্তিত্ব মাওলানা ক্বারী জমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং খাজাঞ্চী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম নুর উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, অধ্যাপক মাওলানা মনির উদ্দিন, বিএনপি নেতা ও সালিস ব্যক্তিত্ব শওকত আলী, দেলোয়ার হোসেন, আপ্তাব আলী, আবদুল মালিক, আশরাফ হোসেন, সুলতান আহমদ, আমির আলী, মাওলানা মইনুল ইসলাম, আফতাব আলী, আলী আসকর, রফিক উদ্দিন, মানিক মিয়া মেম্বার, আব্দুর রহিম, আবুল কালাম, আব্দুল গণি, খোয়াজ আলী, মাসুক মিয়া, তৈমুছ আলী, ইউনুছ আলী ও আব্দুল করিম।

এর আগে সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শহিদুল আলম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল করিম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুমেল আলী, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সজিব, আগুর মিয়া মেম্বার, মুরব্বি আছলম আলী, ফারুক আহমদ, তেরাব আলী, মুতলিব আলী, সুলতান আহমদ, নিজাম উদ্দিন, আলী আসকর, আব্দুল কাইয়ুম, ইউনুছ আলী, নুরুজ্জামান, আব্দুর রহিম লায়েক, এসএম রফিক আহমদ, মাসুক মিয়া, ছান্দ আলী, আবুল কালাম, সমছু মিয়া, কবির উদ্দিন, আখলিছ আলী, অলিউর রহমান, আব্দুল খালিক, কছির আলী, দুদু মিয়া, সিরাজ উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, হররুপ মিয়া, আব্দুল করিম, কাচা মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুল সালাম, ইর্শাদ আলী ও আলমগীর হোসেনসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভূলাগঞ্জ, কিশোরপুর, ভাটপাড়া, জয়নগর,ঘনাইঘর, চন্দ্রগ্রাম,হরিপুর, সুনাপুর, নোয়ারাই,হামদরচক,কুরিখলা,বন্ধুয়া,নোয়াগাও,ইসলামপুর,মাধবপুর সহ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রমের সর্বস্থরের নেতাকর্মী মতবিনিময় সভায় স্বরব উপস্থিতিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও সভায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিকে ফাহিম আহমদের অভিনন্দন

সিলেট জেলা যুবদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির সভাপতি মকসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু এবং সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা সম্রাট হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন দিনারসহ নবগঠিত কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় ফাহিম আহমদ বলেন, সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠন আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ঐক্যকে ধারণ করে নবগঠিত নেতৃবৃন্দ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় ফাহিম আহমদ নবগঠিত নেতৃবৃন্দের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার সাফল্য কামনা করেন।

ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সমপন্ন করলেন মোঃ হাফিজুর রহমান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামের মাওলানা আব্দুস শুকুরের ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান ঢাকা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সমপন্ন করলেন।
হাফিজুর রহমান বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের মেধাবী একজন শিক্ষার্থী সে ছোটবেলা থেকেই খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল।সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হযরত শাহজালাল দারুছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল এম (এ) মাদ্রাসা সোবহানীঘাট থেকে লেখাপড়া করে আজ বিশ্বনাথের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক সংকিপ্ত আলাপচারিতায় মোঃ হাফিজুর জানায় আমার এই কৃতিত্ব পুর্ণ ফলাফলের জন্য আমার শিক্ষক ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সকলের নিকট আমি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
হাফিজুর ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পারি দিতে চায় সে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।

বিশ্বনাথে তিন দিন ধরে নিখোঁজ যুবক, রামপাশার পথে যাওয়ায় রহস্য

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের চকরামপ্রসাদ (লামাচক) গ্রামের মৃত ইসকন্দর আলীর ছেলে জাকির হোসেন (২৬) তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে কর্মরত। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে সিলেটে পৌঁছে নিজ বাড়িতে যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জাকিরের কাছে এক আত্মীয়ের কিছু টাকা গচ্ছিত ছিল। ওই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়া অথবা আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের কথা ছিল। এ উদ্দেশ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার দিকে তিনি বিশ্বনাথ ইসলামী ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। একই রাতে ট্রেনে করে তার চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল এবং সে অনুযায়ী ট্রেনের টিকিটও কাটা ছিল।

তবে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও জাকির বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭৯৩-৪৫৪৭৭৩ ও ০১৮৫৪-৭২১৭৩২-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্বনাথ থানায় জিডি করা হয়। জিডি নম্বর ৬৬৬, তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজের পরদিন গ্রামের সড়কে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জাকিরকে বিশ্বনাথের দিকে না গিয়ে রামপাশার সড়কের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি একটি টমটমে ওঠেন।

টমটম চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লামাকাজি যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক যাত্রী তার টমটমে উঠেছিলেন। জাকির হোসেন টমটমে ওঠার পর তাকে রামপাশা পয়েন্টে নামিয়ে দিয়ে চালক লামাকাজির দিকে চলে যান।

জাকিরের পরিবারের দাবি, তার যাওয়ার কথা ছিল বিশ্বনাথ ইসলামী ব্যাংকে। কিন্তু বিশ্বনাথের পরিবর্তে রামপাশার পথে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে জাকিরের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা অসুস্থ হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

নিখোঁজ জাকির হোসেনের সন্ধান পেলে তার ভাইদের ০১৭৬৪-১৬৭৫৩৪ অথবা ০১৭৬৪-২৩১৯৮৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশ্বনাথে এমপি লুনার সঙ্গে ব্যবসায়ী-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে বিশ্বনাথের ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেমের সভাপতিত্বে সভায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথের ব্যবসা-বাণিজ্য, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্কিংসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।

সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ পৌরসভা থেকে সহজে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, অবৈধ পার্কিং বন্ধ করে স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা চালু এবং সড়কের পাশে স্থায়ী দোকানের সামনে থেকে হকার উচ্ছেদের দাবি জানান।

অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যানজট নিরসনে সিএনজি অটোরিকশার জন্য স্থায়ী স্ট্যান্ড নির্ধারণ, সড়ক হকারমুক্ত রাখা, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের মালামাল ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

সভায় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, শহর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসন, পৌরসভা এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন অনুযায়ী সবাইকে সময়মতো কর পরিশোধ করতে হবে। কর আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। কেউ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে বিষয়টি ইউএনওকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণসহ বিষয়টি জানাতে হবে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে লুনা বলেন, আইন মেনে যানবাহনগুলো সিরিয়াল ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী চলাচল করলে যানজট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মনির উদ্দিন আহমদ, বিশ্বনাথ নতুন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য শেখ আমির আলী, সভাপতি হাজী মঈনুর রহমান, সহসভাপতি বাবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুরাণ বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মিয়া, কমিশনার আব্দুস সামাদ, আনোয়ার আলী এবং ব্যবসায়ী হাজী ছাতির আলী।

এছাড়াও সভায় হাজী উলফত মিয়া, আরশ আলী রেজা, হাজী মাসুক আলী, তাজ উদ্দিন, মিজানুর রহমান, তারেক আহমদ খজির, জুবেল মিয়া, জুবায়ের আহমদ, লিটন আহমদ, বাবলু মিয়া, আব্দুস সামাদ সরকার, নাজিম উদ্দিন, সেলিম মিয়া ও জাহেদ মিয়াসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশ্বনাথ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান উপ-কমিটির সভাপতি আছাব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, আল-হেরা পয়েন্ট সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি এহসান আহমদ তৈমুছ, সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমদ সিতাব, নতুন বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ লিলু মিয়া, লাইটেস স্ট্যান্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শানুর আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস শহিদ, রামপাশা সিএনজি স্ট্যান্ডের মোনসাদ আলী, উপজেলা পরিষদ পয়েন্ট সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদ, থানা পয়েন্ট সিএনজি স্ট্যান্ডের সাবেক সভাপতি এবাদুল খান ও সাবেক আহ্বায়ক তজম্মুল আলী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।